13/02/2026
বর্তমান সময়ে নেতারা নির্বাচনে দাঁড়ানোর পর কারি টাকা খরচ করেন। কিন্তু আমাদের এই বাংলাদেশে সম্ভবত একজনই জননেতা ছিলেন যিনি উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার আগের দিনও ঠেলাগাড়ি চালিয়ে নিজের জীবিকা নির্বাহ করেছেন। নিজের পাতে অন্ন যুগিয়েছেন।
অবশ্য শুধু ঠেলাগাড়ি নয়, বরং যখন যে কাজ পেতেন তাই করতেন তিনি। বাবুর্চি হিসেবেও কাজও করতেন। বাবুর্চি থাকা অবস্থায় একবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনও করেছেন। আর সেই নির্বাচনে চমক লাগিয়ে দিয়ে ৬০/৬৫ জন প্রার্থীর মধ্যে তিনি আট নাম্বার হয়েছিলেন। অথচ টাকার অভাব আজীবন তাড়া করে বেড়িয়েছে তাকে। এমনকি টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে মারা যান।
তিনি হলেন একসময়কার সিলেটের জন মানুষের নেতা ছক্কা ছয়ফুর। ছক্কা ছয়ফুঁর ছিলেন শোষিত মানুষের এক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। সারাদিন হারভাঙ্গা খাটুনি শেষে বিকেলে সিলেটের কোর্ট পয়েন্টে মাইক টা নিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে গর্জে উঠতেন তিনি। তার অদ্ভুত কিন্তু সাধারণ জীবন দর্শনে মুগ্ধ হতো সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ।
এমনকি ১৯৮১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে যখন তিনি পুলিশি প্রোটোকল পেলেন তখন সোজা সাপটা বলে দিয়েছিলেন নিজে খেতে পারেন না পুলিশকে খাওয়াবেন কি দিয়ে।
১৯৯০ সালের উপজেলা নির্বাচনে তিনি যখন ডাব মার্কা নিয়ে দাঁড়ালেন তখন তার কোন প্রচারক ছিল না। একটি হ্যান্ডমাইক হাতে নিজেই চালাতেন প্রচারণা। প্রতিপক্ষ প্রার্থীর গুন্ডা বাহিনীর হাতে জখম হওয়ার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। সাধারণ মানুষই চাদা তুলে তাকে বিজয়ী করে। ৫২ হাজার ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হওয়ার পর তার নামের সঙ্গে যুক্ত হয় ছক্কা উপাধি।
অদ্ভুত সব নির্বাচনী অঙ্গীকার সত্ত্বেও তিনি ছিলেন মাটির মানুষ। যিনি বিশ্বাস করতেন বড় বড় রাস্তার চেয়ে খাল খনন করে নৌকায় চলাই এ দেশের মানুষের জন্য বেশি কার্যকর। তবে ক্ষমতার চেয়ারে বসেও দুর্নীতির সঙ্গে আপোষ করেননি এই নীতিবান মানুষটি।
তিনি উপজেলা পরিষদে পাহারা বসিয়ে দুর্নীতির পথ বন্ধ করায় স্বার্থান্বেষী ইউপি চেয়ারম্যানরা তার বিরুদ্ধে একট্টা হয়ে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। শেষ পর্যন্ত ষড়যন্ত্র আর রাজনৈতিক পথ পরিবর্তনে তার পথ স্থগিত হয়ে যায়। ক্ষমতা হারানোর পর এই অকুতভয়ে নেতা আবারো হারিয়ে যান লোকচক্ষুর অন্তরালে। নিদারুণ অর্থ কষ্টে অবহেলায় শেষ হয় বাংলার ইতিহাসে এক বিরল ও সৎ জন নেতার জীবন কাহিনী।