Tales of Tanvir

Tales of Tanvir Volunteer || Traveller || Reader

জীবনে দুইটা জিনিসই সত্য:- কর্ম এবং কর্মফল।

প্রথম ছবিটা উম্মে সাহেদীনা টুনি। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় কান্নার বন্যা বয়ে দেন।টুনি গণমাধ্যমের কাছ...
26/05/2026

প্রথম ছবিটা উম্মে সাহেদীনা টুনি। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় কান্নার বন্যা বয়ে দেন।

টুনি গণমাধ্যমের কাছে সাক্ষাৎকার দেন যে তার স্বামীকে (তারেক) নিজের কিডনি দিয়ে সুস্থ করার পর তাকে রেখে পরকীয়ায় জড়ায়।

এই সংবাদ মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়লে সোশ্যাল মিডিয়ায় টুনির জন্য কান্না আর পুরুষবিদ্বেষী পোস্টের হিড়িক পড়ে। পুরুষ কত খারাপ — যে স্ত্রী নিজের কিডনি দিয়ে তাকে বাঁচিয়েছে, তাকে রেখেই পরকীয়া।

এই ঘটনা নিয়ে দেশের প্রথম সারির কিছু গণমাধ্যমের হেডলাইন ছিল এমন:

স্ত্রীর দেওয়া কিডনিতে প্রাণে বেঁচে পরকীয়ায় জড়ালেন স্বামী!
— দৈনিক যুগান্তর

স্ত্রীর কাছ থেকে কিডনি পেয়েই পরকীয়ায় জড়ালেন স্বামী!
— দৈনিক ইত্তেফাক

স্ত্রীর কিডনিতে জীবন ফিরে পেয়ে পরকীয়ায় জড়ালেন স্বামী!
— বাংলাদেশ প্রতিদিন

সাভারে স্ত্রীর কিডনিতে জীবন ফিরে পেয়ে স্বামী থাকছেন পরকীয়া প্রেমিকাকে নিয়ে!
— কালের কণ্ঠ

কিন্তু এই পুরুষবিদ্বেষী পোস্ট আর টুনির জন্য আলগা পিরিতে পানি ঢেলে দেন অভিযুক্ত তারেক নিজেই।

২০২৫ সালের জুলাইয়ের ২০ তারিখে অনলাইন গণমাধ্যম বাংলানিউজ ২৪- এর এক প্রতিবেদনে উঠে আসে আসল ঘটনা।

বাংলানিউজ ২৪- কে তারেক জানান, স্ত্রী তার কাছ থেকে এক শতাংশ জমিসহ তিনতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলার মালিকানা লিখে নিয়েই কিডনি দিয়েছেন। কেবল তাই নয়, পরকীয়ার সম্পর্ক ধরে ফেলায় স্ত্রী টুনির রোষানলে পড়ে শাস্তির শিকার হন তিনি নিজেই।

মালয়েশিয়া প্রবাসী তারেক বলেন, ২০০৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আমি টুনিকে না দেখেই বিয়ে করি। আমার বাসা তখন প্রস্তুত ছিল, ওরা কোয়ার্টারে থাকত। এখন ওদের অনেক টাকা।

প্রথমদিকে সংসার ভালোই চলছিল বলে জানান তিনি। একসময় তার শরীরে ধরা পড়ে কিডনি রোগ। ভারতে চিকিৎসা নিতে গেলে চিকিৎসক কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেন। কিন্তু অর্থাভাব দেখা দেয়। তখন স্ত্রী টুনি কিডনি দিতে রাজি হন, তবে শর্ত দেন — বাড়ির দ্বিতীয় তলার মালিকানা লিখে দিতে হবে।

তারেক বলেন, সম্পর্ক তখন ভালো ছিল, তাই আমি এক শতাংশ জমিসহ বাড়ির দ্বিতীয় তলার মালিকানা টুনির নামে লিখে দিই। এরপর সে তার মা-বোনের নিষেধ সত্ত্বেও ভারতে গিয়ে কিডনি দেয় আমাকে।

তবে সফল প্রতিস্থাপনের পরও সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন নি তারেক। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় শারীরিক সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন বলে দাবি করেন তিনি। এ সময় থেকেই তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরে।

এরপর টুনি টিকটক জগতে জড়িয়ে পড়ে। তার চরিত্রগত পরিবর্তন আমি খেয়াল করি, যদিও দুই-তিন মাস সহ্য করি, বলেন তারেক। তিনি অভিযোগ করেন, একদিন আমার ভাড়াটিয়ার সঙ্গে একই ঘরে হাতেনাতে ধরার পর আর সহ্য করতে পারিনি। তাকে সেখান থেকে নিয়ে আসি। সবাই দেখেছে।

ঘটনার পর থেকেই তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হয় বলে দাবি করেন তিনি। নারী নির্যাতন ও যৌতুক মামলায় জেল খাটেন তারেক। এরপর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে জানতে পারেন, টুনি উল্টো তার বিরুদ্ধে পরকীয়া ও অনলাইন জুয়ার মিথ্যা গল্প সাজিয়েছে।

---

এবার আসুন দ্বিতীয় ছবিতে, যার নাম উম্মে হাবিবা মিম।

গত কয়েক দিন সোশ্যাল মিডিয়ায় আবারও হাউমাউ করে কান্নার হিড়িক আর পুরুষবিদ্বেষী পোস্ট। কারণ মিম ক্যান্সারে আক্রান্ত আর এই কথা জানার পর তার স্বামী তাকে ডিভোর্স দেয়।

মিমকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক আপডেট, মিমকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে এসেছেন শত শত মানুষ।

বৈশাখী নিউজ ও সময়ের কণ্ঠস্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়, উম্মে হাবিবা মিমের বয়স ১৯ বছর, রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার পৌর এলাকার পুঠিপাড়া গ্রামের এক অসহায় মেয়ে। যে বয়সে স্বপ্ন দেখার কথা ছিল, বন্ধুদের সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল, সেই বয়সেই ভালোবেসে সংসার শুরু করেছিলেন। ২০২১ সালের মে মাসে নবম শ্রেণিতে পড়াকালীন বিয়ে করেন মিম। ছোট্ট সংসার, হাজারো স্বপ্ন, প্রিয় মানুষকে নিয়ে নতুন জীবনের আশা — সবকিছুই যেন সুন্দরভাবে শুরু হয়েছিল।

কিন্তু সুখ যেন তার জীবনে বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। বিয়ের কয়েক মাস পর স্বামীর সঙ্গে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে ঘটে ভয়াবহ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার পর বাড়ি ফিরলেও সেই দুর্ঘটনাই হয়তো তার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অধ্যায়ের শুরু। দুর্ঘটনার প্রায় আড়াই মাস পর হঠাৎ একদিন মুখ দিয়ে প্রচুর রক্ত বমি হয় মিমের। রাজশাহী মেডিকেলের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে ডাক্তারদের ধারণা হয়, এটি হিমোফিলিয়া বা বিরল ধরনের রক্তজনিত রোগ হতে পারে। একটি কেমোও দেওয়া হয়। কিন্তু সেই কেমোর পর রক্তক্ষরণ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

অবশেষে তাকে ঢাকার পিজি হাসপাতালে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দীর্ঘ দুই মাস চিকিৎসা চলার পর চিকিৎসকরা পরিবারকে জানান, এই রোগের চিকিৎসা বাংলাদেশে সম্ভব নয়, যত দ্রুত সম্ভব ভারতে নিতে হবে, না হলে রক্তক্ষরণ দিন দিন আরও বাড়বে।

তবে আজও নিশ্চিতভাবে কেউ বলতে পারেনি মিম আসলে কোন রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতা বলছে, এটি হয়তো ব্লাড ক্যান্সারের বিরল কোনো ধরন। আর সেই চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকা।

এই খবর শোনার পর থেকেই যেন মিমের জীবন আরও অন্ধকার হয়ে যায়। যে মানুষটিকে ভালোবেসে নিজের পড়াশোনা, নিজের স্বপ্ন সব ছেড়ে দিয়েছিলেন, সেই মানুষটি তাকে হাসপাতালে রেখে চলে আসে। কিছুদিন পর মিমের বাবার হাতে মিমকে ফিরিয়ে দিয়ে জানায়, সে আর এই সম্পর্ক রাখবে না।

তবে মিমের এই ঘটনায়ও পানি ঢেলে দেয় Hidden Truth Unveiled নামের একটি ফেসবুক পেজ। তারা একটি অডিও কল রেকর্ড পোস্ট করে ক্যাপশনে বলে, মিম পরপর দু'টো বিয়ে করেছে — কেন তার স্বামী ছেড়ে দিয়েছে, কেউ কি সেই তথ্য নিয়েছেন?

অডিও কল রেকর্ডের কথোপকথন অনুযায়ী, মিম দু'টো বিয়ে করেছিল এবং প্রথম স্বামীর সঙ্গে থাকাকালীন বিবাহবহির্ভূত নানা সম্পর্কে জড়ায়। ফলে প্রথম স্বামীর সঙ্গে সংসার ভাঙে। প্রথম স্বামী নাকি দুই লাখ টাকা খরচ করে মিমের চিকিৎসাও করিয়েছিলেন। এমনকি দ্বিতীয় বিয়ের সংসার ভেঙে সেখান থেকেও দেনমোহরের টাকা আদায় করে। তাছাড়া মানুষের কাছ থেকে সহায়তা পাওয়া সর্বমোট টাকার লেনদেনের সঠিক হিসাব নিয়েও মিম মিথ্যাচার করে চলছে বলে অভিযোগ। সহায়তার টাকা পেয়েই মেতেছে ভোগবিলাসে — মিম ও তার ভাই কিনেছে দামি ফোন।

এদিকে এই অডিও কল রেকর্ড ভাইরাল হওয়ার পর দৈনিক আজকের পত্রিকার ফেসবুক পেজে পোস্ট করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, মিম বলছেন তার ক্যান্সার হয়নি, বরং বিভিন্ন কনটেন্ট ক্রিয়েটররা বাড়িয়ে-চাড়িয়ে তার ক্যান্সারের কথা বলে টাকা কামাচ্ছেন। ভিডিওতে স্বামী-সংসার নিয়ে কথা না বললেও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় হিমোফিলিয়া বা বিরল ধরনের রক্তজনিত রোগে আক্রান্ত বলে জানান তিনি।


19/05/2026

........😅

20/03/2026

Tailor Mama...

20/03/2026

পুরুষ মানুষর দায়িত্ব =ভালবাসা💜👥

18/03/2026

আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি এবং
তোমারই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি।

সূরা আল-ফাতিহা: ৫

12/03/2026

জীবন শুরু হওয়ার আগেই শেষ!আমাদের সকলের মৃ-ত্যু নিশ্চিত শুধু সময়টা অনিশ্চিত।

মূল ঘটনা,
বাগেরহাটের রামপালে বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বর–কনেসহ ১৪ জন নিহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় খুলনা-মোংলা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এই মর্মান্তিক দূর্ঘটনায় আমরা শোকাহত।

13/02/2026

বর্তমান সময়ে নেতারা নির্বাচনে দাঁড়ানোর পর কারি টাকা খরচ করেন। কিন্তু আমাদের এই বাংলাদেশে সম্ভবত একজনই জননেতা ছিলেন যিনি উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার আগের দিনও ঠেলাগাড়ি চালিয়ে নিজের জীবিকা নির্বাহ করেছেন। নিজের পাতে অন্ন যুগিয়েছেন।

অবশ্য শুধু ঠেলাগাড়ি নয়, বরং যখন যে কাজ পেতেন তাই করতেন তিনি। বাবুর্চি হিসেবেও কাজও করতেন। বাবুর্চি থাকা অবস্থায় একবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনও করেছেন। আর সেই নির্বাচনে চমক লাগিয়ে দিয়ে ৬০/৬৫ জন প্রার্থীর মধ্যে তিনি আট নাম্বার হয়েছিলেন। অথচ টাকার অভাব আজীবন তাড়া করে বেড়িয়েছে তাকে। এমনকি টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে মারা যান।

তিনি হলেন একসময়কার সিলেটের জন মানুষের নেতা ছক্কা ছয়ফুর। ছক্কা ছয়ফুঁর ছিলেন শোষিত মানুষের এক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। সারাদিন হারভাঙ্গা খাটুনি শেষে বিকেলে সিলেটের কোর্ট পয়েন্টে মাইক টা নিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে গর্জে উঠতেন তিনি। তার অদ্ভুত কিন্তু সাধারণ জীবন দর্শনে মুগ্ধ হতো সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ।

এমনকি ১৯৮১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে যখন তিনি পুলিশি প্রোটোকল পেলেন তখন সোজা সাপটা বলে দিয়েছিলেন নিজে খেতে পারেন না পুলিশকে খাওয়াবেন কি দিয়ে।

১৯৯০ সালের উপজেলা নির্বাচনে তিনি যখন ডাব মার্কা নিয়ে দাঁড়ালেন তখন তার কোন প্রচারক ছিল না। একটি হ্যান্ডমাইক হাতে নিজেই চালাতেন প্রচারণা। প্রতিপক্ষ প্রার্থীর গুন্ডা বাহিনীর হাতে জখম হওয়ার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। সাধারণ মানুষই চাদা তুলে তাকে বিজয়ী করে। ৫২ হাজার ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হওয়ার পর তার নামের সঙ্গে যুক্ত হয় ছক্কা উপাধি।

অদ্ভুত সব নির্বাচনী অঙ্গীকার সত্ত্বেও তিনি ছিলেন মাটির মানুষ। যিনি বিশ্বাস করতেন বড় বড় রাস্তার চেয়ে খাল খনন করে নৌকায় চলাই এ দেশের মানুষের জন্য বেশি কার্যকর। তবে ক্ষমতার চেয়ারে বসেও দুর্নীতির সঙ্গে আপোষ করেননি এই নীতিবান মানুষটি।

তিনি উপজেলা পরিষদে পাহারা বসিয়ে দুর্নীতির পথ বন্ধ করায় স্বার্থান্বেষী ইউপি চেয়ারম্যানরা তার বিরুদ্ধে একট্টা হয়ে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। শেষ পর্যন্ত ষড়যন্ত্র আর রাজনৈতিক পথ পরিবর্তনে তার পথ স্থগিত হয়ে যায়। ক্ষমতা হারানোর পর এই অকুতভয়ে নেতা আবারো হারিয়ে যান লোকচক্ষুর অন্তরালে। নিদারুণ অর্থ কষ্টে অবহেলায় শেষ হয় বাংলার ইতিহাসে এক বিরল ও সৎ জন নেতার জীবন কাহিনী।

Address

Habiganj

Telephone

+8801791541208

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Tales of Tanvir posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Tales of Tanvir:

Shortcuts

Share