18/10/2021
বাঙালী পুরুষেরা ধরেই নেয় ডিভোর্সী নারীদের মধ্যে অবশ্যই সমস্যা আছে। মেয়েটা নিশ্চই সাঙ্ঘাতিক বাজে মেয়ে। বিধবা মেয়েটিও প্রায় একই দোষের মোহর পায় সমাজ থেকে। এই মেয়ে অলক্ষ্মী তাই স্বামী মরেছে!
বিশেষ করে এই মেয়েরা যখন বাড়িভাড়া নিতে যায় , তখন বেশীর ভাগ বাড়িওয়ালার ধারণা হয়, এই মেয়ে নিশ্চই ভাল না, তার চারিত্রিক ত্রুটি আছে, তাই একে বাড়ি ভাড়া দেয়া মানে বিপদ!
একটা ডিভোর্সি মেয়েকে পদে পদে কত কিছুই যে দেখতে হয়/কত নোংরা উক্তি,নোংরা ইংগিত দেখতে হয়।যেন সব দোষ তারই।
পুরুষ সমাজ তাদের নিজেদের সম্পত্তি মনে করে।যেন সে মানুষ না শুধু একটা শরীর,মাংস পিন্ড।একটা ডিভোর্সি মেয়ে একটু সাজলে /হাসিখুশি থাকলে আশেপাশের সবাই বাকা চোখে তাকায়।কেউ কেউ বলে ফেলে,নতুন কেউ জুটলো কিনা,এত খুশি কেন?বিয়ে করছনা কেন?
প্রাক্তন স্বামীর যতই সমস্যা থাকুক , আত্মীয় স্বজন বেশ কানাঘুষা করে , ইনিয়ে বিনিয়ে বলতেই চায় , ছেলেটা না হয় একটু আধটু মারত, না হয় অল্পস্বল্প পর নারী আসক্ত ছিল , একটু না হয় মিথ্যাটিথ্যা বলছে তাতে হইছে টা কি! বৌ কে তো আর কম ভালবাসত না ! মানিয়ে নিলেই হত !
মেয়ে বিধবা হলে, তার হাসি তেও লোকে ভ্রু কুঁচকায়! বলে , কদিন হল স্বামী মরেছে এখন এত হাসি কি করে বের হয় !
সব চেয়ে খারাপ অবস্থা হয় মেয়েটার পুরুষ কলিগ কিংবা নব্য বন্ধুদের নিয়ে । এরা হঠাৎ প্রেমিক হয়ে ওঠে। ইনিয়ে বিনিয়ে মেয়েটাকে সান্ত্বনা দেবার নামে সুযোগ সন্ধানী হয়ে যায়। বোকা মেয়ে ফাঁদে পা দিলেই হল, বেঁচে থাকার জন্য মেয়েটার শেষ সম্বল তার আত্মসম্মানটুকু এরা আঁচড়ে কামড়ে নিয়ে যায়।
অথচ এই মেয়েটা তিক্ততায় বাঁচতে চায় নি, ধুঁকে ধুঁকে মরতে চায় নি। খুব সামান্য চাওয়া তার। একটু বেঁচে থাকা, কষ্ট করে সম্মান নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করা । কারো করুণা না , শুধুই একটু ভালবাসা, একটু আস্থা, আর সবার প্রেরণাই তার চাওয়া। এই মেয়ে যে শুধু মাংসের টুকরা না , বরং বিয়ের আগে সে যেমন ছিল এখনও সেই একই মেয়েই আছে, সে কথা সমাজ ভুলে যায় ।
কি অদ্ভুত এই সমাজ !!!!🌿
✍🏿✍🏿তারেক---