Civil Aviation Authority of Bangladesh

Civil Aviation Authority of Bangladesh Welcome to this page! This page is dedicated to keeping you updated on the latest developments, news, and important announcements from CAAB.

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক্সপ্লোসিভ ট্রেস ডিটেক্টর (ইটিডি) পরিচালনা বিষয়ক স্থানীয় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন ঢাকা, ...
07/09/2026

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক্সপ্লোসিভ ট্রেস ডিটেক্টর (ইটিডি) পরিচালনা বিষয়ক স্থানীয় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (হশআবি) নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আধুনিক, কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) কর্তৃক আধুনিক NUCTECH TR2000DC মডেলের নতুন ২৫টি এক্সপ্লোসিভ ট্রেস ডিটেক্টর (ইটিডি) সংযোজন করা হয়েছে।

নতুন এই প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক)-এর নির্বাচিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে যন্ত্রটির মূল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের (ওইএম) বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে এক্সপ্লোসিভ ট্রেস ডিটেক্টর (ইটিডি) পরিচালনা বিষয়ক স্থানীয় প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশিক্ষণে মোট ৪৪ জন এভসেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের যন্ত্রটির সঠিক পরিচালনা, নমুনা সংগ্রহ, শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া, ফলাফল বিশ্লেষণ এবং অপারেশনাল নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা প্রদান করা হয়।

NUCTECH TR2000DC একটি আধুনিক ট্রেস ডিটেকশন প্রযুক্তি, যা অতি সামান্য পরিমাণে অবশিষ্ট থাকা বিস্ফোরক ও অবৈধ মাদকজাতীয় পদার্থ শনাক্ত করতে সক্ষম। যন্ত্রটি আয়ন মোবিলিটি স্পেকট্রোমেট্রি (আইএমএস) প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং এতে অ-তেজস্ক্রিয় আয়নীকরণ উৎস ব্যবহৃত হয়। ফলে যাত্রীদের ব্যাগেজ, কার্গো এবং বিভিন্ন পৃষ্ঠে থাকা অতি ক্ষুদ্র মাত্রার সন্দেহজনক পদার্থ দ্রুত শনাক্তকরণে এটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এই প্রযুক্তির সংযোজনের ফলে বিস্ফোরক ও মাদক শনাক্তকরণের সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা তল্লাশির কার্যকারিতা উন্নয়ন এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি দ্রুত চিহ্নিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হবে। একই সঙ্গে এটি প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিপূরক হিসেবে কাজ করে বিমানবন্দরের বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।

আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জামের সর্বোচ্চ কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত জনবলের যথাযথ প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে বেবিচক কর্তৃক প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, ব্যবহারিক অনুশীলন এবং দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা ইটিডির সক্ষমতা যথাযথভাবে কাজে লাগানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা তল্লাশির ক্ষেত্রে নির্ধারিত পদ্ধতি ও মানদণ্ড অনুসরণ করতে সক্ষম হবেন।

এছাড়া, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আধুনিক ইটিডি প্রযুক্তির সংযোজন এবং সংশ্লিষ্ট এভসেক জনবলের দক্ষতা উন্নয়ন নভেম্বর ২০২৬-এ অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা- এর অডিটের প্রেক্ষাপটে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সক্ষমতা ও প্রস্তুতিকে আরও সুদৃঢ় করবে। আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল এবং কার্যকর নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার সমন্বিত প্রয়োগের মাধ্যমে হশআবির নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই শক্তিশালী করবে না; বরং সম্মানিত যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে এবং বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থার প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে বিমানবন্দর নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাংলাদেশের সামগ্রিক বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের নিরাপত্তা সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পর শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম; ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সিলেট; এবং কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও সংশ্লিষ্ট জনবলের জন্য একই ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে আয়োজন করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে আধুনিক বিস্ফোরক ও মাদক শনাক্তকরণ প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী বিমানবন্দর নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ আরও বেগবান হবে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ দেশের বিমানবন্দরসমূহের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষ জনবল গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিরাপদ বিমান চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

এভিয়েশন নিরাপত্তায় দক্ষতা বাড়াতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ডিএফটি প্রশিক্ষণ সম্পন্নঢাকা, ২৭ আগস্ট ২০২৬: হযরত...
27/08/2026

এভিয়েশন নিরাপত্তায় দক্ষতা বাড়াতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ডিএফটি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

ঢাকা, ২৭ আগস্ট ২০২৬: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্টের (ডিএফটি) ‘এভিয়েশন সিকিউরিটি সুপারভাইজার ট্রেনিং’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত পাঁচ কর্মদিবসের এ প্রশিক্ষণে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে কর্মরত এভসেক সুপারভাইজার এবং কর্মকর্তাবৃন্দ অংশ নেন।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) বিভাগের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত প্রশিক্ষণে যুক্তরাজ্য থেকে আসা প্রশিক্ষকরা এভিয়েশন নিরাপত্তার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন। পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা, তদারকি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক প্রশিক্ষণে গুরুত্ব পায়।

কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমোডর মোঃ আসিফ ইকবাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর রায়ান ডানকানসন। এ সময় যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্ট, ব্রিটিশ হাইকমিশন এবং বেবিচকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এয়ার কমোডর মোঃ আসিফ ইকবাল সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক এ প্রশিক্ষণ আয়োজনের জন্য ব্রিটিশ হাইকমিশন ও ডিএফটি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় এভিয়েশন সিকিউরিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও প্রস্তুতি নিয়মিতভাবে উন্নত করা জরুরি।

তিনি বলেন, বিমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের পাশাপাশি একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং যাত্রী চলাচল আরও সহজ ও নির্বিঘ্ন করার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রায়ান ডানকানসন এভিয়েশন নিরাপত্তায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করায় অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রশিক্ষণ আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্রিটিশ সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে পাঁচ কর্মদিবসব্যাপী ডিএফটি এভিয়েশন সিকিউরিটি সুপারভাইজার প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।

শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব দাখিলহযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের...
25/08/2026

শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব দাখিল

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স (Operation & Maintenance) কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে জাপানি প্রতিষ্ঠান Sub Working Group আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) বেলা ২টায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদরদপ্তরে তাদের প্রস্তাব দাখিল করে।

জাপানি প্রতিষ্ঠান Sub Working Group-এর পক্ষ থেকে মাসাহিরু হিরাই বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বিএসপি, জিইউপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, এসিএসসি, পিএসসি-এর নিকট এই প্রস্তাব জমা দেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বেবিচকের অন্যান্য সদস্য এবং জাপানি প্রতিনিধি দলের সদস্যবৃন্দ।

প্রস্তাব দাখিলের সময় জাপানি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কারিগরি (Technical) ও আর্থিক (Financial) প্রস্তাবসংবলিত পৃথক ডকুমেন্ট জমা দেওয়া হয়। দাখিলকৃত প্রস্তাবসমূহ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত RFP Evaluation Committee-এর মাধ্যমে নির্ধারিত পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করা হবে। উক্ত মূল্যায়ন কমিটিতে বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন), সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা), অর্থ মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষ এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ রয়েছেন।

মূল্যায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রথমে কারিগরি প্রস্তাব (Technical Proposal) এবং পরবর্তী সময়ে আর্থিক প্রস্তাব (Financial Proposal) মূল্যায়ন করা হবে। মূল্যায়ন শেষে প্রয়োজনীয় আলোচনা ও সমঝোতা (Negotiation) কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। সফলভাবে Negotiation সম্পন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে চুক্তির তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দেশের বিমান খাতের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প। আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা এবং দক্ষ অপারেশনাল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতকে আরও শক্তিশালী ও বিশ্বমানের পর্যায়ে উন্নীত করতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নিরাপদ আকাশপথ নিশ্চিতে দক্ষ জনবল গড়তে এটিসি বেসিক কোর্স শুরু দেশের আকাশপথে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও কার্যকর বিমান চলাচল নিশ্চি...
23/08/2026

নিরাপদ আকাশপথ নিশ্চিতে দক্ষ জনবল গড়তে এটিসি বেসিক কোর্স শুরু

দেশের আকাশপথে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও কার্যকর বিমান চলাচল নিশ্চিত করতে দক্ষ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার তৈরির লক্ষ্যে সিভিল এভিয়েশন একাডেমিতে এটিসি বেসিক কোর্স নম্বর-৩৬ শুরু হয়েছে। আজ ২৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখ (রোববার) সকাল ১০টায় ২৭ সপ্তাহব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কোর্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য (এটিএম) এয়ার কমডোর মোঃ নূর-ই-আলম, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, এটিসি।

উদ্বোধনী বক্তব্যে এয়ার কমডোর মোঃ নূর-ই-আলম বলেন, বিমান চলাচল ব্যবস্থায় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল একটি কার্যক্রম। প্রতিদিন আকাশপথে বিভিন্ন গন্তব্যে অসংখ্য উড়োজাহাজ চলাচল করে। এসব উড়োজাহাজের মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, উড্ডয়ন ও অবতরণে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া এবং আকাশপথের সার্বিক ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনায় প্রশিক্ষিত এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, দেশের বিমান চলাচল খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষ জনবল তৈরিতে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। এ ধরনের প্রশিক্ষণ ভবিষ্যৎ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের পেশাগত দক্ষতা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রশিক্ষণার্থী ও অতিথিদের স্বাগত জানান সিভিল এভিয়েশন একাডেমির পরিচালক প্রশান্ত কুমার চক্রবর্তী। তিনি বলেন, দেশের বিমান চলাচল ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও কার্যকর করতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল প্রয়োজন। প্রশিক্ষণার্থীদের আন্তরিকতা, শৃঙ্খলা ও পেশাগত দায়িত্ববোধের সঙ্গে প্রশিক্ষণ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বেবিচকের পরিচালক (এটিএম) মো. সামছুল হক। এ সময় সিভিল এভিয়েশন একাডেমি ও বেবিচকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এটিসি বেসিক কোর্স নম্বর-৩৬-এ মোট ১৪ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আটজন এবং বেবিচকের ছয়জন রয়েছেন। আগামী ২৭ সপ্তাহ তারা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ও এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের বিভিন্ন বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন।

বেবিচক সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার তৈরি দেশের ক্রমবর্ধমান বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপদ আকাশপথ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বেবিচকে বেসামরিক বিমান চলাচলের হুমকি ও ঝুঁকি মোকাবিলায় CATRAC-এর ২য় সভা অনুষ্ঠিতদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে সম্ভাব্য...
20/08/2026

বেবিচকে বেসামরিক বিমান চলাচলের হুমকি ও ঝুঁকি মোকাবিলায় CATRAC-এর ২য় সভা অনুষ্ঠিত

দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে সম্ভাব্য হুমকি ও ঝুঁকি নিয়মিত মূল্যায়ন, গোয়েন্দা তথ্যের কার্যকর আদান-প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের লক্ষ্যে Civil Aviation Threat and Risk Assessment Committee (CATRAC)-এর ২য় সভা আজ বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন CATRAC-এর সভাপতি ও বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বিএসপি, জিইউপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, এসিএসসি, পিএসসি। সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বেবিচক, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এয়ার ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর এবং বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ শাখাসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

স্বাগত বক্তব্যে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বেসামরিক বিমান চলাচল খাত সন্ত্রাসবাদ, সাইবার ঝুঁকি, Insider Threat, IED ও Drone হামলাসহ বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এসব হুমকি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ICAO-এর Annex 17 অনুযায়ী নিয়মিত নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়নে CATRAC গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইতোমধ্যে Civil Aviation Risk Context Statement (CARCS) চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের পদ্ধতি সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। এসব কার্যক্রম আসন্ন ICAO Universal Security Audit Programme – Continuous Monitoring Approach (USAP-CMA) অডিটের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সভায় CATRAC-এর প্রথম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি আজকের সভায় বর্তমান ও উদীয়মান নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় বিমানবন্দরের সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের ওপর। ফিশিং, পাসওয়ার্ড চুরি, অননুমোদিত প্রবেশ এবং যাত্রী ও ফ্লাইটসংক্রান্ত তথ্য চুরিসহ বিভিন্ন সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় বেবিচক গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সভায় তুলে ধরা হয়।

সভায় জানানো হয়, NCASP ও ATSP-তে Cybersecurity অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং Civil Aviation Cybersecurity Directives জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া Bangladesh Computer Council (BCC)-এর e-Gov CIRT-এর সঙ্গে Cybersecurity Audit সম্পাদনের জন্য MoU সম্পন্ন হয়েছে। দেশের বিমানবন্দরসমূহকে Critical Information Infrastructure (CII) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং National Cybersecurity Agency (NCSA) থেকে নিয়মিত নির্দেশনা গ্রহণ করা হচ্ছে। সভায় Aircraft Search-এর প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণে Higher-Risk Designation List (HRDL) প্রণয়নে গোয়োন্দা সংস্থাদের নির্দেশনা প্রদান করেন।

এছাড়া এই সভায় পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা, সময়োপযোগী গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও আন্তঃসংস্থা সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।

সমাপনী বক্তব্যে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, আজকের সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত ও সুপারিশসমূহ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার আন্তরিক সহযোগিতা ও সমন্বিত উদ্যোগ একান্ত প্রয়োজন। বিশেষ করে সময়োপযোগী তথ্য আদান-প্রদান ও পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে সক্ষম হব বলে আমি আশাবাদী।

সভায় বেবিচক এর সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মোঃ আসিফ ইকবাল, বিএসপি, বিইউপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, জিডি(পি) বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা পরিবেশে হুমকি ও ঝুঁকি মূল্যায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কার্যকর ঝুঁকি মূল্যায়ন, যথাযথ তথ্য বিনিময় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম ICAO-এর আসন্ন নিরাপত্তা অডিট সফলভাবে মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভাপতি সভায় সক্রিয় অংশগ্রহণ ও গঠনমূলক মতামতের জন্য সকল সদস্যকে ধন্যবাদ জানান এবং CATRAC-এর দ্বিতীয় সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য যে, CATRAC-এর পরবর্তী সভা ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আয়োজনের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

বেবিচক সদরদপ্তর ও শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় অগ্নিনির্বাপণ মহড়া, প্রস্তুতি প্রত্যক্ষ করলেন বেবিচক চেয়ারম্যানঅগ্...
19/08/2026

বেবিচক সদরদপ্তর ও শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় অগ্নিনির্বাপণ মহড়া, প্রস্তুতি প্রত্যক্ষ করলেন বেবিচক চেয়ারম্যান

অগ্নিকাণ্ডসহ যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকরভাবে সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা যাচাই এবং অগ্নিনিরাপত্তা প্রস্তুতি আরও জোরদারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদরদপ্তর ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় অগ্নিনির্বাপণ প্রশিক্ষণ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে অনুষ্ঠিত এ মহড়ায় উপস্থিত থেকে সার্বিক কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বিএসপি, জিইউপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, এসিএসসি, পিএসসি। এ সময় বেবিচকের অন্যান্য সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে মহড়ার বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।

বেবিচক সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত অগ্নিনির্বাপণ মহড়ায় চিফ কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মোঃ আসিফ ইকবাল, বিএসপি, বিইউপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি। অন্যদিকে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় অনুষ্ঠিত অগ্নিনির্বাপণ মহড়ায় চিফ কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বেবিচকের সদস্য (এটিএম) এয়ার কমডোর মোঃ নূর-ই-আলম, এএফডব্লিউসি, পিএসসি।

মহড়ায় অগ্নিকাণ্ডের একটি অনুশীলনমূলক পরিস্থিতি তৈরি করে জরুরি মুহূর্তে দ্রুত সাড়া প্রদান, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের যথাযথ ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের বিষয়গুলো বাস্তবভিত্তিকভাবে অনুশীলন করা হয়।

বিশেষ করে অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক পর্যায়ে করণীয়, দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা, নিরাপদে স্থান ত্যাগ এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ব্যবহারের বিভিন্ন কৌশল মহড়ায় প্রদর্শন ও অনুশীলন করা হয়। একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর পারস্পরিক যোগাযোগ, সমন্বয় এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতাও যাচাই করা হয়।

মহড়া প্রত্যক্ষকালে বেবিচক চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুতি ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি জরুরি পরিস্থিতিতে জানমাল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সচেতনতা এবং সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটের সমন্বিত প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, “বিমানবন্দর ও এভিয়েশনসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক অবকাঠামো ও সরঞ্জামের পাশাপাশি প্রশিক্ষিত জনবল এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মহড়ার মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রস্তুতি ও দক্ষতা আরও বাড়াতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের বাস্তবমুখী মহড়ার মাধ্যমে বিদ্যমান অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাইয়ের পাশাপাশি সম্ভাব্য ঘাটতি চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি হয়। মহড়ায় প্রাপ্ত পর্যবেক্ষণ পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।”

উল্লেখ্য, আজকের কার্যক্রমটি ছিল সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত ও প্রশিক্ষণমূলক মহড়া। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুতি, দক্ষতা ও পারস্পরিক সমন্বয় যাচাই এবং বেবিচকের সার্বিক অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করাই ছিল এ মহড়ার মূল উদ্দেশ্য।

সৌদির সঙ্গে বিমান যোগাযোগে নতুন মাইলফলক, বাড়ছে যাত্রী ও কার্গো সুবিধাবাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিমান যোগাযোগে নতুন দিগ...
13/08/2026

সৌদির সঙ্গে বিমান যোগাযোগে নতুন মাইলফলক, বাড়ছে যাত্রী ও কার্গো সুবিধা

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিমান যোগাযোগে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন সমঝোতা স্মারকের (MoU) আওতায় সাপ্তাহিক যাত্রীবাহী ফ্লাইটের অনুমোদিত সংখ্যা ৪৯ থেকে বাড়িয়ে ৮৪ করা হয়েছে। পাশাপাশি সপ্তাহে ২১টি কার্গো ফ্লাইট, পঞ্চম স্বাধীনতা ট্রাফিক অধিকার, কোড-শেয়ারিং, কো-টার্মিনালাইজেশন ও উড়োজাহাজ লিজিংয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বিএসপি, জিইউপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, এসিএসসি, পিএসসি। এ সময় বেবিচকের সকল সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, নতুন সমঝোতার ফলে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মনোনীত এয়ারলাইনগুলো প্রতি সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৮৪টি যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ পাবে। আগে এ সংখ্যা ছিল ৪৯। অর্থাৎ সপ্তাহে আরও ৩৫টি ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা দুই দেশের ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, এর অন্যতম প্রধান সুবিধাভোগী হবেন বাংলাদেশের হজ ও ওমরাহযাত্রীরা। বিশেষ করে হজ মৌসুমে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ, আসন সংকট এবং ফ্লাইট পরিচালনার বিভিন্ন জটিলতা মোকাবিলায় বাড়তি ফ্লাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে এয়ারলাইনগুলোর অপারেশনাল সক্ষমতা ও নমনীয়তা বাড়বে এবং হজ ফ্লাইট আরও সুশৃঙ্খল, নির্ভরযোগ্য ও নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

সৌদি আরবে বসবাস ও কর্মরত প্রায় ৪০ লাখ বাংলাদেশিও এর সুফল পাবেন উল্লেখ করে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ফ্লাইট ও আসনসংখ্যা বাড়লে প্রবাসীদের দেশে আসা-যাওয়ার সুযোগ আরও বাড়বে। পাশাপাশি এয়ারলাইনগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হওয়ায় যাত্রীরা আরও প্রতিযোগিতামূলক ও সাশ্রয়ী বিমানভাড়া পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

নতুন সমঝোতায় ঢাকার পাশাপাশি দেশের আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর ব্যবহার সম্প্রসারণের সুযোগও তৈরি হয়েছে। সৌদি আরবের মনোনীত এয়ারলাইনগুলোর চট্টগ্রাম ও সিলেটে ফ্লাইট পরিচালনার পরিধি বাড়ায় রিয়াদ, দাম্মাম, মদিনা ও জেদ্দার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সৌদি আরবগামী যাত্রীদের ভ্রমণ সহজ হওয়ার পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বেবিচক চেয়ারম্যান নতুন সমঝোতার অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে কার্গো পরিবহনের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে প্রতি সপ্তাহে ২১টি কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে তৈরি পোশাক, তাজা শাকসবজি, ফলমূলসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন রপ্তানিপণ্য দ্রুত সৌদি আরবের বাজারে পৌঁছানোর সক্ষমতা বাড়বে।

একই সঙ্গে পঞ্চম স্বাধীনতা বা ‘Fifth Freedom Traffic Rights’-এর আওতায় বাংলাদেশের মনোনীত এয়ারলাইনগুলোও সৌদি আরব হয়ে স্পেন ও জার্মানিসহ নির্ধারিত গন্তব্যে কার্গো সেবা পরিচালনা করতে পারবে। বেবিচক মনে করছে, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের এয়ার কার্গো খাতের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং দেশকে আঞ্চলিক কার্গো সংযোগকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে সরকারের রপ্তানীমুখী নীতির সহায়ক হবে।

সমঝোতায় কোড-শেয়ারিংয়ের সুযোগও রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে দুই দেশের মনোনীত এয়ারলাইনগুলো নিজ দেশের, অপর পক্ষের কিংবা তৃতীয় দেশের এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে কোড-শেয়ারসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক সহযোগিতায় যেতে পারবে। এতে যাত্রীরা আরও বিস্তৃত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক এবং বিভিন্ন গন্তব্যে সহজ সংযোগ সুবিধা পাবেন।

এ ছাড়া ‘Co-terminalization’ সুবিধার আওতায় সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে একই ফ্লাইটে একই দেশের একাধিক গন্তব্যে সেবা পরিচালনার সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি লিজ নেওয়া উড়োজাহাজ, বিশেষ করে ‘Wet Lease’ ব্যবহারের সুযোগ থাকায় চাহিদা অনুযায়ী উড়োজাহাজের সক্ষমতা বাড়ানো এবং ব্যস্ত মৌসুমে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনায় এয়ারলাইনগুলো আরও নমনীয়তা পাবে।

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, নতুন এই সমঝোতা শুধু ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে যাত্রী পরিবহন, হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা, প্রবাসী যোগাযোগ, কার্গো পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং এয়ারলাইনগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় এই সমঝোতা দুই দেশের বিমান চলাচল সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী ভিত্তি দেবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশকে একটি কার্যকর আঞ্চলিক এভিয়েশন ও কার্গো হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য বাস্তবায়নেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বেবিচক এ জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (NCASC) চৌদ্দতম সভা অনুষ্ঠিতদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্...
06/08/2026

বেবিচক এ জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (NCASC) চৌদ্দতম সভা অনুষ্ঠিত

দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী, সমন্বিত এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার লক্ষ্যে পুনর্গঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (National Civil Aviation Security Committee–NCASC) চৌদ্দতম সভা আজ (৬ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১১ টায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম, এমপি কমিটির সভাপতি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদু্জ্জমান মিল্লাত সহ-সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মোঃ আসিফ ইকবাল, বিএসপি, বিইউপি,এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, জিডি(পি)।

সভাপতির বক্তৃতায় মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, দেশের বিমান খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ও সমন্বয়কারী কমিটির ১৩ তম সভার সিদ্ধান্ত যাতে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হয়। অতিসত্বর আমাদের ICAO অডিট অনুষ্ঠিত হবে। তাদের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে দেশের ভাবমূর্তি জড়িত। তাই যেসব বিষয়ে ICAO এর পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ থাকতে পারে সেগুলোর Compliance নিশ্চিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ভিআইপি এবং সিআইপিসহ সকলের জন্যই নিরাপত্তা প্রোটোকল সমান। তাই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সকলকে সমানভাবে প্রোটোকল অনুসরণ করতে হবে। আমাদের অগ্রাধিকার হলো যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা। তাই প্রবাসী ভাইদের জন্য উন্নত যাত্রীসেবা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় ড্রোনের উড্ডয়ন বন্ধে Anti Drone System স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হবে। প্রায় তিন বছর পরে অনুষ্ঠিত হওয়া আজকের সভার কার্যকারিতা আমাদেরকেই নিশ্চিত করতে হবে। তাছাড়া নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি, স্ক্যানার প্রয়োজনীয় সংখ্যার তুলনায় বেশি থাকতে হবে।

এসময় প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যগণকে আইনের ব্যত্যয় হলে কঠোর অবস্থান নেয়ার নির্দেশ দেন।

সভায় দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, সমন্বিত ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডসম্মত করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় জোরদার, জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ, বিমানবন্দরে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি সংযোজন, বিদ্যমান নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।

উল্লেখ্য, সভায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার, বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে স্থাপিত Under Vehicle Scanning System (UVSS)-এর কার্যকারিতা, দেশের সকল বেসামরিক বিমানবন্দরে Contingency ও Crisis Management কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MoU) প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড এলাকায় ট্রাফিক জট, অনিয়ন্ত্রিত লোকসমাগম, ভিক্ষুকের উপদ্রব এবং অবৈধ লাগেজ র‌্যাপিং কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে বেবিচক, এপিবিএন, পুলিশ, আনসার ও এয়ারপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশও করা হয়, যাতে যাত্রীসেবা, শৃঙ্খলা ও বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা আরও উন্নত হয়।

28/07/2026
25/07/2026

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল প্রকল্প সম্পর্কে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে বেবিচকের বক্তব্য

ঢাকা: ২৫ জুলাই ২০২৬

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের ব্যয়, ভেরিয়েশন কার্যক্রম, চুক্তি বাস্তবায়ন এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারিত হয়েছে। প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনে প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা, অনুমোদিত নথি, চুক্তিগত বিধান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আংশিক ও প্রেক্ষাপটবিহীন তথ্য উপস্থাপিত হয়েছে, যা জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে।

উল্লেখ্য, থার্ড টার্মিনাল নির্মাণকাজ প্রায় দুই বছর পূর্বেই সম্পন্ন হলেও অপারেশনাল প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বিভিন্ন কারিগরি ও পরিচালনাগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের কারণে টার্মিনালটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হয়েছে। বর্তমান সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এসব প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী ডিসেম্বর ২০২৬-এ থার্ড টার্মিনালের অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলছে।

এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রকল্প সম্পর্কে অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার জনমনে ভুল ধারণা সৃষ্টি করার পাশাপাশি দেশের অন্যতম বৃহৎ জাতীয় অবকাঠামো প্রকল্পের ভাবমূর্তি, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী টার্মিনাল পরিচালনার প্রস্তুতিতেও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এর ফলে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আহরণ ও এভিয়েশন খাতের উন্নয়ন কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পে অনুমোদন ছাড়াই ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। তবে এ দাবি সঠিক নয় এবং প্রকল্পের অনুমোদিত নথি ও বাস্তব তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রকৃত তথ্য হলো— যে কোন প্রকল্পের ব্যয়ের ক্ষেত্রে PIC (Project Implementation Comittee), PSC (Project Steering Committee) ও মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে পরিকল্পনা কমিশন কর্তৃক চুড়ান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। উক্তরুপ সরকারী অনুমোদন ব্যতীত প্রকল্পের কোন অর্থ ব্যয় করার সুযোগ নেই। বর্নিত প্রকল্পের ১ম ডিপিপির মূল্য ছিল ১৩,৬১০ কোটি টাকা, যা বিগত ২৪/১০/২০১৭ইং তারিখে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হয়। পরবর্তীতে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। আন্তর্জাতিক দরপত্রে প্রাপ্ত সর্বনিম্ন বৈধ দরদাতার উদ্ধৃত দর দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি কর্তৃক যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয় এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি কর্তৃক উহা অনুমোদিত হয়। উক্ত অনুমোদিত দরকে ভিত্তি করে প্রণীত ২১,৩৯৯ কোটি টাকা মূল্যবিশিষ্ট ১ম সংশোধিত ডিপিপি সরকার কর্তৃক ১০/১২/২০১৯ইং তারিখে অনুমোদিত হয়। পরবর্তীতে প্রকল্পের প্রয়োজনীয় ভেরিয়েশন কাজের জন্য ৩,২৬৭ কোটি টাকা এবং কার্য সাইটের বাস্তব প্রয়োজন অনুযায়ী কাজের আইটেম ওয়ারী পরিমানের হ্রাস-বৃদ্ধি বিবেচনা করে মোট ৩৪ কোটি টাকা কমিয়ে ২১,৩৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের ২য় সংশোধিত ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়। যা PIC (Project Implementation Comittee), PSC (Project Steering Committee) ও মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে গত ০৭/১২/২০২৫ইং তারিখে পরিকল্পনা কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত হয়। অদ্যাবধি প্রকল্পের বিপরীতে ২০,৩৪৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। প্রকল্পের বিপরীতে ব্যয়িত অর্থ অনুমোদিত প্রকল্প ব্যয়ের সীমার মধ্যেই রয়েছে। সুতরাং, অনুমোদন ছাড়া প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের অভিযোগটি সঠিক নয়।

গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের সৌন্দর্যবর্ধনে লাগানো গাছের প্রতিটির মূল্য ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে গাছ লাগাতে প্রায় ২০ কোটি টাকা এবং পরিচর্যায় আরও ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় দেখিয়ে ‘শোভাবর্ধনের নামে পুকুরচুরি’ হয়েছে বলে দাবি করা হয়। প্রকৃত তথ্য হলো ঠিকাচুক্তিতে উল্লেখিত দরে প্রকল্পের বৃক্ষরোপণ বাবদ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। ঠিকাচুক্তির আওতায় প্রায় ১৪,৮২৪ (চৌদ্দ হাজার আটশত চব্বিশ) আইটেমের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আন্তর্জাতিক টেন্ডারে ঠিকাদার কোনো আইটেমে অপেক্ষাকৃত বেশি এবং কোনো আইটেমে অপেক্ষাকৃত কম দর উদ্ধৃত করে সর্বনিম্ন বৈধ দরদাতা হিসেবে বিবেচিত হন। উদাহরন স্বরুপ প্রকল্পের টানেল নির্মাণ কাজে রডের প্রতিটনের চুক্তিমূল্য ১৫,৬৫০ (পনের হাজার ছয়শত পঞ্চাশ) টাকা অথচ পিডব্লিউডি সিডিউল-২০২২ (সংশোধিত) অনুযায়ী এ দর ১,২১,০০০ (এক লক্ষ একুশ হাজার) টাকা। ফলে চুক্তির কোন একটি আইটেমকে খন্ডিত আকারে উপস্থাপন করার সুযোগ নেই। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির মূল্যায়ন এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের পর বর্ণিত ঠিকাচুক্তি ১৪-০১-২০২০ইং তারিখে সম্পাদিত হয়। ঠিকাচুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন আইটেমের বিপরীতে চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত মূল্যে বিল পরিশোধ করা হয়েছে। সরকারের অনুমোদিত মূল্য ব্যতিরেকে কোন অর্থ পরিশোধিত হয়নি। অতএব, ঠিকাচুক্তি মূল্যের ভিত্তিতে সম্পাদিত এ ব্যয়ে কোনো অনিয়ম হয়নি।

গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, থার্ড টার্মিনালে পুকুর নির্মাণ বাবদ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ১০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, যদিও সেখানে পূর্ব থেকেই একটি জলাশয় ছিল বলে অভিযোগ করা হয়। প্রকৃত তথ্য হলো প্রকল্প এলাকায় বিদ্যমান জলাশয়ের কাদামাটি অপসারণ, পুকুরের নির্ধারিত আকৃতি (shape) প্রদানের জন্য ঢালে (slope) মাটি ভরাট, কংক্রিট ব্লক স্থাপনের দ্বারা পুকুরের পাড় বাঁধাই, পুকুরের উভয় পাশে রাস্তা নির্মাণসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক কাজ বাবদ বর্ণিত অর্থ ব্যয় হয়েছে। উল্লিখিত কাজসমূহের বিপরীতে ঠিকাচুক্তিতে নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। এতে সরকারের অনুমোদন রয়েছে এবং অনুমোদনের বাহিরে কোন অর্থ পরিশোধিত হয়নি। ফলে এতে কোনো অনিয়ম হয়নি।

গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, মাটি অপসারণে কম দূরত্বে কাজ করেও বেশি দূরত্বের বিল দেখিয়ে প্রায় ৫২ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। প্রকৃত তথ্য হলো ঠিকাচুক্তিতে swamp soil প্রকল্প সাইটেই জমা করার বিষয়টি উল্লেখ ছিল। কিন্তু প্রকল্প সাইটে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় প্রকল্প সাইট হতে সর্বোচ্চ ৬.৫ কিলোমিটার দূরে উহা অপসারণ করা হয়েছে। এটি একটি ভেরিয়েশন কাজ, প্রকল্পের দ্য ইঞ্জিনিয়ার (আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান NOCD JV) কর্তৃক উক্ত ভেরিয়েশন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা (Instruction) প্রদান করা হয়েছে এবং কাজের দর অনুমোদন করা হয়েছে। সরকার এবং প্রকল্পের ঋণদাতা সংস্থার মধ্যে সম্পাদিত ঋণচুক্তির গাইড লাইন অনুসারে সম্পাদিত ঠিকাচুক্তির FIDIC (International Federation of Consulting Engineers) Conditions of Contract মোতাবেক প্রকল্পের দ্য ইঞ্জিনিয়ার (আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান NOCD JV) ভেরিয়েশন কাজের আদেশ প্রদানসহ উহার মূল্য অনুমোদনের ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন। ঠিকাচুক্তির বিধান এবং দ্য ইঞ্জিনিয়ার কর্তৃক অনুমোদিত দর অনুযায়ীই এ কাজের বিপরীতে অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। এতে সরকারের অনুমোদন রয়েছে এবং অনুমোদনের বাহিরে কোন অর্থ পরিশোধিত হয়নি। ফলে চুক্তি বহির্ভূত বা অনিয়মতান্ত্রিকভাবে অর্থ ব্যয়ের অভিযোগটি সঠিক নয়।

গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে থার্ড টার্মিনালের সফট ওপেনিংয়ের জন্য চুক্তিবহির্ভূতভাবে ৪৪ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। প্রকৃত তথ্য হলো অডিট আপত্তি মোতাবেক Amicable Settlement কমিটির সভায় এ সংক্রান্ত ব্যয় বাদ দেওয়া হয়েছে।

গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে ডিজেল পাম্প সরবরাহে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয় অথচ প্রকৃত তথ্য হলো প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ সিরামিক ডাক্ট সংক্রান্ত কাজের maintenance এর জন্য ডিজেল পাম্প, সেফটি ইকুইপমেন্ট, রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ, কেবল ফল্ট ডিটেক্টর এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ এ ব্যয়ের অন্তর্ভূক্ত। প্রকল্পের ঠিকাচুক্তির FIDIC (International Federation of Consulting Engineers) Conditions of Contract অনুযায়ী প্রকল্পের দ্য ইঞ্জিনিয়ার (আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান NOCD JV) কর্তৃক এ ব্যয়ের অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে।

গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে UPS বাবদ সাড়ে আটচল্লিশ কোটি টাকা ব্যয় অথচ প্রকৃত তথ্য হলো ৩য় টার্মিনালে স্থাপিত ৮টি EDS Machine-এর জন্য UPS সরবরাহসংক্রান্ত এ কাজের আওতায় বিদেশ হতে আমদানিযোগ্য UPS সরবরাহ ও স্থাপন, UPS স্থাপনের স্থানে প্রয়োজনীয় পূর্ত, ই/এম, কমিউনিকেশন, ফায়ার ফাইটিং সিস্টেমসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ এ ব্যয়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পের ঠিকাচুক্তির FIDIC (International Federation of Consulting Engineers) Conditions of Contract অনুযায়ী প্রকল্পের দ্য ইঞ্জিনিয়ার (আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান NOCD JV) কর্তৃক এ ব্যয়ের অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে।

গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে জ্বালানি তেল ক্রয়ের জন্য অতিরিক্ত ৪১ কোটি টাকা ব্যয় অথচ প্রকৃত তথ্য হলো নির্মাণ কাজ চলাকালীন সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে বর্ধিত দরে প্রকল্পের প্রয়োজনীয় ফুয়েল ঠিকাদারকে ক্রয় করতে হয়েছে। চুক্তির বিধান অনুযায়ী চুক্তির সময়কালীন জ্বালানী তেলের মূল্যের অতিরিক্ত ব্যয় ঠিকাদারকে প্রদানের জন্য এ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। এতে সরকারের অনুমোদন রয়েছে।

গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার যুক্তিতে ঠিকাদারকে অতিরিক্ত ২১৭ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। অথচ প্রকৃত তথ্য হলো কোভিড-১৯-জনিত কারণে প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হলে কাজের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার জন্য ঠিকাদার কর্তৃক নির্মাণ সাইটে অতিরিক্ত শ্রমিক, ইকুইপমেন্ট, ম্যাটেরিয়াল, সাটারিংসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণ ও জনবল মোতায়েন করা হয়। এটি একটি ভেরিয়েশন কাজ। ঠিকাচুক্তির FIDIC (International Federation of Consulting Engineers) Conditions of Contract অনুযায়ী প্রকল্পের দ্য ইঞ্জিনিয়ার (আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান NOCD JV) ভেরিয়েশন কাজের আদেশ প্রদান এবং উক্ত কাজের মূল্য অনুমোদনের ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন। দ্য ইঞ্জিনিয়ারের অনুমোদনক্রমে এ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে এবং এ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদনও রয়েছে। সরকারের যথাযথ অনুমোদনের পরই উক্ত অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। উক্ত ব্যয় না করে প্রকল্পের সময় বৃদ্ধি করা হলে ঠিকাদার delay demurrage charge এর দাবী পেশ করতো যাতে এ ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

অতএব, নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার অজুহাতে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ঠিকাদারকে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করা হয়েছে এমন বক্তব্য সঠিক নয়।গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে সব মিলিয়ে থার্ড টার্মিনাল নির্মাণে ৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ ও অনিয়মের প্রমাণ অথচ প্রকৃত তথ্য হলো বিগত ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে FAPAD (Foreign Aided Projects Audit Department) কর্তৃক পরিচালিত অডিট প্রতিবেদনে ৬,৩০০ কোটি টাকার অনিয়মের বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্পে অডিট আপত্তি উত্থাপনের বিষয়টি একটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। যথাযথ জবাবের প্রেক্ষিতে উক্ত আপত্তি নিস্পত্তিযোগ্য। FAPAD কর্তৃক অডিট কার্যক্রম পরিচালনা কালে প্রকল্পের বিপরীতে ১২,৭৪৫ কোটি টাকা ব্যয়িত হয়। অডিট প্রতিবেদনে ৬,৩০০ কোটি টাকার ওভারপেমেন্ট সংক্রান্ত আপত্তি উত্থাপিত হয় যা উক্ত সময় পর্যন্ত ব্যয়ের প্রায় ৫০%। এত অধিক পরিমানের ওভারপেমেন্ট সংক্রান্ত অডিট আপত্তির বিষয়টি ডিসপুট বোর্ড কিংবা সিএএবি’র নিকট গ্রহণযোগ্য হয়নি। কেননা, এতে ১৪,৮২৪ টি BOQ আইটেমের সমন্বয়ে গঠিত প্রকল্প কাজ কিভাবে সঠিকভাবে সম্পন্ন হলো সে প্রশ্ন উঠে। বিষয়টি প্রকল্পের জন্য গঠিত Dispute Board-এ উত্থাপিত হলে Dispute Board ঠিকাচুক্তির বিধান পর্যালোচনা করে মতামত প্রদান করে যে, অডিট আপত্তির ভিত্তিতে ঠিকাদারের বিল স্থগিত করা কিংবা অডিট আপত্তিকৃত অর্থ ঠিকাদারের বিল হতে Recovery করার কোন সুযোগ নেই। পরবর্তীতে ঠিকাচুক্তিতে বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রকল্পের ডিসপুট নিরসনের জন্য ঠিকাদারের সঙ্গে Amicable Settlement-এর লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় কর্তৃক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সভায় ৬,৩০০ কোটি টাকার মধ্যে ১,০৭৭ কোটি টাকা প্রকল্প ব্যয় হতে বাদ দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট অর্থ ঠিকাচুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদারের প্রাপ্য হওয়ায় উক্ত অর্থের বিষয়ে অডিট আপত্তির জবাব প্রস্তুতির কার্যক্রম চলমান আছে। ঠিকাচুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদারের প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে যা সংশ্লিষ্ট চুক্তিগত প্রক্রিয়া ও অনুমোদনের ভিত্তিতেই সম্পন্ন হয়েছে। অতএব, এ অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়নি।

গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে অন্তত ৬০০ খাতে ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকার কেনাকাটা ও বিল পরিশোধ করা হয় যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই। প্রকৃত তথ্য হলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমেই ৩,২০০ কোটি টাকার ভেরিয়েশন কাজের বিল পরিশোধ করা হয়েছে। গত ০৭/১২/২০২৫ তারিখে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত প্রকল্পের ২য় সংশোধিত ডিপিপিতে ভেরিয়েশন কাজের ব্যয় বাবদ প্রায় ৩,২৬৭ কোটি টাকা অন্তর্ভূক্ত আছে।

প্রকল্পের ঋণদাতা সংস্থা JICA-এর সঙ্গে সম্পাদিত ঋণচুক্তির গাইডলাইন এবং ঠিকাদারের সঙ্গে সম্পাদিত ঠিকাচুক্তির FIDIC (International Federation of Consulting Engineers) Conditions of Contract অনুযায়ী প্রকল্পের দ্য ইঞ্জিনিয়ার (আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান NOCD JV) ভেরিয়েশন কাজের Instruction প্রদানসহ উক্ত কাজের মূল্য নির্ধারণ ও অনুমোদনের ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন। সে অনুযায়ী দ্য ইঞ্জিনিয়ার কর্তৃক ভেরিয়েশন কাজের মূল্য অনুমোদন করা হয়েছে। বিষয়টি ডিসপুট বোর্ডে উত্থাপিত হলে ডিসপুট বোর্ড চুক্তি অনুাযায়ী দ্য ইঞ্জিনিয়ারের অনুমোদন সঠিক আছে মর্মে সিদ্ধান্ত প্রদান করে। অতএব, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া উক্ত অর্থ ব্যয় বা বিল পরিশোধ করা হয়েছে এমন অভিযোগ সঠিক নয়।

গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, অতিরিক্ত কাজের জন্য নির্ধারিত ১ শতাংশ ব্যয়ের সীমা অতিক্রম করে বিধি লঙ্ঘনের মাধ্যমে ২৩ শতাংশ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে এবং এ তথ্য মহা হিসাবনিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) বিশেষ অডিট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অথচ প্রকৃত তথ্য হলো—প্রকল্পের ঋণদাতা সংস্থা JICA-এর সঙ্গে সম্পাদিত ঋণচুক্তির গাইডলাইন এবং ঠিকাদারের সঙ্গে সম্পাদিত ঠিকাচুক্তির FIDIC (International Federation of Consulting Engineers) Conditions of Contract অনুযায়ী প্রকল্পের দ্য ইঞ্জিনিয়ার (আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান NOCD JV) ভেরিয়েশন কাজের Instruction প্রদানসহ উক্ত কাজের মূল্য নির্ধারণ ও অনুমোদনের ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন। সে অনুযায়ী দ্য ইঞ্জিনিয়ার কর্তৃক ভেরিয়েশন কাজের মূল্য অনুমোদন করা হয়েছে। এখানে উল্লেখ্য যে, ঠিকাচুক্তিতে অতিরিক্ত কাজের জন্য ১ (এক) শতাংশ ব্যয় করার যে ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে, তা মূলত কাজের পরিমাণের হ্রাস-বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; অতিরিক্ত ভেরিয়েশন কাজের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। ফলে উক্ত বিধানকে অতিরিক্ত ভেরিয়েশন কাজের সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। এতদ্ব্যতীত, এ বিষয়ে উত্থাপিত FAPAD-এর অডিট আপত্তি Dispute Board-এ উত্থাপিত হলে Dispute Board তার পর্যবেক্ষণে ঠিকাচুক্তির বিধি ৩.১-এর আলোকে উল্লেখ করে যে, “Engineer’s approval shall be deemed to have given approval by the Employer”। অর্থাৎ, Dispute Board-এর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ইঞ্জিনিয়ার কর্তৃক অনুমোদিত ভেরিয়েশন কাজের মূল্য কর্তৃপক্ষের অনুমোদন হিসেবে গণ্য হবে। এমতাবস্থায়, উক্ত ভেরিয়েশন কাজের অর্থ ব্যয় চুক্তি ও অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সম্পাদিত হয়েছে। ফলে এ বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদটি বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, প্রকল্পের পরামর্শক অধ্যাপক শামসুল হক অতিরিক্ত ব্যয় ও প্রকিউরমেন্ট-সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব দেননি এবং এ বিষয়ে মন্তব্য এড়িয়ে গেছেন। অথচ প্রকৃত তথ্য হলো—বুয়েটের অধ্যাপক শামসুল হক প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা প্রদান করেছেন এবং BRTC, BUET টিমের Team Leader হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি প্রকিউরমেন্ট বিষয়ে কোনো মতামত প্রদান করেননি। প্রকল্পের ক্রয় কাজ ঋণদাতা সংস্থা JICA-এর Procurement Guideline অনুযায়ী সম্পাদিত হয়েছে। এছাড়া, ৬,৩০০ কোটি টাকার কোনো অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা হয়নি। সর্বশেষ অনুমোদিত ডিপিপি অনুযায়ী প্রকল্পের মোট মূল্য ২১,৩৬৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে অদ্যাবধি প্রকল্পের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ২০,৩৪৭ কোটি টাকা, যা প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয়ের সীমার মধ্যেই রয়েছে। অতএব, ৬,৩০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ এবং বিধিবহির্ভূত ব্যয়ের বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদটি অসত্য, দুরভিসন্ধিমূলক ও মানহানিকর।

গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ হারুন-অর-রশিদ ৬০০টি ভেরিয়েশনকে অবৈধ উল্লেখ করে প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ স্বীকার করেছেন। অথচ প্রকৃত তথ্য হলো—Contract Specialist জনাব হারুন-অর-রশীদের বক্তব্যকে খণ্ডিত ও বিকৃতভাবে সংবাদে উপস্থাপন করা হয়েছে। Dispute Board এর কাজে সিএএবিকে কারিগরি ও আইনগত সহায়তা প্রদানের জন্য BRTC, BUET-কে নিয়োগ করা হয়েছিল। জনাব হারুন-অর-রশীদ BRTC, BUET কর্তৃক নিয়োগকৃত একজন Contract Specialist হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। Dispute Board-এ সিএএবির পক্ষে Referral প্রণয়ন এবং ঠিকাদার কর্তৃক দাখিলকৃত Referral-এর জবাব প্রণয়নের জন্য তিনি BUET-এর একজন সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর বক্তব্য ছিল যে, Dispute Board-এ সিএএবির পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় তিনি FAPAD-এর অডিট আপত্তির সঙ্গে একমত পোষণ করে ADC-এর Referral-এর জবাব প্রদান করেন। অপরদিকে, ঠিকাদার তাঁর পক্ষের বক্তব্য ডিসপুট বোর্ডে উস্থাপন করে। Dispute Board ঠিকাদারের পক্ষে সিদ্ধান্ত প্রদান করে। নথিপত্র পর্যালোচনা করে ডিসপুট বোর্ড সিদ্ধান্ত প্রদান করে যে, প্রকল্পের দি ইঞ্জিনিয়ার কর্তৃক অনুমোদিত সকল ভেরিয়েশন কাজ চুক্তি অনুযায়ী বৈধ। সিএএবির বক্তব্য ঠিকাচুক্তির বিধান অনুযায়ী না হওয়ায় তা Dispute Board কর্তৃক গ্রহণযোগ্য হয়নি। অতএব, জনাব হারুন-অর-রশীদের বক্তব্যকে খণ্ডিত আকারে উপস্থাপন করায় সংবাদটি সঠিক তথ্যভিত্তিক নয়।

গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর গঠিত ডিসপিউট বোর্ড ও অ্যামিকেবল সেটেলমেন্ট কমিটিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং এ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অথচ প্রকৃত তথ্য হলো— প্রকল্পের বিষয়ে ঠিকাদার ADC এবং সিএএবির মধ্যে সৃষ্ট Dispute নিরসনের জন্য গঠিত Dispute Board-এর সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এবং ঠিকাচুক্তি অনুযায়ী Dispute নিরসনের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে Amicable Settlement Committee গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের পূর্বে Prolongation cost, Financial Charge & detention/demurrages cost, maintenance cost, change in local index, Additional VAT by NBR, legal fee, ভেরিয়েশন কাজ প্রভৃতিসহ নির্মাণ কাজের মূল্য বাবদ ঠিকাদারের মূল claim ছিল ১৮,৫৬৩ কোটি টাকা (ট্রাক্স/ভ্যাট ব্যতীত) যা চুক্তি মূল্য ১৫,৫৬৩ কোটি টাকা (ট্রাক্স/ভ্যাট ব্যতীত) হতে প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা বা ২০% বেশী। Claim সমূহ ডিবিতে উপস্থাপিত হলে ঠিকাদারের উক্ত অর্থ প্রাপ্তির সমূহ সম্ভাবনা ছিল। বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় Amicable Settlement Committee ঠিকাদারের সাথে Negotiation করে উক্ত মূল্য কমিয়ে ১৬,২২৫ কোটি টাকায় (ট্রাক্স/ভ্যাট ব্যতীত) নির্ধারনের সুপারিশ করে যা চুক্তি মূল্য ১৫৫৬৩ কোটি টাকা (ট্রাক্স/ভ্যাট ব্যতীত) হতে ৬৬২ কোটি টাকা বা ৪.২৫% বেশী। এর মধ্যে ভেরিয়েশন এবং ঠিকাদারের claim সহ নির্মাণ কাজের মূল্য ১৫,৫৫৮ কোটি টাকা (ট্রাক্স/ভ্যাট ব্যতীত) যা চুক্তি মূল্য ১৫,৫৬৩ কোটি টাকা (ট্রাক্স/ভ্যাট ব্যতীত) হতে ৫ (পাঁচ) কোটি টাকা কম। অবশিষ্ট (১৬,২২৫ – ১৫৫৫৮) = ৬৬৭ কোটি টাকা প্রকল্পে স্থাপিত ইক্যুপমেন্টের ৩০ (ত্রিশ) মাসের maintenance বাবদ ব্যয়ের জন্য নির্ধারনের সুপারিশ করা হয়েছে। চুক্তি মূল্যের অতিরিক্ত ৬৬২ কোটি টাকা সরকারের অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। ফলে Amicable Settlement Committee গঠনের মাধ্যমে প্রকল্পের পূর্বের অর্থ পরিশোধের বৈধতা প্রদান করা হয়নি; বরং সরকারের প্রায় (৩,০০০-৬৬২) = ২,৩৩৮ কোটি টাকা সাশ্রয়ের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রকল্পের বিষয়ে Amicable Settlement Committee-তে অন্তর্ভুক্ত সদস্যগণের কারো বিরুদ্ধেই এ প্রকল্পের অনিয়মের কোন বিষয়ে কোন অভিযোগ পূর্বেও ছিলনা এবং এখনও নেই। কমিটির সদস্যবৃন্দ বর্তমান সরকারের সময়ে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছেন। ফলে প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ অসত্য ও বানোয়াট।

গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই ব্যয় করা অর্থ পরবর্তীতে বৈধতা দিতে বিষয়টি একনেকের অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। অথচ প্রকৃত তথ্য হলো—সংবাদটি সম্পূর্ণরূপে মনগড়া, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া প্রকল্পের কোনো অর্থ ব্যয় করা হয়নি। ফলে পরবর্তীতে একনেকের মাধ্যমে ব্যয়িত অর্থের বৈধতা নেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। বাস্তবে, গত ০৭/১২/২০২৫ তারিখে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত প্রকল্পের ২য় সংশোধিত ডিপিপির মূল্য ২১,৩৬৫ কোটি টাকা যার মধ্যে ভেরিয়েশন কাজ বাবদ ৩২৬৭ কোটি টাকা অন্তর্ভূক্ত আছে। এ পর্যন্ত প্রকল্পের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ২০,৩৪৭ কোটি টাকা। ফলে প্রকল্পের বিপরীতে ব্যয়িত অর্থ অনুমোদিত প্রকল্প ব্যয়ের সীমার মধ্যেই রয়েছে। অতএব, ব্যয়িত অর্থের বৈধতা প্রদানের জন্য একনেকের পরবর্তী অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।

গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান পোস্ট-ফ্যাক্টো অনুমোদনের মাধ্যমে অনিয়মকে বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগকে দুর্নীতির শামিল বলে মন্তব্য করেছেন। অথচ প্রকৃত তথ্য হলো—প্রকল্পের কাজের বিপরীতে ব্যয়িত অর্থ প্রকল্পের সর্বশেষ অনুমোদিত ডিপিপিতে অনুমোদিত প্রকল্প ব্যয়ের সীমার মধ্যেই রয়েছে। প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ব্যতিরেকে কোনো অর্থ ব্যয় করা হয়নি। সুতরাং, প্রকল্পের ব্যয়িত অর্থের জন্য Post-facto বা ঘটনোত্তর অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। অতএব, অনিয়মকে পরবর্তীতে বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এমন বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই।

গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়ম ভেঙে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে এবং তা বৈধতা দিতে কমিটি গঠন ও একনেকের অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অথচ প্রকৃত তথ্য হলো— ঠিকাচুক্তির FIDIC (International Federation of Consulting Engineers) Conditions of Contract ঠিকাচুক্তি অনুযায়ী প্রকল্পের দ্য ইঞ্জিনিয়ার (আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান NOCD JV)-এর প্রত্যয়নের ভিত্তিতে উল্লিখিত অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। সময় মোতাবেক উক্ত অর্থ পরিশোধ না করা হলে চুক্তির বিধান অনুযায়ী ঠিকাদারকে বিপুল পরিমাণ অর্থ জরিমানা হিসেবে প্রদান করতে হতো। উক্ত অর্থ পরিশোধের বৈধতা প্রদানের জন্য Amicable Settlement Committee গঠন করা হয়নি। প্রকল্পের বিষয়ে ঠিকাদার ADC এবং সিএএবির মধ্যে সৃষ্ট Dispute নিরসনের জন্য গঠিত Dispute Board-এর সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এবং ঠিকাচুক্তি অনুযায়ী Dispute নিরসনের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে Amicable Settlement Committee গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের পূর্বে Prolongation cost, Financial Charge & detention/demurrages cost, maintenance cost, change in local index, Additional VAT by NBR, legal fee, ভেরিয়েশন কাজ প্রভৃতিসহ নির্মাণ কাজের মূল্য বাবদ ঠিকাদারের মূল claim ছিল ১৮,৫৬৩ কোটি টাকা (ট্রাক্স/ভ্যাট ব্যতীত) যা চুক্তি মূল্য ১৫,৫৬৩ কোটি টাকা (ট্রাক্স/ভ্যাট ব্যতীত) হতে প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা বা ২০% বেশী। Claim সমূহ ডিবিতে উপস্থাপিত হলে ঠিকাদারের উক্ত অর্থ প্রাপ্তির সমূহ সম্ভাবনা ছিল। বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় Amicable Settlement Committee ঠিকাদারের সাথে Negotiation করে উক্ত মূল্য কমিয়ে ১৬,২২৫ কোটি টাকায় (ট্রাক্স/ভ্যাট ব্যতীত) নির্ধারনের সুপারিশ করে যা চুক্তি মূল্য ১৫৫৬৩ কোটি টাকা (ট্রাক্স/ভ্যাট ব্যতীত) হতে ৬৬২ কোটি টাকা বা ৪.২৫% বেশী। এর মধ্যে ভেরিয়েশন এবং ঠিকাদারের claim সহ নির্মাণ কাজের মূল্য ১৫,৫৫৮ কোটি টাকা (ট্রাক্স/ভ্যাট ব্যতীত) যা চুক্তি মূল্য ১৫,৫৬৩ কোটি টাকা (ট্রাক্স/ভ্যাট ব্যতীত) হতে ৫ (পাঁচ) কোটি টাকা কম। অবশিষ্ট (১৬,২২৫ – ১৫৫৫৮) = ৬৬৭ কোটি টাকা প্রকল্পে স্থাপিত ইক্যুপমেন্টের ৩০ (ত্রিশ) মাসের maintenance বাবদ ব্যয়ের জন্য নির্ধারনের সুপারিশ করা হয়েছে। চুক্তি মূল্যের অতিরিক্ত ৬৬২ কোটি টাকা সরকারের অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। ফলে Amicable Settlement Committee গঠনের মাধ্যমে প্রকল্পের পূর্বের অর্থ পরিশোধের বৈধতা প্রদান করা হয়নি; বরং সরকারের প্রায় (৩,০০০-৬৬২) = ২,৩৩৮ কোটি টাকা সাশ্রয়ের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রকল্পে ব্যয়িত অর্থ সরকারের অনুমোদিত সীমার মধ্যেই রয়েছে এবং ব্যয়িত অর্থের বৈধতা নেওয়ার জন্য একনেকের অনুমোদনেরও কোনো প্রয়োজন নেই। ফলে প্রকাশিত সংবাদটি বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের ব্যয় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা থেকে ধাপে ধাপে বেড়ে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অথচ প্রকৃত তথ্য হলো—প্রকল্পের ১ম ডিপিপির মূল্য ছিল ১৩,৬১০ কোটি টাকা, যা বিগত ২৪/১০/২০১৭ইং তারিখে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হয়। পরবর্তীতে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। আন্তর্জাতিক দরপত্রে প্রাপ্ত সর্বনিম্ন বৈধ দরদাতার উদ্ধৃত দর দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি কর্তৃক যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয় এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি কর্তৃক উহা অনুমোদিত হয়। উক্ত অনুমোদিত দরকে ভিত্তি করে প্রণীত ২১,৩৯৯ কোটি টাকা মূল্যবিশিষ্ট ১ম সংশোধিত ডিপিপি সরকার কর্তৃক ১০/১২/২০১৯ইং তারিখে অনুমোদিত হয়। পরবর্তীতে প্রকল্পের প্রয়োজনীয় ভেরিয়েশন কাজের জন্য ৩,২৬৭ কোটি টাকা এবং কার্য সাইটের বাস্তব প্রয়োজন অনুযায়ী কাজের আইটেম ওয়ারী পরিমানের হ্রাস-বৃদ্ধি বিবেচনা করে মোট ৩৪ কোটি টাকা কমিয়ে ২১,৩৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের ২য় সংশোধিত ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়। যা PIC (Project Implementation Comittee), PSC (Project Steering Committee) ও মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে গত ০৭/১২/২০২৫ইং তারিখে পরিকল্পনা কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত হয়। অতএব, প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি কোনো অনিয়ম বা বিধিবহির্ভূত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়নি; বরং আন্তর্জাতিক দরপত্রে প্রাপ্ত সর্বনিম্ন বৈধ দর, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন এবং পরবর্তীতে ভেরিয়েশন কাজ অন্তর্ভূক্ত করে সংশোধিত ডিপিপির অনুমোদনের মাধ্যমে প্রকল্প ব্যয় নির্ধারিত হয়েছে। সুতরাং, প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি অনুমোদিত প্রক্রিয়ারই অংশ এবং এতে কোনো অনিয়ম হয়নি।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বিশ্বাস করে, দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা জনস্বার্থ রক্ষার অন্যতম পূর্বশর্ত। তাই সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে প্রকৃত তথ্য যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন প্রকাশের অনুরোধ জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বিমানবন্দরকেন্দ্রিক গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার প্রতিরোধে সকলের সচেতন ও দায়িত্বশীল সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে।

Address

Kurmitola
Dhaka
1229

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Thursday 09:00 - 17:00
Sunday 09:00 - 17:00

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Civil Aviation Authority of Bangladesh posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share