07/09/2026
বাংলাদেশের ইতিহাসের ফ্যাসিবাদবিরোধী অন্যতম তাত্ত্বিক, গণঅভ্যুত্থানের পথকে জনগণের মুক্তির দিশা হিসেবে হাজিরের রূপকার ও জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাবেক সভাপতি বদরুদ্দীন উমরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন গণসংহতি আন্দোলন-জিএসএর প্রধান সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু ও নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বদরুদ্দীন উমর তার পুরো রাজনৈতিক জীবনে জনগণের মুক্তির প্রশ্নকে তার রাজনৈতিক চিন্তা ও কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে রেখেছেন। তার রাজনৈতিক তত্ত্বে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের পাশাপাশি সুস্পষ্ট কর্মসূচি সম্পর্কে সচেতন একটি রাজনৈতিক দলের ভূমিকার ওপরও তিনি সবসময় গুরুত্ব দিয়েছেন।
তারা আরও বলেন, ফ্যাসিবাদ প্রশ্নে বদরুদ্দীন উমরের অবস্থান ছিল দীর্ঘদিনের ও তাত্ত্বিকভাবে সুস্পষ্ট। তিনি যেমন আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী চরিত্র, উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং ইতিহাসের ওপর একচেটিয়া দখল প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আগেই সতর্ক করেছিলেন, তেমনি জাতীয়তাবাদের যেকোনো শ্রেষ্ঠত্ববাদী প্রবণতারও বিরোধিতা করেছেন। নব্বইয়ের দশকের শেষদিকেই ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক কমিটি গড়ে তুলতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একই সঙ্গে, ধর্মীয় ব্যাখ্যাকে জনগণের ওপর একচেটিয়াভাবে চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতার কারণে জামায়াতে ইসলামীও ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রাখে বলে তিনি তাত্ত্বিকভাবে উল্লেখ করেছিলেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বদরুদ্দীন উমর তার নীতি ও আদর্শের সাথে কখনো আপস করেননি। তথাকথিত প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীরা যখন ফ্যাসিবাদের ছায়ায় নিজেদের নিরাপদ রাখতে চেয়েছেন, তখন তিনি সত্য উচ্চারণ করেছেন নির্ভিকচিত্তে। তিনি শ্রেণি সংগ্রামকে কখনো মৌলবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের অধীনস্থ করে বিভেদের রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেননি।
তারা বলেন, জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব হিসেবে আমরা বদরুদ্দীন উমরকে স্মরণ করি। আমরা তার জীবন ও কর্মের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।