Good Parenting - শিশু লালন-পালন / শিশু শিক্ষা

  • Home
  • Bangladesh
  • Feni
  • Good Parenting - শিশু লালন-পালন / শিশু শিক্ষা

Good Parenting - শিশু লালন-পালন / শিশু শিক্ষা 🌹প্যারেন্টিং টিপস🌹
সন্তান প্রতিপালনের গাইড লাইন বিষয়ক নানান টিপস পেতে সঙ্গে থাকুন....

🧠 বাচ্চাদের বুদ্ধির খেলা: ১০টি পার্থক্য খুঁজে বের করার চ্যালেঞ্জ! 🧩 প্রিয় অভিভাবকবৃন্দ, বাচ্চাদের মোবাইল বা টিভির স্ক্রি...
25/05/2026

🧠 বাচ্চাদের বুদ্ধির খেলা: ১০টি পার্থক্য খুঁজে বের করার চ্যালেঞ্জ! 🧩

প্রিয় অভিভাবকবৃন্দ, বাচ্চাদের মোবাইল বা টিভির স্ক্রিন থেকে দূরে রেখে মনোযোগ ও বুদ্ধিমত্তা বাড়ানোর জন্য দারুণ একটি খেলা হচ্ছে এই "পার্থক্য খোঁজার ধাঁধা" ।

আজকে বাচ্চাদের জন্য একটি চমৎকার রান্নাঘরের ছবি নিয়ে এলাম। ওপরের ছবি এবং নিচের ছবির মধ্যে সূক্ষ্ম ১০টি পার্থক্য আছে।

আজকের চ্যালেঞ্জ: আপনার ঘরের ছোট্ট সোনামণিকে ছবিটি দেখান এবং তাকে পার্থক্যগুলো খুঁজে বের করতে বলুন। সে কয়টি পার্থক্য নিজে নিজে বের করতে পারলো, তা কমেন্টে আমাদের জানান! (বড়রাও চাইলে চেষ্টা করে দেখতে পারেন, মাথা খাটানোর দারুণ সুযোগ!)

চলুন, কমেন্ট বক্সে খেলা শুরু হোক! 👇

সম্মানিত অভিভাবক, একটু বুক ভরে শ্বাস নিন। তারপর উপরের ছবিটার দিকে ঠান্ডা মাথায় তাকান। গল্পের শিরোনাম কী? “চালাক শেয়াল ও ...
24/05/2026

সম্মানিত অভিভাবক, একটু বুক ভরে শ্বাস নিন। তারপর উপরের ছবিটার দিকে ঠান্ডা মাথায় তাকান। গল্পের শিরোনাম কী?

“চালাক শেয়াল ও বোকা ছাগল”।

আর নিচে লাল কালিতে ‘শিক্ষা’ কী লেখা দেখেছন?

“না দেখে না ভেবে কোনো কাজ করতে নেই।”

বাহ! চমৎকার জাস্টিফিকেশন! তাই না?

আসুন, একটু দেখার চেষ্টা করি আমাদের প্রচলিত অনেক গল্পের মাধ্যমে কীভাবে ভুল মেসেজ দেয়া হয়:

১. ভিক্টিম ব্লেমিং (Victim Blaming) : এখানে অপরাধী কে? ওই ধূর্ত, প্রতারক শেয়ালটা। সে নিজের স্বার্থের জন্য একটা নিরীহ প্রাণীকে ধোঁকা দিল, তার মাথায় পা দিয়ে নিজেকে বাঁচাল, আর যাওয়ার সময় আবার ‘টা-টা বাই-বাই’ বলে উপহাস করল।

অথচ গল্প শেষে ব্লেম (দোষ) দেওয়া হচ্ছে কাকে? ওই ছাগলটাকে! সে ‘বোকা’, সে কেন না দেখে লাফ দিল!

আরে ভাই, ছাগলটার অপরাধ কী ছিল? সে কুয়ায় উঁকি দিয়ে একটা বিপদে পড়া প্রাণীকে দেখেছিল। তার সরলতার সুযোগ নিয়ে শেয়ালটা যখন বলল, এত মজার পানি আমি আর কখনো খাইনি! তখন ছাগলটা সরল বিশ্বাসে নেমেছিল।

এখানে ছাগলটার বড়জোর অসাবধানতা বা সরলতা ছিল। কিন্তু গল্পের হিরো বানানো হলো শেয়ালের চালাকিকে, আর ছাগলটাকে তকমা দেওয়া হলো বোকা।

আমাদের সমাজও ঠিক এই গল্পের মতো কাজ করে। কারণ আমরা এসব গল্প থেকেই প্রভাবিত। এই যেমন ধরুন, কেউ প্রতারিত হলে আমরা প্রতারককে জেলের ভাত খাওয়ানোর কথা পরে ভাবি, আগে বলি—তুমি এত বলদ কেন? কেন ধোঁকা খাইলা?

২. প্রতারণা আর ধূর্ততাকে ‘বুদ্ধি’ বলে চালানো: বাচ্চারা যখন এই গল্পটা পড়বে, তাদের অবচেতন মনে কী বার্তা যাবে জানেন?

বার্তা যাবে, দুনিয়ায় বাঁচতে হলে শেয়ালের মতো চালাক আর ধূর্ত হতে হবে। নিজের আখের গোছাতে পারলে অন্যের মাথায় কাঁঠাল কেন, কুয়ায় ফেলে পা দিয়ে মাড়িয়ে গেলেও কোনো সমস্যা নেই। দিনশেষে মানুষ তোমার চালাকির প্রশংসা করবে।

আমরা মুখে বলছি নীতিশিক্ষা, আর প্র্যাক্টিক্যালি বাচ্চার মগজে পুশ করছি সেলফিশনেস (স্বার্থপরতা) আর ক্রাইম করার ক্রিয়েটিভ আইডিয়া!

৩. সহানুভূতিকে গলা টিপে হত্যা: ছাগলটা কুয়ার পাড়ে গিয়েছিল শেয়ালের ডাক শুনে বা কৌতূহল থেকে। সেখানে একটা আটকা পড়া প্রাণীকে দেখে তার মনে দয়া বা সহমর্মিতা জাগতেই পারত। কিন্তু এই গল্প পড়ার পর একটা শিশুর মনে কী ইমপ্যাক্ট পড়বে?

সে ভাববে, কেউ বিপদে পড়ে ডাকলে সেখানে যাওয়া যাবে না। সাহায্য করতে গেলে আমি নিজেই ফেঁসে যাব এবং লোকে আমাকে বোকা বলবে।

তার মানে, আমরা গল্প শুনিয়ে বাচ্চার ভেতরের এমপ্যাথি বা সহানুভূতিশীল সত্তাটাকেই খুন করে ফেলছি!

❓কেন এই গল্পগুলোর পজিটিভ সংস্করণ বা রিরাইট করা জরুরি? আমি কেনই বা পজেটিভভাবে গল্পগুলো সাজানোর চেষ্টা করছি?

আপনারা যারা মনে করেন, ঈশপের গল্পগুলো কেন সংস্করণ প্রয়োজন, তাদের জন্যেই উপরের আলোচনাটাই যথেষ্ট। আমি চাই পজেটিভভাবে শুরুর বয়সে ছোট্ট সোনামণিদের কাছে সুন্দর একটা মেসেজ পৌঁছে দিতে ইন শা আল্লাহ।

আমরা শিশুদের বাহিরে খোলা খাবার কিংবা জাংক ফুড থেকে দূরে রাখি, যাতে তাদের শরীর খারাপ না হয়। কিন্তু গল্পের নামে এই যে যুগে যুগে ভুল শিক্ষা তাদের মগজে ডুকাচ্ছি, তার খবর কে রাখবে?

#শিশু #প্যারেন্টিং

আমরা কি আছিয়াকে ভুলে যাই নি, ভুলে কি যাই নি পূজাকে, ওয়ারির নার্সারি শ্রেণি পড়ুয়া সায়মাকে আমরা কতজন মনে রেখেছি?রুপগঞ্জের ...
21/05/2026

আমরা কি আছিয়াকে ভুলে যাই নি, ভুলে কি যাই নি পূজাকে, ওয়ারির নার্সারি শ্রেণি পড়ুয়া সায়মাকে আমরা কতজন মনে রেখেছি?

রুপগঞ্জের ৯ বছরের চম্পা খাতুন!

এভাবেই আমরা রামিসাকেও ভুলে যাবো!

কারণ, এগুলো মিডিয়া এসেছে, আলোচিত হয়েছে, তাই আমরা আলোচনা করেছি। মিডিয়ায় আলোচিত না হওয়া ঘটনাগুলো সম্পর্কে কি আমরা জানি?

বললাম না, ২০২৩ সালে বিশ্বের শীর্ষে অবস্থান করেছে বাংলাদেশ। যৌন নির্যাতনে রিপোর্ট অনুযায়ী। এগুলো কি মিডিয়া এসেছে?

আরেকটা ঘটনা ঘটতে দিন এটা মানুষ ভুলে যাবে। অপরাধীরা কখনো এই দেশে বিচারের মুখোমুখি হবে না। এটা অপরাধীদের সবচেয়ে বড় উৎসাহের জায়গা।

প্রিয় অভিভাবক, গভীর রাতে যখন আপনার সন্তানটি আপনার পাশে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে থাকে, আপনি কি কখনো ওর মাথায় হাত রেখে ভেবেছেন, আ...
14/05/2026

প্রিয় অভিভাবক,

গভীর রাতে যখন আপনার সন্তানটি আপনার পাশে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে থাকে, আপনি কি কখনো ওর মাথায় হাত রেখে ভেবেছেন, আজ সারাটা দিন ওর পাকস্থলীতে আমরা কী কী ঢুকিয়েছি?

আচ্ছা, আপনি কি কখনো আপনার সন্তানের স্কুলের গেটে দাঁড়িয়ে থাকা সেই রঙিন আচার বা চিপস বিক্রেতার ভিড়টা খেয়াল করেছেন? আমাদের ছোট ছোট সোনামণিরা যখন পরম তৃপ্তিতে ওই বিষাক্ত রঙ মাখানো খাবারগুলো মুখে তোলে, তখন কি আপনার কলিজাটা একবারও কেঁপে ওঠে না?

আমরা কি আমাদের সন্তানদের খাবার দিচ্ছি, নাকি ভালোবেসে ওদের হাতে তুলে দিচ্ছি রঙিন মোড়কে মোড়ানো একেকটি বিষের প্যাকেট?

আসলে, আমরা এক ভয়াবহ বিষের রাজত্বে বাস করছি। আর এই রাজত্বে আমাদের সন্তানরা সবচেয়ে বেশি অসহায়। ঠিক এই জায়গা থেকেই জন্ম নিয়েছে রাফান।

রাফান কে?

রাফান ১৩ বছরের এক দুরন্ত কিশোর। তার চোখেও আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু তার স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় পাড়ার মোড়ের সেই ঝলমলে দোকান— 'HAPPY KING'।

নামটা হ্যাপি হলেও, তার আড়ালে যে কত কত শিশুর কান্না আর অসুস্থতা লুকিয়ে আছে, তা কি আমরা জানি?

রাফান শুধু স্বপ্ন দেখে না, সে লড়তে জানে। সে গোয়েন্দা হয়ে খুঁজে বের করেছে:

🥫 কীভাবে রঙিন বোতলের আড়ালে আমাদের লিভার নষ্ট হচ্ছে।
🍿চিপসের ওই লোভনীয় প্যাকেটে কত বড় মরণফাঁদ পাতা আছে।
🧋 আর রাস্তার ধারের ওই তাজা জুস আসলে কতটা নোংরা আবর্জনায় তৈরি।
🥦🍅 আর ভালোভাবে বেঁচে থাকলে হলে আসলে কোন খাবারগুলো খেতে হবে।

📚 বইটি কেন লিখছি?

আমি চাই না আমার-আপনার হাসপাতালের বেডে শুয়ে তার শৈশব শেষ করুক। আমি চেয়েছি গল্পের ছলে, অ্যাডভেঞ্চারের মোড়কে ওদেএ শিখিয়ে দিতে কোনটা খাবার, আর কোনটা বিষ।

​🌟 শুধু বই নয়, এটি একটি আন্দোলন!

​আমি জানি, বই লিখে হয়তো সবার ঘরে পৌঁছানো যায়, কিন্তু সবার হৃদয়ে দাগ কাটা কঠিন। তাই কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ না থেকে আমরা শুরু করছি এক দেশব্যাপী শিশুতোষ সেমিনার।

​আমরা প্রতিটি জেলায় শিশুদের কাছে যাব। সেখানে কোনো বিরক্তিকর লেকচার হবে না; বরং রঙিন ছবি, এনিমেশন আর গল্পের জাদুকরী প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে আমি শিশুদের শেখাবো— বিষ কী, আর খাবার কী। যেন আমাদের সোনামণিরা নিজেরাই সাহস করে জাংক ফুডকে বলতে পারে "না!"

একটি শিশুর এই ছোট্ট একটা "না" বদলে দিতে পারে আমাদের পুরো জাতির ভাগ্য ইন শা আল্লাহ ।

​রাফান আসছে। আপনারা কি এই সুস্থ প্রজন্মের মিছিলে আমাদের সহযাত্রী হবেন? যদি আপনার এলাকায় আমাদের এই সেমিনার আয়োজন করতে চান, তবে কমেন্টে জানান।

বি:দ্র: বইটির মূল কাজ একটু আগেই শেষ করলাম। তারপর ২-৩ বার রিভিশন দিব ইনশাআল্লাহ। এটি ছোট কোন বই নয়, ওয়ার্ড ফাইলে প্রায় ৪০+ পৃষ্ঠা হয়েছে। দো'আ করবেন বইটি যেন শিশুদের জন্য উপযোগী করে হাতে পৌঁছানো সম্ভব হয় ইন শা আল্লাহ।

🌻 শেয়ার করে অন্যদের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন।

#শিশুখাদ্য #খাদ্যেবিষ #জাংকফুড #ফাস্টফুড

প্রোটেক্টিভ প্যারেন্টিং বইটি সম্পর্কে সম্মানিত এক বোনের মন্তব্য। লেখক হিসাবে বলছি না বইটি ভালো, তবে একবিংশ শতাব্দীর চ্যা...
02/05/2026

প্রোটেক্টিভ প্যারেন্টিং বইটি সম্পর্কে সম্মানিত এক বোনের মন্তব্য।

লেখক হিসাবে বলছি না বইটি ভালো, তবে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ "শিশুদের নিরাপত্তার" জন্যে বইটি সত্যিই অসাধারণ হবে ইনশাআল্লাহ।

এরই সাথে শিশুদের জন্যে গুড টাচ ব্যাড টাচ বইটি তো সত্যিই অমূল্য সম্পদ হবে ইনশাআল্লাহ।

🌷 যারা অর্ডার করে ফর্ম পূরণ করেছেন, গতকাল ৪০% বই পাঠিয়েছি। আজ বৃষ্টির জন্যে পাঠানো যায় নি। আগামীকাল ইনশা'আল্লাহ।

নতুন কেউ অর্ডার করতে চাইলে: কমেন্টে ফর্ম পূরণ করুন

আপনারা কি জানেন, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে শিশু যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত কতটি রিপোর্ট জমা পড়েছে?শুনলে আঁতকে উঠবেন— ২৪ লাখ ৯১ হ...
23/04/2026

আপনারা কি জানেন, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে শিশু যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত কতটি রিপোর্ট জমা পড়েছে?

শুনলে আঁতকে উঠবেন— ২৪ লাখ ৯১ হাজার ৩৬৮টি!

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়েটেড চিলড্রেন (NCMEC) বলছে, শিশুদের অনলাইন যৌন হয়রানির রিপোর্ট পাঠানোর দিক থেকে পুরো বিশ্বে বাংলাদেশ এখন শীর্ষে! এটি আমাদের জন্য যেমন লজ্জার, তেমনি চরম ভয়ের। আমাদের সন্তানদের সুরক্ষার দায়িত্ব কিন্তু আমাদেরই।

এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে সন্তানদের বাঁচাতে এবং তাদের সচেতন করতে আমার রচিত এই দুটি বই ইন শা আল্লাহ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে ইন শা আল্লাহ :

১. গুড টাচ ব্যাড টাচ: গল্পের ছলে শিশুদের সুরক্ষার পাঠ।

২. প্রোটেক্টিভ প্যারেন্টিং: সন্তানের নিরাপত্তায় অভিভাবকদের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা।

নিজে সচেতন হোন, সন্তানদের নিরাপদ রাখুন।

⏳ প্রি-অর্ডার চলছে! আগামী ২৫ তারিখ পর্যন্ত এই বিশেষ সুযোগ থাকবে। তাই দেরি না করে আজই আপনার কপি সংগ্রহ করতে ফর্ম পূরণ করুন।

📖 বই দুটির ভেতরটা দেখতে ক্লিক করুন: https://drive.google.com/drive/folders/1aFRO9dELEUHWpU0YAU1iG2xFR0NeBy3C

🔗 প্রি-অর্ডার করার লিংক: প্রথম কমেন্টে

জাযাকাল্লাহু খইর। 🌸

"পরিবারে সন্তান আসার পর ভালোবাসার পিরামিডে সবার ওপরে কার থাকা উচিত?"
20/04/2026

"পরিবারে সন্তান আসার পর ভালোবাসার পিরামিডে সবার ওপরে কার থাকা উচিত?"

কিশোর বয়সে স্ট্রেস: Peer Pressure ও FOMO (পর্ব-১)শুরুতে একটি গল্প বলি...​বিকেলের ম্লান আলোয় বারান্দায় বসে ছিলেন ফাহিম স...
16/04/2026

কিশোর বয়সে স্ট্রেস: Peer Pressure ও FOMO (পর্ব-১)

শুরুতে একটি গল্প বলি...
​বিকেলের ম্লান আলোয় বারান্দায় বসে ছিলেন ফাহিম সাহেব। ড্রয়িংরুম থেকে ছেলে আদনানের চিৎকার শোনা যাচ্ছে। আদনানের বয়স এখন চৌদ্দ। যে ছেলেটা মাসখানেক আগেও বাবার সাথে মসজিদে যাওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকত, সেই ছেলেটাই এখন সারাদিন ঘরের কোণে অন্ধকার করে বসে থাকে। মোবাইলটাই যেন তার দুনিয়া।

​আজ ঝগড়া হয়েছে একটা আইফোন নিয়ে। আদনানের আর্তনাদ মেশানো দাবি, সবার আছে আব্বু, আমার কেন থাকবে না? বন্ধুরা আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করে! আমি কি ওদের চেয়ে কম?

ফাহিম সাহেব দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবলেন, আমার আদব-কায়দা জানা ছেলেটা কি তবে গোল্লায় যাচ্ছে?

​আসলে আদনান গোল্লায় যাচ্ছে না। সে এক অদৃশ্য যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যে যুদ্ধের নাম Peer Pressure আর FOMO। বয়:সন্ধি বা টিএইজন শিশুদের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অদৃশ্য যুদ্ধের নাম।

আলোচনার শুরুতেই আপনাদের একটা প্রশ্ন করি...

আচ্ছা, আপনার টিনএজ সন্তান কি ঠিক আগের মতো নেই?
সেই ছোটবেলার চঞ্চল শিশুটি, যে একটু কিছু হলেই আপনার আঁচল ধরত কিংবা "আব্বু আব্বু" বলে সারা ঘর মাথায় তুলত, সে কি এখন কেমন যেন অচেনা হয়ে গেছে?

একটু মিলিয়ে দেখুন তো, সে কি এখন—

❗হঠাৎ করেই খুব চুপচাপ হয়ে গেছে? যেন নিজের চারপাশে এক অদৃশ্য দেয়াল তুলে দিয়েছে।

❗কথা বললেই মেজাজ খিটখিটে করে? তুচ্ছ কারণেও চড়া গলায় কথা বলে?

❗ পড়াশোনায় একদম মনোযোগ নেই, বই খুলে বসে থাকলেও মন পড়ে থাকে অন্য কোথাও?

❗ মাঝেমধ্যে একা একা ঘরে কাঁদে কিংবা অকারণে রাগ করে ভেঙে ফেলে হাতের কাছের জিনিস?

❗ এমন সব জিনিসের আবদার করছে, যা সে আগে কখনো চায়নি? (হয়তো কোনো দামী ব্র্যান্ডের জুতো বা আইফোন)।

❗ আপনার সাথে কথা বলার চেয়ে বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোতেই তার সব সুখ?

বেশিরভাগ বাবা-মা এই পরিবর্তনগুলো দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন আর হতাশা নিয়ে নিজেকে সান্ত্বনা দেন এই বলে, আরে, এটাই তো বড় হওয়ার স্বাভাবিক অংশ। বয়স হচ্ছে তো, একটু আধটু বদলাবেই।

কিন্তু একটু থামুন! এখানেই আমাদের সবচাইতে বড় ভুল। মনোবিজ্ঞান বলছে, এর পেছনে লুকিয়ে আছে এমন দুটি শক্তিশালী দানব, যাদের কথা আপনি না বুঝলে আপনার আদরের সন্তানটি বালুচরের মতো আপনার হাত থেকে একটু একটু করে ফসকে যাবে। চিরতরে দূরে সরে যাবে আপনার মমতা থেকে।

সেই দানব দুটির নাম হলো:

১. Peer Pressure (সমবয়সীদের চাপ) — যা তাকে নিজের সত্তা বিসর্জন দিতে বাধ্য করে

২. FOMO (Fear of Missing Out) — পিছিয়ে পড়ার এক নীল বিষাক্ত ভয়

আজ আমরা এই দুটো বিষয় নিয়ে কোনো তাত্ত্বিক কথা বলব না; বরং একদম গভীরে গিয়ে বুঝব ইন শা আল্লাহ।

শুরুতে আমাদের জানতে হবে, কেন এই কিশোর বয়সটা এত সংবেদনশীল? কেন এই বয়সেই ছেলেমেয়েরা এমন বেসামাল হয়ে পড়ে? কেন তারা হুট করে বদলে যায়?

উত্তরটা কোনো জাদুমন্ত্রে নয়, লুকিয়ে আছে আমাদের শরীরের ভেতরেই।

১. মস্তিষ্কের সেই লুকানো বিজ্ঞান (The Biological Reality)

জানেন কি, ১০ থেকে ১৮ বছর বয়সে কিশোর-কিশোরিদের মস্তিষ্কের ভেতর যেন এক প্রলয়ংকরী সুনামি বয়ে যায়? আমাদের মস্তিষ্কের যে অংশটি (Prefrontal Cortex) যুক্তি দেয়, ভবিষ্যৎ চিন্তা করে এবং ভালো-মন্দ বিচার করে, সেই অংশটি এই বয়সে তখনও কাঁচা মাটির মতো থাকে। সেটা পুরোপুরি পরিপক্ক হতে ২৫ বছর পর্যন্ত সময় লাগে!

ধরুন, আপনার সন্তানের মস্তিষ্কের ভেতরে এই সময়ে একটা স্পোর্টস কারের ইঞ্জিন লাগানো হয়েছে, যার গতি প্রচণ্ড। কিন্তু সেই গাড়ির যে ব্রেক (যুক্তি ও বিচারবুদ্ধি), সেটা লাগানো হয়েছে একটা ভাঙাচোরা সাইকেলের!

ফলে গাড়িটা তো ছুটবেই, কারণ ইঞ্জিন তাকে তাড়া দিচ্ছে। কিন্তু ব্রেক কষার সময় যখন আসে, তখন সেই দুর্বল ব্রেকটা আর গাড়ির গতি সামলাতে পারে না। ঠিক এই কারণেই কিশোর বয়সে সন্তানরা হুটহাট এমন সব কাজ করে বসে, যা কোনো সুস্থ বিবেক সম্পন্ন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।

এর সাথে যোগ হয় মস্তিষ্কের অন্য এক অংশ Amygdala। এটি মানুষের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে। কিশোর বয়সে এই অ্যামিগডালা থাকে আগ্নেয়গিরির মতো সক্রিয়। অর্থাৎ এই বয়সে আপনার সন্তান যুক্তির চেয়ে আবেগের ভাষায় কথা বলে বেশি। সে যখন চিৎকার করে, সে যখন আইফোনের জন্য বায়না ধরে, সেটা শুধুমাত্র সে ইচ্ছা করে করছে না। তার ভেতরের জৈবিক বাস্তবতা তাকে এটা করতে বাধ্য করছে। এটা তার চরিত্র নয়, এটা তার বয়সের এক জৈবিক যুদ্ধ।

২. সামাজিক স্বীকৃতির সেই হাহাকার (The Need for Belonging)

বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী আব্রাহাম মাসলো (Abraham Maslow) মানুষের চাহিদার একটা পিরামিড তৈরি করেছিলেন। তিনি দেখিয়েছেন, মানুষের পেটের ক্ষুধা আর জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পরেই যে জিনিসটার জন্য মানুষ সবচাইতে বেশি হাহাকার করে, তা হলো 'অন্তর্ভুক্তি' বা কারো কাছে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার অনুভূতি (Belonging)।

কিশোর বয়সে এই 'গুরুত্বপূর্ণ হওয়া'র মানেই হলো বন্ধুদের কাছে বা সমবয়সীদের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়া। তারা তখন সারাক্ষণ এক অদৃশ্য আতঙ্কে ভোগে—

• ​"সবাই কি আমাকে গ্রুপে রাখবে?"
• আমি কি বন্ধুদের সাথে মানানসই হতে পারছি?"
• "নাকি আমি একা হয়ে যাচ্ছি?"

এই একা হয়ে যাওয়ার ভয় থেকেই জন্ম নেয় Peer Pressure আর FOMO। বন্ধুদের কাছে নিজেকে স্মার্ট বা কুল প্রমাণ করার নেশায় সে তখন তার দীর্ঘদিনের নৈতিকতা, পারিবারিক মূল্যবোধ, এমনকি নিজের আত্মপরিচয়টাকেও নিলামে তুলে দিতে দ্বিধা করে না। কারণ তার কাছে তখন বাবা-মায়ের মমতার চেয়ে বন্ধুদের একটা লাইক বা প্রশংসা অনেক বেশি দামি মনে হয়।

আমরা ইসলামের দিকে তাকাই, তবে দেখব এই কৈশোর কালটা হলো শয়তানের সবচাইতে বড় শিকারের ক্ষেত্র। রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "যে ব্যক্তি যৌবনকালে আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থাকে, তাকে কিয়ামতের দিন আরশের নিচে ছায়া দেওয়া হবে।"

কেন এই পুরস্কার? কারণ এই বয়সে নিজেকে সংবরণ করা সবচাইতে কঠিন।

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেছেন, "হৃদয়ে এমন এক নির্জনতা আছে, যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ দূর করতে পারে না।"

আপনার সন্তান যখন বন্ধুদের চাপে পড়ে ভুল পথে যায়, সে আসলে তার হৃদয়ের সেই একাকীত্ব দূর করার জন্য এক মরীচিকার পেছনে ছুটছে। সে হয়তো জানে না, দামী ফোন বা বন্ধুদের আড্ডায় সেই শান্তি নেই, যা আছে সিজদাহ আর আল্লাহর সাথে গভীর মিতালীতে।

​এই সংবেদনশীল বয়সে তাকে কেবল শাসন করলে হবে না, বরং তাকে শেখাতে হবে, দুনিয়ার মানুষের কাছে স্মার্ট হওয়ার চেয়ে আরশের অধিপতির কাছে মকবুল হওয়া অনেক বেশি সম্মানের।

❓ Peer Pressure

Peer Pressure কী?
​সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এটি হলো আপনার সন্তান বা কোনো কিশোরের ওপর তার সমবয়সী বন্ধু বা সহপাঠীদের এক অদৃশ্য মানসিক চাপ। তাদের মতো করে কথা বলা, তাদের মতো পোশাক পরা, তাদের মতো চলাফেরা করা— এক কথায়, নিজের স্বতন্ত্র সত্তা বিসর্জন দিয়ে "স্রোতে গা ভাসানোর" নামই হলো Peer Pressure।

এই চাপটা মূলত দুইভাবে কাজ করে:

​১. সরাসরি চাপ (Direct Peer Pressure): এখানে বন্ধুরা সরাসরি আক্রমণ করে। অনেকটা ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো, "তুই যদি আমাদের সাথে এই আড্ডায় না আসিস, তবে তুই আর আমাদের বন্ধু না।" অথবা "একটা টান দিয়ে দেখ, নইলে তুই তো এখনো বাচ্চাই রয়ে গেলি!" এখানে সন্তান জানে সে চাপের মুখে আছে, কিন্তু গ্রুপের অংশ থাকতে সে নতি স্বীকার করে।

২. পরোক্ষ চাপ (Indirect Peer Pressure): এটি সবচাইতে বিষাক্ত এবং ভয়ংকর। এখানে কেউ মুখে কিছু বলে না, কিন্তু সন্তান নিজের ভেতর এক প্রবল হীনম্মন্যতা অনুভব করে। সে দেখে ক্লাসের সবাই এক বিশেষ ব্রান্ডের জুতো পরছে বা কোনো নির্দিষ্ট গেম খেলছে। সে তখন একা বসে ভাবে, "সবাই করছে, আমি না করলে তো আমাকে আনকুল বা আউটসাইডার ভাববে!"

বাবা-মা হিসেবে আমরা প্রায়ই এই দ্বিতীয় ধরনটা টের পাই না। সন্তান ভেতরে ভেতরে নীল হয়ে যায়, নিজের রুচিকে বিসর্জন দেয়, অথচ আমরা ভাবি সে বুঝি বড় হচ্ছে।

মূলত কৈশোরে মস্তিষ্কের Dopamine (ডোপামিন) নামক নিউরোট্রান্সমিটারের প্রভাব বেড়ে যায়। যখন তারা বন্ধুদের সাথে থাকে, তখন তাদের মস্তিষ্ক সামাজিক স্বীকৃতির জন্য এক অদ্ভুত ক্ষুধা অনুভব করে।

​গবেষণায় দেখা গেছে, একজন কিশোর যখন একা থাকে, তখন সে যতটা না ঝুঁকি নেয়, বন্ধুদের সামনে থাকলে তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ঝুঁকি নেয়। কেন? কারণ তার মস্তিষ্ক তখন যুক্তি দিয়ে নয়, বরং "বন্ধুদের কাছে হিরো হওয়ার" নেশায় বুঁদ হয়ে থাকে। তাদের মস্তিষ্কের 'রিওয়ার্ড সেন্টার' তখন বন্ধুদের হাততালিতে সাড়া দেওয়ার জন্য পাগল হয়ে ওঠে।

রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আজ থেকে চৌদ্দশ বছর আগেই এই Peer Pressure-এর ভয়াবহতা নিয়ে আমাদের সতর্ক করেছেন। তিনি এক চমৎকার উপমায় বলেছেন: "সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর উপমা হলো কস্তুরী বহনকারী (আতরের দোকানদার) এবং কামারের হাপরের মতো। কস্তুরী বহনকারী হয় তোমাকে কিছু দান করবে, নয়তো তুমি তার কাছ থেকে কিছু কিনবে, অন্তত তার কাছ থেকে সুঘ্রাণ পাবে। আর কামারের হাপর হয় তোমার কাপড় পুড়িয়ে দেবে, নয়তো তুমি তার কাছ থেকে দুর্গন্ধ পাবে।" (সহিহ বুখারি)

আপনার সন্তান কার পাশে বসছে, কার সাথে বন্ধুত্ব করছে, কার সাথে চলাফেরা করছে, তার ওপর নির্ভর করছে সে কস্তুরীর সুঘ্রাণ পাবে নাকি তার চরিত্রের বসন পুড়ে ছাই হবে।

তাইতো ইসলাম আমাদের শেখায়, "মানুষ তার বন্ধুর আদর্শে গড়ে ওঠে।" তাই বন্ধুর চাপ আপনার সন্তানকে হয় জান্নাতের পথে ঠেলবে, নয়তো অতলে হারিয়ে দিবে।

আগামী পর্বে ইতিবাচক peer pressure ও নেতিবাচক peer pressure নিয়ে আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ। এই সিরিজ টিনএজ সন্তানের বাবা-মায়ের জন্যে খুবই উপকারী হবে ইনশাআল্লাহ।

🌻 প্যারেন্টিং সম্পর্কে অন্যদের জানাতে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।
#প্যারেন্টিং

"সংস্কৃতি মানেই বিশ্বাস" বাবা হিসেবে যখন আমার সন্তানদের মুখের দিকে তাকাই, বুকের ভেতর এক অদ্ভুত কম্পন অনুভব করি। আমি জানি...
14/04/2026

"সংস্কৃতি মানেই বিশ্বাস"

বাবা হিসেবে যখন আমার সন্তানদের মুখের দিকে তাকাই, বুকের ভেতর এক অদ্ভুত কম্পন অনুভব করি। আমি জানি, এই পৃথিবীতে আমি তাদের জন্য সবচেয়ে বড় যে উত্তরাধিকার রেখে যেতে পারি, তা কোনো ব্যাংক ব্যালেন্স বা স্থাবর সম্পত্তি নয়; বরং তা হলো একটি বিশুদ্ধ 'আক্বিদা' এবং সেই বিশ্বাসজাত এক সুমহান 'সংস্কৃতি'।

আজকাল চারদিকে তাকালে দেখি সংস্কৃতির নামে এক অদ্ভুত খিচুড়ি পাকানোর চেষ্টা চলছে। আমরা কেউ কেউ মনে করি, সংস্কৃতি মানে বোধহয় কেবল বছরের বিশেষ দিনে বিশেষ কোনো রঙের পোশাক পরা কিংবা নির্দিষ্ট কোনো রীতি পালন করা। অথচ একজন মুমিনের কাছে সংস্কৃতি মানে কেবল বাহ্যিক জৌলুস নয়; সংস্কৃতি হলো তার হৃদয়ে লালন করা বিশ্বাসের এক জীবন্ত প্রতিফলন।

আমরা আজ এমন এক বিভ্রান্তিকর সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে পূর্ণাঙ্গ এক জীবনবিধান (Complete Code of Life) হাতে থাকা সত্ত্বেও আমরা অন্যের আঙিনায় সুখ খুঁজে বেড়াচ্ছি। ভাবতেই অবাক লাগে, যেখানে আমাদের ঘরে রাজকীয় ভোজের আয়োজন আছে, সেখানে আমরা পাশের বাড়ির পচা-বাসি খাবারের জন্য কেন লাইন ধরছি?

ইসলাম কোনো খণ্ডিত দর্শনের নাম নয়। আমাদের সলাত, যাকাত, সিয়াম কিংবা হজ্ব এগুলো যেমন ইবাদত, তেমনি আমাদের সংস্কৃতির প্রাণভোমরা। আমাদের উৎসব মানে ঈদুল ফিতর আর ঈদুল আযহা, যেখানে কেবল আনন্দ নয়, বরং মিশে আছেত্যাগের মহিমা আর আর্তমানবতার প্রতি নিখাদ ভালোবাসা ।

বড় আফসোস হয় যখন দেখি, আমাদের কিছু ভাই-বোন বিজাতীয় প্রথাকে ইসলামিক মোড়ক দিয়ে চালানোর ব্যর্থ চেষ্টা করছেন। যা আল্লাহ তা'আলা ওহীর মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ করে দিয়েছেন, তাকে অন্যের থেকে ধার করা নোংরা রঙ দিয়ে রাঙানোর চেষ্টার চেয়ে হাস্যকর আর কী হতে পারে?

এরা বাস্তবে, না পারে সেকুলারদের খুশি করতে, না পারে তাদের রবের আনুগত্য করতে!

আমি আমার সন্তানদের এই বিশ্বাসের ওপর বড় করতে চাই যে, আমাদের সংস্কৃতি হলো একমাত্র আল্লাহ তা'আলার দেওয়া জীবনপদ্ধতি। কারো থেকে ভাড়া করা সংস্কৃতির আমাদের বিন্দুমাত্র প্রয়োজন নেই। আমাদের সন্তানদের এমনভাবে গড়ে তোলা দরকার যেন তারা বুঝতে শিখে, ইসলামিক সংস্কৃতির সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে এর স্বচ্ছতায়। এখানে ন্যায়পরায়ণতা, আমানতদারিতা আর ইনসাফ হলো সমাজের মেরুদণ্ড। কারণ, ইনসাফবিহীন সমাজ আর আমানত খেয়ানতকারী ব্যক্তি কখনোই মুসলিম সংস্কৃতির ধারক হতে পারে না।

একজন বাবা হিসেবে আমার স্বপ্ন, আমার সন্তানরা ঝরা পাতার মতো বাতাসের টানে যেদিকে খুশি উড়ে যাবে না। তাদের হৃদয়ে থাকবে তাওহীদের সেই মজবুত শেকড়, যা শত ঝড়েও তাদের স্থির রাখবে। তারা যেন বুক ফুলিয়ে বলতে পারে, "আমার রব যে সংস্কৃতি আমাদের দিয়েছেন, তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কিছুই হতে পারে না।"

আসুন না, আমরা আমাদের নিজের শেকড়ে ফিরে যাই।

সংস্কৃতি মানেই তো সেই বিশ্বাস, যা আমাদের জান্নাতের পথ দেখাবে। আমাদের সংস্কৃতির উৎস কোনো মানবরচিত থিওরি নয়, বরং রব্বুল আলামীনের নাযিল করা অভ্রান্ত বিধান।

অন্যের অন্ধ অনুকরণে কোনো আভিজাত্য নেই; আভিজাত্য আছে ইসলামের সুমহান আদর্শে নিজের জীবনকে সাজানোর মধ্যে। আল্লাহ তা'আল্ব আমাদের সন্তানদের তাওহীদের ওপর অটল রাখুন এবং আমাদের ঘরগুলোকে তাঁর দেওয়া সংস্কৃতির সৌরভে সুরভিত করে দিন।

#সংস্কৃতি_মানে_বিশ্বাস # #শিশু #প্যারেন্টিং

শহরের দেয়ালগুলো রঙিন হচ্ছে। চারদিকে সাজ সাজ রব। বিশাল সব মুখোশ আর মূর্তির মিছিলের প্রস্তুতি চলছে। নাম দেওয়া হয়েছে 'মঙ্গল...
12/04/2026

শহরের দেয়ালগুলো রঙিন হচ্ছে। চারদিকে সাজ সাজ রব। বিশাল সব মুখোশ আর মূর্তির মিছিলের প্রস্তুতি চলছে। নাম দেওয়া হয়েছে 'মঙ্গল শোভাযাত্রা'।

আমরা কি একবারও ভেবে দেখেছি, আমাদের ছোট্ট সোনামণিরা যখন এসব দেখে, তখন তাদের কচি মনে কীসের বীজ বপন হচ্ছে? একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের কল্যাণ আর অকল্যাণ কি কোনো নির্দিষ্ট দিনে মাটির তৈরি প্রাণহীন মূর্তির ওপর নির্ভর করে?

কুরআন আর সুন্নাহর বিশুদ্ধ জ্ঞান আমাদের বলে—না, কখনোই না।

আমাদের উৎসবের আকাশটা সীমাবদ্ধ ইদুল ফিতর আর ইদুল আযহায়। হ্যাপি নিউ ইয়ার, ভ্যালেন্টাইন ডে, বড় দিন, ফাদার/মাদার ডে, চকলেট ডে কিংবা পহেলা বৈশাখ এসবের চাকচিক্যে যেন আমাদের সন্তানদের ঈমানি চেতনা ফিকে না হয়ে যায়, সেটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

তাই এবারের পহেলা বৈশাখের ডামাডোলের বিপরীতে আমি আয়োজন করেছি একদম ভিন্ন কিছু। যখন চারদিকে ভিনদেশি সংস্কৃতির জোয়ার, ঠিক তখনই আমি আমাদের ছোটদের শেখাবো একজন 'লিটল মুমিন' হিসেবে তাদের দিন-রাত কেমন হওয়া উচিত।

'লিটল মুমিনের দিন-রাত’ ওয়েবিনারটি মূলত সেই প্রস্তুতিরই অংশ।

শিশুরা যেন বিজাতীয় উৎসবে হতাশ হয়ে না পড়ে, বরং গর্বের সাথে বলতে পারে, ‘আমার সুন্নাহই আমার শ্রেষ্ঠ জীবনপদ্ধতি’, সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই আয়োজন।

বৈশাখের সেই দিনটিতেই আমরা কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর আলোকে তাদের দিনলিপি সাজিয়ে দিতে চাই।

সময় ফুরিয়ে আসছে। আমাদের হাতে আর মাত্র ২ দিন সময় আছে। আপনার সন্তানকে এই ঈমানি সফরের সঙ্গী করতে আজই রেজিস্ট্রেশন করে ফেলুন।

📝 রেজিস্ট্রেশন করবেন যেভাবে:

আপনার সোনামণির জন্য আসন নিশ্চিত করতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

বিকাশ/নগদ (পার্সোনাল): 01834911291

রেফারেন্স: Little Mumin course

রেজিস্ট্রেশন ফর্ম: https://forms.gle/MchNvTLfYBaHLwvw5

📅 রেজিস্ট্রেশনের শেষ তারিখ :১৩ এপ্রিল ২০২৬

📱 সময়: সকাল ১০ টা (১৪ এপ্রিল)

আয়োজনে: শিশু লালন-পালন ও শিশু শিক্ষা

আসুন, আমাদের সন্তানদের আগামীর জন্য এক একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে গড়ে তুলি। ইনশাআল্লাহ, দেখা হচ্ছে ওয়েবিনারে!

Address

Feni

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Good Parenting - শিশু লালন-পালন / শিশু শিক্ষা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share