24/09/2026
★প্রেস বিজ্ঞপ্তি★
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক ভাবে অংশগ্রহণের ঘোষণা গণঅধিকার পরিষদের....
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দলীয় অবস্থানের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে গণঅধিকার পরিষদ। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১ঃ৩০ টায় দলীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে দলীয় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গণঅধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন। এসময় উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র সহ সভাপতি ফারুক হাসান,মুখপাত্র আবু হানিফ, উচ্চতর পরিষদের সদস্য শহিদুল ইসলাম ফাহিম, সাকিব হোসাইন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নীলা শেখ, অরবিন্দু বেপারী, দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক ইলিাস মিয়া,সহ স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সদস্য নিজাম উদ্দিন, মহানগর উত্তরের সভাপতি আব্দুর রহিম।
লিখিত বক্তব্যঃ-
আপনারা অবগত আছেন যে, ১২ই ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ইং দীর্ঘ ১৭ বছর পর বাংলাদেশে একটি নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করেছে। জাতীয় নির্বাচনের পর বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার জনগণের ক্ষমতায়ণের লক্ষ্যে দ্রুত সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যা পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন সমূহে ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হবে মর্মে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন ও সরকার। সে লক্ষ্যে বিগত ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার আইন ২০০৯ এ প্রদত্ত ক্ষমতা বলে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করে। পরবর্তীতে একই আইনের প্রদত্ত ক্ষমতা বলে বিগত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা ২০১০ এ সংশোধনী এনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বাতিল করে গেজেট প্রকাশ করে। যা আসন্ন স্থানীয় সরকার তথা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জনগণ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গকে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
প্রিয় দেশবাসী,
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, অধিকার ও জাতীয় স্বার্থের পতাকাবাহী দল গণধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে দলের নেতা কর্মী ও দেশবাসীর প্রতি আমাদের সুনির্দিষ্ট বার্তা নিয়ে আমরা আজ এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছি।
গণঅধিকার পরিষদ স্পষ্ট ভাবে জানাচ্ছে যে, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন তথা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে গণঅধিকার পরিষদের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা একক ও স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণ করবে। গণঅধিকার পরিষদের সর্বস্তরের নেতা কর্মীদের আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে তাদের প্রাক নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে। দলীয় প্রতীক বাতিল হলেও দলের যে কোন পর্যায়ের নেতাকর্মী যদি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেয় সেক্ষেত্রে দল সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সহযোগীতা নিয়ে তার পাশে থাকবে। কোন নির্বাচনী এলাকায় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে একাধিক প্রার্থী অংশ নিলে বিশৃঙ্খলা এড়ানোর স্বার্থে দল উপযুক্ত প্রার্থী বাছাই করে তার প্রতি দলীয় সমর্থন প্রকাশ করবে। গণঅধিকার পরিষদ শুধু মাত্র দলের দৃষ্টিভঙ্গিতে যোগ্য ও উপযুক্ত প্রার্থীর প্রতি দলীয় সমর্থন জ্ঞাপন করবে। গণঅধিকার পরিষদের নীতি আদর্শ মেনে অন্য যেকোন দলের ব্যক্তি গণঅধিকার পরিষদ সমর্থিত প্রার্থী হতে পারবে, সেক্ষেত্রে গণঅধিকার পরিষদের প্রাথমিক সদস্য হতে হবে। এছাড়া যেসকল স্থানে দলীয় উপযুক্ত প্রার্থী থাকবেনা সেখানে সৎ যোগ্য দেশপ্রেমিক ও জনবান্ধব প্রার্থীর পক্ষে গণঅধিকার পরিষদের নেতা কর্মীরা সমর্থন জানাবে।
গণঅধিকার পরিষদ বাংলাদেশের জনগণের জান, জবান ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। আমরা বিশ্বাস করি বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশন আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে একটি নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। জনগণ স্বতস্ফুর্ত ও স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে এবং যোগ্য প্রার্থীকে তাদের সেবক হিসেবে বেছে নেবে। গণঅধিকার পরিষদ কোনভাবেই বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের মত নির্বাচনসমূহে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের পুনরাবৃত্তি দেখতে চায়না। প্রতিটি প্রার্থীর স্বাধীন বিচরণের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণার পরিবেশ সৃষ্টি ও রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন ও সরকারের প্রতি আমরা আহবান জানাচ্ছি। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ যেন তাদের মতামতের পূর্ণ প্রতিফলন ঘটিয়ে তাদের পছন্দ মত ইউনিয়ন চেয়ারম্যান/মেম্বার নির্বাচিত করতে পারে সেজন্য ভোটারদের সুরক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের আহবান জানানো হচ্ছে।
গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি বিনীত আহবান থাকবে যে, গণঅধিকার পরিষদ তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বাংলাদেশের জনগণের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে কখনোই পিছপা হয়নি। ভবিষ্যতেও হবেনা ইনশা আল্লাহ।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে গণঅধিকার পরিষদের ৩ টি দাবিঃ
১. বর্তমান সরকার এবং নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি তাঁর বিরোধিতা করে গণঅধিকার পরিষদ। গণঅধিকার পরিষদ মনে করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদ প্রার্থীদের জন্য অনার্স, এবং মেম্বার পদপ্রার্থীদের জন্য উচ্চ মাধ্যমিক পাস বাধ্যতামূলক করা উচিত।
২. এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ, বে- সরকারি চাকরির বিধিমালায় কোনো বিধিনিষেধ নেই। যদি এমপিও ভুক্ত শিক্ষক রা সরাসরি রাজনীতি করতে পারেন তাহলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কেনো তাঁরা অংশগ্রহণ করতে পারবেন না?
৩. অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে মাঠ প্রশাসনকে সেভাবেই প্রস্তুত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ইউনিয়ন, উপজেলা পৌরসভা এবং সিটি নির্বাচন করার আহ্বান জানায় গণঅধিকার পরিষদ।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জনগণের অধিকার আদায়ের সংগঠন গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট প্রদান করে স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে আরো শক্তিশালী করার আহবান জানিয়ে আজকের মত সংবাদ সম্মেলন থেকে বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ হাফেজ।