21/12/2018
সা’দ কান্ধলভী ইহুদী-খৃষ্টানদের এজেন্ডা:
আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী সাহেব।
বিস্তারিত পড়ুন এবং লিখাটি শেয়ার করার আহবান।
=============================
দেশের প্রখ্যাত আলেম ওয়ায়েজ মাওলানা নূরুল ইসলাম ওলিপুরী বলেছেন, তাবলীগ জামাতের স্বঘোষিত আমীর মাওলানা সা’দ কান্ধলভী ইহুদী ও খৃষ্টানদের চরিত্রে চরিত্রবান। পবিত্র কুরআনুল কারীমের কিছু অংশ স্বীকার করে আর কিছু অংশ অস্বীকার করে সে নিজেকে ইহুদিদের চরিত্রে চরিত্রবান করেছে এবং নিষ্পাপ নবীগণকে গুনাহগার বলে সে নিজেকে খৃষ্টানদের চরিত্রে চরিত্রবান করেছে।
বৃহস্পতিবার (২০ ডিসেম্বর) নেত্রকোণা এস পাঠান এ হোসেন এতিমখানা ও হাফিজিয়া মাদরাসার উদ্যোগে আয়োজিত, জেলা শহরের পূর্ব মঈনপুরে মরহুম হাজী ছদ্দু মিয়ার পুরাতন ইটখলা ময়দানে আছর থেকে শেষরাত পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ইসলামী মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা ওলিপুরী বলেন, আল্লাহ তাআ’লা পবিত্র কুরআনুল কারীমে উল্লেখ করেছেন, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর পাঁচটি দায়িত্ব অর্পন করেছিলেন। সেগুলো হলো- ১. দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ করা। ২. মানুষকে কুরআনুল কারীমের আয়াত তেলাওয়াত করে শুনানো। ৩. মানুষকে কুরআনুল কারীম শিক্ষা দেওয়া। ৪. মানুষকে হিকমাহ্ তথা পবিত্র কুরআনুল কারীমের ব্যখ্যা অর্থাৎ হাদীস শিক্ষা দেওয়া। ৫. মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করা।
এটা হলো কুরআনের কথা কিন্তু ভ্রান্ত ও মস্তিষ্ক বিকৃত মাওলানা সা’দ বলে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাজ একটাই ছিলো আর সেটা হচ্ছে দাওয়াত ও তাবলীগ। অথচ কুরআনুল কারীমে উল্লেখ রয়েছে পাঁচটি।এভাবে কুরআনুল কারীমের কিছু অংশ স্বীকার করে আর কিছু অংশ অস্বীকার করে সা’দ নিজেকে ইহুদিদের চরিত্রে চরিত্রবান করেছে এবং তাদের আকিদা পোষনকারী হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।
মুনাজিরে আযম ওলিপুরী আরো বলেন, এদেশে খৃষ্টধর্মের প্রচার প্রসারের জন্য খৃষ্টান মিশনারী সংগঠন গুলো খুব তৎপর ছিলো এবং আছে। তারা বিভিন্ন বই পুস্তক ছেপে সরলমনা মুসলমানদের ঈমান আকিদা নষ্ট করার অপ প্রয়াস চালাচ্ছে। আমি তাদের একটি বই পড়েছি যেটার নাম দেওয়া হয়েছে ‘কুরআনের আলোকে বেহেশতে যাওয়ার পথ’। তাদের এ নামটির মধ্যেই মারাত্মক ধোঁকাবাজী রয়েছে কেননা সাধারণ মুসলমানগণ বইটির নাম দেখে স্বাভাবিকভাবেই মনে করবেন যে, নিশ্চই এটা কোন আলেমের লিখিত বই সুতরাং পড়তে অসুবিধা নেই। অথচ সরলমনা মুসলমানদের ঈমান আকিদা নষ্ট করে খৃষ্টান বানানোর ঘৃন্য ষড়যন্ত্রে খৃষ্টানরা বইটি ছাপিয়েছে।
আর এ বইটিতে তারা লেখেছে, আদম আলাইহিস সালাম পাপিষ্ট কারন তিনি জান্নাতে নিষিদ্ধ ফল ভক্ষন করেছিলেন।
আর আদম আলাইহিস সালামের বংশ থেকে যত নবী দুনিয়াতে আসছেন সকলেই জন্মগতভাবে পাপিষ্ঠ। আর নিষ্পাপ ও পবিত্র হলেন একমাত্র আল্লাহর পুত্র ঈসা আলাইহিস সালাম। কারন ঈসা আলাইহিস সালাম আদমের বংশধর নয় বরং আল্লাহর ঔরস থেকে সৃষ্টি (নাঊযুবিল্লাহ)। এতে বুঝা গেল খৃষ্টানরা একমাত্র ঈসা আলাইহিস সালাম ছাড়া অন্য সকল নবীগণকে পাপিষ্ঠ তথা গুনাহগার মনে করে।
ঠিক একইভাবে ভ্রান্ত ও মস্তিষ্ক বিকৃত মাওলানা সা’দও নবীগণকে গুনাহগার মনে করে। সে বলে, হযরত মূসা আলাইহিস সালাম, হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালাম, হযরত ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম, হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম প্রমুখ নবীগণকে আল্লাহর দরবারে জঘন্য অপরাধ করার কারনে শাস্তি ভোগ করতে হয়েছে।
এমনকি আমাদের নবী হযরত মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকেও ছাড়েনি তিনি। তিনি বলছেন, আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমস্ত বিবিদের ওলিমা খেজুর দিয়ে আর হযরত যয়নব (রাঃ) এর ওলিমা গোস্ত রুটি দিয়ে করে তারতীবের খেলাফ করেছে। এভাবে নিষ্পাপ নবীগণকে গুনাহগার বলে সা’দ নিজেকে খৃষ্টানদের চরিত্রে চরিত্রবান করেছে এবং তাদের আকিদা পোষনকারী হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, এদেশে সা’দের অন্ধ ভক্তরা গত ১ ডিসেম্বর টঙ্গী ইজতেমার মাঠে অসংখ্য আলেম উলামা, মাদরাসার ছাত্র ও সাধারণ তাবলীগি ভাইদের ওপর নৃশংস ও বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে নিজেদেরকে সা’দের গুন্ডা বাহিনী হিসেবে পরিচিত করেছে। শুধু তাই নয়, এই অন্ধ সা’দ ভক্তরা প্রথমে বলতো, আমাদের আমীর কুরআন হাদীসের বিপরীত মনগড়া কোন বয়ান করেনি। পরে যখন দেখলো কুরআন বিরোধী ও মনগড়া বয়ানের ক্যাসেট দারুল উলুম দেওবন্দে মওজুদ আছে তখন বলা শুরু করলো, আমাদের আমীর রুজু করেছে। এভাবে নিজেদের বক্তব্যেই নিজেরা মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হলো। প্রথম বলেছিলো মনগড়া বয়ান করেনি আর পরে বললো রুজু করেছে। এখন প্রশ্ন হলো মনগড়া বয়ান না করলে রুজু করলো কেন? আসলে সে প্রকৃত অর্থে রুজুও করেনি। সুতরাং এটা স্পষ্ট হয়ে গেলো যে, সা’দ পন্থীরা মিথ্যাবাদী।
পরিশেষে তিনি উপস্থিত অগণিত তৌহিদী জনতাকে মিথ্যাবাদী ও গুন্ডাবাহিনী সা’দ পন্থীদের কোন কথায় বিভ্রান্ত না হয়ে হক্কানী উলামাদের দিক নির্দেশনা অনুযায়ী দাওয়াত ও তাবলীগের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করার আহ্বান জানান।