24/02/2026
যেভাবে আওয়ামীলীগ পথ হাঁটছে, সেভাবে মাথা তুলে দাঁড়ানো কখনোই সম্ভব নয়। বিশাল কর্মিবাহিনী থাকা সত্ত্বেও সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা ও আপডেট ডিপ্লোমেসির অভাবে আওয়ামীলীগ দিন দিন তার সক্ষমতা হারাচ্ছে।হয়তো আওয়ামীলীগ ফিরবে, কিন্তু ততদিনে একটা প্রজন্ম আরও দেশদ্রোহী হয়ে গড়ে উঠবে।
আওয়ামীলীগ মেধাবী ও প্রগতিশীল রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেছে অনেকটাই। এখনও গর্তের ভেতর হোয়াটসঅ্যাপ , টেলিগ্রাম আর ক্ষমতার রাজনীতিতে সম্পূর্ণ বিভক্ত আওয়ামীলীগ।৫ ই আগষ্ট সরকার পরিবর্তনের সুযোগ হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপকে করা হয়েছে বাণিজ্যিক গ্রুপ। বড় বড় বক্তৃতা দিয়ে আর আকাশের দিকে তাকিয়ে কখনোই ফেরা সম্ভব নয়।
যত দিন যাবে ভারতের কাছে তারেক জিয়া যতোই প্রাসঙ্গিক হতে থাকবে ততই মৌলবাদী অবস্থান শক্তিশালী করে একটা শক্ত বিরোধীদলের ভুমিকায় অবতীর্ণ হবে জামায়াত।আমরা যতোই মৌলবাদী শক্তি ধ্বংসের কথা বলি না কেন, সঠিকভাবে কাউন্সিলিং না করলে কোনভাবেই মৌলবাদী শক্তির বিনাশ সম্ভব নয়। মৌলবাদী শক্তির বিনাশ না হলে কখনোই সরকারি/ বিরোধীদল কোথাও আওয়ামীলীগের পুনর্বাসন সম্ভব নয়।
এখনও আওয়ামীলীগের কাছে লুসিড ড্রিমরা আবর্জনা ছাড়া আর কিছুই নয়। দলের ভেতরের নেতাদের আধিপত্যবাদ ও কামড়াকামড়িতে আওয়ামীলীগ দিন দিন নিঃস্ব হচ্ছে। বারবার প্রশ্ন উঠেছে - ক্রাইসিস ম্যান। আমাদের ক্রাইসিস ম্যান এখনও শেখ হাসিনা। কিন্তু শেখ হাসিনার কাছে তৃণমূলের আর্তনাদ কি সেভাবে পৌঁছে?
"যতদিন পর্যন্ত টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের নোংরা রাজনীতি বন্ধ না হবে ততদিন আওয়ামীলীগের কামব্যাক সম্ভব নয়।"
আওয়ামী লীগের নেতারা রাজনীতির চেয়ে এখন অর্থনীতি ভালো বুঝেন। আওয়ামীলীগে আমাদের প্রয়োজন অতীতেও ছিলো না, এখনও নেই, ভবিষ্যতেও থাকবে না। রাজনৈতিক মগজ পচে গেলে ভালো মানুষদের মূল্য রাজনীতিতে থাকে না। এজন্য রাজনৈতিক কর্মিরা হয়ে যায় রাজনৈতিক নেতাদের গোলাম। একদল অপরিপক্ক নেতার দখলে চলে গেছে নষ্ট রাজনীতি। অপরিপক্ক বললে হয়তো অনেকেই কষ্ট পাবেন। কিন্তু এটাই সত্য। আওয়ামীলীগের বেশীরভাগ এমপি/ মন্ত্রী দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি। তাদের অধিকাংশই দেশে থেকে গ্রেফতার হয়েছেন। আওয়ামীলীগের ২ শতাংশ নেতাকর্মী ও দেশের বাইরে পালিয়ে যায়নি। আওয়ামীলীগের বেশীরভাগ নেতাকর্মী দেশেই আছেন। কিন্তু তারা এখনও আওয়ামীলীগের নেতৃত্বের উপর ভরসা করতে পারছেন না। এসব কি আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের বোধগম্য হচ্ছে?
বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জনমত তৈরিতে বিশাল ভুমিকা রাখছে।রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করছে এই সোশ্যাল মিডিয়া। কিন্তু এখনও মনে হয় আওয়ামীলীগ এনালগ যুগে আছে।কয়েক হাজার হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে সারারাত বকবক করে সকাল হলেই মানুষ সব ভুলে যায়।এসব গ্রুপের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে বাণিজ্যিক সিন্ডিকেট।১৮ মাস হয়ে গেলেও অমুক ভাই তমুক ভাই নামক রাজনৈতিক ফাঁদ থেকে বের হতে পারেনি আওয়ামীলীগ। ক্রাইসিস ম্যান তখনি সৃষ্টি হয় যখন মানুষকে সুযোগ দেয়া হয়। কিন্তু আওয়ামীলীগ সেই সুযোগ কাউকে দিবে বলে মনে হয় না।
"নিজ থেকে তৈরি হও " এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও প্রশ্নবিদ্ধ বিষয় এই মুহূর্তে। রাজনৈতিক সিন্ডিকেট রেখে কখনোই ক্রাইসিস ম্যান তৈরি হওয়ার সুযোগ নেই। রাস্তায় মিছিল , মিটিং করে কিছুই হবে না যতক্ষণ জনমত আওয়ামীলীগের পক্ষে না আসে। এই জনমত গঠনে আজ পর্যন্ত আওয়ামীলীগের সুপরিকল্পিত কোন পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। ক্রাইসিস ফান্ডের কথা বলে গত ১৮ মাস ধরে চলছে রাজনৈতিক ধান্দাবাজি। দল হিসেবে এখনো আওয়ামীলীগের অধঃপতন নিজ চোখে দেখছি।নিজ দলের ভেতরে লুকিয়ে থাকা ইঁদুরের বিনাশ না করে যেকোন রাজনৈতিক পদক্ষেপ আওয়ামীলীগের জন্য বুমেরাং হবে এতে কোন সন্দেহ নেই।
আওয়ামীলীগের উর্ধ্বতন কেউ এখনও লুসিড ড্রিমদের সাথে যোগাযোগ করেনি। প্রশ্ন করতেই পারেন, আওয়ামীলীগের কি ঠেকা? সত্যি তাই! রেডিমেড মানুষ পেলে কখনোই তার গুরুত্ব কারো কাছে থাকে না। এজন্য আব্দুল গাফফার চৌধুরী ও প্রফেসর মান্নানরা একপর্যায়ে গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছেন। রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডার জবাব দেয়ার প্রয়োজনীয়তা তখনও অনুভব করেনি , এখনও তা অনুপস্থিত। আন্তরিকতা থাকলে আওয়ামীলীগ নেতারাই মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের মানুষকে খুঁজে বের করতেন। সিভিল সোসাইটির সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি করতেন। তাদের সাথে পরিকল্পিত কাজে অংশ নিতেন। পাঁচ মাস লাগতো না আওয়ামীলীগ দাঁড়িয়ে যেতে। কিন্তু তা না করে পঙ্গপালের মত এক নির্বাচন বিরোধী গান রচনা করলেন 😁 যার শুরু হয়েছে বাল দিয়ে 👉 একটি রাজনৈতিক দলের অধঃপতনের গল্পের শুরু হয় এখানে। রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এমনি লেজেগোবরে অবস্থার সৃষ্টি হয়।
আপনাদের আমাদের খোঁজ নিতে হবে না। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের মানুষের খোঁজ নিন। আওয়ামীলীগ - আওয়ামীলীগ শব্দ থেকে বের হয়ে আসুন।নয়তো আগামীর প্রজন্ম আপনাদের কোনদিনও ক্ষমা করবে না। তারা মনে রাখবে, একটি দেশ ধ্বংসের জন্য আওয়ামীলীগের ক্ষমতালোভী রাজনীতি ও বিএনপি জামায়াতের স্বাধীনতাবিরোধী রাজনীতি দুটোই দায়ী ছিল। রাজনীতির মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ দুটোই এখন এক। দুই পিঠে গন্ধ। এর থেকে বের হয়ে আসার দায়িত্বও আওয়ামীলীগের।
সত্য সবসময় সুন্দর।
অধঃপতনের রাজনীতি - প্রথম পর্ব
লুসিড ড্রিম
২৩-০২-২০২৬