08/09/2026
কপি নিষিদ্ধ ❌
#বিনিময়
#আদর
#অনুগল্প -পর্ব ২
"তুমি কার লাগিয়া গাঁথরে সখি
বকুল ফুলের মালা"
ধ্বনিত হলো খালি গলায় দুইটি লাইন। দুইটি ছেলে নদীর পারে বসে আছে, ছোট ছেলেটির হাতে একতারা।কি অদ্ভুত এইটুকু বয়সে সে একতারা বাজাতে পারে দেখে অবাক হলো নুসরাত। দুইজনেরই পিঠ দেখা যাচ্ছে, ছোট ছেলেটিকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে হতদরিদ্র, বাস্তবতার বেড়াজালে বন্ধি পথ শিশু।নুসরাত ঘাড় ঘুরিয়ে পাশের ছেলেটির দিকে তাকালো চিনতে সামান্যতম বেগ পোহাতে হলো না ছেলেটি কে! পাশফিরে বান্ধবী পলিকে দেখলো একবার, মেয়েটা ভয়ে ভয়ে তাকিয়ে আছে। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফিরে যেতে নিলেই ধ্বনিত হলো একটি ডাক..
-"রাত...?"
থমকে গেলো নুসরাত। তার পদযুগল তার সঙ্গ দিচ্ছে না?! সে ফিরে দেখতে চায় না। সে দুর্বল হয়ে পরবে,পরবে কি পরেছে প্রায়।নিজের অনুভুতি সব স্থানে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও এই একটা ডাকে তার সকল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়।
-"ফিরে তাকা, তুই পালাতে চাচ্ছিস?"
ফিরলো না নুসরাত সে দুর্বল হয়ে পরছে। চোখ জ্বলছে।নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ঠোঁটে দাঁত বসিয়ে দিলো। নিকাবের কারনে মুখ দেখা না গেলেও চোখতো ঠিকই দেখা যাচ্ছে। কি করবে সে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে।একহাত দিয়ে অপর হাত চেপে ধরলো। পা কেন চলছে না? যেতে চায় না সে ওই ছেলের সামনে। পলির দিকেও ফিরতে পারছে না। এই লালছে চোখ দেখল নিশ্চয়ই ভয় পাবে নিচের দিকে তাকিয়ে থাকলো নুসরাত।সাখাওয়াত ফের বললো...
-"কথা বলবি না রাত?"
আর একবার এই ডাক শুনলে সে নিজেকে নিয়ন্ত্রণের শেষ সুতটাও ছিড়ে যাবে। অনেক চেষ্টা করে যখন পা বাড়াতে যাবে পা আর বাড়ানো হলো না তার। তার একদম বরাবর হাজির হলো সাখাওয়াত। মেয়েটা ছেলেটা দিকে মুখ তুলে তাকালো না, পারলে সে যেন মাথাটা আরো নুঁইয়ে নেয়। নুসরাতকে কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করলো সাখাওয়াত। মেয়েটাকি আগের থেকেও একটু মোটা হয়েছে? এমনি মনে হলো তার কিন্তু শরীরে রঙটা আরো বসে গিয়েছে হাত দেখেই বুঝতে পেরেছে সাখাওয়াত।
পলি এইবার একটু দূরে গিয়ে দাড়ালো সময় দিলো তাদের।
-"চোখ তোল রাত, তাকা আমার দিকে।"
একটু সময় নিয়ে তাকালো নুসরাত। লাল হয়ে আছে চোখ।কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে আবার নামিয়ে নিলো চোখ। মুখে বললো...
-"আ..আমি যেতে চাই।"
-"তোকে কি আমি আমার কাছে রেখে দিবো বলেছি?"
-"তাহলে যেতে দিন।"
-"তুই আমাকে আবার আপনি বলতে শুরু করেছিস?
কিছু বললো না নুসরাত। সাখাওয়াতই বলতে লাগলো...
-"এত অভিমান যে দুইটা বছর কথা পর্যন্ত বলিস নি? এত ঠুনকো বন্ধুত্ব ছিলো যে, কি না কি দুইটা কথা বলেছি তার জন্য এই শাস্তি?আমাকে ক্ষমা চাওয়ার সময়টাও দিলি না? অনেক হয়েছে, আমি আর এই দুরত্ব মেনে নিতে পারছি না।"
এইবার নুসরাতের মধ্যে কঠোরতা দেখা দিলো। যে যেভাবে পারছে নিজের মতো দোষ দিয়ে যাচ্ছে। পেয়েছে কি তাকে?
-"আপনি মেনে নিতে না পারলে আমি কি করবো? আপনারা সবাই বেইমানি করেছেন আমার সাথে। ভালো থাকতে দেননি আমায়।
আমার সুখের জীবন কেড়ে নিয়ে এখন আবার আমার উপর দোষ দিচ্ছেন?"
রাগে কি বলছে নুসরাত বুঝতে পারছে না। নদীর পারে ঘাসের উপর হাটু ভর দিয়ে বসে পরলো মেয়েটা। দুহাতে চোখ ডেকে ফেললো সে কাউকে চোখের পানি দেখাতে চায় না। কোনো শব্দ করছে না শরীর কাঁপছে আর চোখ দিয়ে নিরব অশ্রু পরছে,গলায় কিছু বিঁধে আছে কথাও বলতে পারছে না, শ্বাস আটকে আসছে। সাখাওয়াত দাড়িয়ে দাড়িয়ে সবটা লক্ষ করে তার সামনেই দুই হাটু মুরে বসে পরলো।
-"শান্ত হ রাত। চোখ থেকে হাত সরা কেউ দেখছে না আমি ছাড়া।ঠিক করে বোস পায়ে ব্যাথা পাবি।"
দম আটকে আসছে নুসরাতের এত দিনের আটকানো বিরহ এই এক ডাকে বেরিয়ে আসতে চাইছে, ছোটদের মতো নালিশের ঝুড়ি খুলে বসতে ইচ্ছে করছে। অস্পষ্ট স্বরে বলে উঠলো সে...
-"আমি পারিনি কাউকে সুখে রাখতে,না নিজে সুখে থাকতে পেরেছি। তুই কেন ওইদিন বুঝলি না আমাকে? কেন সঙ্গ দিলি না আমার? কেন ভরসা হলি না আমার? আমাকে কেনো তোরা হাত-পা বেধে নদীতে ফেলে দিলি? এখন লাশের কি চাই? "
-"শান্ত হ আমরা নিরবে বসে কথা বলবো তুই ঠিক করে বোস।"
পরক্ষণেই পলিকে ডাকেলো, এতক্ষণে নুসরাত থরথর করে কাঁপছে নিশ্বাস যেন পাচ্ছে না, পলি নুসরাতের এই অবস্থা দেখে নুসরাতের ব্যাগ হাতরাতে শুরু করলো। হম্বিতম্বি করে মেয়েটা কিছু খুঁজছে। কিছুক্ষণ খুঁজতেই পেয়ে গেলো কাঙ্ক্ষিত জিনিসটি। ইনহেলার!অবাক হলো সাখাওয়াত! তারপর নুসরাতকে ইনহেলার দেওয়া হলো, কিছুটা সময় নিয়ে স্থির হয়ে এলো সে।সাখাওয়াত পলিকে বললো পানি নিয়ে আসতে। পলি পানি দিয়ে আবার আগের জায়গায় চলে গেলো মুলত তার স্বামীর সাথে কথা বলছিলো সে। নুসরাত স্বভাবিক ভাবে বসে পানি পান করলো। তারপর নিরব থাকলো কিছুক্ষন, সাকাওয়াত তাকে সময় দিলো। কিছু সময় পর নুসরাত বলতে শুরু করলো সাখাওয়াতের সাথে শেষ কথা হওয়ার পরে...