01/10/2026
শৈশবে আমরা যখন গ্রামে থাকতাম, সকালের ঘুম ভাঙতো পাখির কিচিরমিচির শব্দে। বিকেলে মুখরিত হতো চারপাশ পাখিদের কলকাকলিতে। প্রকৃতির প্রতি ছিল এক নিদারুণ ভালোবাসা!! মনে হতো, পাখি আর প্রকৃতি যেন মায়েরই মতো।
পাখিদের ছিল না কোনো খাবারের অভাব। ফুল-ফলের গাছ, ফসলের মাঠ, পোকামাকড়—সবই ছিল। ছিল পুকুর, খাল-বিল, নদী-নালা। পাখিদের খাবার, পানি, আশ্রয়—সবই দিয়েছে প্রকৃতি।
কিন্তু এখনকার ইট-পাথরের নগরী ঢাকার চিত্রটা একেবারেই ভিন্ন। বদলেছে সময়। রূপ বদলেছে প্রকৃতি। চারদিকে এখন শুধু কংক্রিটের বিল্ডিং আর কৃত্রিমতা। গাছপালা কমে গেছে। হারিয়ে গেছে খাল-বিল, জলাশয়। সংকট বাড়ছে দিনে দিনে পাখিদের খাবার, পানি আর নিরাপদ আশ্রয়ের।
একদিন অফিসে ঘুরতে ঘুরতে ছাদ দেখতে উঠলাম। হঠাৎ মনে হলো, ছাদটাকে যদি পাখিদের জন্য একটু নিরাপদ করে তোলা যায়, তাহলে কেমন হয়!! সেই ভাবনা থেকেই মূলত ‘আকাশ নীড়’-এর যাত্রা শুরু।
আকাশ নীড়ে পাখিরা এখন আসে, বসে, ডানা ভেজায়, খাবার খায়। আসে কাঠবিড়ালি, বানর, বেজি। বাস করে খরগোশ।
ভালো লাগে, যখন দেখি, কেউ এসে পাখিদের খাবার দেয়, পানি দেয়, খরগোশের সাথে খুনসুটি করে, ছাদে গাছ লাগানোর কথা ভাবে।
অর্থাৎ ‘আকাশ নীড়’ ছোট্ট একটা ভাবনা থেকে ধীরে ধীরে এখন বিশালতায় রূপ নিতে চলেছে।
আমার কাছে ‘আকাশ নীড়’ কেবলমাত্র ছাদে পাখির খাবার ও পানির ব্যবস্থা নয়। বরং প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য একটা ছোট্ট বার্তা—আমাদের একটু উদ্যোগ, একটু সৃজনশীলতা,একটু যত্ন আর ভালোবাসার ছোঁয়ায় আবারও ফিরিয়ে আনা সম্ভব চিরচেনা প্রকৃতির সেই অনাবিল সৌন্দর্য
আমরা চাই, ঢাকার প্রতিটি ছাদ যেন কোনো না কোনোভাবে হয়ে উঠুক প্রকৃতির বন্ধু। পাখির কিচিরমিচির শব্দ হয়ে উঠুক, ইট পাথরে গড়া এক ব্যস্ত শহরের স্নিগ্ধ ঘুম ভাঙা সকাল। প্রকৃতির সঙ্গে হোক হৃদয়ের মিতালি।
ফরিদা খানম, জেলা প্রশাসক, ঢাকা