09/11/2025
ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে বাংলাদেশের মন্ত্রী হয়েছেন সালাউদ্দিন আহমেদ,আমান উল্লাহ আমান,রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু,এহসানুল হক মিলন সহকারে একঝাঁক বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ।
ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে দেশের বিভিন্ন সিটির মেয়র হয়েছেন মিজানুর রহমান মিনু,আরিফুল হক,ডক্টর শাহাদাত হোসেন,মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল সহকারে একঝাঁক দেশবরেণ্য ছাত্রনেতা।
ছাত্রদলের রাজনীতি করে এমপি হয়েছেন শামসুজ্জামান দুদু,খায়রুল কবির খোকন,আবুল খায়ের ভূঁইয়া,নাজিম উদ্দিন আলম,ফজলুল হক মিলন,শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি,হাবিবুর ইসলাম হাবিব সহকারে আরো একঝাঁক মৃত্যুঞ্জয়ী ছাত্রনেতারা।
ছাত্রদলের রাজনীতি করে পার্লামেন্টে গিয়েছেন সৈয়দ আশরাফী পাপিয়া,নিলুফার চৌধুরী মনি,রেহানা আক্তার, শাম্মী আক্তার সহকারে এ-ই যুগের একঝাঁক মহীয়সী নারীরা।
ছাত্রদলের রাজনীতির ইতিহাসে যেকয়টি নাম আজও বারবার আমাদের স্মরণে আসে তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইলিয়াস আলী,নাসিরুদ্দিন পিন্টু,শফিউল বারী বাবু সহকারে একঝাঁক প্রয়াত নেতারা।
ছাত্রদলের রাজনীতি করে আজ বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতেও বিশাল প্রভাব রাখছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আসাদুজ্জামান রিপন,রুহুল কবির রিজভী,হাবিব উন নবী খান সোহেল সহকারে অনেকেই।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য ছাত্রদলের একঝাঁক সাবেক নেতার নাম ঘোষণা করা হয়েছে খন্দকার আবু আশফাক,নুরুল ইসলাম নয়ন,রাজিব আহসান,আনিসুর রহমান খোকন,কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ সহকারে অনেক বীরসেনানীদের নাম।
ছাত্রদল শুধু ছাত্রদলের জন্যই নেতা তৈরী করে না, দেশের আগামীর মন্ত্রী এমপি মেয়র কিংবা দেশকে আলোকিত করার মতো রাজনীতিবিদ কারা হবে;সেটাও ছাত্রদল ঠিক করে,ইতিহাসও সেই সাক্ষ্য দেয়।
১৯৯০ এর গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস যে-ই যেভাবেই লেখুক কিন্তু সে-ই ইতিহাসে আমান উল্লাহ আমান,খায়রুল কবির খোকন,নাজিম উদ্দিন আলম,শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিদের নাম আসবেই।
১-১১ এর সে-ই বিরাজনীতিকরণের মহাসংকটে ১-১১ এর সরকারের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংবাদ সম্মেলন করেন বর্তমান ছাত্রদলের সিনিয়র সহ সভাপতি আবু আফসান ইয়াহিয়া এবং ১-১১ সরকারের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম মিছিল হয় তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের হাসান মামুনের নেতৃত্বে।
তারপর আসলো হাসিনার সে-ই স্বৈরশাসন।এই ১৭ বছরে শুধু ছাত্রদলেরই ৭০+ হাজার নেতা-কর্মী মিথ্যা মামলার আসামি হয়েছে,৮০০+ মার্ডার হয়েছে,১৫০+ গুম হয়েছে;বহু নেতা-কর্মী অন্ধত্ব,পঙ্গুত্ব বরণ করেছে।
সর্বশেষ জুলাই আন্দোলনেও ছাত্রদলের জেলা মহানগরীর একেবারে শীর্ষ নেতা সহকারে ১৪২ জন মারা গেছে,সারা দেশব্যাপী ছাত্রদলের ২৫০০+ পদধারী নেতা-কর্মীদের মিথ্যা মামলার আসামি করা হয়েছে।
ছাত্রদল প্রতিষ্ঠাকালীর পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে যতগুলো গণ আন্দোলন হয়েছে সবগুলোতেই ছাত্রদল মহীরুহ ভূমিকা রেখেছে।কোনো গণ আন্দোলন হয়েছে যেখানে ছাত্রদলের সম্পৃক্ততা নাই,এমনটা কেউ দেখাতে পারবে না।
বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির অন্য ছাত্র সংগঠন গুলো দুঃসময়ে থাকে বিড়ালের মতো কিন্তু সুসময় আসলে তারা হয়ে যায় সিংহের মতো;মির্জা গালিব থেকে সাদিক কায়েম কিংবা এনামুল হক শামীম থেকে সাদ্দাম হোসেনই,সবচেয়ে বড়ো উদাহরণ।
এক্ষেত্রে এ-ই সংগঠন সবসময়ই ভিন্ন,সুসময় দুঃসময় সবসময়ই মহিরুহ ভূমিকায় থাকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।শত জুলুম নির্যাতনের পরও ছাত্রদলকে টলাতে পারে না-ই কেউ।ছাত্রদল নেতাদের মুখ থেকে মিথ্যা স্বীকারোক্তি কিংবা সাজানো বক্তব্য-শ্লোগান বের করতে পারে নাই কোনো স্বৈরাচারই।
হ্যা,শিক্ষা ঐক্য প্রগতির বার্তা দেওয়া জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল হয়তো-বা কিছু সংকট পার করছে তবে আমি বিশ্বাস করি ছাত্রদল অচীরেই তার চিরচেনা ঐতিহ্যতে ফিরবেই।
দেশের দুঃসময়ে পালিয়ে যাওয়া মির্জা গালিব কিংবা সুশীলরা নয় বাংলাদেশের ছাত্রসমাজই ঠিক করবে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আগামীর পরিণতি কোন দিকে হাঁটবে....
বর্তমান ছাত্রদল, দেশ ও দলের প্রতি অনুগত থেকে ঐক্যের রাজনীতি করুন, নিশ্চয়তা দিচ্ছি লিখার শুরুতে যে সকল সাবেক ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের সাফল্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে আপনারাও ঠিক সেই লেভেলে অচীরেই সম্মানীত হবেন।