04/03/2026
মাত্র কয়েক মাস আগে আমার এক বন্ধু ডা. নাজমুল মারা গেলো।
সেদিন আমরা সবাই নাজমুলের এপার্টমেন্টের নীচে বসে আছি। কথা বলছি। অদূরে নাজমুল অ্যাম্বুলেন্সে চিরনিদ্রায় শুয়ে আছে।
এর মধ্যে ডা. এরশাদ এলো। এমনিতে ভীষণ আমুদে, সব আড্ডার মধ্যমনি এরশাদের মুখ দিয়ে সেদিন কোন কথাই বের হচ্ছেনা। ভীষণ রকম বিষন্ন। একা একা পায়চারী করছিলো।
হ্যাঁ, আমাদের সবার জন্যই সেটা ছিলো বিষন্ন, ভীষণ বিষন্ন এক রাত।
তবে ডা. এরশাদের মনের মধ্যে হয়তো অন্য কোন ভাবনা ওকে কুরে কুরে খাচ্ছিলো।
কিছুদিন পর সে আমাদের এক বন্ধুকে বলে, ডা. নাজমুল ২০২৫ এ চলে গেলো। আমি ও বোধ হয় বেশীদিন বাঁচবোনা। আমাদের কাছাকাছি সময়ে মরার কথা। আমার হায়াত হয়তো আর বেশি দিন নেই। ভাবছি খুব শিগগিরই আমি ওমরাহ করবো।
যে কথা সেই কাজ। সপরিবারে ওমরাহ করতে গেলো। এবং পবিত্র মদীনায় সে ভীষণ অসুস্থ হয়ে আইসিইউতে ছিলো।
পরে একটু সুস্থ হয়ে উঠলে দেশে নিয়ে আসা হয়। তবে এরশাদের আর সুস্থ হওয়া হয়ে উঠেনি।
এবং ঠিকই নিজের কথা মতো ২০২৬ এ চলে গেলো। সবাইকে কাঁদিয়ে।
#পুনশ্চ
এরশাদ এমনকি নিজের কবরের জায়গাটা ও ঠিক করে রেখেছিলো, মসজিদের মিম্বারের ঠিক পাশে।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় হবে আর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধুর সুর ভেসে আসবে।
আল্লাহ তার ইচ্ছে পূরণ করেছে। মিম্বারের একেবারে পাশেই তার কবর।
হয়তো মৃত্যু সন্নিকটে, সেটা ভালো মতো বুঝেছিলো এরশাদ!
তাই সব প্রস্তুতি নিয়েই রেখেছিলো।
জীবনটাকে এরশাদ কখনোই সিরিয়াসলি নেয়নি। ডাক্তার হয়েও চেম্বার করতোনা। টাকা পয়সার প্রতি কোন লোভ নেই। তার একটাই লোভ ছিলো, সেটি হলো বন্ধু বান্ধবদের সাথে আড্ডা দেওয়া।
জীবনটা সে নিজের মতো কাটিয়েছে। দুনিয়াবি কোন কম্পিটিশনে সে কখনোই ছিলোনা।
ইউনিক একটা মানুষ ছিলো আমার বন্ধুটি।
তবে জীবনটাকে তেমন সিরিয়াসলি না নিলেও মৃত্যুটাকে সিরিয়াসলি, খুবই সিরিয়াসলি নিয়েছিলো।
আল্লাহ এরশাদকে বেহেশত নসীব করুন।
আমীন।
Rezuanul Hoque এর ওয়াল থেকে সংগ্রহীত