16/03/2026
মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক উপলক্ষে দেশে তখন বিপুল সংখ্যক বিদেশী সাংবাদিক। সেদিন ১৭ই মার্চ, ১৯৭১। সকাল থেকেই নেতা কর্মীরা জড় হয়েছে নেতার বাসায়৷ কেউ কেউ এনেছেন ফুলের তোড়া। সাথে দেশী বিদেশী সাংবাদিকরা। বঙ্গবন্ধু হাসিমুখে সবাইকে চা পান করাচ্ছেন। হাসিমুখেই বললেন, 'এই চা পৃথিবীর সেরা চা। আমাদের সম্পদ, আমরা উৎপাদন করি। বিদেশে রপ্তানি হয়, আপনারাও কেনেন। কিন্তু যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয় সব রেখে দেয়া হয় পশ্চিম পাকিস্তানে। পাটের বেলায়ও একই অবস্থা। এই অবিচার, এই শোষণের বিরুদ্ধেই আমার সংগ্রাম।'
একজন সাংবাদিক বললেন, Right. Legitimate struggle against exploitation. চা পানের এক ফাঁকেই এক বিদেশী সাংবাদিক জিজ্ঞেস করলেন, এতো বড় নেতা আপনি। আপনার জন্মদিনে কেক কোথায়? মোমবাতি কোথায়? কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন নেই কেনো?
বঙ্গবন্ধুর হাসিমুখটা নিষ্প্রভ হয়ে গেলো। হাসির দিপ্তি হারিয়ে গেলো। তিনি গম্ভীর হয়ে বললেন, 'আমি যাদের নেতা তাদের জন্ম-মৃত্যুর দিন তারিখের হিসেব কেউ রাখে না। আমার ভাগ্য তো আমার জনগনের ভাগ্যের সাথে একই সুত্রে বাঁধা। তাই তো আমার জন্মদিনের কোন আলাদা বৈশিষ্ট্য নেই। কেক নেই, নেই কোন মোমবাতির আড়ম্বর। ওদের জীবন মৃত্যু নির্ভরশীল অন্যের খেয়াল-খুশির ওপর৷ জন্মের পর থেকেই শুরু হয় ওদের বাঁচার সংগ্রাম। কিন্তু কার অদৃশ্য হাতের ইশারায় মৃত্যু কখন ওদের ওপর ঝাপিয়ে পরে ওরা জানতেও পারে না। দেখছেন না কিভাবে খুলনায়, চট্টগ্রামে, রাজশাহীতে, ঢাকায় কীভাবে আমার মানুষ মারছে। মানুষের মর্যাদায় ওদের দাফনটুকুও পর্যন্ত হচ্ছে না। কেউ মরছে অনাহারে, কেউ বা রোগযন্ত্রণায়, আমি তো ওদেরই একজন। ওদের জন্যই আমি বেঁচে আছি৷ একদিন হয়তো ওদের মতোই সবার অলক্ষ্যে হারিয়ে যাবো।'
বঙ্গবন্ধু থামলেন, ক্ষণিকের নীরবতা। নীরবতা ভাঙলেন এক বিদেশী সাংবাদিক, ভিনদেশী এক জননেতাকে শ্রদ্ধাভরে তিনি জানালেন, 'Now, here we got the great Bangabandhu, the friend of Bangladesh.'
সুত্রঃ বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ, সমকালীন সাংবাদিকের দৃষ্টিতে (লেখকঃ আমীর হোসেন)