29/05/2026
কুফু মিলিয়ে বিবাহ করুন! বর্তমান সময়ে অধিকাংশ দাম্পত্য কলহ ও বিবাহ বিচ্ছেদের পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো—“কুফু” না মেলা। বাহ্যিক সৌন্দর্য, আবেগ কিংবা সাময়িক মোহ দেখে বিয়ে হয়ে গেলেও পরে দেখা যায় দু’জনের চিন্তাভাবনা, জীবনযাপন ও মানসিকতার মধ্যে বিস্তর পার্থক্য। আর সেখান থেকেই শুরু হয় অশান্তি।
ইসলামে বিয়ের ক্ষেত্রে “কুফু” একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—“তোমরা ভবিষ্যৎ বংশধরদের কল্যাণের জন্য উত্তম নারী নির্বাচন করো এবং কুফু বিবেচনায় বিবাহ করো, আর বিবাহ দিতেও কুফুর প্রতি লক্ষ্য রাখো।”
“কুফু” (كَفُؤ) শব্দের অর্থ হলো—সমতা, সামঞ্জস্য, সমকক্ষতা। ইসলামী পরিভাষায় বর-কনের দ্বীনদারী, মানসিকতা, পারিবারিক পরিবেশ, জীবনযাত্রা ও সামাজিক অবস্থান কাছাকাছি হওয়াকেই কুফু বলা হয়।
ধরুন, একজন দ্বীনদার মেয়ে এমন একজন ছেলেকে বিয়ে করলো, যে দ্বীনের প্রতি উদাসীন। মেয়েটি চাইবে সংসারের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের ছাপ থাকুক, আর ছেলেটি চাইবে বাঁধনহীন জীবন। একজন দ্বীনকে আঁকড়ে ধরতে চাইবে, অন্যজন দুনিয়ার স্রোতে গা ভাসাবে। ফলাফল—অশান্তি, মনোমালিন্য, দূরত্ব; কখনো কখনো তালাক পর্যন্ত গড়ায়।
আবার অর্থনৈতিক দিক থেকেও কুফু খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনার আয় যদি সীমিত হয়, অথচ এমন পরিবারে বিয়ে করেন যেখানে বিলাসী জীবনযাপন স্বাভাবিক—তবে মানিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তখন তুলনা শুরু হয়, অভিযোগ জন্ম নেয়, এবং একসময় সম্পর্কের সৌন্দর্য নষ্ট হতে থাকে।
মানুষ সাধারণত সেই পরিবেশেই স্বস্তি পায়, যেখানে তার অভ্যাস, চিন্তা ও জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকে। তাই বিয়ের আগে শুধু রূপ বা আবেগ নয়; বরং চলাফেরা, পোশাক-আশাক, পারিবারিক সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক অবস্থা, দ্বীনদারী ও মানসিকতা—এসব বিষয়ও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
যখন স্বামী-স্ত্রীর মাঝে পারস্পরিক সামঞ্জস্য থাকে, তখন কেউ কাউকে ছোট করে না, খোঁটা দেয় না, কিংবা অহংকার প্রকাশ করে না। ভালোবাসা তখন নিরাপদ থাকে, সম্মান অটুট থাকে, এবং সংসার হয় প্রশান্তিময়।
বিশেষ করে একজন স্ত্রীর এমন মানসিকতা থাকা জরুরি, যাতে তিনি স্বামীর সামর্থ্যের উপর সন্তুষ্ট থাকতে পারেন। বারবার তুলনা, অসন্তুষ্টি কিংবা “আমার বাবার বাড়িতে ভালো ছিলাম” ধরনের কথা দাম্পত্য সম্পর্কে বিষ ঢেলে দেয়।
তবে সব কিছুর চেয়েও বড় বিষয় হলো দ্বীনদারী। যদি স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মাঝে আল্লাহভীতি, পরস্পরের প্রতি দায়িত্ববোধ ও দ্বীনের প্রতি আন্তরিকতা থাকে—তবে অনেক অভাব-অভিযোগও সহজ হয়ে যায়। দ্বীনদার জীবনসঙ্গী দাম্পত্য সুখের সবচেয়ে বড় নিয়ামত।
তাই বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগে শুধু আবেগ নয়, “কুফু” বা সামঞ্জস্যকেও গুরুত্ব দিন। কারণ সুন্দর দাম্পত্য কেবল ভালোবাসায় নয়, বরং বোঝাপড়া, মানিয়ে নেওয়া ও পারস্পরিক সামঞ্জস্যের উপরই টিকে থাকে।