01/04/2026
সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী এবং অবৈধভাবে তেল মজুদ করে রাখা হোতাদেরকে ধরতে সরকারের ৬৪ জেলায় ভিজিলেন্স টিম গঠন করার আইডিয়াটি মাস্টারস্ট্রোক ছিল। আমি এ নিয়ে লিখেছিলাম প্রধানমন্ত্রীর ওই সিদ্ধান্তের পরই।
তেলের দাম বৃদ্ধি করার প্রস্তাব রিজেক্ট করে দিয়ে মিটিংয়ে যে স্ট্রেটেজি নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেব, সেটা যে কাজে দিচ্ছে তার এ্যাকশন দেখলেই বুঝা যাবে।
এ কয়দিনে অভিযান চালানো হয়েছে ৩৯১টি স্থানের বিভিন্ন পাম্পে। অবৈধভাবে তেল মজুদকারী ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ১৯১টি। জরিমানা করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৫ হাজার ৭০ টাকা। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৭ জনকে।
সবচেয়ে বড় কথা উদ্ধার করা হয়েছে ৮৭ হাজার ৭০ লিটার তেল। যারমধ্যে ডিজেল ৬৭, ৪০০ লিটার; অকটেন ৬, ৪৪৪ লিটার এবং পেট্রোল ১৩, ৮৫৬ লিটার।
জাস্ট ১ মাস টানা এই এ্যাকশনটি অব্যাহত থাকলে আর প্রধানমন্ত্রী তেলের দাম না-বাড়ানোর যে স্ট্রেটেজি নিছেন, সেটা স্ট্রিক্ট থাকলে সিন্ডিকেট ব্যবসায় লালবাতি জ্বলবে; প্লাস সব ফিলিং স্টেশন মালিকেরা সোজা হয়ে যাবেন।
জ্বালানি তেল বেশিদিন মজুদ করে রাখাও সম্ভব নয়৷
প্রতিদিন জ্বালানি তেলের চাহিদা সাধারণত ১২ হাজার টন, চাহিদার থেকেও বেশি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, এরপরও দিনের আধা বেলা না যেতেই এ তেল কোথায় গায়েব হয়ে যায়!
এমনিতেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামায় চুক্তি ক্লিয়ারেন্স থাকা সত্ত্বেও সূচী অনুযায়ী সরকার তেলের জাহাজগুলো দেশের বন্দরে ভীড়াতে পারছে না। চাহিদার ঘাটতি মেটাতে নানান দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ শুরু করছে তেল কিনতে এগ্রিমেন্টে যেতে। খরচ বেড়ে গেছে দ্বিগুণ। পুরোটা সরকার ভর্তুকি দিয়ে টানতেছে। এরপরও দেশের পাইপলাইনে থাকা সেই তেল নিয়ে অবৈধভাবে মজুদ করে সিন্ডিকেট গোষ্ঠীরা কৃত্রিম সংকট তৈয়ার করতেছে। অনেক মানুষজন ভীতিতে প্রয়োজনের তুলানায় অতিরিক্ত তেল কিনতে চেষ্টা করছেন, এটাও সমস্যাজনক।
এখনো পরিস্থিতিটা স্বাভাবিক পর্যায়ে আছে, সামনের দিনে কী হয়ে থাকে বলা যায় না। শোনা যাইতেছে ইরানের ভেতর আমেরিকা গ্রাউন্ড ইন্যাভেশন চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, যদি সত্যিই তা-ই ঘটে, মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে বিশ্বে ভয়াবহ সিচুয়েশন তৈরি হয়ে। ইকোনমির যে ক্রাইসিস তৈরি হবে যেখান থেকে রিভাইব করা আমাদের মতো দেশগুলোর জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ। সৌদির আরামকো রেড সি দিয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ তেল সাপ্লাই হয়, সেটাও বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলছে ই