ঢাকা পুরাণ

ঢাকা পুরাণ ৪০০+ বছরে আজ আমাদের পুরান ঢাকা! এই আদি ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা

খান মোহাম্মদ মৃধা মসজিদ, লালবাগ, ঢাকা (বর্তমান ছবি কমেন্টে) ________________________ 1863 Colonial Era India, Bengal, Da...
10/04/2026

খান মোহাম্মদ মৃধা মসজিদ, লালবাগ, ঢাকা
(বর্তমান ছবি কমেন্টে)
________________________

1863 Colonial Era India, Bengal, Dacca, (Dhaka). Now Bangladesh.

A Ruined Mosque at Dacca.

Artist - Frederick William Alexander De Fabeck.

Restored Image.

©Philip Thornton

13/02/2026

“লাল ইটের আভিজাত্যে মোড়ানো এক বিষণ্ণ দুপুর—আমাদের লালকুঠি।”

বুড়িগঙ্গার তীরে লালকুঠি বা নর্থব্রুক হল আজও চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। ১৮৭৪ সালে লর্ড নর্থব্রুকের স্মৃতিতে তৈরি এই দালানটির লাল রঙটা যেন পুরনো ঢাকার আভিজাত্যের শেষ চিহ্ন। মোগল আর ইউরোপীয় স্থাপত্যের এক অদ্ভুত মিশেল এখানে দেখা যায়।

ভাবুন তো একবার, ১৯২৬ সালে এখানেই স্বয়ং রবীন্দ্রনাথকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল! এক সময় এখান থেকে রুপোলি বুড়িগঙ্গা দেখা যেত, এখন সেখানে কেবলই দালানের ভিড়। তবু এর কারুকাজ করা মিনার আর আর্চগুলো দেখলে মনে হয়, ইতিহাস আজও ফিসফিস করে কথা বলছে। বিকেলের আলোয় লালকুঠির দিকে তাকালে আজও মনের ভেতরে হিমু-হিমু একটা উদাসীনতা জাগে।

সম্প্রতি পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে ঐতিহ্যবাহী লালকুঠি।

শবে বরাত X পুরান ঢাকা Shab-E-Barat 🌙 Visuals of Imagination No- 68  ©Nasif Imtiaz  #শবেবরাত
04/02/2026

শবে বরাত X পুরান ঢাকা

Shab-E-Barat 🌙

Visuals of Imagination No- 68

©Nasif Imtiaz

#শবেবরাত

পুরানো ঢাকা ও হারিয়ে যাওয়া ‘কাউয়া রুটি’ সংস্কৃতিপুরানো ঢাকার অলিতে-গলিতে একসময় ভোরবেলার এক বিশেষ দৃশ্য ছিল—এক টুকরো ...
09/12/2025

পুরানো ঢাকা ও হারিয়ে যাওয়া ‘কাউয়া রুটি’ সংস্কৃতি

পুরানো ঢাকার অলিতে-গলিতে একসময় ভোরবেলার এক বিশেষ দৃশ্য ছিল—এক টুকরো রুটি ছুড়ে দিলে শত শত কাক ঝাঁপিয়ে পড়ত। ছোটবেলা, প্রায় ২০০৫ সাল পর্যন্ত, স্কুলে যেতে যেতে আমি নিয়মিত এই দৃশ্য দেখতাম। তখনো শহরের সকাল ছিল খুব সাধারণ, খুব জীবন্ত। মুদি দোকান, হোটেল, রাস্তার পাশের রুটি বা চিতই পিঠার দোকান—সবই খোলা হত ভোরে। বিলাসী জীবনের মতো সকাল ৯টায় দোকান খোলার নিয়ম তখনো ঢাকায় আসেনি।

দোকানের মালিক বা কর্মচারীরা দিনের শুরুটা করতেন এক অদ্ভুত, কিন্তু মানবিক এক অভ্যাস দিয়ে। কোনো মুদি দোকান হলে তারা প্রথমেই টোস্ট বিস্কুট, মুড়ি-বিস্কুট বা সামান্য খাবার দোকানের সামনে ছুড়ে দিতেন কাক-চড়ুইয়ের জন্য। হোটেলে বানানো প্রথম পরোটা কিংবা নানরুটি, আর রাস্তায় তৈরি প্রথম রুটি বা চিতই পিঠা—এসব প্রায়ই হাতে তুলে দেওয়া হতো কোনো ‘ল্যাংটা কথা বলতে পারে না’ এমন বাচ্চাকে, বা ছুড়ে দেওয়া হতো কুকুর-বিড়াল-পাখির খাবার হিসেবে।

ঢাকা শহরে তখন কাকের অভাব ছিল না। “কাউয়া রুটি” ছিল তাই এক পরিচিত শব্দ। এক টুকরো রুটি মানেই শত কাকের ভিড়। আর অনেক দোকানির তো নিয়মই ছিল—সকালের প্রথম বিক্রি শুরু করার আগে কোনো বাচ্চাকে একটি চকলেট বা ৫০ পয়সার বিস্কুট দিয়ে দেওয়া।

এই প্রথা কারো ধর্মীয় অনুষঙ্গ থেকে আসেনি, সামাজিক রীতিও ছিল না—তবুও এটি ছিল পুরানো ঢাকার মানবিকতা, উদারতা ও দৈনন্দিন অভ্যাসের এক অংশ। ব্যবসায়ী, দোকানি—ধর্ম নির্বিশেষে সবাই এটি করতেন।

আজ সেই দৃশ্যগুলো প্রায় হারিয়ে গেছে। হাতে গোনা কিছু মানুষ এখনো এই অভ্যাসটিকে টিকিয়ে রেখেছেন, কিন্তু নিয়মিত নয়। শহরের জীবনে এখন অভাব শুধু সময়েই নয়—মানবিকতারও। আগে রাতের বেলায় গার্মেন্টস কলোনিতে নষ্ট ভাত ফেলে দিলে বিড়াল-কুকুর সেটা খেত; এখন সেসবও দেখি না। ফলে আজ কুকুর-বিড়ালদের দেখা যায় ময়লার ব্যাগ ছিঁড়তে বা ঘরে ঢুকে খাবার চুরি করতে—কারণ তারা ক্ষুধার্ত।

আসলে আমরা যদি নিজের জায়গা থেকে ছোট ছোট কিছু মানবিক অভ্যাস ফিরিয়ে আনতে পারি, সমাজটাকেও আবার সুন্দর করা সম্ভব। প্রয়োজন শুধু মানসিকতার সামান্য পরিবর্তন। হয়তো সেই কথাই নজরুল তাঁর নিজের ভাষায় বলতে চেয়েছিলেন—

“মনের পশু কারো জবাই—

বাঁচুক পশু, বাঁচুক সবাই।

© ©️
Mahabub Hasan

#কাউয়ারুটি

পুরান ঢাকার কসাইটুলীতে ভবনের রেলিং পড়ে ৩ জন পথচারী নিহত
21/11/2025

পুরান ঢাকার কসাইটুলীতে ভবনের রেলিং পড়ে ৩ জন পথচারী নিহত

১৮৮০ সালে নর্থব্রুক হল রোড, ফরাশগঞ্জ, ঢাকা। ©ফিলিপ থ্রনটন
13/11/2025

১৮৮০ সালে নর্থব্রুক হল রোড, ফরাশগঞ্জ, ঢাকা।

©ফিলিপ থ্রনটন

Life in Puran Dhaka AI
07/09/2025

Life in Puran Dhaka AI

গোধূলি বেলায় বুড়িগঙ্গা ⛵🌅
29/08/2025

গোধূলি বেলায় বুড়িগঙ্গা ⛵🌅

27/08/2025

পুরান ঢাকার ব্যস্ততম এবং দামী এলাকায় এক সন্ধ্যা
কে বলতে পারবে জায়গাটা কোথায়??

আজ থেকে ৮০ বছর আগে ১৯৪৫ সালে ঢাকার জনসংখ্যা ছিলো ২ লাখ ৪০ হাজার। অথচ তখনও ঢাকায় যে জন্মাষ্টমীর মিছিল হতো তাতে যোগ দিতো ১...
16/08/2025

আজ থেকে ৮০ বছর আগে ১৯৪৫ সালে ঢাকার জনসংখ্যা ছিলো ২ লাখ ৪০ হাজার। অথচ তখনও ঢাকায় যে জন্মাষ্টমীর মিছিল হতো তাতে যোগ দিতো ১ লাখেরও বেশী মানুষ।
অথচ ঐ সময়টা ছিল ঢাকায় জন্মাষ্টমীর মিছিলের প্রায় শেষ বছরগুলো। তাহলে জন্মাষ্টমীর মিছিলের রূপ আগে কতোটা বিস্তৃত ছিল ভাবতেই অবাক লাগে!
ঢাকার জন্মাষ্টমীর মিছিলের জন্ম কিন্তু ঢাকা রাজধানী হওয়ারও ৪৫ বছর আগে, তথা ১৫৬৫ সালে। বাংলা উড়িষ্যা তো বটেই এককালে ভূ-ভারতের নানা প্রান্ত থেকে দলে দলে মানুষ জন্মাষ্টমীর মিছিল দেখতে ঢাকায় আসতো। যা অনেকটা ছিল তীর্থযাত্রার মতো। তখন এতোটাই ছিল তার জৌলুস।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জন্মাষ্টমীর মিছিল ছিল ঢাকার সার্বজনীন উৎসবের এক অনন্য রূপ।
দুই বছর আগে সূত্রাপুরের সুনন্দা চক্রবর্তী দিদিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম সেই জন্মাষ্টমীর মিছিলের কথা বলতে। সুনন্দা দিদির বয়স তখনই ৯৫ বছর। এ বছরের শুরুতে দিদি মারা গেছেন।
তিনি আমাকে বলেছিলেন, 'বিয়ের আগে তো বাবা আর ভাইসহ বাড়ি থেকে আমরা এক দিন দেখতে আসতাম। বিয়ের পর দেখলাম মিছিল বাহির হইতো দুইদি ন। ওই দুইদিন কোর্ট, অফিস সব বন্ধ থাকত। একদিন মিছিল বাইর হতো নবাবপুর থেকে, আরেকদিন ইসলামপুরে। মিছিলে খোলা গরুর গাড়ির উপরে বিশাল চার তলা মঞ্চ আর গায়ে রাধা কৃষ্ণের মূর্তি গড়া। কাঠের গড়নের পাশে আবার নানান দেবদেবী। বিশাল হাতি সামনে তার উপরে সওয়ার একজন।
কাঠ আর বাঁশ দিয়া মঞ্চ করা। চারদিক পিঁপড়ার মতো মানুষ আর মানুষ। মিছিলের সামনের দিকে গাজনের সঙের মতো কয়েকজন ছেলে বুড়া মুখোশ পইরা নাচতো। মিছিলের মধ্যে মানুষের হাতে হাতে দূর্বা- জবা আর কতো রকমের ফুল। সেই ফুল নিচ দিক থেকে মানুষ কৃষ্ণের মূর্তিতে ছুঁড়তো।
সে মিছিলে কতজন যে হারায়ে যেত! আমার ভাইয়ের বয়স তখন ৯ বছর। একবার ও মিছিলে হারায় গেছিল; দুইদিন পর বাড়ি ফেরে। নবাবপুরের ওই মিছিল না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবা না ওই মিছিল কতো বড় আর কতো মানুষ!'
প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী পরিতোষ সেন তাঁর অপূর্ব আত্মজীবনী 'জিন্দাবাহারে' এ ঢাকার জন্মাষ্টমীর মিছিল নিয়ে একাংশে লিখেছিলেন,

'শ্রাবণের একটি রৌদ্রচুম্বিত বিকেলবেলা। যেদিকেই তাকাই-না কেন রাস্তা-ঘাটে, ছাদে- কার্নিশে, বারান্দায়- রোয়াকে, দরজায়-জানালায়, গাছে- ল্যাম্প-পোস্টে সর্বত্রই কালো কালো বিন্দু। এক কোঠায় কালো বিন্দুর এক মহাসমুদ্র। গোটা ঢাকা শহর এক অস্বাভাবিক উত্তেজনায় আর উন্মাদনায় মেতে উঠেছে। আজ জন্মাষ্টমীর মিছিল বেরুবে। এমন জাঁকালো, এমন বিশালাকায় এবং অসাধারণ চমৎকারিত্বপূর্ণ একটি ঘটনা, এই উপমহাদেশে আর কোথাও কি দেখা যায়!...সক্রিয় অংশীদাররা হিন্দু হলেও আক্ষরিকভাবে এ-মিছিল সর্বজনীন।'
ঢাকার ঐতিহাসিক কোন বিষয় থাকলে সেটি ঢাকার জন্মাষ্টমীর মিছিলই।
কিন্তু গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর বন্ধ হয়ে গিয়েছিল জন্মাষ্টমীর মিছিল। মূলত ত্রিশের দশকে সাম্প্রদায়িক সম্পর্কের অবনতি এবং আর্থসামাজিক অবস্থার কারণে ঢাকার ধনাঢ্য হিন্দুরা ঢাকা ত্যাগ করে কলকাতায় যাওয়া শুরু করলে ঢাকার জন্মাষ্টমীর মিছিলের জৌলুস কমতে থাকে। কারণ এই ধনাঢ্য হিন্দুরাই ছিলেন জন্মাষ্টমীর মিছিলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক।
১৯৫০'র দশকে পাকাপাকিভাবে বন্ধ হওয়ার পূর্বের ৪০০ বছরে মাত্র চারবার জন্মাষ্টমীর মিছিল বের হয়নি। প্রথমবারে বর্গীয় হাঙ্গামা বা বাংলায় মারাঠা হামলার ভয়ে। দ্বিতীয়বার বৃন্দাবন দেওয়ান রাজদ্রোহী হয়ে যেবার ঢাকা লুট করেছিল। তৃতীয়বার প্রথম ইঙ্গ-বর্মা যুদ্ধের সময়ে এবং চতুর্থবার সামাজিক দলাদলির কারণে।
পঞ্চাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ঢাকার বংশালের নিকটবর্তী পিরু মুনশীর পুকুরের পাশে এক সাধু বাস করতেন। ১৫৫৫ সালের ভাদ্র মাসে রাধাষ্টমী উপলক্ষে বালক ভক্তদের হলুদ পোশাক পরিয়ে তিনি মিছিল বের করেছিলেন।
তারও দশ বছর পর সেই সাধু ও বালকদের উৎসাহে রাধাষ্টমীর কীর্তনের পরিবর্তে শ্রীকৃষ্ণের জন্মোৎসব উপলক্ষে একটি মিছিল বের করা হয়। সেই মিছিলের মাধ্যমেই ১৫৬৫ সালে পত্তন হয়েছিলো ঢাকায় জন্মাষ্টমীর মিছিলের।

©আহমেদ ইশতিয়াক

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ঢাকা পুরাণ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share