11/06/2025
লাখো পর্যটকের উপস্থিতি প্রতিদিন
চীনের প্রাচীর থাকে মুখোরিত
হামিদ সরকার
চীনের মহাপ্রাচীর মানুষের হাতে তৈরি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্থাপত্য। চীনারা এটাকে বলে বাদালিং গ্রেট ওয়াল। প্রতিদিন কয়েক লাখ পর্যটকের স্বরব উপস্থিতিতে মুখরিত থাকে। তবে এদের বেশির ভাগই স্থানীয় বিভিন্ন প্রদেশের মানুষ। বিদেশী খুবই কম দে্খা গেছে। আকাশ ছোঁয়া পাহাড়ের অপূর্ব সৌন্দর্য মানুষকে মোহিত করে। ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তালিকাতেও এর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি বিশ্বের নতুন সাতটি আশ্চর্যের একটি, চীনের এই প্রাচীরের প্রধান আকর্ষণ এর কৌশলগত আকার। এই প্রাচীর নির্মাণের সময় প্রায় ৪ লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছিল। বিশাল এই স্থাপত্য থেকে চীনের দৈনিক আয় ১০ কোটি টাকার বেশি বলে সংশ্লিষ্টরা বলেন। টিকেটের তথ্য বলছে এটি উপরে এবং নীচে, উল্লম্ব এবং অনুভূমিকভাবে মিলে এক লক্ষ মাইল।
চীনের প্রাচীরে সরেজমিনে দেখে ও স্থানীয়দের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের নতুন সপ্তাশ্চর্যের একটি, রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার অধীনে একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সাংস্কৃতিক নিদর্শন এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রাকৃতিক দৃশ্য। দীর্ঘ প্রাচীরের মধ্যে রয়েছে বিকন টাওয়ার, সিঁড়ি এবং অনেকগুলি সেতু। চীনের মহাপ্রাচীরের সব অংশের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২১ হাজার ১৯৬কিলোমিটার। যার মধ্যে পুনর্নির্মিত ওভারল্যাপিং বিভাগগুলিও রয়েছে। মিং রাজবংশের সময় নির্মিত প্রাচীর। সবচেয়ে ভালভাবে সংরক্ষিত অংশ ছিল প্রায় আট হাজার ৮৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি শুরু হয়েছে সাংহাই পাস এবং শেষ হয়েছে লোপনুর নামক স্থানে। এর মূল অংশের নির্মাণ শুরু হয়েছিল প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ২০৮ সালের দিকে। বলা হয় যে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই প্রাচীরটি এতটাই চওড়া যে, তা উপর দিয়ে ঘোড়সওয়ার বা সেনাবাহিনী টহল দিতে পারে। এই প্রাচীর পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের মধ্যে অন্যতম। বেইজিং এর ইয়ানকিং জেলায় অবস্থিত। কিন সাম্রাজ্যের সময় এটির নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলেন চৈনিক বা চাইনিজরা । চীনের প্রথম সম্রাট কিন সি হুয়াং এটি প্রথম ব্যবহার করেছিলেন। শত্রুর হাত থেকে নিজের সম্রাজ্যকে রক্ষার জন্য দীর্ঘ করে নির্মাণ করেছিলেন। এটি চীনের প্রকৃতিক বাঁধাগুলো ছাড়া অন্যান্য অঞ্চল পাহারা দেয়ার কাজে এবং উত্তর চীনের উপজাতি সুইং নু বিরুদ্ধে এটি প্রথম স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। দেশের নিরাপত্তার স্বার্থেই এই প্রাচীর নির্মিণ করা হযেছিল। এই প্রাচীর ভেঙে দেশে প্রবেশ করা অসম্ভব। অনেক শত্রু সেনাই এই প্রাচীর ভেঙে চিনকে আক্রমণ করেছিল। এক হাজার ২১১ প্রাচীর ভেঙে চিন আক্রমণ করেন স্বয়ং চেঙ্গিস খান।
এটি পরিদর্শনে খরচ
ক্যাবল কার বা ঝুলন্ত গাড়ির মাধ্যমে উঠতে হলে চীনের মুদ্রা ইয়ানে ১৪০, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় ২ হাজার ৪৩৬ টাকায় টিকেট কাটতে হবে। দীর্ঘ লাইন ধরে ক্যাবল কার সেন্টার উঠতে হবে। তারপর বিদেশী পর্যটকদেরকে আরো ৪০ ইয়ান বা বাংলাদেশীদের জন্য ৬৯৬ টাকায় আরো একটা টিকেট নিতে হবে ওই প্রাচীর দেখবার জন্য। মধ্য মার্চ থেকে মধ্য নভেম্বর পর্যন্ত সকাল ৭টা থেকে স্থানীয় সময় বিকেল ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে। আর মধ্য নভেম্বর থেকে মধ্য মার্চ পর্যন্ত সকাল আটটা থেকে স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য খোলা থাকে।
মানুষের চাপ ও উঠবার ক্ষেত্রে উধ্বমুখী সিঁড়ির কারণে পাশের রেলিং ধরে খুব সাবধানে উঠতে হয়।
আরোহণের জন্য শারীরিক শক্তি প্রয়োজন এবং খাড়া ঢালে ধীরে ধীরে হাঁটতে হবে। বৃষ্টি বা তুষারে রাস্তা পিচ্ছিল হয়।
সে ক্ষেত্রে অনেক সাবধানতা মাথায় রাখতে হবে। তবে ক্যাবল কার ছাড়াও পায়ে হেঁটে যাওয়া যায়, যা খুবই কষ্টকর হয় পরে হেঁটে নামার ক্ষেত্রে। কারণ সিঁড়িগুলোর ধাপ অনেক উঁচু। সেক্ষেত্রে টানা উঠতে গেলে হাঁটুতে চাপ পড়ে। তাই পর্যটকরা কিছুটা উঠে আবার বসে কিছুটা কান্তি দুর করে আবার চলা শুরু করে। অনেককেই দেখেছি পানি তরল খাবার ও হালকা খাবার সঙ্গে নিতে। কারন অনেকটা পথ হাঁটতে হয়। এতে পানি তৃষা পায় এবং ক্ষুধার সৃষ্টি হয়। তবে যাদের হৃদরোগের সমস্যা ও উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে এখানে তাদের ভ্রমণ না করাই উত্তম। এতে যে কোনো ধরণের দুর্ঘটনার শিকার হতে হবে।
ওয়াল সংশ্লিষ্ট চীনের প্রকাশনার তথ্য বলছে, দুই হাজার বছর ইতিহাস এটি। উপরে এবং নীচে, উল্লম্ব এবং অনুভূমিকভাবে এক লক্ষ মাইল। গ্রেট ওয়াল মানব সভ্যতার একটি মাস্টারপিস এবং চীনা জাতির প্রতীক। চীনের মহাপ্রাচীর, যার ইতিহাস দুই হাজার বছরেরও বেশি। মানব সভ্যতার একটি মাস্টারপিস এবং চীনা জাতির প্রতীক।
চীনেরই স্থানীয় পর্যটক টানগেলো এবং হং লি এসেছিলেন প্রথমবারের মত প্রাচীর দেখতে। চূড়ায় তাদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, অনেক সুন্দর একটা প্রাচীর। প্রথমবারের মতো দেখতে এলাম। অনেক ভাল লাগছে। উঠাটা অনেক কষ্টকর। ঝুঁকিপূর্ণও বটে।
চীনের চিয়াংশি ইউনিভার্সিটি অফ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইকোনমিক্স এর স্কুল অফ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড ইকোনমিক্স এর একজন ডক্টরাল প্রার্থী বাংলাদেশী নাগরিক মোহাম্মদ ছাইয়েদুল ইসলাম জানান, একটি দেখার মত ঐতিহ্য। কয়েকবার এই প্রাচীর পরিদর্শন করেছেন। কোনো কিছু নির্মাণে মজবুতের কথা উঠলে এখানে বলে গ্রেট ওয়ালের মতো শক্তিশালী হতে হবে। মঙ্গোলিয়ান সেনাবাহিনীর আক্রমন থেকে চীনকে রক্ষার জন্যই এই প্রাচীর করা হয়।তিনি বলেন, চীনে এসে এই প্রাচীরের চূড়ান্ত উঠতে না পারলে তার চীনে আসাটাই পৃথা ধরা হয়। # # #