30/05/2026
হাসিনার ফেরত আসার এবং আওয়ামী লীগকে নর্মালাইজ করার একটা সাইবার এবং মিডিয়া কেম্পেইন চলতেছে।
কারো নাম উল্লেখ না করে, কি হচ্ছে সেটার একটা আইডিয়া দেই:
১। গত কয়েক মাস ধরে টোকাই শ্রেণীর কিছু রাজনৈতিক অপারেটরদেরকে কো-অপ্ট করা হয়েছে টিভির টক শোতে গিয়ে নানা ভাবে আওয়ামী লীগ, একাত্তর , চেতনা , ইউনুস , হাম , ৩২ নম্বর ইত্যাদি নানা ধরণের ইস্যুতে আলাপ জমানোর জন্যে ।
এখানে এমন কিছু টোকাইও আছে যারা জুলাই এর সময় আওয়ামী বিরোধী ছিল, কিন্তু যারা এখন আবার চেতনা , রবীন্দ্রনাথ , ৩২ নম্বর , একাত্তর ইত্যাদি ঝান্ডা ধরে দাঁড়িয়েছে।
২। কিছু প্রবাসী ফেসবুক একাউন্ট থেকে প্রতিদিন আলাপ আসছে, হাইপ তোলা হচ্ছে যে হাসিনা ফিরছেন খুব শিগ্রই। বিদেশের রাস্তায় বাংলা স্টাইলে মিছিল হচ্ছে , বিদেশের মাটিতে ইউনুস কিংবা এনসিপির কাউকে পেলে হ্যানস্ত করা হচ্ছে।
৩। আওয়ামী ফ্রেন্ডলি কিছু মিডিয়া ব্যক্তিত্বকে টিভি স্টেশন গুলি খুব গুরুত্বের সাথে নিয়মিত ডাকছে। এদের সাথী হচ্ছেন বিএনপি পন্থী কিছু ইউজফুল ইডিয়টস, যারা এনসিপি , জামায়াতের বিরোধিতা করতে গিয়ে আওয়ামী ফ্রেন্ডলি কথা বলছেন, যার সুদূর প্রসারী নেগেটিভ ইম্প্যাক্ট বিএনপির উপর পরবে।
৪। বেশ কিছু উগ্র পন্থী আওয়ামী একাউন্ট থেকে প্রচুর থ্রেট দেওয়া হচ্ছে মূলত জুলাইপন্থী মিডিয়া এবং অনলাইন এক্টিভিস্টদের। মেরে ফেলার থ্রেট কিংবা ফিজিক্যাল আক্রমণের ভাষা ব্যাবহার করে। কয়েকটা ভিডিওতে "রক্ত", "জবাই " , "সাফা করে ফেলা " ইত্যাদি ভাষার ব্যাবহার শুনলাম।
৫। রাস্তায় ঝটিকা মিছিল বাড়ানো হয়েছে, এবং সরকারের মধ্যে একটা ওয়েট এন্ড সি এপ্রোচ দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগের এই হঠাৎ লাফ ঝাঁপ ট্যাকেল করার ক্ষেত্রে।
এবার আসি প্রেডিকশনে।
হাসিনার যদি দেশে ফিরে আসার ইচ্ছা থাকে , তাহলে তাকে এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করেই গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যেতে হবে। উনার সাথে যারাই আসবে , তাদের সবাইকে জেলে যেতে হবে নিশ্চিত ভাবে।
স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে জেলে যাওয়া একটা রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে , কিন্তু সেটা অত্যন্ত রিস্কি একটা কৌশল হবে হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের জন্যে । এতো রিস্ক তারা নেবেন কেন ?
গত ২ বছরে , হাসিনার সব চাইতে কাছের মিত্র ভারত এবং ইউরোপ থেকে কোন প্রকার চাপ দেওয়া হয় নাই বাংলাদেশের ইউনুস এবং তারেক সরকারকে হাসিনাকে বা তার দলকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে।
দেশে একটা ইলেকশন হয়েছে , কোন দেশ থেকে সেই ইলেকশনকে প্রশ্ন বিদ্ধ করা হয় নাই আওয়ামী লীগের অনুপস্থিথির কথা বলে।
অর্থাৎ , সারা দুনিয়াতে একটা কনসেন্সাস আছে পলাতক আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে।
হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে বিচার চালিয়ে গেলেও সেই কনসেন্সাস অটুট থাকবে।
একারণে হাসিনার যদি দেশে ফিরে আসলেই জেলে যাওয়ার শখ থাকে, তার এক মাত্র কারণ হতে পারে যে তারা দেশে ফিরেই খুব ভায়োলেন্ট একটা পরিস্থিতি তৈরী করতে পারবেন, এবং তার সমর্থকরা ভায়োলেন্স করে তাকে বের করে আনতে পারবে।
কিন্তু ইউনূসের মতো দুর্বল একটা সরকারকে পলাতক আওয়ামী লীগ এবং তাদের প্যাট্রন ইন্ডিয়া ভায়োলেন্স করে ভয় দেখতে পারে নাই।
একারণে বর্তমান সরকার এবং বর্তমান বিরোধী দলকে ভয় দেখিয়ে সফল হবার সম্ভাবনাও খুবই কম।
অর্থাৎ , যেভাবে হাসিনা ফিরে আসবে এবং এসেই তার লোকজন দেশে প্রতিশোধ তোলা শুরু করবে বলে হাইপ তুলছেন , সেটা সফল হবার সম্ভাবনা প্রাক্টিক্যালি আগামী কয়েক বছরে নাই।
তাহলে তারা হাইপ তুলছেন কেন ?
কারণ দুইটা: ১। তারা অতীত থেকে কোনোই শিক্ষা নেন নাই , ২। তাদের আসলে এই মুহূর্তে ইন্টারনেটে হাইপ তোলা ছাড়া করার মতো কোন কাজও নাই।