18/05/2025
শেখ হাসিনা সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বানিয়েছিল যাতে চট্টগ্রাম বন্দরের উপর চাপ কমানো যায়। পায়রা বন্দর, বে টার্মিনাল তো আছেই। তবুও উন্নয়নের নামে বিদেশীদেরকে পোর্ট বর্গা দেয়নি। বেশিদূর যেতে হয় না, শ্রীলঙ্কা আমাদের মতোই একটা দেশ, সেখানের 'হম্বানটোটা বন্দর' তারা ৯৯ বছরের জন্য কারণেঅকারণে চীনের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হয়েছে।
মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দরের মাধ্যমে এ বছর থেকেই ১৮ মিটার গভীরতায় ৮০,০০০ টন ধারণক্ষমতার বড় জাহাজ সরাসরি ভিড়তে পারার লক্ষ্যে কাজ করছিল শেখ হাসিনা সরকার। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে শুধুমাত্র ৯.৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ঢুকতে পারে, যেখানে ২০০০–২৫০০ TEU কন্টেইনার আনা যায়। চট্টগ্রাম বে টার্মিনাল চালু হলে বন্দরের ক্ষমতা দ্বিগুণ হবে, বর্তমানে প্রায় ৩.২ মিলিয়ন TEU হ্যান্ডেল করে, তা বেড়ে ৬ মিলিয়ন TEU-তে যাবে। মাতারবাড়ি পুরোদমে চালু হলে তো কথায় নেই। সবকিছু সুদুরপ্রসারি পরিকল্পনা নিয়ে শেখ হাসিনা করেছেন, তাহলে আজকে বিদেশীদের হাতে কেন বন্দর দিতে হবে?
বিদেশী পরিচালনার সুবিধা আছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। বিদেশীরা যেমন দক্ষতা, প্রযুক্তি এবং সময় ব্যবস্থাপনায় উন্নত, তেমনি তাদের বন্দর পরিচালনায় অভিজ্ঞতাও অনেক। কিন্তু প্রশ্ন হলো এই সুবিধার বিনিময়ে আমাদের লাভ কতটুকু? তাদেরকে দিলে চট্টগ্রাম বন্দর কি ‘সোনার বন্দর’ হয়ে যাবে? মোটেও না। লোডিং-আনলোডিং-এর সময় কিছুটা কমবে, কিছুটা প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হবে। এর বাইরে? অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে সার্বভৌমত্ব হ্রাসের ঝুঁকি কতটুকু? মোটেও কম নয়।
বন্দর বাদ দেন, প্রধান উপদেষ্টা থেকে শুরু করে তার প্রেস সচিব ও বিভিন্ন পদের কর্তাব্যক্তিদের ভাবসাব, কথাবার্তা ও কাজকর্ম খেয়াল করলে বিদেশি কর্পোরেট লবিস্টদের ছায়া দেখা যায়। শুধু যে বন্দর দিচ্ছে তা না, রাখাইন করিডোর, সমরাস্ত্র কারখানা ও প্রতিরক্ষা খাতে বিদেশী অংশগ্রহণ, অস্বচ্ছ তড়িঘড়ি কর্মসূচিভিত্তিক এলএনজি আমদানি চুক্তি, স্টারলিংক চুক্তি ইত্যাদি নিয়ে তাদের দৌড়ঝাপ, জবরদস্তি, গোপন গোপন ভাব, মিথ্যা বিজ্ঞাপনী গল্প এটাই নির্দেশ করে।
সবকিছুতে বিদেশী বিদেশী ভাব। এই সরকার সংস্কার করবে ভালো কথা, করিডোর দেওয়া কোন ধরনের সংস্কার? বন্দর বিদেশীদের দেওয়া কোন ধরনের সংস্কার? মূলত বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠন, রিপোর্ট, নানা মিটিং, প্রতিশ্রুতি সবই হচ্ছে লোকভুলানো সময়কাটানো খেলা। দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিদেশী প্রভুদের ইশারায় কাঠি নাড়াচ্ছে ইউনুস সরকার।
এসব হতে দেওয়া যাবে না। উন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু সেই উন্নয়ন সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়ে নয়, এটাই হোক আমাদের অবস্থান।
--------------
নিউক্লিয়াস