09/05/2026
হে রাব্ব, এমন একটি প্রজন্ম পাঠান, যারা প্রতিবেশীর ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে কূটনৈতিক ভাষায় বলতে পারবে, এই আকাশটা আমাদের!!! আফসোস | পঞ্চান্ন বছরে আমরা কী হলাম? আজ সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত আমাদের প্রতিবেশী একটি বৃহৎ রাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরের সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার করিডরে দশ হাজার কিলোমিটার পাল্লার আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে, আর আমাদের পক্ষ থেকে একটি কূটনৈতিক উদ্বেগও প্রকাশিত হচ্ছে না।
প্রশ্নটা আজ কোনো একটি সরকারের নয়, প্রশ্নটা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেদেরই। ১৯৭১ থেকে ২০২৬, পঞ্চান্ন বছর পেরিয়ে আমরা নিজেদের শক্তিশালী করতে আসলে কী করেছি?
সামরিকভাবে আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির এক দশমিক তিন শতাংশ, প্রতিবেশীরা সেখানে চার থেকে পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ দিচ্ছে। নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র নেই, যুদ্ধবিমান নির্মাণ সক্ষমতা নেই, প্রতিরক্ষা শিল্প বলতে কিছুই নেই।
অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে গার্মেন্টস শ্রমিকের ঘাম, প্রবাসীর রেমিট্যান্স আর কৃষকের পরিশ্রমের উপর। নিজস্ব ভারী শিল্প নেই, প্রযুক্তি ভিত্তি নেই, বিশ্ববাজারে পরিচিত একটি ব্র্যান্ড নেই। ডলার সংকটে রিজার্ভ বছরে বহুবার কাঁপে আর রপ্তানি কমলে বাজেট দুলে ওঠে।
স্বাধীনতার সময় দক্ষিণ কোরিয়া আমাদের চেয়ে গরিব ছিল, আজ তাদের মাথাপিছু আয় পঁয়ত্রিশ হাজার ডলার। ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, রুয়ান্ডা, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, সবাই নিজের জায়গা থেকে উঠে এসেছে। আর আমরা পঞ্চান্ন বছর পরেও প্রতিবেশীর ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার দৃশ্য নীরবে দেখি।
কিন্তু একটি জায়গায় আমরা পিছিয়ে নেই, বরং অগ্রগামী। সেটি হলো শাসকশ্রেণির ব্যক্তিগত সম্পদের পাহাড় গড়া। সুইস ব্যাংক, কানাডার বেগম পাড়া, দুবাইয়ের টাওয়ার, লন্ডনের অভিজাত পাড়া, মালয়েশিয়ার সেকেন্ড হোম, পাচারের গন্তব্যগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম একই, শুধু পাসপোর্টের ছবি বদলায়।
আফসোস হয়, কৃষক ঘাম ঢেলেছে, প্রবাসী মরুভূমির রোদে শরীর পুড়িয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা বুকের রক্ত দিয়েছে, জুলাইয়ের তরুণ গুলির সামনে বুক পেতে দিয়েছে, আর দেশের সম্পদ গিয়ে জমা হয়েছে অন্য মহাদেশের ব্যাংক ভল্টে।
হে রাব্ব, এমন একটি প্রজন্ম পাঠান, যারা ক্ষমতায় বসে নিজের আখের নয়, দেশের ভিত গড়বে। যারা বিদেশে বাড়ি কেনার আগে দেশের মাটিতে কারখানা গড়বে। যারা প্রতিবেশীর ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে কূটনৈতিক ভাষায় বলতে পারবে, এই আকাশটা আমাদের।
ইনশাআল্লাহ, সেই ভোর একদিন আসবে। আল্লাহ মজলুম জাতিকে ভুলে যান না, শুধু সময় দেন।
মুহাম্মাদ রাজ ((নওমুসলিম)
লেখক | বিশ্লেষক | সমাজসেবক | মানবাধিকার কর্মী
মহাপরিচালক, Hafezzi Charitable Society of Bangladesh
#বাংলাদেশ #পঞ্চান্ন_বছর #আফসোস #দেশ_গড়ো #সার্বভৌমত্ব #অর্থপাচার #মুক্তিযোদ্ধা #জুলাই_শহিদ #দেশপ্রেম #আমাদের_আকাশ #নতুন_বাংলাদেশ