24/10/2020
বাংলাদেশে প্রায় প্রতিদিনই ভেজাল বিরোধী অভিযানে বিভিন্ন নামীদামীসহ অনেক হোটেল রেস্টুরেন্টে পঁচা, বাসি, নষ্ট ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার পাওয়া যাচ্ছে এরফলে জেল জরিমানাও হচ্ছে আবার কদাচিৎ কিছু সিলগালাও হচ্ছে কিন্তু পঁচা, বাসি, নষ্ট ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার বিক্রি কোনভাবেই বন্ধ হচ্ছেনা এবং বন্ধ হবার আদৌ কোন লক্ষনও দেখা যাচ্ছেনা😥!!
বেশ কিছুদিন আগে কলকাতার বিখ্যাত রেডিও জকি, এ্যাংকর ও কমেডিয়ান মীর আফসার আলীর গত বছরের একটা ভিডিও দেখলাম ইউটিউবে; সেখানে পশ্চিম বাংলার খাদ্য অধিদপ্তরের অভিযানে কলকাতার পাশের একটা শহর থেকে পচা, নষ্ট ও মেয়াদোত্তীর্ণ ফ্রোজেন মাংস পাওয়া গেছে, এইগুলি কলকাতার বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্টে সরবরাহ করা হতো। ওরা কিন্তু কোন হোটেলে বা রেস্টুরেন্টে গিয়ে ধরে নাই, ধরছে যারা সাপ্লাইয়ার তাদের। এর ফলে কলকাতার বিভিন্ন নামীদামিসহ মোটামুটি সব হোটেল ও রেস্টুরেন্টে খাবার বিক্রি অনেক কমে গেছে সেটা কোথায়ও ৫০% এর উপরে আবার কোথায়ও ৬০%। কলকাতার হোটেল ও রেস্টুরেন্টের মালিকরা মানুষের কাছে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন ভাবে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছিলো তখন। এটা দেখে অনেক ভালো লাগলো ওরা কতোটা সচেতন যে হোটেল ও রেস্টুরেন্টে পঁচা, বাসি, নষ্ট ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার সরবরাহ হচ্ছে তাই দেখে হোটেল ও রেস্টুরেন্টের খাবার খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে😦 আর আমাদের দেশে প্রতিদিন বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্টে পঁচা, বাসি, নষ্ট ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার পাওয়া যাচ্ছে, জেল জরিমানাও হচ্ছে আবার কদাচিৎ কিছু সিলগালাও হচ্ছে কিন্তু পঁচা, বাসি, নষ্ট ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার বিক্রি বন্ধ হচ্ছেনা। সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো মানুষ কিন্তু বিন্দুমাত্রও সচেতন না এবং সচেতন হচ্ছেও না😥😥, যদি হইতো তাহলে কলকাতার মতো আমাদের দেশের মানুষরাও হোটেল ও রেস্টুরেন্টে খাবার খাওয়া বন্ধ করে দিতো এরফলে হোটেল ও রেস্টুরেন্টে খাবার বিক্রি অনেক কমে যেতো, এতে দোকান মালিকরাও সচেতন হয়ে যেতো, তারা পরবর্তীতে এই জগন্য কাজ করার সাহস আর পেতো না।
আমি নিজে ব্যাক্তিগতভাবে ছোট খাটো একটা জরিপ করে দেখলাম ঢাকাতে কেনো এতো খাবারের দোকান;
কারন ঢাকাতে ঘুরতে যাবার বা বিনোদনের জায়গার খুব অভাব তাই মানুষ বিনোদনেরই একটা অংশ হিসাবে খাবারের দোকানে খেতে যায়। এতে দোকানদারের লাভ সবচেয়ে বেশী কারন দোকানদার সেই সুযোগে পঁচা, বাসি, নষ্ট ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার মানুষরে খাওয়ায় আর মানুষও তা খায় কারন কোন বিকল্প নাই বলে মানুষকে বেহায়ার মতো সেই হোটেল রেস্টুরেন্টেই যেতে হচ্ছে।
প্রতিদিন বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্টে ভেজাল বিরোধী অভিযানে এতো জরিমানা করতেছে কিন্তু তারপরও দোকান মালিকরা ঠিক হচ্ছেনা কারন ওনারা বুঝতে পারছে এই দেশের মানুষ সচেতন না তাই যা খাওয়াবো তারা সেটাই খাবে কোন প্রতিবাদ করবে না😥😥।
নিজের একটা অভিজ্ঞতার কথা বলি;
বেশ কিছুদিন আগে মোহাম্মদপুরের একটা পিজা হাউজে গেলাম পিজা খেতে ফ্যামিলি নিয়ে, জায়গা না পাওয়ায় বসেছিলাম কর্নারে ডিপ ফ্রিজের কাছেই। অর্ডার দেবার পর একজন স্টাফ ডিপ ফ্রিজ খুলে মাংস নিতে আসলো যেইনা ফ্রিজটা খুললো সাথে সাথেই পঁচা দূর্গন্ধ বের হলো, আমি বললাম এটা কিসের গন্ধ সে বললো কিছুই না এমনিতেই ফ্রিজ বন্ধ ছিলো তাই, এরপর আর একজন এসে এয়ার ফ্রেসার দিতে লাগলো। আমি চিল্লা চিল্লি করতেছিলাম, পুরা রেস্টুরেন্টে কাস্টমার ভর্তি কিন্তু একজনও কোন প্রতিবাদ করলো না এমনকি আমাদের পাশের টেবিলে যারা বসেছিলো তারাও না। আবার দেখি কেউ কেউ দাত কেলাইয়া হাসতেছে😡 একপর্যায়ে ফ্যামিলিসহ বের হয়ে গেলাম।
যেসব হোটেল ও রেস্টুরেন্টে পঁচা, বাসি, নষ্ট ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার প্রতিদিন ভেজাল বিরোধী অভিযানে ধরা পরতেছে মানুষ যদি সচেতন হয়ে তা বর্জন করতো তাহলে এইসব অনেক কমে যেতো। কিছুদিন আগে দেখলাম ধানমন্ডির নামী একটা রেস্টুরেন্ট সিলগালা করে দিছে এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। এভাবেই যেসব হোটেল ও রেস্টুরেন্টে দ্বিতীয়বার অভিযানে পঁচা, বাসি, নষ্ট ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার ধরা পরবে তা সাথে সাথেই সিলগালা করে দেওয়া উচিত।
এই ভেজাল বিরোধী অভিযানের সাথে সবচেয়ে বেশী যেটা দরকার সেটা হলো মানুষের সচেতন হওয়া এবং কলকাতার মতো বর্জন করতে শেখা।
ছবিঃ ঢাকাতে ভেজাল বিরোধী অভিযানে বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্টের প্রতিদিনকার চিত্র।