05/06/2026
ভুল নীতির মাশুল কেন দেবে জনগণ? বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা কোথায়?
সরকারের ভুল নীতি আর ত্রুটিপূর্ণ চুক্তির খেসারত সাধারণ মানুষ কেন উচ্চ মূল্যে বিদ্যুৎ কিনে দেবে— তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন উঠেছে। বিদ্যুৎ খাতের তথাকথিত 'ভর্তুকি'র চাপ কমাতে সরকার আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। অথচ বাস্তবতা হলো, এই ভর্তুকির সিংহভাগ টাকাই বিদ্যুৎ উৎপাদন না করে অলস বসে থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পকেটে চলে যাচ্ছে, যা 'ক্যাপাসিটি চার্জ' বা কেন্দ্র ভাড়া হিসেবে পরিচিত। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে করা এসব আত্মঘাতী ও লুণ্ঠনমূলক চুক্তির কারণে বিদ্যুৎ না কিনলেও প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা গুটিকয়েক ব্যবসায়ীর পকেটে তুলে দিতে হচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জের এই বোঝা দিন দিন ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে যেখানে ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল ২৬,০০০ কোটি টাকা, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা প্রাক্কলন করা হয়েছে ৪২,৬১৮.২৮ কোটি টাকা— যা মোট বিদ্যুৎ ভর্তুকির রেকর্ড ৯৭.২৫%! অর্থাৎ, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় দেওয়া ভর্তুকির প্রায় পুরো অংশই গিলে খাচ্ছে অলস কেন্দ্রের ভাড়া। এই প্রাতিষ্ঠানিক লুটপাট ও নীতিগত ভুলের দায় সাধারণ গ্রাহকের ঘাড়ে চাপিয়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
লুটেরাদের পকেট ভরা বন্ধ না করে জনগণের ওপর এই অন্যায় বোঝা চাপানো বন্ধ হোক।
তথ্যসূত্র: বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সরকারি ওয়েবসাইট