30/12/2021
জয়নাল হাজারী ফেরেস্তা ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ আছে। স্বৈরাচারীর অভিযোগ আছে। একনায়কতন্ত্রের অভিযোগ আছে। যেসব অভিযোগ মুলতঃ করেছিলেন স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি ও কুচক্রী মহল।
সন্ত্রাস নির্যাতনের পক্ষে বলছি না।
কিন্তু শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগের দিন পর্যন্ত বাংলাদেশে ছিল সন্ত্রাসের জনপদ, খুনের জনপদ, নিরাপত্তাহীনতার জনপদ। আওয়ামী লীগ যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়, ৭১ থেকে ৭৫ পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে স্বাধীনতাবিরোধীরা। ঈদের জামায়াতে আওয়ামী লীগের এমপিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মসজিদে ঢুকে হত্যা করা হয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের। পুড়িয়ে মারা হয়েছে, গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের, সাধারণ জনগণকে, ব্যবসায়ীদের, শ্রমিকদের, সাংবাদিকদের, শিক্ষকদের। আমি সেই বাংলাদেশের কথা বলছি, সেই ফেনীর কথা বলছি; সেখানে রাজনীতি করতে হলে ফুল শয্যায় বসে নয়, সংগ্রাম করেই টিকতে হযতো। প্রতিদিন বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করতে হতো।
মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাধীনতা বিরোধীরা কি বলতো আপনি কি জানেন? তাদের সন্ত্রাসী, দুর্বৃত্ত, ভারতের চর, খুনি ইত্যাদি উপমায় অভিহিত করা হতো!
আজকেও স্বাধীনতাবিরোধীরা মুক্তিযোদ্ধাদের খুনি মনে করে। বিএনপি'র একাধিক নেতা বলেছে, স্বাধীনতা বিরোধীদের বিচার হলেও মুক্তিযোদ্ধাদের বিচার করতে হবে। এদেশের কোটি কোটি মানুষ মুক্তিযোদ্ধাদের বাই ডিফল্ট অপরাধী, ক্রিমিনাল, সন্ত্রাসী, খুনি হিসেবেই দেখে।
জয়নাল হাজারী জামায়াত-বিএনপি- চৈনিক এই তিন স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠীর মিথ্যা অপপ্রচার ও প্রপাগান্ডার শিকার। তিনি মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার। তার বিচ্যুতি থাকলে, অপরাধ থাকলে সেগুলোর সমালোচনা হতে পারে, বিচার হতে পারে কিন্তু তাহার মহৎ যে কাজগুলো, মহান যে কাজগুলো- সেগুলো নিয়ে আলোচনা না করলে, সেগুলো আলোকপাত না করলে অবিচার করা হবে।
-----
এনায়েত হোসেন রেজা
রাজনৈতিক বিশ্লেষক