26/05/2026
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর কর্মকর্তারা মাঠে
নৌ শুমারির জট খুলছে, আধুনিকায়নে চলছে লিস্টিং অপারেশন
দেশের সকল সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত এবং অন্যান্য নৌযানের একটি পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভরযোগ্য ডাটাবেজ তৈরি করার কাজ শুরু করেছে। দেশের নৌখাতের উন্নয়ন আধুনিকায়নের লক্ষ্যে নৌপরিবহন অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো নৌযান শুমারি পরিচালনার ইদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশব্যাপী পরিচালিত লিস্টিং অপারেশনে মোট ১ রহাজার ২৯৩জনের অত্যসংগ্রকারী মাঠে কাজ করছেন। তথ্য সংগ্রহের গুনগত মান নিশ্চিত করতে ৮৫জন উপজেলা শুমারী সমন্বয়কারী এবং ৬৩জন জেলা শুমারী সমন্বয়কারী এবং ৮জন বিভাগীয় শুমারী সমন্বয়কারী কর্মকর্তা মাঠে পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহকারীদের কার্যক্রম সাবক্ষণিক মনিটরিং কাজ করছেন বলে জানা গেছে। দেশে বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে মোট নৌযানের সংখ্যা নির্ধারণে ২০১৬ সালে নৌযান শুমারি প্রকল্প নেওয়া হলেও দীর্ঘদিনেও তার উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদন পায়নি। প্রায় আট বছর ঝুলে থাকার পর প্রকল্পটি বর্তমান সরকার অনুমোদন দিয়েছে।
পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো.ফিরোজ সরকার ইনকিলাবকে বলেন,আট বছর ঝুলে থাকার পর প্রকল্পটি বর্তমান সরকার অনুমোদন দিয়েছে। ইঞ্জিনচালিত নৌযান দুই লাখ ৪৪ হাজার ৬৬০টি, খাট বিত্তিক নৌযান ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৪৪টি এবং খানা ভিত্তিক নৌযান রয়েছে ৭০ হাজার ৭১৬টি। এখনো দেশের অত্যন্ত দুর্গম এলাকায় কিছু কিছু নৌযানের তথ্য ডাটাবেইজ অন্তভুক্তির কাজ চলমান রয়েছে। বিধায় উপরোক্ত সংখ্যা সামন্য কম বেশি হতে পারে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)মাধ্যমে পরিচালিত প্রথম দেশব্যাপী কার্যক্রম নৌযান শুমারি শুরু হয়েছে।এর মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের সকল সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত এবং অন্যান্য নৌযানের একটি পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভরযোগ্য ডাটাবেজ তৈরি করা। নৌযান শুমারির কাজ হচ্ছে ডাটাবেজ প্রণয়নের জন্য মে ২০২৬-এর ৪ তারিখ থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত সারাদেশে নৌযান শুমারির প্রাথমিক লিস্টিং ও ম্যাপিং অপারেশন সম্পন্ন করা। আগামী জুলাই মাস পর্যন্ত এ শুমারির জোনাল অপারেশন এবং চূড়ান্ত শুমারি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। গত ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ২০ হাজার ৫৫২টি নৌযান নিবন্ধন করা হয়েছে। নিবন্ধিত ২২ প্রকার নৌযানের মধ্যে রয়েছে যাত্রীবাহী লঞ্চ ৮৫৩টি, যাত্রীবাহী বোট ৭০০টি, মালবাহী ৩ হাজার ৮৩৮টি, তেলবাহী ৪২৫টি, বালুবাহী ৭ হাজার ৯৩৩টি, ড্রেজার ২ হাজার ২০২টি, কাটার সাকসন ড্রেজার ৬৯টি, পণ্যবাহী ১ হাজার ৯০৯টি, ট্যাগ বোট ২১৮টি, স্পিড বোট ১ হাজার ২৮১টি, ফেরি ৫০টি, ওয়ার্ক বোট ১৭১টি, পরিদর্শন বোট ৩৩টি, ট্যুরিস্ট লঞ্চ ৩২টি, বার্জ ৬৪৬টি, হাউস বোট ২০টি, ওয়াটার ট্যাক্সি ১৬টি, ফ্লোটিং পাম্প ৩১টি, পন্টুন ১৫টি, ক্রেন বোট ৩২টি, ট্যুরিস্ট বোট ৭টি, ফ্লোটিং হাসপাতাল ৭টি এবং অন্যান্য ৬৪টি নৌযান। শুমারির আওতাভুক্ত নৌযান: দেশের সকল ইঞ্জিনচালিত নৌযান, ডাম্ববার্জ, এবং যন্ত্রচালিত নৌযান দ্বারা টানা বা ধাক্কা দেওয়া ইঞ্জিনবিহীন নৌযানসমূহ এই শুমারির আওতায় আনা। শুমারির মাঠকর্মীরা জরিপকালে নৌযান এবং ঘাটের বিবরণ সংগ্রহ করছেন। সঠিক ডাটাবেইজ তৈরির স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সকলকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথে ঠিক কতগুলো এবং কত ধরনের নৌযান চলাচল করে, তার কোনো সঠিক হিসাব নেই। শুধু যেসব নৌযান নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিবন্ধিত হয়েছে।সেগুলোই নথিভুক্ত। এর বাইরে ছোট-বড় নানা ধরনের নৌযান প্রতিদিন নদীতে চলাচল করলেও তার কোনো তথ্য নেই অধিদপ্তরের।ফলে নিবন্ধনের বাইরে অবৈধভাবে চলা এসব নৌযান থেকে সরকার কোনো রাজস্ব পায় না। নৌযানের সঠিক সংখ্যা জানতে হলে নৌযান জরিপ বা নৌশুমারি করা প্রয়োজন। অথচ স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত দেশে কোনো নৌযান জরিপ হয়নি। ফলে দেশের নৌপথে কত ধরনের কতসংখ্যক নৌযান চলাচল করছে, তার সঠিক চিত্র জানা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ফোকাল পয়েন্টের কর্মকর্তা মো. আরিফ হোসেন বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ নৌযানের কোনো হিসাব নেই। তবে যেগুলো বিদেশগামী, সেগুলোর হিসাব আমাদের কাছে আছে। অভ্যন্তরীণ নৌযানের ডেটাবেইস তৈরির কাজ চলছে।নৌ শুমারি শুরু হওয়ার কারণে এর জট খুলতে শুরু হয়েছে।
দেশের সকল সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত এবং অন্যান্য নৌযানের একটি পূর্ণাঙ্গ ও...