23/04/2025
গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের বিবৃতি
ফিলিস্তিনে গণহত্যাসহ সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন এবং যুদ্ধের বিরুদ্ধে
বিশ্ব শ্রমিক শ্রেণী, নিপীড়িত জাতি-জনগণের ঐক্য ও প্রতিরোধ সংগ্রাম গড়ে তুলুন
ফিলিস্তিনে গণহত্যাসহ বিশ^ব্যাপী সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও যুদ্ধ বিস্তৃতিতে বাংলাদেশের পোশাক খাতে ক্রিয়াশীল ১০টি গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠনের জোট গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলন গণহত্যায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে যুদ্ধ-আগ্রাসনের শংকায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে এক বিবৃতি প্রদান করেছে। অধিকার আন্দোলনের শরীক সংগঠন গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরাম, বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন বাংলাদেশ ওএসকে গার্মেন্টস এন্ড টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশন, গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন, গার্মেন্টস-টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশন, বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি, বাংলাদেশের সোয়েটার গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, গার্মেন্টস শ্রমিক সভা এবং গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ যৌথভাবে বিবৃতিটি প্রদান করেন।
বিশ্ব অর্থনীতিতে ২০০৮ সাল থেকে সূচিত চলমান মন্দা বিভিন্ন আঁকাবাঁকা গতি সত্ত্বেও মহামন্দার দিকে ধাবিত হচ্ছে। এ মন্দা থেকে উত্তরণ ঘটাতে বাজার-প্রভাব-বলয় দখল, পুনর্দখল ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর মধ্যে আন্ত: সাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে উঠছে। উচ্চ প্রযুক্তি শিল্পে আধিপত্য প্রতিষ্ঠাসহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার একক পরাশক্তির অবস্থান ধরে রাখতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ স্লোগানকে সামনে এনেছে। তার প্রতিপক্ষ সাম্রাজ্যবাদী শক্তি চীন-রাশিয়াকে মোকাবেলাসহ উচ্চ প্রযুক্তি শিল্পের জন্য অতি প্রয়োজনীয় ‘দুস্প্রাপ্য বস্তুর (রেয়ার আর্থ ম্যাটারিয়ালস)’ যোগান নিশ্চিত করতে গাল্ফ অব মেক্সিকান, পানামা খাল এবং গ্রীণল্যান্ড দখলের পাঁয়তারা করছে। একই সাথে প্রতিপক্ষ শক্তির মোকাবেলা করতে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকাতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাসহ ভূমধ্যসাগর, ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরে উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন সামরিক শক্তি মোতায়েন করছে। এর বিরুদ্ধে বৃহৎ সাম্রাজ্যবাদী শক্তি চীন তাইওয়ান প্রণালীতে যুদ্ধমহড়া সংঘটিত করাসহ এশিয়া-মধ্যপ্রাচ্য-মধ্য এশিয়া-আফ্রিকা এবং ইউরোপব্যাপী তার বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়াটিভ (বিআরআই) মহাপ্রকল্প সম্প্রসারিত করছে। এরকম অবস্থায় বাণিজ্যযুদ্ধ সংঘটিত করার মধ্য দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীনসহ বিশে^র বিভিন্ন দেশের রপ্তানিমুখী পণ্যের উপর উচ্চহারে শুল্ক চাপিয়ে দিচ্ছে। অত্যধিক শুল্কের কারণে ব্যাপকহারে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির সাথে সাথে বিশ^ব্যাপী শ্রমিক শ্রেণীর উপর ছাঁটাই-বেকারত্ব বৃদ্ধি পাবে। পোশাক শিল্পের মালিক ও বায়ার গোষ্ঠী তাদের মুনাফার হার ঠিক রাখতে শ্রমিক শ্রেণীর উপর শোষণ-নির্যাতন আরও তীব্র করবে। এতে শ্রমিকদের জীবনমান আরও নিচে নেমে তাদের জীবন সংগ্রামকে আরও কঠিন করে তুলবে।
বিংশ শতাব্দীতে সাম্রাজ্যবাদের গোড়াপত্তনের পর ইতোপূর্বে দুটি মহামন্দার পরিণতিতে বিশ্ব অর্থনীতিতে সাধারণ সংকট ও বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়। দুটো বিশ^যুদ্ধের বিরুদ্ধে তৎকালীন বিশ^ শ্রমিক শ্রেণী প্রতিরোধ সংগ্রাম গড়ে তুলে শ্রমিক শ্রেণীর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে। বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধের প্রাক্কালে ফ্যাসিবাদ ও নাৎসীবাদের বিরুদ্ধে বিখ্যাত দিমিত্রভ থিসিসের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিশ^ শ্রমিক শ্রেণী ও নিপীড়িত জাতি-জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ সংগ্রাম গড়ে তোলার আহবান জানানো হয়। এর মধ্য দিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বে জনগণতান্ত্রিক সংগ্রাম গড়ে উঠে এবং শ্রমিক শ্রেণীর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়। বর্তমানে প্যালেস্টাইন-ইউক্রেনে গণহত্যা ও আগ্রাসনের ধারবাহিকতায় যুদ্ধবিস্তৃতির যে শংকা তৈরি হয়েছে তার বিরুদ্ধে বিশ^ শ্রমিক শ্রেনীর ঐক্য গড়ে তোলার বিকল্প নেই। শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বের দূর্বলতায় ফিলিস্তিনে গণহত্যার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হলেও অনেক দেশে তাতে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ঘটেছে। এর ফলে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিসমূহের তাদের গণহত্যা ও আগ্রাসন আরও তীব্র করার সুযোগ তৈরি হয়।
বাংলাদেশের পোশাক সেক্টর আন্তর্জাতিকভাবে বিস্তৃত। বিদেশী লগ্নিপুঁজি এ খাতে মূল বিনিয়োগকারী শক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখায় এ শিল্পের শ্রমিকদের আন্দোলন লগ্নিপুঁজির ভিত নাড়িয়ে তুলতে সক্ষম। এ খাতের ক্রিয়াশীল সংগঠন হিসেবে গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলন ফিলিস্তিনে গণহত্যার প্রেক্ষিতে আমেরিকা-ইসরায়েল-ফিলিস্তিনসহ বিশ^ শ্রমিক শ্রেণীর ঐক্যের আহবান জানাচ্ছে। একই সাথে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও গণহত্যার বিরুদ্ধে বিশ^ শ্রমিক শ্রেণী, নিপীড়িত জাতি-জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ সংগ্রাম গড়ে তোলার আহবান জানাচ্ছে।