12/06/2026
উত্তর কোরিয়ায় হামলা করতে চাওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের ৩০ বছরের কারাদণ্ড ঘোষণা!
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে উত্তর কোরিয়ার উদ্দেশ্যে সামরিক ড্রোন অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে সিউল সেন্ট্রাল জেলা আদালত। আদালত রায়ে উল্লেখ করেছে যে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে পিয়ংইয়ংয়ের আকাশসীমায় ড্রোন পাঠানোর সিদ্ধান্ত ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং এর উদ্দেশ্য ছিল উত্তর কোরিয়াকে উসকে দিয়ে দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি করা। আদালতের মতে, এই উত্তেজনাকে পরবর্তীতে সামরিক আইন জারির অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল।
প্রসিকিউটরদের অভিযোগ ছিল, ইউন সুক ইওল ইচ্ছাকৃতভাবে এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন যাতে উত্তর কোরিয়া সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং সেই সংকটকে কাজে লাগিয়ে তিনি দেশের ভেতরে জরুরি শাসনব্যবস্থা জারি করতে পারেন। আদালত এই অভিযোগকে গ্রহণ করে তাকে “শত্রুকে সহায়তা” এবং “ক্ষমতার অপব্যবহার” সংক্রান্ত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেছে। একই মামলায় সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম ইয়ং হিউনও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং তিনিও একই ধরনের সাজা পেয়েছেন।
উত্তর কোরিয়া ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে অভিযোগ করেছিল যে দক্ষিণ কোরিয়া অন্তত তিনবার ড্রোন পাঠিয়ে পিয়ংইয়ংয়ের ওপর লিফলেট ফেলেছে। সে সময় সিউল সরকার সরাসরি অভিযোগ অস্বীকার করেনি; বরং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল তারা বিষয়টি নিশ্চিতও করছে না, আবার অস্বীকারও করছে না। যদিও ওই ঘটনার জেরে দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, শেষ পর্যন্ত কোনো সরাসরি সামরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়নি।
ইউন সুক ইওল বিচার চলাকালে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার আইনজীবীদের দাবি, তিনি কোনো অবৈধ ড্রোন অভিযানের নির্দেশ দেননি এবং এসব পদক্ষেপ উত্তর কোরিয়ার বিভিন্ন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের জবাবে নেওয়া বৈধ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। তবে আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি।
এটি ইউন সুক ইওলের বিরুদ্ধে দেওয়া প্রথম বড় সাজা নয়। এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে স্বল্প সময়ের জন্য সামরিক আইন জারির মাধ্যমে সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা ভেঙে ফেলার চেষ্টার অভিযোগে তাকে বিদ্রোহ বা অভ্যুত্থান চেষ্টার মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনায় তিনি পার্লামেন্টের অভিশংসনের মুখে পড়েন এবং পরে সাংবিধানিক আদালত তাকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অপসারণ করে। পরবর্তী আগাম নির্বাচনে লি জে মিয়ং নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
বর্তমানে ইউন সুক ইওল কারাগারে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন। ড্রোন অনুপ্রবেশ মামলার ৩০ বছরের সাজা এবং পূর্বের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, উভয় রায়ের বিরুদ্ধেই তার আপিল করার সুযোগ রয়েছে। এই রায়কে দক্ষিণ কোরিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাসে সাবেক কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও নজিরবিহীন বিচারিক সিদ্ধান্তগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।