01/02/2025
তোমরা যেভাবে এবার পবিত্র উরস শরীফ উদযাপন করলে তাতে সবাই সন্তুষ্ট হয়েছে । সবাই তোমাদের ঐক্য ও একতা দেখে সন্তুষ্ট হয়েছে । এবার উরস শরীফে তোমরা দেখলে বিগত উরস শরীফের চেয়ে বহু বেশী লোক সমাগত হয়েছে । সকলেই জানেন এই উরস শরীফের খবর । হযরত পীর কেবলাজান হুজুরের দু’য়ায় আল্লাহতায়ালার ইচ্ছায় এই উরস শরীফ অতীব সূচারু রূপে সম্পন্ন হলো । আল্লাহপাক দয়া করে এই উরস শরীফ করে দিলেন ।
আমি তোমাদের আল্লাহর হাতে সপে দিচ্ছি । এ কয়দিন ওয়াজ নসিহত করা হলো । তোমরা শরীয়তের বাহিরে যেয়ো না । পানির উপর দিয়েও যদি কেঊ হেঁটে যায় আর তার শরীয়তের খেলাফ থাকে , তাকেও বিশ্বাস করা যাবে না । কারণ শয়তান মানুষকে বহুভাবে ধোকা দিতে পারে । তোমাদের একটা কেচ্ছা শোনাই –
‘ময়মনসিংহ জেলা শহরে একজন ম্যাজিসিয়ান এসেছিল । সেই ম্যাজিসিয়ান ম্যাজিক দেখবে । দশটার সময় ম্যাজিক দেখাবে – সমস্ত বড় বড় অফিসাররা এসেছেন । ডিসট্টিক ম্যাজিস্ট্রেট এসেছিলেন । দশটা বেজে গেল । সাড়ে দশটাও বাজলো কিন্তু ম্যাজিসিয়ানের কোনো খবর নেই । সাড়ে দশটাও বাজলো । অবশেষে ষ্টেজে বুটজুতা পায়ে দিয়ে সশব্দে এক লোক হাজির হলো । ম্যাজিস্ট্রেট তাকে জিজ্ঞাসা করলেন “ তুমি কে ?” সে বললো , আমি ম্যাজিসিয়ান । তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো “ কয়টার সময় তোমার আসার কথা ছিল ?” সে বললো , দশটার সময় । তাকে আবারও জিজ্ঞাসা করা হলো , এখন কটা বাজে ? ম্যাজিসিয়ান উত্তর দিল “ দশটা বাজতে এখনও পনেরো মিনিট বাকী আছে ? “ ঐ জায়গায় যত ঘড়ি ছিল সব ঘড়িতেই তখন দশটা বাজতে ১৫ মিনিট বাকী দেখা গেল । ম্যাজিস্ট্রেট অবাক হয়ে গেল ।
এ ম্যাজিসিয়ানদের চেয়েও শয়তান বড় ম্যাজিসিয়ান । সে যে কোন রকম ম্যাজিক তোমাকে দেখাবে , তোমরা বুঝতেও পারবে না যে , সে আল্লাহকে ভুলিয়ে দিচ্ছে । যদি শয়তানের হাত হতে বাঁচতে চাও , তবে পীরে কামেলই একমাত্র বাঁচার পথ । শয়তানের তরফ থেকে নাফস হলো ওজুদ রাজ্যের সিপাহ সালার । এই নফস তোমার ওজুদ রাজ্যে এক ফেরাউন । এই ফেরাউন তোমাদের নিজেদের দেহে খোদাবিরোধিতা করে ।
আল্লাহ বলেন , তুমি তোমার দেহের মধ্যে যে ফেরাউন সেই ফেরাউনের বিরুদ্ধে জেহাদ কর । এই জেহাদকেই হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) বলেন , “ জেহাদে আকবর “ । এ যুদ্ধই সর্বশ্রেষ্ঠ জেহাদ ।
একবার এক জেহাদে বিজয় লাভ করে ছাহাবাগণ যখন হাসিঠাট্টা করছিলেন , তখন হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) ছাহাবাদের উদ্দেশ্যে বললেন , তোমরা ছোট জেহাদ থেকে বড় জেহাদের দিকে যাও । ছাহাবাগণ বললেন , ইয়া রাসূল্লাল্লা ! এর চেয়ে বড় জেহাদ আর কোন জেহাদ ? ‘’ হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) বললেন , “ এই জেহাদ হলো জেহাদ ছোগরা আর তোমাদের নাফসের বিরোদ্ধে যে জেহাদ সেই জেহাদই হলো সবচেয়ে বড় জেহাদ।
নাফস তোমাদের শরীরে ফেরাউন । এই ফেরাউনকে ধ্বংস করতে না পারলে সে তোমাদের আল্লাহর দিকে যেতে দেবে না । তাই দেখবে , তোমাদের দেলে সাধারনতঃ খারাপ কথা মনে আসে না । কিন্তু যখনই তুমি নামাজে দাঁড়াও , তখনই সকল খারাপ কথা মনে আসে । সবই আসে কেবল আল্লাহর কথাই মনে আসে না । অন্য সকল কথাই মনে আসে । যদিও কানে ধরে প্রতিজ্ঞা কর , আল্লাহ ছাড়া কারও সেজদা করবে না ।, কিন্তু নামাজে দাঁড়ালেই শয়তান তোমাকে আল্লাহর কথা ভুলিয়ে দেয় ।
এই অবস্থা থেকে বাঁচার অন্য কোন উপায় নেই – একমাত্র পথ যে পথ সম্পর্কে মাওলানা জালাল উদ্দিন রূমী বলেন , ‘’ তুমি যদি নাফস নামক কালসাপ হতে রক্ষা পেতে চাও , তবে নাফস – হন্তা মোরশেদে কামেলকে শক্ত করে ধর ।“
মহাকবি হাফেজ বলেন ,” হাফেজ ! তুমি যত বড়ই জ্ঞানী , গুণী , বুদ্ধিমান , সাইন্টিষ্ট বা বৈজ্ঞানিক হও না কেন , তোমার পীরের কাছে তুমি কিছুই নও । তুমি যদি দুর্বিপাকের তুফান থেকে বাঁচতে চাও তবে তোমার পীরের সংগেকে নূহের তরী মনে করে শক্ত করে ধর । “ শয়নে স্বপনে তার কথাই মনে রাখো । তার নির্দেশিত পথেই চলো । পীরের মতন দরদী আর কেহ নেই । পীরের মতন দরদী আর কেহ হবেও না ।
সত্য জেন্দা পীর হযরত এনায়েতপুরী ( কুঃছেঃআ; )) ছাহেব শুধু আমাদের চোখের বাহিরে । তিনি সমস্ত কাজ আমার জন্য করে দিচ্ছেন । তিনি আমার কাছে ওয়াদাবদ্ধ আছেন । তিনি বলে গেছেন , “ তোমার সমস্ত কাজ আমার হাতে রাখলাম ।“ এমন কোন ওলী পৃথিবীতে আসে নি , যিনি মুরীদের কাছে ওয়াদা করে যান যে মুরীদের সমস্ত কাজ পৃথিবী ছেড়ে যাবার পরও তিনি তার নিজের হাতে রাখেন । আমার দয়াল পীর কেবলাজান হুজুর নিজেই আমার সব কাজ করে দিচ্ছেন । তিনি এখনও পর্যন্ত তদীয় রুহানী তাওয়াজ্জুহ দ্বারা আমার সকল কাজ সম্পন্ন করে দিচ্ছেন । তাই এই সত্য তরিকা তামাম পৃথিবীতে একটা আলোড়ন সৃষ্টি করেছে । এই সত্য তরিকা তাই – ই দিন দিন ব্যাপক প্রসার লাভ করছে । তার তাওয়াজ্জুহ চলতে থাকবে । এই তাওয়াজ্জুহ চলবে আখেরী ইমাম ছাহেব আসা পর্যন্ত । আখেরী ইমাম আসলে তোমরা তখন ভিন্ন রকম ফয়েজ পাবে ।
বর্তমানে খাজাবাবার তাওয়াজ্জুহ দ্বারা তোমাদের দেল আল্লাহর দিকে হচ্ছে , তোমরা জজবার হালতে কাঁদ । এই কান্নাটাই খাজাবাবার তরফ থেকে তোমাদের জন্য দান । তাই জালাল উদ্দিন রুমী (রঃ) ছাহেব লিখেছেন , তোমরা যে এছমে আজমের কথা শুনেছ , সেই এছমে আজম হলো তোমাদের চোখের পানি ।
তোমরা যখনই চোখের পানি ফেলে আল্লাহকে ডাকবে , সেই মুহূর্তেই আল্লাহপাক তোমাদের সমস্ত গোনাহ মাফ করে দেবেন । তোমরা যেন গোনাহর কাজে আর না যাও । জামানার মোরশেদে কামেল খুব কমই ভাগ্যে মেলে । মোরাদ ফকির দুনিয়াতে খুব কমই আসেন । যেমন আকাশের চন্দ্র । লক্ষ লক্ষ তারকার মধ্যে একটাই মাত্র চন্দ্র থাকে –তাও পূর্ণিমার পূর্ণ চন্দ্র মাত্র একদিন দেখা যায় । পনের দিন অন্ধকার । পনের দিন ছাফা । ঐ একটিই চন্দ্র সমস্ত জগতকে আলোকিত করে । সমস্ত জগত সেই আলোতে উল্লাসিত হয় । ঐ রকম মোরাদ ফকির সমস্ত জগৎবাসীর জন্য চন্দ্রস্বরূপ । তিনি তামাম দুনিয়াবাসীর আত্মাকে সত্যের আলোতে উদ্ভাসিত করেন । তার ছহব্বতে যারা থাকবে , তারা সকলেই সত্য পথে থাকবে ।
তাই আল্লাহ ফেরেশতাদের বলেন , “ তোমরা যে রহমতের সময় দুনিয়াতে গেলে তোমরা কি দেখলে ? “ফেরেশতারা আল্লাহাপাককে বললেন , “ দেখলাম , তোমার একজন বান্দা তাদের সত্য পীরের দরবারে ধূলাবালির মধ্যে কাঁদছে – তাদের বিছানাও নাই , প্ত্রও নাই খাওয়াও নাই , খাদ্যও নাই । এই শীতের রাতে তারা অঝোর নয়নে কাঁদছে । তাই দেখে এলাম । তখন আল্লাহ বলেন , রহমতের সময়ে কেঁদে তারা কি চায় ? “ফেরেশতাগ্ণ বলেন , তাদেরতো কিছুই চাইতে দেখলাম না । তারা তোমকেই চায় । তোমার মহব্বত কামনা করে । তখন আল্লাহ বলেন , তারা কি দোজখের ভয়ে কাঁদে ? ফেরেশতারা বলেন , তাওতো মনে হলো না । আল্লাহতায়ালা বলেন , তারা কি বেহেশতের জন্য কাঁদে ? ফেরেশতারা বলেন , না , তাও চায় না । তারা তোমাকেই চায় । তোমার মহব্বত কামনা করে । তখন আল্লাহ বলেন , “ আমি রহমতের ভান্ডার খুলে দিলাম – তোমরা তাদের জন্য রহমতের ভান্ডার দান কর । তাদের দেল ও সর্বশরীররের চাম নরম করে দাও । আল্লাহতায়ালার জেকেরে দেল ও চাম উভয়ই নরম হয়ে যায় । তাই তোমাদের যে শিক্ষা দিচ্ছি তোমরা তা ভুলো না । মাঝে মাঝে আপন পীরের দরবারে এসো । যতদিন ভুলে ছিলে , ছিলে - আর ভুলে থেকো না । সময় আর বেশী নেই । আমি তোমাদের আল্লাহর হাতে সপে দিলাম , তবে আমি যখন দুনিয়া ছেড়ে চলে যাব , তখন তোমরা যাতে ঐক্যবদ্ধ থাক , সত্য পথে থাক । তার ব্যবস্থা আমি রেখে যাব ।
পরবর্তী সময়ে তোমরা যাতে আল্লাহতায়ালার দ্বীন প্রচার করতে পার , আল্লাহকে দেখতে পার , এর ব্যবস্থাও আমি করে যাব । আল্লাহ বলেন , ‘’ আমিতো তোমাদের ভিতরেই আছি , তোমরা দেখ না কেন ? আল্লাহকে দেখবার যে নিয়ম পদ্ধতি তাহা পীরে কামেল শিক্ষা দিবেন । এই রকম পীর জগতে খুবই কম পাওয়া যায় । যিনি এই বিদ্যা জগৎবাসীর জন্য আল্লাহতায়ালার তরফ থেকে নিয়ে এসেছেন , তিনিই প্রকৃত মোরাদ ফকির । এই রকম মোরাদ ফকির ছিলেন খাজাবাবা এনায়েতপুরী ( কুঃছেঃআঃ ) ছহেব । আমি তোমাদের সবাইকে আল্লাহর হাতে সপে দিলাম । তোমরা চিন্তা করো না । চিন্তার কিছুই নেই , হযরত কেবলাজান বলেছেন , “ তোমরা আল্লাহকে স্বরণে রেখে বুকে টোকা দিয়ে চলো । তোমাদের কোনো ভয় নেই , ।“ পীর কেবলাজান হুজুর তোমাদের পেছনে আছেন । তিনি বলে গেছেন , তোমার কাজ আমার হাতে রাখলাম ।
সবই যে পীর কেবলাজান করে দিচ্ছেন । তাই আমার কাছে মনে হয় । আমার কাছে যেন কোন তাপও লাগে না । কোন আঁচড়ও লাগে না । এই যে উরস শরীফ করলাম তা যেন আল্লাহপাক নিজ হাতে করে দিলেন – তা যদিও তোমরা উরস শরীফ নিয়ে এতই মাতোয়ারা ছিলে যে , সেই ফয়েজে উদ্বুদ্ধ হয়ে তোমাদের দুনিয়ার খেয়াক কম ছিল – বাবা , তোমাদের সময়মতো খাওয়া দাওয়া হয় নাই – এই যে নেয়ামত তোরা লাভ করলা – এই নেয়ামত অর্থ দিয়ে পাওয়া যায় না , টাকা দিয়ে পাওয়া যায় না । পীরের দয়ার বরকতে পাওয়া যায় ।
খাজাবাবা দয়া করে তোমাদের জন্য রহমতের ডালা খুলে দিয়েছেন । এবার উরস শরীফ আদ্যোপান্ত কান্নাকাটির মধ্য দিয়া আল্লাহতায়ালার মহব্বতে চোখের পানির মধ্য দিয়া উদযাপন করা হলো । আজ ১৮ই শরীফ শেষ করা হলো । তোমাদের আজ বিদায় দিলাম “ আল্লাহ তুমি আমার মুরীদানদের রক্ষা করো , “ তোমরা রহমতের সময় ঘুমিয়ে থেকো না – সে সময় খুব ভোরে সবাই আল্লাহকে ডাকতে থাকবে । পাখীরা আল্লাহকে ডাকতে থাকে । মোড়্গগুলো উচ্চস্বরে ডাকতে থাকে । সে সময় দয়াল নবী ( সাঃ ) কে আল্লাহপাক ডেকে দিতেন , বলতেন , “ হে নবী ! আপনি ঊঠেন । এই সময় আকাশ বাতাস ঘুমায় না , পাহাড় পর্বত ঘুমায় না ।কোন সময় বলতেন , “ হে কম্বলওয়ালা ! আপনি ঊঠেন । “ এটা আদরের ডাক ।
এভাবে হুজুর কেবলাজান খাজাবাবা এনেয়েতপুরী (কুঃছেঃআঃ) ছাহেব মূরীদাঙ্কে ডাকতেন । সেই বুলিটা তিনি আমাকে দিয়ে গেছেন । তাই তোমাদের রহমতের সময়ে উঠানো হয় । এখন আমার বয়স হয়েছে , বৃদ্ধ হয়েছি তথাপী কোন রোগ ও নাই । তবে শরীরে শক্তি কমে গেছে , বয়স হয়েছে আশী বছর । তথাপী তোমাদের কাজের জন্য আল্লাহরকাছে হাজার শোকরিয়া ।
তিনি আমাকে তোমাদের মধ্যে রেখেছেন । আল্লাহ যদি আমাকে আরও কিছুদিন রাখেন আরও কিছু শিক্ষা দিয়ে যাব । সবচেয়ে বড় শিক্ষা সবচেয়ে বড় কাজ এই মসজিদটি করে দিয়ে যাব । এই মসজিদটা জাকের মঞ্জিলের মুকুট । দোতালার কাজ প্রায় শেষ , অচিরেই ছাদ হবে । ছাদ হলে পরে গম্বুজটা হবে । বাকী অন্যান্য কাজ শেষ করতে আরও অন্ততঃ পাঁচ বছর লাগবে । সবই হবে সময়ের সাথে । তোমরা সবাই –ই মসজিদের কাজে এগিয়ে এসো । আর যে কতদিন আমি আছি । আমি তোমাদের নিয়ে ধর্মকর্ম যেভাবে করে আসছি সেই ভাবে করে যাবে ।
আমাকে যে সম্পত্তি আল্লাহতায়ালা দিয়েছেন , তা যেন নখ কেটে তাল গাছ । আমি দুনিয়া প্রত্যাশী নই । আমি সমস্ত সম্পত্তি ইসলামের জন্য , মুরীদানের জন্য ট্রাষ্টি করে রেখে গেলাম । পরবর্তী সময়ে তা তোমাদের কাজে লাগবে । এইটা তোমাদের মঞ্জিল – এই জাকের মঞ্জিল তোমরা নিজেরা মাটি কেটে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তৈরী করেছ – আজ কেমন সুন্দর বৈদ্যুতিক বাতি দিয়ে সাজানো । সুন্দর রাস্তা শহরের মতো দেখা যায় । এমন একদিন ছিল যখন এখনে রাস্তা ছিল না , ঘাট ছিল না , কোন শিক্ষিত লোক ছিল না । কোন ধনী লোক ছিল না । আল্লাহতায়ালার সীমাহীন দান । এখন আটরশি একটা শহরে রূপান্তরিত হয়েছে ।
তামাম পৃথিবীর এমন কোন দেশ নাই যে আটরশির নাম না জানে । এটা তোমাদের জন্য একটা সৌভাগ্য । এই সৌভাগ্য তোমরা অক্ষুন্ন রেখো , তোমাদের ঐক্যবদ্ধ শক্তি দ্বারা । হযরত পীর কেবলাজান বলেছেন , সত্তর জন সহোদর ভাইয়ের চেয়েও শ্রেষ্ঠ পীর ভাই – তোমরা তাকে ভুলো না । তোমাদের বাড়িতে যদি কোন পীর ভাই যায় । তুমি তোমার গায়ের চাদর বিছিয়ে দিয়ে তাকে বসতে দিবে । তবে বর্তমান জামানা মুসিবতের জামানা । আবার মুরীদের ভান করে শয়তান যাবে , দাগাবাজ ধোকাবাজ যাবে । চোর যাবে , গুন্ডা যাবে । সেদিকেও লক্ষ্য রাখবে । প্রকৃত মুরীদ যে তার দেহ থেকে ফয়েজের গন্ধ পাওয়া যাবে । তাকে দেখলেই চোখে পানি আসবে ।পীরের কথা মনে হবে । মহব্বত সৃষ্টি হবে । পীরের মতো আর কেহ নয় । পীরকে হারিয়ে মুরীদ সবকিছু হারা হয়ে যায় । তার আর কোনো অস্তিত্ব থাকে না ।
আল্লাহর তরফ হতে সমস্ত সৃষ্টির উপর মোরশেদে কামেল রহমতের ছায়া । খাজাবাবা তাই ছিলেন । তাই খাজাবাবার বেছালতে আকাশ – বাতাস কাঁদে । তাই যেদিন উরস হইল সেদিন এক পশলা বৃষ্টি হইল । তোমাদের উপর আল্লাহতায়ালার রহমতের পানি বর্ষিত হলো । সেই রহমতের পানি মাথায় নিয়া তোমরা বাড়ি যাও । আশা করি , কোন রোগ –বালাই থাকবে না । এতো কষ্ট করলে , এত বৃষ্টিতে ভিজলে , কারও কোনো অসুখ হয় নাই । এত বৃষ্টিতে ভিজে কাদাপানির মধ্যে জাকেরান পড়ে রইলো তাতে কাহারও কোনো অসুখও হয় নাই । এই রহমত অক্ষুন্ন থাকুক । এই দু ‘আ করে তোমাদেরকে আল্লাহর হাতে সপে দিলাম ।
আ-মীন ।
☪︎☪︎☪︎১৯৯২ সনে অনুষ্ঠিত চারদিন ব্যাপী “ উরস শরীফ “ এর সমাপনী দিবস ছিল বাংলায় ১৮ই ফালগুণ । এই দিন হযরত শাহসূফী এনায়েতপুরী ( কুঃ) ছাহেবের বেছালত দিবস । এ দিন সকাল দশটায় বিদায়ের প্রাক্কালে মুরীদান্দের উদ্দেশ্যে হযরত খাজাবাবা ফরিদপুরী ( মাঃজিঃ আঃ) ছাহেবের দেয়া নসিহত ।☪︎☪︎☪︎
[{ তথ্যসূত্রঃ খোদা প্রাপ্তি জ্ঞানের আলোকে বিশ্বওলী খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃছেঃআঃ) ছাহেবের লিখিত নসিহত শরীফের ২১ তম খন্ড "" ওজিফার গুরুত্ব ও উরসের তাৎপর্য "" নামক খন্ডের--১৩১ নং নসিহতের অংশ বিশেষ, পৃষ্ঠা নং-৫২-----৫৬}]