09/06/2026
✌️ জয় বাংলা 💪✌️
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে মাথা উঁচু করেই দ্রুত দেশে ফিরব: শেখ হাসিনা
নয়াদিল্লি | আজকের কন্ঠ
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা রাজনীতি থেকে তাঁর অবসরের গুঞ্জন নাকচ করে দিয়ে
দ্রুত দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অস্থিতিশীল
পরিস্থিতি এবং গণতন্ত্রের ওপর আঘাতের কারণে তিনি এই মুহূর্তে বিশ্রামে
যাওয়ার কথা ভাবতে পারেন না। সম্প্রতি ভারতের নয়াদিল্লি থেকে কলকাতার দৈনিক
পত্রিকা ‘এই সময়’-কে দেওয়া এক দীর্ঘ একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়।
গণতন্ত্র আক্রান্ত এবং আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বন্ধের পাঁয়তারা
চলছে। আমার নেতাকর্মীরা কারাগারে, অনেকে ঘরছাড়া। এমন দুঃসময়ে আমি দেশের
মানুষকে ছেড়ে থাকতে পারি না।”
অবসর ভাবনা ও জয়ের বক্তব্য শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ইতিপূর্বে এক
সাক্ষাৎকারে তাঁর মায়ের বয়সের কথা উল্লেখ করে সক্রিয় রাজনীতি
থেকে অবসরের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সে বিষয়ে শেখ হাসিনা স্পষ্ট করে বলেন, জয়ের সেই
বক্তব্য ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ। মানুষের এক সময়
অবসরে যাওয়ার ইচ্ছা হতেই পারে এবং তিনি নিজেও নতুন নেতৃত্ব আসুক তা
চেয়েছিলেন। কিন্তু দেশের বর্তমান ‘সংকটকাল’ তাঁর সেই ভাবনা বদলে
দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমি ক্ষমতা চাই না, কিন্তু জনগণের প্রতি আমার
দায়িত্ব আমি অস্বীকার করতে পারি না।”
দলের ‘প্রাকৃতিক শুদ্ধকরণ’ আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থাকে শেখ হাসিনা দলের জন্য
একটি ‘প্রাকৃতিক শুদ্ধকরণ’ প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, যারা
শুধু ক্ষমতার লোভে দলে ভিড়েছিল, তারা ইতিমধ্যে ভোল পাল্টেছে বা চুপ হয়ে গেছে।
কিন্তু যারা প্রকৃত আদর্শের কর্মী, তারা এই দুঃসময়েও দলের পতাকা ধরে
রেখেছেন। তিনি বলেন, “এটা বিপর্যয় নয়, বরং আওয়ামী লীগকে আগাছামুক্ত করার একটি
সুযোগ। এর মাধ্যমে দল আরও খাঁটি ও শক্তিশালী হবে।”
নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা দলের নেতৃত্ব নিয়ে শেখ হাসিনা এক বিশেষ বার্তা
দিয়েছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক
সম্পত্তি নয়। আগামী কাউন্সিলে কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে ত্যাগ,
যোগ্যতা ও আদর্শিক দৃঢ়তার মাধ্যমেই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে। তিনি
বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মেধাবী ও দেশপ্রেমিক তরুণদের নেতৃত্বে নিয়ে আসার ওপর জোর
দেন।
মাথা উঁচু করে ফেরার প্রত্যয় মামলা বা দণ্ডের ভয় পান না উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ
সভানেত্রী বলেন, “পাকিস্তানি শাসক, সামরিক জান্তা কিংবা ষড়যন্ত্রকারীরা
আওয়ামী লীগকে কোনোদিন মুছে ফেলতে পারেনি, আজকের বিএনপি সরকারও পারবে না। আমি
মাথা উঁচু করে জনগণের ভালোবাসায় ফিরব। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা এবং দেশ
পুনর্গঠনের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে আমি দ্রুতই দেশের মাটিতে পা
রাখব।”
সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে টিকার অভাবে শিশুদের মৃত্যু, সংখ্যালঘু
নির্যাতন এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির কড়া সমালোচনা করেন। তিনি
মনে করেন, রাষ্ট্রকে ১৯৭১-এর চেতনা থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা
মোকাবিলা করা তাঁর নৈতিক দায়িত্ব।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার এই কঠোর অবস্থান ও ঘোষণা বাংলাদেশের
রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
Bangladesh Awami League Supporters