04/12/2025
আঁখির আকাশে রংধনু
২৭
নদীর কলোতান।
মুহুর্তটা যেনো উপন্যাসে পড়া কোনো এক গল্পের মত লাগছে আঁখির কাছে।এও সম্ভব। এত ভালো তো আঁখি তার জিবনে আশা করে নি । তবে ?
কিছু কি ভাবছো আঁখি বেগম?
সবুজের মৃদু কন্ঠে কাটা দিয়ে উঠলো আঁখির সর্বাঙ্গে। এমন পরিস্থিতি সাথে স্বামী নামক এক সুদর্শন পুরুষ যে পুরুষ কিনা একান্তই তার। এই ভালোলাগার নাম কি দেওয়া যায়।
মুচকি হাসে আঁখি।
আমার জিবনেও এমন একটি রাত আসবে তা আমি ভাবি নি কখনো জানেন।
তাহলে তো ধন্য বেগম তুমি আমার এহেন সঙ্গে।
কথাটায় কেমন অবহেলার সুর পাওয়া গেলো। তবে আঁখির কাছে তো বেশ লাগছে।
আচ্ছা আমরা কোথায় যাচ্ছি?
কেনো ভয় পাচ্ছো আঁখি বেগম।
না মানে অনেক খন তো হাঁটছি, একটু বসি এখানে ।
বসবে?
হুম।
আচ্ছা আসো।
গাছের ওপারে নদী। সবুজ ঘাসের উপর বসলো আঁখি আর সবুজ। চাঁদ টা রুপোর থালার মত চকচক করছে।
দুজনেই নিরবতায় ভাসছে।
বাতাসের শীতলতা গাঢ় থেকে গাঢ় হচ্ছে শীতের কাল এলো বলে। হঠাৎ দমকা হাওয়ায় আঁখির মাথার ঘোমটা পরে গেলো। ঘন কালো চুল গুলো অবাধ্য হয়ে উড়ছে । আঁখি বাধা দিলো না।
এতখন না দেখলেও এবার সবুজ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে তার স্ত্রীকে। রাতের আলোয় কেমন মায়া মায়া লাগছে আঁখির মুখ খানা। ফর্সা গলায় স্বপ্নের পাতলা চেন বারবার নজর কাড়ছে, কানে ঝুমকা হাতে বালা,নাকে ফুল। সব মিলে কেমন বৌ বৌ লাগছে।
সবুজ এক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে বৌটার দিকে। এই দৃষ্টিভঙ্গি তে নেই কোনো মোহ আছে শুধুই মুগ্ধতা।
বিয়ের পর এই প্রথম আঁখিকে বেশ ভালো ভাবে দেখলো সবুজ। এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা সৌন্দর্যের অধিকারী আঁখি সবুজের চোখে।
আনমনেই আঁখির মুখের উপর অবাধ্য চুল গুলো পরম যত্নে গুঁজে দিলো কানের কোনে। সবুজের এমন তাকানোতে লজ্জায় লাল আঁখি।
আঁখি বেগম একটা প্রশ্ন করি ?
জি বলুন
আমার নামটা কি আপনার জানা আছে ?
সবুজের এমন কথায় ভ্রু কুঁচকে যায় আঁখির। কিন্তু কোনো কথা না বলে । উঃ দেয় সংক্ষেপে
জি সবুজ।
আঁখির উত্তরে চোখ ফেরায় সবুজ। চাঁদের দিকে নিবদ্ধ করে সেই চাহনি।
একটি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে যা এই নিরবতা কে বিষাদ করে তোলে।
আঁখি বেগম আমায় কি অন্য নামে ডাকা যায় ?
সবুজের কন্ঠ শীতল।
আঁখি কিছু বুঝতে পারছে না। তাই চুপ থাকাই সে ভালো মনে করছে।
সবুজ এবার আবারো তাকায় আঁখির পানে।
আমি সিকদার বাড়ির সাহেব। জানেন কি?
আঁখি এবার মাথা নাড়ে।যার অর্থ সে জানে।
তাহলে কি আমি আপনাকে সিকদার সাহেব বলবো?
আঁখির প্রশ্নে বোকা হাসে সবুজ।
বুঝলে বেগম মন্দ হয় না কিন্তু সিকদার সাহেব ডাকটা তোমার মুখে শুনতে ভালই লাগছে।
সবুজের বুক জুড়ে খেলে গেলো এক শান্তির আভা। যা সে এর আগে কখনো অনুভব করে নি।
সিকদার সাহেব তার বেগমকে নিয়ে নদীর তীরে বসে রইল ঘন্টার পর ঘন্টা এ যেনো প্রেমের এক শুরুর কবিতা।
সাক্ষী রইল চাঁদ এই রাত প্রকৃত নিজে।
কাক ডাকা ভোরে বাড়ির উঠোনে বসেছে পুতুল। তার গয়নার বাক্স নিয়ে আজকে তার সাজতে ইচ্ছে করছে । পা দুখানি আলতায় উবুঝুব হয়ে আছে ।