04/08/2026
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসী কার্যক্রম জুলাই আকাঙ্ক্ষার সাথে প্রতারণার শামীল : ছাত্র মজলিস
২০২৪ এর জুলাইয়ে এদেশের ছাত্রজনতা অকাতরে জীবন উৎসর্গ করেছিল কোটা, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি মুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণের নিমিত্তে। বিশেষ করে শিক্ষাঙ্গন হবে সন্ত্রাস, দখলদারি, সিট বাণিজ্য ও র্যাগিং কালচার মুক্ত এমনটাই ছিল জুলাই অভ্যুত্থানের মৌলিক প্রতিশ্রুতি।
অথচ অভ্যুত্থানের মাত্র দু'বছরে মাথায় দেশের ক্যাম্পসগুলোতে নতুনভাবে সন্ত্রাসী কার্যক্রম লক্ষ্যে করা যাচ্ছে, যা স্পষ্টত জুলাই আকাঙ্ক্ষার সাথে প্রতারণার শামিল।
আজ মঙ্গলবার (০৪ জুলাই ২০২৬) ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ রায়হান আলী এবং সেক্রেটারি জেনারেল জাকারিয়া হোসাইন জাকির এক যৌথ বিবৃতিতে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় আরও বলেন, সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলীয়াসহ বেশ কয়েকটি ক্যাম্পাসে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আধিপত্য বিস্তার, ক্ষমতা প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে হামলাসহ অপ্রীতিকর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিলক্ষিত হচ্ছে। যা ক্যাম্পাসে শিক্ষা পরিবেশ বিনষ্ট করার পাশাপাশি পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তিকে নীরব উত্থানের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ এসব অনভিপ্রেত পরিস্থিতির উত্তরণে সরকার, ক্যাম্পাস প্রশাসনের ও সংশ্লিষ্ট ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করে বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র মজলিসসহ সবগুলো ছাত্র সংগঠন ঐক্যবদ্ধভাবে সরব ভূমিকা পালন করেছিল বলেই দেশ থেকে শেখ হাসিনাকে বিতারিত করা সম্ভব হয়েছিল। এবং সে সময়ে আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল দেশের শিক্ষাঙ্গন নিরাপদ, গবেষণাধর্মী এবং ইতিবাচক প্রতিযোগিতামূলক ছাত্র রাজনীতির বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা হবে। যা এখনই অদূরভবিষ্যৎ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। যা দেশকে আবারও বিভাজনের দিকে ধাবিত করছে।
নেতৃদ্বয় উদ্ভূত পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি কামনা করেন। ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সব ধরনের সহিংসতা ও নৈরাজ্য কঠোরভাবে দমনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।