06/07/2026
হলুদ-সবুজের কান্না: একটি স্বপ্নের অপূর্ণ বিদায় 🇧🇷💔🇧🇩
হেক্সার খোঁজে আরও একটা চার বছরের অপেক্ষা। বিদায়ের বাঁশিটা যখন বাজল, বুকের ভেতরটা যেন হু হু করে উঠল। ফুটবল কোনোদিন কেবল ৯০ মিনিটের খেলা ছিল না, বিশেষ করে এই পেন্টা চ্যাম্পিয়নদের জন্য। এটি তো ইতিহাস, এটি নান্দনিকতার এক জীবন্ত উৎসব। পেলে-গারিন্চা-জিকো-রোনালদোর সাম্বা নৃত্যের যে ঐতিহ্য, তা কি সহজে মুছে ফেলা যায়?
কিন্তু আজ মাঠজুড়ে শুধুই শূন্যতা। সেই চিরচেনা জোগো বনিতো (Jogo Bonito) আজ নিস্তব্ধ।
দূর দেশের প্রেম ও রিও’র কান্না
সবচেয়ে অদ্ভুত এবং সুন্দর দৃশ্যটা ফুটে ওঠে হাজার মাইল দূরের এই বাংলাদেশে। রিও ডি জেনিরোর সমুদ্রসৈকত থেকে ঢাকা-চট্টগ্রামের অলিগলি—দূরত্বটা কেবলই ভূগোলের। ব্রাজিলের জয়ের জন্য বাংলাদেশের মানুষের এই যে বাঁধভাঙা উন্মাদনা, মধ্যরাতে ছাদজুড়ে বিশাল পতাকার পতপত আওয়াজ, প্রিয় দলের হারে চোখের জল... এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ব্রাজিলের জনগণও অবাক হয়ে দেখেছে, কুর্নিশ জানিয়েছে বারবার। এই ভালোবাসা কোনো ট্রফির মোহে নয়, এটি আত্মার টান।
বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ কী?
ব্রাজিলের বিদায়ের এই বিষাদময় মুহূর্তে একটা বড় প্রশ্ন মনের কোণে উঁকি দিয়ে যায়। আমরা প্রতি বিশ্বকাপে অন্য দেশের জন্য কাঁদি, ভিনদেশি পতাকায় সাজাই আমাদের ছাদ। কিন্তু আমাদের নিজস্ব ফুটবল? আমাদের সেই সোনালী অতীত, সেই গ্যালারি কাঁপানো উন্মাদনা আজ কোথায়?
"অন্যের জয়ে উল্লাস আর হারে কাঁদার এই যে তীব্র আবেগ, এটাই প্রমাণ করে এদেশের মানুষের রক্তে ফুটবল মিশে আছে।"
এখন সময় এসেছে এই উন্মাদনাকে নিজেদের মাঠে ফিরিয়ে আনার। আমাদের তরুণ প্রতিভাদের সঠিক যত্ন, উন্নত একাডেমি আর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা পেলে, হয়তো খুব বেশি দূরে নয় সেই দিন—যেদিন বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে আমাদের ছেলেরাও লড়বে। অন্য কারও বিদায়ের কান্নায় নয়, আমরা মেতে উঠব আমাদের নিজস্ব জয়ের উল্লাসে।
বিদায় ২০২৬ বিশ্বকাপ, বিদায় সেলেসাও। কান্না মুছে আবার জেগে ওঠো সাম্বা।
আর বাংলাদেশ... এবার আমাদের নিজেদের ফুটবলকে ভালোবাসার, জাগিয়ে তোলার সময় এসেছে। ⚽❤️