26/08/2026
🇳🇵 নেপালের জন্য আজ মনটা সত্যিই খুব খারাপ…
২৬ আগস্ট ২০২৬-এর সকাল।
চীন-নেপাল সীমান্তের কাছে নেপালের রাসুয়া জেলায় হঠাৎ করে নেমে আসে এক ভয়াবহ flash flood। ভোতে কোশি (Bhote Koshi) নদীতে অস্বাভাবিক গতিতে পানির স্রোত নেমে এসে মুহূর্তের মধ্যে নদীর দুই পাড়ের বসতি, বাজার, রাস্তা, সেতু, নিরাপত্তা স্থাপনা এবং বিভিন্ন অবকাঠামো ধ্বংস করে দেয়।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে Timure, Syabrubesi এবং Rasuwagadhi এলাকা। এরপর সেই পানির স্রোত ভোতে কোশি ও ত্রিশুলি নদী ধরে নিচের দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং Nuwakot, Dhading, Chitwan-সহ আরও কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। নদীর তীরবর্তী বহু বসতি ও সেতু পানির তোড়ে ভেসে গেছে।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো—মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৭২-এ পৌঁছেছে। নেপালের National Disaster Risk Reduction and Management Authority (NDRRMA)-এর হিসাব অনুযায়ী সাতটি জেলায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে এবং যোগাযোগব্যবস্থা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পুরো পরিস্থিতি এখনও স্পষ্ট নয়।
💔 নিখোঁজ শত শত মানুষ
এই বিপর্যয়ের আরেকটি বড় উদ্বেগের বিষয় হলো বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনও নিখোঁজ বা যোগাযোগবিচ্ছিন্ন।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী ৩৮৪ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাঁদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি। অনেকেই Gosainkunda ও Kailash Mansarovar ভ্রমণের পথে ছিলেন। তালিকাটি বিভিন্ন travel agency ও trekking company-এর তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এবং এখনো যাচাই করা হচ্ছে—তাই সংখ্যাটি পরিবর্তিত হতে পারে।
বিদেশি নিখোঁজদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন রিপোর্টে ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিকের কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের নিখোঁজের খবর এসেছে।
তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—“missing” মানেই সবাই মারা গেছেন এমন নয়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক, বিদ্যুৎ ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই কর্তৃপক্ষ তালিকাগুলো যাচাই করছে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
🏗️ ৬০ জন Hydropower কর্মীও যোগাযোগবিচ্ছিন্ন
আরেকটি খবর বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।
রাসুয়ার ২০ মেগাওয়াট Langtang Khola Hydropower Project-এ কর্মরত প্রায় ৬০ জন কর্মী, যাদের মধ্যে প্রকৌশলীও রয়েছেন, বন্যার পর থেকে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন। তাঁদের একটি অংশ প্রকল্পের টানেলের ভেতরে concrete lining-এর কাজ করছিলেন। প্রকল্পটির অবকাঠামোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া Timure-এর customs office-এর ১৫ জন কর্মী এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও নিখোঁজ রয়েছেন বলে নেপালি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
🌊 কিন্তু এই হড়কা বান এলো কোথা থেকে?
এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
প্রথমে অনেকেই এটিকে সাধারণ অতিবৃষ্টিজনিত flash flood মনে করলেও বর্তমান তথ্য বলছে, এটি সাধারণ বৃষ্টির বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা কম। নেপালের Department of Hydrology and Meteorology-এর তথ্য অনুযায়ী ঘটনার আগে রাসুয়া এলাকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি।
প্রাথমিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, Lhende নদীতে একটি ice avalanche বা বরফ-শিলার বিশাল ধস নেমে নদীর প্রবাহ আটকে দিতে পারে। এরপর সেই প্রাকৃতিক বাধার পেছনে পানি জমে হঠাৎ বাধা ভেঙে গেলে বিপুল পরিমাণ পানি, কাদা, পাথর ও debris প্রচণ্ড গতিতে নিচের দিকে নেমে আসে—যা তৈরি করে এই বিধ্বংসী flash flood।
ঘটনার প্রায় একই সময়ে তিব্বত অঞ্চলে ৪.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্পও রেকর্ড হয়েছে। সেটি avalanche বা landslide-এর সূত্রপাত ঘটিয়েছিল কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে একটি glacial lake outburst-এর সম্ভাবনাও পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি। অর্থাৎ, বন্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত নয়।
🇨🇳 সীমান্তের ওপারেও বিপর্যয়
এই দুর্যোগ শুধু নেপালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তিব্বতের Gyirong এলাকাতেও ভূমিধস ও বন্যায় রাস্তা, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ border infrastructure-ও ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং চীনা কর্তৃপক্ষও উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করেছে।
🚁 চলছে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান
নেপাল Army, Nepal Police, Armed Police Force এবং disaster-response teams উদ্ধারকাজে নেমেছে। নেপালি সেনা ও বেসরকারি সংস্থার মিলিয়ে একাধিক helicopter search, rescue ও medical evacuation-এ ব্যবহার করা হচ্ছে। সর্বশেষ এক আপডেট অনুযায়ী ৮৮ জনকে helicopter-এর মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়েছে, এবং উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে।
তবে পাহাড়ি ভূখণ্ড, কাদামাটি, ধ্বংস হয়ে যাওয়া রাস্তা ও সেতু, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং খারাপ আবহাওয়া উদ্ধারকাজকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলছে।
⚠️ যারা এখন নেপালে আছেন
এই মুহূর্তে Langtang, Gosainkunda, Rasuwa, Syabrubesi বা Kailash Mansarovar route-এর আশেপাশে যারা ভ্রমণ করছেন, তাঁদের প্রতি অনুরোধ—
নদীর তীর থেকে দূরে থাকুন। নিচু এলাকায় অবস্থান করবেন না। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর নির্দেশনা অনুসরণ করুন। অপ্রয়োজনীয়ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাত্রা করবেন না।
বিশেষ করে Bhote Koshi → Trishuli নদী corridor-এর আশেপাশের এলাকায় সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি। নেপালি কর্তৃপক্ষও নদীর তীরবর্তী মানুষ ও পর্যটকদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে এবং প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ না করতে সতর্ক করেছে।
আজ শুধু একটা প্রার্থনা—
নেপালের মানুষ, স্থানীয় বাসিন্দা, শেরপা, গাইড, শ্রমিক এবং নিখোঁজ প্রতিটি পর্যটক যেন নিরাপদে ফিরে আসেন। 🙏🇳🇵