30/08/2026
পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিলের প্রয়োজন হয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ করে যাঁরা বিদেশে থাকেন বা বিদেশে যাচ্ছেন, অথচ দেশে তাঁদের সম্পত্তি রয়েছে। ধরুন, আপনি প্রবাসে আছেন, কিন্তু দেশে জমিজমা আছে যেগুলো আপনি নিজে গিয়ে দেখাশোনা করতে পারছেন না। সেক্ষেত্রে আপনি কাউকে সেই সম্পত্তি পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ বা বিক্রির ক্ষমতা দিতে পারেন। শুধু জমিজমা নয়, আপনার অনুপস্থিতিতে অন্যান্য আইনগত বা প্রশাসনিক কাজও অন্যকে দিয়ে করানো যায় এই পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে।
সঠিকভাবে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি সম্পাদনের জন্য উচ্চ আদালতের অনেক নজির আছে এমনই একটি নজির যেটা আমাদের সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের CLR 4 (AD) 434,, ALR 9 (AD) 239,, 13 ADC 320,, BLC 23 (AD) 14 তে রেফারেন্স ভুক্ত হয়েছে সে
মামলার কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বস্তু তুলে ধরা হলো :-
"An attorney is an agent of the principal. Section 182 of the Contract Act defines the word 'agent' means a person employed to do any act for another or to represent another in dealings with third person'. The essential element, in an agent's position, in his power to make the principal answerable to third persons by reason of his having been employed to do any act for the principal or to represent him in dealings with third persons. The functions of the agent are-(a) to do any act for the principal or (b) to represent the principal in dealings with third persons. In determining the legal nature of the relationship between the principal and agent, the use of the word agent is not conclusive. According to the definition, an agent never acts on his own behalf but always on behalf of another. He either represents his principal in any transaction or dealing with a third person, or performs any act for the principal. In either case, the act of the agent is not his own but of the principal"
✅ ওই মামলার মুল ঘটনা এবং বিষয়বস্তু ছিল -
চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার একটি সম্পত্তি (প্লট নং ১৩) নিয়ে দীর্ঘ মামলার ইতিহাস। সম্পত্তিটি প্রথমে পরিত্যক্ত ভবনের তালিকাভুক্ত ছিল, পরে সেটেলমেন্ট কোর্ট তা তালিকা থেকে বাদ দেয়। এরপর সরকার হাইকোর্টে রিট করলেও তা খারিজ হয়। দখল হস্তান্তর না হওয়ায় Marium Dawood-এর পক্ষে একাধিক কনটেম্পট পিটিশন দায়ের করা হয়, এবং আপিল বিভাগ ১৩ জুন ২০০৫ তারিখে সম্পত্তির দখল Marium Dawood-কে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়, তার আইনজীবীদের (মো. ফারুক আহমেদ ও সরদার মোশাররফ হোসেন) মাধ্যমে শনাক্তকরণ সাপেক্ষে।
✅ মূল বিতর্ক — Marium Dawood জীবিত না মৃত:
আদালত লক্ষ্য করে যে বিভিন্ন সময়ে Marium Dawood-এর ঠিকানা ভিন্ন ভিন্ন দেখানো হয়েছে, এবং তার পক্ষে বিভিন্ন ব্যক্তিকে (যেমন নুরুল ইসলাম) পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়ে সম্পত্তি বুঝে নেওয়ার চেষ্টা চলছিল। আদালত একাধিকবার তাকে ব্যক্তিগতভাবে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দিলেও তিনি কখনোই হাজির হননি, শুধু সময় প্রার্থনা করা হয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে পুলিশি তদন্তে জানা যায় যে চট্টগ্রামের ঠিকানায় তার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং তার নামে একটি মৃত্যু সনদপত্রও পাওয়া যায় (যদিও তদন্তে সেটি ভুয়া বলে প্রমাণিত হয় — আসলে সেটি রেনু বেগম নামের অন্য এক ব্যক্তির)। পিটিশনারের সিনিয়র আইনজীবী T.H. Khan নিজেই স্বীকার করেন যে তার মক্কেলকে আদালতে হাজির করা সম্ভব নয়, যা থেকে আদালত অনুমান করে যে Marium Dawood আর জীবিত নেই।
📖📖 আইনি বিশ্লেষণ (Agency Law):
আদালত Contract Act-এর section 182 ও 209 উদ্ধৃত করে ব্যাখ্যা করে যে, এজেন্সি সম্পর্ক মূলত ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং প্রিন্সিপালের মৃত্যুতে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাপ্ত হয়ে যায়। মৃত ব্যক্তির নামে কোনো এজেন্ট বা অ্যাটর্নি কাজ চালিয়ে যেতে পারে না, যদি না তিনি তার উত্তরাধিকারীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য কাজ করছেন বলে প্রমাণ করেন — যা এই মামলায় করা হয়নি।
🏛️ সিদ্ধান্ত:
আদালত সিদ্ধান্তে আসে যে, একটি মৃত ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে স্বার্থান্বেষী মহল (ফারুক আহমেদ, আসান উল্লাহ ভূঁইয়া, সরদার মোশাররফ হোসেন, নুরুল ইসলাম প্রমুখ) সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে একের পর এক পিটিশন দাখিল করছে। এই ভিত্তিতে কনটেম্পট পিটিশনটি খারিজ করা হয়।
Md. Jeweel Choudhury
Advocate Dhaka Judge Court
01719-800277