সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বিপ্লবের অঙ্গীকার ! সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বিদ্রোহের অঙ্গীকার!
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট,শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার !
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ১৯৮৪ সালের ২১ জানুয়ারি সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র গণআন্দোলনের অগ্নিগর্ভে আত্নপ্রকাশ করে। অতীত সংগ্রাম থেকে শিক্ষা নিয়ে গণমানুষের স্বার্থে শোষণ মুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে - সার্বজনীন, বৈষম্যহীন, সেক্যুলার, বিজ্ঞান
ভিত্তিক, একই পদ্ধতির গণতান্ত্রিক শিক্ষার দাবিতে আমাদের দৃঢ় পথচলা।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আমরা বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের অগ্রবর্তী চিন্তার পথিকৃৎ হিসেবে - সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্যে বৈপ্লবিক সংগ্রাম বিকাশের পরিপূরক শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশব্যাপী ব্যাপক আন্দোলন করছি এবং শিক্ষা সংকোচন, বাণিজ্যিকীকরণ, বেসরকারিকরণ, সাম্প্রদায়িকীকরণের বিরুদ্ধে অবিরাম লড়াই করছি।
স্বাধীনতার পূর্বে ও পরে শাসকশ্রেণি প্রণীত জনস্বার্থ বিরোধী শিক্ষানীতিগুলোর স্বরূপ উন্মোচন ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা,শিক্ষা সম্মেলন ও বিকল্প শিক্ষা প্রস্তাবনা তুলে ধরা, প্রাক্-প্রাথমিক স্কুল থেকে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সর্বস্তরের বিভিন্ন দাবি আদায়ের আন্দোলন, অব্যাহত বেতন-ফি বৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন, ছাত্র রাজনীতি বন্ধের ষড়যন্ত্র প্রতিরোধসহ শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, দলীয়করন, দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করার কাজে গত ৩১ বছর ধরে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সংগ্রাম করছে।
একজন শিশুও যেন শিক্ষার আলো হতে বঞ্চিত না হয়, শিক্ষার আর্থিক দায়িত্ব যেন রাষ্ট্র নিতে বাধ্য হয় — শিক্ষার এই নীতিগত দিকের পাশাপাশি আমরা স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা-পলিটেকনিক-জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়-মেডিকেল-প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট সংকট চিহ্নিত করে তা সমাধানের লক্ষ্যে ১০ দফা দাবিতে আমরা লড়াই করছি।
বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এক বিকাশমান ধারার নাম। একদিকে ধনী বুর্জোয়া ধারার ছাত্রসংগঠনগুলো, আপাত অর্থে তাদের আকার-আয়তন যত বিশালই মনে হোক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাস-টেন্ডারবাজী-দখলদারিত্ব চালিয়ে শিক্ষা ও ছাত্র সমাজের শত্রুতে পরিণত হয়েছে ; পাতি বুর্জোয়া ধারার সংগঠনগুলো নানা সুবিধাবাদ আর আপোষকামীতার মাঝে হাবুডুবু খাচ্ছে।
অন্যদিকে বৈজ্ঞানিক যুক্তি ও বিপ্লবী আদর্শকে ভিত্তি করে ওঠা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট অব্যাহতভাবে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট নানা কর্মসূচি চালিয়ে ছাত্রসমাজ এবং শিক্ষানুরাগী সকল মহলের ক্রমবর্ধমান সমর্থন পেয়ে চলছে। এর ফলে বাংলাদেশের শিক্ষা আন্দোলন ও ছাত্রদের অধিকার রক্ষার সংগ্রামে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ইতিমধ্যেই এক অগ্রগণ্য সংগঠন হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে।
তাই ছাত্র রাজনীতির নামে নানা সন্ত্রাসী ছাত্র রাজনৈতিক সংগঠনসমূহ যখন টেন্ডারবাজি-চাঁদাবাজি-হল দখল-সিট বাণিজ্য-ভর্তি বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত ; তখন আমরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ছাত্র-অধিকার রক্ষায় ছাত্রদের নিয়ে লড়াই করি, শিল্প-সাহিত্য-বিজ্ঞান-দর্শন নিয়ে চর্চা করি, কৃষি-প্রকৃতি-শিল্প-সংষ্কৃতি-জাতীয় সম্পদ রক্ষায় ছাত্রদের নিয়ে লড়াই করি, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য-শ্রমিকের নূন্যতম মজুরীর দাবিতে শ্রমিক-কৃষক সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াই, অবক্ষয়ী সংস্কৃতির বিপরীতে লড়াইয়ের মাধ্যমে উন্নত রূচি-সংস্কৃতি অর্জনের চেষ্টা করি। এ সংগ্রামের পাশাপাশি দেশে বিদ্যমান পুঁজিবাদী আর্থ সামাজিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের মাধ্যমে শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে বেগবান করার লক্ষ্য নিয়ে আমাদের এগিয়ে চলা।
আজ ছাত্রসমাজের সামনে প্রশ্ন- আমরা কি আমাদের চোখের সামনে শিক্ষার অধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও সংষ্কৃতি ধ্বংস হয়ে যেতে দেখেও প্রতিবাদহীন থাকবো নাকি মনুষ্যত্বের দাবীকে প্রতিষ্ঠা করার সংগ্রাম শক্তিশালী করবো? দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছাত্রসমাজের নিষ্ক্রিয়তা ও সমাজবিমুখতা এ সমস্যাকে দীর্ঘস্থায়ী করছে। শিক্ষা ও চেতনা বিধ্বংসী এই দুঃসময়ে নিষ্ক্রিয় থাকা অন্যায়। এক্ষেত্রে কেউ যদি নিশ্চুপ থেকে 'রাজনীতি করি না' বলে নিরপেক্ষ থাকার কথা বলেন, তিনি আসলে সমাজে চলমান অন্যায়কেই প্রশ্রয়-সমর্থন দিচ্ছেন এবং নীরবে অন্যায়ের কালহাতকে শক্তিশালী করতে সুযোগ দিচ্ছেন। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এ নিষ্ক্রিয়তার বিপরীতে সচেতন, প্রগতিশীল, বিপ্লবী এবং শক্তিশালী ছাত্র আন্দোলন গড়ে তোলার সংগ্রাম করছে।
আমরা মনে করি, শাসকশ্রেণির অন্যায় ও অশুভ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আপোষহীন লড়াই করার মধ্যদিয়ে ছাত্র আন্দোলনের আদর্শবাদী সুস্থ লড়াকু ও সংগ্রামী ধরা অগ্রসর হয়। লড়াই করা ছাড়া যেমন উন্নত রূচি-সংস্কৃতি-শক্তি গড়ে তোলা যায় না ; আবার উন্নত রূচি-সংস্কৃতি-শক্তি ধারণ করা ছাড়া গণআন্দোলনকে এগিয়ে নেয়া যায় না। আমরা ছাত্র আন্দোলনকে এই ঘূণে ধরা সমাজটাকে পরিবর্তনের আন্দোলনে পরিণত করার লক্ষ্যে ছাত্রসমাজকে সচেতন, সংগঠিত করছি।
ছাত্রসমাজের প্রতি আহ্বান- এ পথে হয়ত কষ্ট আছে, কিন্তু এটাই তো মর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে চলবার একমাত্র পথ। এ পথে এগিয়ে আসুন, ইতিহাসের অর্পিত দায়িত্ব পালন করুন। সার্বজনীন, বৈষম্যহীন, সেক্যুলার, বিজ্ঞানভিত্তিক, একই পদ্ধতির গণতান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং বিদ্যমান শোষণমূলক পুুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটিয়ে শোষণমুক্ত গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগ্রামের আকাঙ্ক্ষা ও অঙ্গীকার ব্যক্ত করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাথে একাত্ন হোন।
আপনাদের সর্বাত্মক অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার মাধ্যমে এ সংগ্রাম চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করবে।
★প্রকাশনাসমূহঃ
● সংগঠনের মুখপত্র- অভিমত
● কেন ছাত্র সমাজ রাজনীতি করবে
● শিক্ষানীতি ও শিক্ষা সংকট প্রসঙ্গে
● শিক্ষা সম্মেলনে স্মারকগ্রন্থ
● মনীষী ভাবনায় শিক্ষা
● শিক্ষা প্রসঙ্গে
● গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র
● ফোল্ডার : কেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট করব?
● বুকলেট : ছাত্র আন্দোলনে চাই সঠিক রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি
● লড়াই সংগ্রামের তিন দশকের স্মরণিকা
● 'বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানিক ও স্ব-শাসন শীর্ষক — সেমিনার
● জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ দফা দাবিনামা
● শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মরণে..
★সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, গাজীপুর মহানগর শাখা