15/05/2018
দু’জনই শিক্ষক। একজন স্কুলে পড়ান, একজন মাদ্রাসায়। একজনের নাম শ্যামল কান্তি ধর, অন্যজনের নাম মাওলানা আবু হানিফা।
শ্যামল কান্তি ধরকে যখন ‘কানে ধরানো’ হলো, তখন বাংলার আকাশ-বাতাস বিদ্রোহ করে উঠেছিলো। বাংলার সেক্যুলার, বাম-রাম সকলে মিলে আহাজারি শুরু করেছিলো। ঘটনার প্রতিবাদস্বরূপ ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ কবিতার লাইন কোট করা থেকে শুরু করে একেবারে নিজেদের ‘কানে ধরা’ ছবি ফেইসবুক-টুইটারে ভাইরাল করেছিলো আমাদের মানবতাবাদী সমাজ। হলুদ মিশ্রিত পত্রিকাগুলো প্রতি পাঁচ মিনিটে একটা করে সংবাদ কাভার করে ঘটনাকে একেবারে ‘টক অব দ্য টাউন’ করে ছেড়েছিলো।
আবার, মাওলানা আবু হানিফার মাথার উপর যখন মলমূত্র ঢেলে দেওয়া হলো, তখন কিন্তু বাংলার বিদ্রোহী বাম-রাম সমাজ একেবারে চুপ মেরে গেছে। এবার না তারা ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ কবিতা আওড়াচ্ছে, না নিজেদের মাথায় মলমূত্র ঢেলে সেই ছবি প্রকাশ করে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। লকলকিয়ে উঠা চেতনার গুল্ম কিন্তু এই ঘটনায় একেবারে নেতিয়ে পড়েছে। আর, দলান্ধ পত্রিকাগুলো কেবল স্যাটেলাইটের পশ্চাদদেশে কতো কিলোমিটার বেগে ধোঁয়া বের হয়েছে, সেই স্যাটেলাইট মহাশূন্যের কোন কোণায় গিয়ে নোঙর করবে তার পরিসখ্যান নির্ণয়ে ব্যস্ত। লোকটা শিক্ষক হয়েছে তো কি হয়েছে, নামের আগে যখন ‘ধর’ বা ‘কান্তি’ জাতীয় কিছু নেই, তাই এই ঘটনায় মায়াকান্না করে তারা সময় নষ্ট করবে কেনো?
মুসলমান, বঙ্গদেশে তোমরাই যে সংখ্যালঘু- সেটা বোঝার জন্য কি রকেট সায়েন্স জানা লাগবে?
© প্রিয় ভাই আরিফ আজাদ - এর ওয়াল থেকে নেয়া! (আল্লাহ্ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন!)