01/06/2026
২০২৪ সালের নভেম্বর এ আমার এক বড় ভাই সোহেল মাহবুবুর ভাইয়ার পোস্ট দেখার পর থেকেই সুযোগ খুঁজতাসিলাম যে কীভাবে আর কখন যাওয়া যায়।মানুষ পেয়ে গেলাম যে আমাদের ভিতরে ঢুকানোর ব্যবস্থা করে দিবে কিন্ত সময় ই পাচ্ছিলাম না যাওয়ার।আলহামদুলিল্লাহ, আজকে যাওয়ার সুযোগ টা হলো।
প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত।
নিম্ফ ভবন
বাংলাদেশ হেরিটেজ ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা জনাব ওয়াকার খান ২০২১ সালে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারে এই ভবনটি নিয়ে একটি বিশদ আর্টিকেল লিখেছিলেন। ষাটের দশকের শুরুর দিকে তার কৈশোরে তিনি এই ভবনটি খুঁজে পেয়েছিলেন নিম, রেইন ট্রি, বটের ছায়ার ঘেরা এক অপূর্ব সুন্দর নন্দন প্রাসাদ হিসেবে, যার সম্মুখে একটি বিশাল দীঘি ছিল, সেখানে সকল সময়ে ঝাঁকে ঝাঁকে সারস, বক, মাছ রাঙ্গা নানা প্রজাতির হাস খেলা করতো। যদিও এই পুকুর ও বৃক্ষরাজির অস্তিত্ব আর নেই। পুকুরটি ভরাট হয়ে মাঠে পরিণত হয়েছে, বৃক্ষ গুলো হয়তো বহুতল ভবনের নিচে চাপা পড়েছে।
ওয়াকার খানের আর্টিকেল অনুসারে, এই ভবনটি ভাওয়ালের রাজ পরিবারের সম্পদ ছিল যেটি ভাওয়ালের রাজপরিবারের কুমার (সন্ন্যাসী রাজা রমেন্দ্র নারায়ণের ভাই রবীন্দ্র নারায়ণের দত্তক পুত্র) রাম নারায়ণ রায় চৌধুরী ১৯৩৩ সনে তৈরি করেছিলেন বাগান বাড়ি হিসেবে ব্যাবহারের জন্য। প্রায় ২০ বিঘা জায়গার উপর এই বাগানটি নির্মিত হয়েছিল। সবুজে ঘেরা দিঘির জলের সন্নিকটে দাড়িয়ে থাকা এই ভবনটি যেন প্রকৃত পক্ষেই একটি জল পরীর ( নিম্ফ) রূপ। জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত হবার পূর্বে ঢাকা শহরের বাংলামটর হতে শুরু করে তেজগাঁ এলাকাকে ছুঁয়ে সাভার অঞ্চল পর্যন্ত এবং উত্তর দিকে গাজীপুর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল ভাওয়াল রাজবাড়ীর জমিদারী। তাদের বিত্ত বৈভবের স্মৃতিস্বরূপ এই ভবনটি দাড়িয়ে আছে।
নিম্ফ ভবনটির নির্মাণ শৈলী কিছুটা শঙ্কর ধরনের। এখানে বৃটিশ শাসন কালের ভবন নির্মাণ শৈলী ব্যাবহার করা হয়েছে, আবার মুঘল সময়ের নির্মাণ কৌশলও সেখানে উপস্থিত। ধারনা করা হয় যে, এটি নির্মাণের পরে প্রয়োজন অনুযায়ী বহুবার এর ডিজাইনে পরিবর্তন করা হয়েছে। ১৯৫০ সনে জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত হলে পাকিস্তান ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড ভাওয়াল রাজাদের নির্মিত নিম্ফ ভবনটি সহ বিশাল ভূসম্পত্তি অধিগ্রহণ করে ও বিমান বাহিনীকে হস্তান্তর করে। অধিগ্রহণ কৃত ভূমিতে বর্তমানে বিমান বাহিনীর অফিসার মেস ও ক্লাব নির্মিত হয়েছে। নিম্ফ ভবনটি বর্তমানে বিমান বাহিনীর লেডিস ক্লাবের আওতায় ক্যাফে হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
তথ্য কৃতজ্ঞতা : Sohel Mahbubur Sohel