12/11/2025
আজ ভয়াল ১২ নভেম্বরের ৫৫ বছর! 'ভয়াল' শব্দটা দিয়ে কোনোভাবেও বোঝানো যাবে না বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ উপকূলে কী ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছিল! ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর আক্ষরিক অর্থেই এই জনপদে 'কেয়ামত' শুরু হয়েছিল। ভোলা, চরফ্যাশন, চরমন্তাজ, মনপুরা, লালমোহন, তজুমুদ্দিন ও দৌলতখানসহ সমগ্র জেলায় মানুষ আর গবাদি পশু সেদিন বঙ্গোপসাগরের উত্তাল জলে ভেসে গিয়েছিল। জন-মানবশূন্য হয়ে পড়েছিল গোটা উপকূল।
🔲
উপমহাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে ’৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। প্রলয়ঙ্করী ওই ঝড়ে প্রায় ১০ লাখ মানুষ প্রাণ হারান। ১১ নভেম্বর বুধবার সকাল থেকেই গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হতে থাকে। পরদিন ১২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার আবহাওয়া আরও খারাপ হতে থাকে। মধ্যরাত থেকেই ফুঁসে উঠে সমুদ্র। তীব্র বেগে লোকালয়ের দিকে ধেয়ে আসে পাহাড় সমান উঁচু ঢেউ। ৩০-৪০ ফুট উঁচু সেই ঢেউ আছড়ে পড়ে লোকালয়ে। মুহূর্তেই ভাসিয়ে নিয়ে যায় মানুষ, গবাদি পশু, বাড়ি-ঘর এবং ক্ষেতে ফসল। পথে প্রান্তরে উন্মুক্ত আকাশের নিচে পড়েছিল কেবল লাশ আর লাশ। মরণপুরীতে রূপ নেয় ভোলাসহ গোটা অঞ্চল।
🔲
বিস্ময়করভাবে তৎকালিন পাকিস্তান সরকার নির্লিপ্ত থাকে। অব্যবস্থা আর অবহেলায় আশ্রয় দূরের কথা, প্রশাসন পুনর্বাসনও করেনি।
অনেক পরে তথ্য আর্কাইভ থেকে একটি শব্দ আবিষ্কার করা গেছিল; 'প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি অনেক নিচু দিয়ে উড়ে যায় এবং জলোচ্ছ্বাসদুর্গতদের দুর্যোগ দেখেন.....'
আরও পরে শাসকদের এই 'অনেক নিচু দিয়ে উড়ে' গিয়ে দুর্গতদের দেখে আসার চল শুরু হয়ে এখনও চলছে! কী অসীম দয়া তাদের! নিচু দিয়ে উড়ে গেছেন!!
🔲
খুব প্রাসঙ্গিক নয়, তার পরও বলা দরকার; ওইসব উপকূল অঞ্চলে এখনও উন্নয়নের জেল্লা ঠিকরে পড়েনি। জ্যাকব টাওয়ার আরও কী কী হয়েছে। উপকূলের মানুষ এখন মনিটরে সিনেমা দেখে, টাইগার খায়....কিন্তু আজও সব মানুষের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। ৫৫ বছর পরও না। আশা করা যায় ৫০০ বছর পরও গড়ে উঠবে না, কারণ মানব সম্পদই এই দেশের সবচেয়ে সস্তা আর বোঝা।
©️Monjurul Haque
12th November'25