22/10/2025
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রাজনৈতিক অবস্থান ও আমীরে মজলিসে দূরদর্শিতা...
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এখন পর্যন্ত নির্বাচনকেন্দ্রিক কোনো জোটে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। দলটি ৩০০ আসনকেই সামনে রেখে নির্বাচনী প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে এবং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশের উল্লেখযোগ্য দুটি ইসলামিক দল (একটি প্রাচীন অপরটি সংখ্যাধিক্যে বৃহৎ) ইতিমধ্যে নিজেদেরকে দুটি পৃথক বলয়ে আবদ্ধ করে ফেলেছেন। ফলশ্রুতিতে, তাদের নেতাকর্মীরা এখন নিজস্ব সাংগঠনিক তৎপরতার রেখে সামাজিক মাধ্যমে ও রাজনৈতিক পরিসরে একে অপরের বিরুদ্ধে অপ্রীতিকর-অসহনশীল প্রতিক্রিয়ায় লিপ্ত হচ্ছেন, যা ইসলামপন্থী রাজনীতির জন্য বাজে নজির তৈরি করছে।
এই প্রেক্ষাপটে, আমীরে মজলিস মাওলানা মামুনুল হক যেভাবে সংযত ও দূরদর্শিতার সঙ্গে নিজ দলকে কোনো জোটে তাড়াহুড়া করে সম্পৃক্ত না করে সময় নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পথ বেছে নিয়েছেন, পাশাপাশি সাংগঠনিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন তা নিঃসন্দেহে তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও নেতৃত্বগুণেরই প্রতিফলন।
বর্তমানে যারা বিভিন্ন বলয়ে দ্রুত ঢলে পড়েছেন, তারা তাঁর এই স্থিতধী ও বিচক্ষণ অবস্থানকে নানাভাবে চিত্রায়িত করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু বাস্তবে এ অবস্থানটাই আগামী দিনের ইসলামী রাজনীতির জন্য একটি সঠিক দিকনির্দেশনা হতে পারে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মাওলানা মামুনুল হক রাজনীতির মাঠে নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছেন যে, জোট গঠনের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত (থানা পর্যায়ের) সব স্তরের দায়িত্বশীলদের মতামত (মৌখিক ও লিখিত উভয়ভাবেই) গ্রহণের লক্ষ্যে সংগঠনের “সাধারণ অধিবেশন” আহ্বান করেছেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এ ধরনের গণভিত্তিক ও তৃণমূলমুখী সিদ্ধান্তগ্রহণের প্রয়াস শুধু একটি দলের নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্যও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে
লিখেছেনঃ— Murshid Siddique