02/11/2016
গল্পের নাম: চাঁদের আলো
লেখক # Mahedi_hasan
>>>> রাত ৮.১০ "সৈকত টিউশনি শেষ করে ছাত্রের বাসা থেকে এই মাত্র বেড়িয়েছে,, এখন সে বাসায় যাবে,এখান থেকে তার বাসা কিছুটা দূরে,আগে সে যেতো ইজিবাইকে করে কিন্তু কিছুদিন ধরে শুধু আসার সময়ই ইজিবাইকে আশে আর যাওয়ার সময় যায় পায়ে হেটে, তার এই হেটে যাওয়ার কিন্তু একটা অদ্ভুত কারন আছে,,,,,""
রাত ৮.২০,,
হাটতে হাটতে সৈকত চলে এসেছে বাসার সামনে, না এটা তার বাসা না, এটা তার ভালোবাসার মানুষের বাসা,,,, বাসার সামনে দাঁড়িয়ে সৈকত লিমাকে কল দিলো,২ বার ফোন দিলো কিন্তু তা রিসিভ করলো না লিমা,, সৈকতের মনের ভিতর ভয় কাজ করছে তাহলে কি কোন কারনে লিমা তার উপর রাগ করেছে,,? রাগ না হলে তো লিমা কখনো তার ফোন না ধরা হয় না,,ভাবতে ভাবতে সৈকত আবার লিমাকে কল দিলো এবার লিমা ধরলো,,,,,,
~লিমা- ()
~সৈকত- কি ব্যাপার চুপ করে আছো কেনো,,,,""?
~ ()
~এই লিমা কথা বলো না কেনো,,? আমি কি করছি,,? আচ্ছা যদি কিছু করে ও থাকি তাহলে ভুল করছি প্লিজ মাফ করে দাও,,,,,,কথাটা বলতে বলতেই বুঝতে পারলো সৈকত যে ফোনের লাইন কেটে গেছে,তার পর সে আবার কল দিলো লিমাকে কিন্তু এবার তার নাম্বার বন্ধ, ভয়ে দম প্রায় বন্ধ হয়ে আসছে সৈকতের,তার ধারনা সে আজ ও কোন ভুল করেছে লিমার সাথে আর সে ভুল করলে লিমা তাকে এই রকম ভাবে শাস্তি দেই কথা বলা আর দেখা করা বন্ধ করে দিয়ে যদি ও লিমা এতে নিজে ও কস্ট পায় সৈকতের সমান,,,,""
সৈকত বাবা মায়ের আদরের একমাত্র সন্তান তার বাবা ব্যাংকার,আর লিমা ও বাবা মায়ের আদরের একমাত্র মেয়ে লিমার বাবা ডাক্তার,,,,সৈকত আর লিমা সেই ছোট থেকে খুব ভালো বন্ধু ছিলো, এক সাথে দুজনে পড়েছে এক স্কুলে আর এখন দুজন এক সাথে পড়ছে এক কলেজে ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে,সৈকত আর লিমা দুজনের বোঝা পরাটা দারুণ সেই ছোট থেকে তাই তো তারা তাদের বন্ধুক্তকে রূপ দিয়েছে ভালোবাসার সম্পর্কে, এখন দুজন দুজনকে ভালোবাসে তাদের নিজের থেকে ও বেশি,,আর সৈকত যে টিউশনিটা করে সেটা টাকার প্রযোজনে না,এক এক্সিডেন্টে ওই ছেলেটার বাবা মা মারা গেছে তার পর থেকে ছেলেটা তার মামার কাছে মামার বাসায় থাকে,আর ওই ছেলেটার সন্ধান প্রথম পেয়েছিলো লিমা তার পর থেকে ছেলেটার লেখাপড়া আর খাওয়া দাওয়ার সব দায়িত্ব নেই সৈকত আর লিমা, তারা তাদের হাত খরচের টাকা বাঁচিয়ে দুজনে তা তুলে দেই ছেলেটার মামার হাতে,আর প্রতিদিন সৈকত নিজে যেয়ে তাকে পড়িয়ে আশে,,,,""
রাত ৯.০৫
সৈকত এখনো বসে আছে লিমার বাসার ঠিক সামনা সামনি একটা বন্ধ চায়ের দোকানের বেঞ্চে,সৈকত যেখানে বসে আছে তার সামনের বাড়ির ২য় তলায় থাকে লিমারা,আর সৈকতের এখান থেকে স্পট দেখা যায় লিমাদের বারান্দায় কেউ আসলো কিনা,,,, সৈকতের বসে থাকা জায়গাটা বেশ অন্ধকার আর নীরব তবুও সৈকত বসে আছে তার মতো করে আর তার এইখানে এইরকম বসে থাকার অভ্যাস ও আছে কারন মাঝে মাঝে সৈকত এখানে বসে চাঁদ দেখে মানে লিমাকে দেখে তার কাছে নাকি লিমার মুখ ঠিক চাঁদের মতো যা অন্ধকারে ও চারিদিক আলোকিত করে রাখে,,,,লিমার মোবাইল বন্ধ দেখে একভাবে তাকে ম্যাসেজ দিয়ে যাচ্ছে সৈকত,আর ভেবে খোজার চেস্টা করছে যে সে কোন অপরাধ করেছে কিনা,,,,, ""
রাত ১০.১০
মশার কামর সহ্য করে এখনো সেই বেঞ্চেই বসে আছে সৈকত, কিছুটা ঘুম ঘুম ভাব তাকে ঘিরে ধরার চেস্টা করে যাচ্ছে, সৈকতের সেই ঘুম ঘুম ভাব উধাও হতে সময় নিলো না হঠাৎ করেই সে দেখতে পেলো তার সেই তাকিয়া থাকা বারান্দায় চাঁদের আলো মানে লিমাকে দেখতে পেয়ে,,এর সাথে সাথেই সৈকতের কাছে কল আসলো লিমার নাম্বার থেকে,, সৈকত রিসিভ করলো,,
~ সৈকত- ()
~ লিমা - কথা বলো না কেনো,,?
~ সরি,,,, ""
~ সরি কেনো,,?
~ আমি আবার মনে হয় কোন ভুল করছি তাই তুমি আমার শাস্তি দিলে,,,,""
~না সরি তো বলা উচিৎ আমার,,
~কেনো,,,,""
~আসলে তুমি কোন ভুল করনি,,আমাদের বাসায় মেহমান আসছিলো আর তখন তাদের সামনে কথা বলা যাবে না দেখে আমি ফোন বন্ধ করে রাখছিলাম,,
~ওহ তাই বলো,,,,""
~হুম,আর তুমি পাগলের মতো সেই তখন থেকে কতো কস্ট করে এখনো বসে আছো,,
~এতক্ষনের সব কস্ট আমার পাগলীটার চাঁদের মতো মুখ দেখে হারিয়ে পালিয়েছে,,,,""
~ঘোড়ার ডিম,,
~সত্যিই অন্ধকারের ভিতর ও তোমার মুখের হাঁসিটা অসম্ভব রকমের সুন্দর লাগছে,,,,""
~তুমি তো তাহলে অনেকক্ষন ধরে কিছুই খাওনি সৈকত,,?
~খাইছি তো,,,,""
~কি,,?
~মশার কামর,,,,""
~তুমি এখনই বাসায় যাবা,, যাও,,
~হুম,,,,""
এই ভাবে চলে থাকে তাদের দুজনের ভালোবাসা,পুর্ণতা পাক তাদের এই সত্যিকারের ভালোবাসার,বেঁচে থাকুক তাদের সাথে, তাদের কাছে, তাদেরকে ঘিরে এই গভীর ভালোবাসা,প্রতিট
ি ভালোবাসায় মান অভিমানের সাথে যেনো থাকে খুব বেশি বিশ্বাস,,,,,""