18/09/2026
ভাষার অভিশাপ (The Curse of Language) — রাষ্ট্র কীভাবে ভাষাকে অস্ত্র বানায়
পর্ব ৩: ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের দাবি ও ১৯৪৮-এর প্রথম প্রতিরোধ।
পূর্ববর্তী পর্বে আমরা দেখেছি — কীভাবে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মতামত ছাড়াই উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ আসে একজন সংসদ সদস্যের কণ্ঠে।
১৯৪৮ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি, পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশনে সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত একটি সাহসী প্রস্তাব উপস্থাপন করেন — উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের কার্যকরী ভাষা হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হোক।
প্রস্তাবটি অগ্রাহ্য হয়। একজন সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধির যুক্তিসম্পন্ন দাবিও গণপরিষদে গুরুত্ব পায়নি।
এই প্রত্যাখ্যানের প্রতিক্রিয়ায় ২৬শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ধর্মঘট পালিত হয় — যা ছিল ভাষার প্রশ্নে জনগণের প্রথম সংগঠিত প্রতিক্রিয়া। এর কিছুদিন পরই, ২রা মার্চ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গঠিত হয় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ — একটি সংগঠিত মঞ্চ, যা ভাষার প্রশ্নকে আন্দোলনে রূপ দেওয়ার কাঠামো তৈরি করে।
১১ই মার্চ ডাকা হয় সাধারণ ধর্মঘট, এবং এই দিনটিকে ঘোষণা করা হয় "বাংলা ভাষা দাবি দিবস" হিসেবে। এই কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তানের মুসলিম ছাত্রলীগ।
রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া আসে দমনের মাধ্যমে — ধর্মঘট পালনের কারণে শেখ মুজিব, শামসুল হক, অলি আহাদসহ ৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ঢাকায় ১৩ থেকে ১৫ই মার্চ পর্যন্ত ফের ধর্মঘট পালিত হয়।
একটি প্যাটার্ন এখানেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে — যৌক্তিক দাবি, প্রত্যাখ্যান, প্রতিরোধ, এবং দমন। এই চক্রই পরবর্তী দুই দশকে বারবার পুনরাবৃত্তি হবে।
পরের পর্বে: জিন্নাহর ঢাকা সফর ও তাঁর বিতর্কিত ঘোষণা।
পরের পর্ব: পর্ব ৪ — জিন্নাহর ঢাকা ঘোষণা ও ছাত্র প্রতিবাদ
Think, Question, Understand. সত্য জানুন, সচেতন থাকুন l