20/04/2026
৩০ ঘণ্টা গাড়িতে রাত কাটানো মানুষকে শোনানো হচ্ছে "পর্যাপ্ত মজুতের" গল্প!
স্বঘোষিত তথাকথিত জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেছেন দেশের ইতিহাসে এখন সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুত। একই দিনে মিরপুরের একজন মানুষ ৩০ ঘণ্টা গাড়িতে বসে আছেন এক ফোঁটা তেলের জন্য। টয়লেট করেছেন পাশের বাসায় অনুরোধ করে। রাতটা কাটিয়েছেন গাড়ির সিটে। এই দুটো তথ্য একসাথে রাখলে বোঝা যায় সরকারের কথা আর বাস্তবতার মাঝখানে একটা বিশাল শূন্যতা আছে।
৩.৭ কিলোমিটার লম্বা গাড়ির লাইন কোনো ছোট ঘটনা না। এটা একটা শহরের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ওপর চাপা পড়ে যাওয়ার ছবি। যে মানুষটা ৩০ ঘণ্টা লাইনে ছিলেন, তিনি কোনো বিলাসিতার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন না। তিনি জীবিকার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন। আর সেই মানুষটাকেই শুনতে হচ্ছে মন্ত্রীর "পর্যাপ্ত মজুত" এর গল্প। তার কাছে এই গল্পটা ঠিক কতটা অপমানজনক শোনায়, সেটা বোধহয় ঢাকার কোনো দপ্তরে বসে বোঝা সম্ভব না।
সরকার বলছে এপ্রিল, মে, এমনকি জুনের প্রস্তুতিও নাকি নেওয়া হয়ে গেছে। কিন্তু একটা ফিলিং স্টেশনে রাত বারোটায় তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে, আর মানুষ পরদিন আবার এসে লাইনে দাঁড়াচ্ছে, এটা কোন ধরনের প্রস্তুতির ফল? মজুত থাকলে পাম্পে পৌঁছাচ্ছে না কেন, সেই প্রশ্নের উত্তর কোনো মন্ত্রী দেননি, দেওয়ার প্রয়োজনও মনে করেননি।
ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে এই সরকারের একটা প্যাটার্ন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ঘোষণা অনেক, বাস্তবতা শূন্য। যে নির্বাচনে বড় দলগুলো ছিল না, জনগণের অংশগ্রহণ ছিল না বললেই চলে, সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আসা সরকারের কাছে জবাবদিহিতার চাপটা এমনিতেই কম। আর সেই চাপ না থাকলে মন্ত্রীরা রিফাইনারি পরিদর্শন করে ভালো ভালো কথা বলে চলে আসেন, আর মানুষ রাস্তায় গাড়িতে রাত কাটায়।
বিষয়টা শুধু তেলের না। বিষয়টা হলো একটা সরকার তার নাগরিকদের কষ্টকে কতটা গুরুত্ব দেয়। যে সরকার মাঠের ছবি না দেখে শুধু নিজের তৈরি তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিবৃতি দেয়, সে সরকার আসলে শাসন করছে না, অভিনয় করছে।
জনগণ বলেছে, পর্যাপ্ত মজুতের কথা শুধু গল্প। এই একটা লাইনে তারা যা বলছেন, তা কোনো বিশ্লেষকের দীর্ঘ প্রবন্ধের চেয়ে অনেক বেশি সত্যি।