06/09/2026
ফেনীতে কিশোরের পায়ুপথে হ্যান্ড শাওয়ার, সফলভাবে বের করলেন চিকিৎসকেরা
ফেনী প্রতিনিধি:
ফেনীতে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের পায়ুপথে আটকে থাকা প্লাস্টিকের তৈরি হ্যান্ড শাওয়ার কোনো ধরনের কাটাছেঁড়া ছাড়াই সফলভাবে বের করে এনেছেন চিকিৎসকেরা। ফেনী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি ও অ্যানেস্থেশিয়া টিমের বিশেষ তৎপরতায় জটিল এ চিকিৎসা কার্যক্রম সফল হয়।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ফেনী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এ চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার দিন আগে কৌতূহলবশত কিশোরটি নিজেই প্লাস্টিকের হ্যান্ড শাওয়ারটি পায়ুপথে প্রবেশ করায়। বিষয়টি সে পরিবারের কাছেও গোপন রাখে। পরে চার দিন ধরে পায়খানা বন্ধ থাকা ও তীব্র পেটব্যথা শুরু হলে বাধ্য হয়ে পরিবারকে বিষয়টি জানায়। এরপর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুত তাকে জরুরি অপারেশন থিয়েটারে নেন। সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. আদনান আহমেদ, ডা. সালাহউদ্দিন ও ডা. মনির হোসেনের নেতৃত্বে মেডিকেল টিম বিশেষ সতর্কতা ও নিখুঁত কৌশলে পায়ুপথ দিয়ে বস্তুটি বের করে আনতে সক্ষম হয়।
এ সময় অ্যানেস্থেশিয়া সেবায় দায়িত্ব পালন করেন ডা. আব্দুল্লাহ আব্বাসী দিপু ও ডা. খুরশিদ আলম।
অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেওয়া ডা. আদনান আহমেদ জানান, চার দিন ধরে বস্তুটি ভেতরে আটকে থাকায় মলাশয় বা অন্ত্র ছিদ্র হয়ে তীব্র সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। তবে চিকিৎসকদের বিশেষ তৎপরতা ও সতর্কতার কারণে কোনো কাটাছেঁড়া ছাড়াই বস্তুটি বের করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে কিশোরটি ঝুঁকিমুক্ত ও চিকিৎসাধীন রয়েছে।
চিকিৎসকেরা বলছেন, শরীরের স্পর্শকাতর অঙ্গে এ ধরনের বস্তু প্রবেশ করানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে অন্ত্র ছিদ্র, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ও মারাত্মক সংক্রমণসহ জীবনহানির আশঙ্কা থাকতে পারে।
এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে ভয় বা লজ্জায় বিষয়টি গোপন না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। একই সঙ্গে নিজেরা বস্তুটি বের করার চেষ্টা না করে চিকিৎসকের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।