18/08/2026
Omar Sadat
জন্মদিনের উপহার
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ঢাকা–১৭ আসনে একটি দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। একজন সামান্য নগর অধিকার কর্মী হওয়া সত্ত্বেও সেখানে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল আমার।
বক্তব্যের শুরুতেই আমি একটি প্রশ্ন রেখেছিলাম যে তিনবার জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর জন্মদিনে আমরা কী উপহার দিতে পারি? আমরা কি এখনো তাঁর জীবন ও আত্মত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন করতে পেরেছি?
পাহাড়ের একেবারে পাদদেশে দাঁড়িয়ে যেমন তার শিখর দেখা যায় না। তেমনি একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে তাঁর সময়ের খুব কাছে দাঁড়িয়ে পুরোপুরি বোঝা যায় না। তাঁকে বুঝতে সময়ের দূরত্ব প্রয়োজন। প্রয়োজন ইতিহাসের নির্মোহ দৃষ্টি।
আজ থেকে একশ বছর পরে ইতিহাস হয়তো দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কত বছর ক্ষমতায় ছিলেন, শুধু সেই হিসাব করবে না। ইতিহাস মনে রাখবে গণতন্ত্রের জন্য তিনি কত বড় মূল্য দিয়েছিলেন। মনে রাখবে তার দীর্ঘ কারাবরণ, নির্যাতন, অসুস্থতা এবং গভীর ব্যক্তিগত শোকের মধ্যেও তিনি মানুষের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের দাবি থেকে সরে দাঁড়াননি।
তাঁর এই আত্মত্যাগের সম্মান শুধু স্মরণসভা, দোয়া মাহফিল কিংবা বক্তৃতার মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণ হবে না। তাঁকে সত্যিকার অর্থে সম্মান জানাতে হলে তাঁর রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ আমাদের শেষ করতে হবে। তাঁর গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন বাংলাদেশের দিনবদলের জন্য, “I have a plan.” এখন সেই পরিকল্পনাকে কাজে রূপ দেওয়ার সময়।
আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি যে এই কাজে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আপনার পার্টনার হতে প্রস্তুত। ঢাকা ১৭ আসনে নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ, পার্ক এবং নাগরিক অংশগ্রহণে আমাদের যে অভিজ্ঞতা রয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে আমরা ওনার পরিকল্পনাকে স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন করব।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আপনার পরিকল্পনা, আমাদের শ্রম।
সরকারের সমন্বয়, নাগরিকের অংশগ্রহণ।
এভাবেই একটি পরিকল্পনা হয়ে উঠবে সাধারণ মানুষের আন্দোলন। এভাবেই একটি স্বপ্ন হয়ে উঠবে বাংলাদেশের আগামী দিনের বাস্তবতা।
আর সেটিই হতে পারে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনে আমাদের সবচেয়ে বড় উপহার।
#আরআক্ষেপনয়এবারপদক্ষেপ।