23/02/2026
যে সব মুসলিম সংগঠন ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়েছে।
১. প্রাথমিক সশস্ত্র প্রতিরোধ (১৭৫৭ - ১৮৫৭)
ব্রিটিশ শাসনের শুরু থেকেই মুসলমানরা সশস্ত্র সংগ্রামের পথ বেছে নিয়েছিল।
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ (১৭৬০-১৮০০): মজনু শাহর নেতৃত্বে ফকিররা ইংরেজদের বিরুদ্ধে দীর্ঘকাল যুদ্ধ করেন। এটিই ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বাংলার অন্যতম প্রথম প্রতিরোধ।
টিপু সুলতান ও হায়দার আলী: মহীশূরের এই বীর শাসকরা ব্রিটিশদের জন্য সবচেয়ে বড় আতঙ্ক ছিলেন। টিপু সুলতানকে বলা হয় "ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামী", যিনি বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে শহীদ হন।
তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা (১৮৩১): চব্বিশ পরগণায় তিতুমীর ইংরেজ ও তাঁদের অনুগত জমিদারদের বিরুদ্ধে লড়াই গড়ে তোলেন এবং নারিকেলবাড়িয়ায় বিখ্যাত বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন।
ফরায়েজী আন্দোলন: হাজী শরীয়তুল্লাহ এবং পরবর্তীতে তাঁর পুত্র দুদু মিয়া বাংলার কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করে ব্রিটিশদের খাজনা দেওয়া বন্ধ করার ডাক দেন।
২. প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ (১৮৫৭)
১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহে মুসলমানদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত জোরালো।
দিল্লির শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরকে এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ও ভারতের সম্রাট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।
মাওলানা আহমাদুল্লাহ শাহ, জেনারেল বখত খান এবং বেগম হযরত মহলের মতো নেতারা এই যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন।
৩. রাজনৈতিক ও আদর্শিক জাগরণ
সশস্ত্র সংগ্রামের পাশাপাশি মুসলমানরা সাংগঠনিকভাবেও ব্রিটিশদের চাপে রেখেছিল।
সৈয়দ আহমদ বেরলভী ও তরিকাহ-ই-মুহাম্মাদিয়া: উত্তর ভারতে তাঁরা ব্রিটিশ শক্তির বিরুদ্ধে ব্যাপক গণআন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন।
দেওবন্দ আন্দোলন: ১৮৬৬ সালে দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠার অন্যতম মূল লক্ষ্য ছিল ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে ব্রিটিশবিরোধী চেতনা জাগ্রত করা। শায়খুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদ হাসান এই ধারার অন্যতম বিপ্লবী নেতা ছিলেন।
৪. খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন (১৯১৯-১৯২৪)
বিংশ শতাব্দীতে আলী ভ্রাতৃদ্বয় (মাওলানা মোহাম্মদ আলী ও মাওলানা শওকত আলী) এবং আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে খিলাফত আন্দোলন শুরু হয়। এটি মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়ে ব্রিটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল।