Mr.TF

Mr.TF মজার মজার Post পেতে। (Mr TF) পেইজ টি Follow করুন।
In Sha Allah আপনাদের মন ভালো করার মত Post হবে 🖤

Pray for Cumilla 🥲
22/08/2024

Pray for Cumilla 🥲

24/02/2024

ক্যান্সারে আক্রান্ত যুবকের
শেষ ফেসবুক স্ট্যাটাস ছিল___

যদি তোমার একটা সুস্থ শরীর থাকে, তবে খোদার কাছে আর কোন বিষয়ে অভিযোগ করো না”
___ সুস্থ থাকলে বলুন -আলহামদুলিল্লাহ ❤️

24/02/2024

আমাদের পরের জেনারেশন একটা অসুস্থ জেনারেশন তৈরি হচ্ছে! যারা বড়দের অসম্মান করাটাকে coolness বলে, মেয়েদের অসম্মান কারাকে sigma মনে করে, সিগারেট খাওয়াটাকে attitude মনে করে, নিজের ধর্ম পালন করাকে backdated বলে, বোরখা শাড়ি ওড়না পড়লে unsmart, আর ছোটো ছোটো জামা পড়াটাকে moderanity বলে 🥲🖤

01/01/2024

এই আইডির মালিক আর এই পৃথিবীতে নেই😭😭😭

কিছুক্ষণ আগেই ইন্তেকাল করেছেন..!ইন্নালিল্লাহী ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন 😭

আমি তার একজন নিকটাত্মীয়
আপনাদের সবার কাছে তার রুহের আত্মার মাগফিরাতের জন্য দোয়া চাইছি । 🤲

কীহ্.?💔সামান্য একটু ধাক্কা লেগেছে কারো অন্তরে?
হঠাৎ যদি একদিন দেখেন এমন 💔
যদি আমাকে এক সেকেন্ডের জন্যও কোনো দিন মোহাব্বত করে থাকেন, তাহলে কিছু টা ধাক্কা লাগার ওই কথা..!💔

এমন একটি শোক বার্তা আর মাত্র কয়েক দিন পরে,
আমার, আপনার, আমাদের টাইমলাইনে আসবে,
ইনশাআল্লাহ্..🥺
তারপর কি হবে জানেন,মৃত্যুর সংবাদ দেওয়া পোষ্টটিতে কমেন্টের বন্যা বয়ে যাবে,আহারে মানুষ টা অনেক ভালো ছিলো, ইসলামি পোষ্ট করতো, অনেক মজা করতো, আরে গতকাল রাতে ই তো আমার সাথে মেসেন্জারে কথা বললো, ইন্নালিল্লাহ 🙂💔

আল্লাহ মানুষ টাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুক
ইত্যাদি ইত্যাদি! 🙂😌

আপনি কি জানেন.?ঠিক ওই মুহুর্তে কিছু কিছু মানুষের দোয়া আর আর্তনাদ কমেন্ট বক্স আর স্ট্যাটাসের মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ রয়ে যাবে,কিছু প্রিয়জন আফসোস করবে ইশ ও আমাকে কতোই না ভালোবাসতো ❤️
আমার আপনার মৃত্যুর খবর শুনেই, আপনার জন্য কোরআন নিয়ে বসে যাবে বা আপনার জন্য দুই রাকাত সালাত আদায় করে রহমানের দরবারে কান্না কাটি করবে, এমন একজন হয়তো হাতে গুনেও পাওয়া যাবে না, এই ভার্চুয়াল জগতে! 💔

আমি, আপনি, আমাদের রুহের আর্তনাদ গুলো যদি এই বেঁচে থাকা মানুষ গুলো উপলব্ধি করতে পারতো,
তবে কখনোই তারা মাতামাতি বাড়াবাড়ি তে লিপ্ত না হয়ে সঠিক পদ্ধতিতে আমাদের কবরে কিছু পাঠাতো,🙂
আমার মৃত্যুর খবর আপনাদের কানে আসা মাত্র ই আমার জন্য আপনারা দোয়া করবেন ইনশাআল্লাহ্ 🖤
আমাকে ক্ষমা করে দিয়েন!💔🙂

আমাদের সকলকে ই একদিন বিনা নোটিশে হুট করেই রবের ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যেতে হবে। জীর্ণ শীর্ন কবরে থাকতে হবে।
আমাদের উচিত সে কবরের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া..🥺
জীবন থেকে আরো একটি বছর চলে যাচ্ছে প্রায় শেষ জানিনা কখন মৃত্যু এসে হানা দেয় 🥹

আল্লাহ তায়ালা সকলকে সঠিক বু্ঝ দান করুক❤️
আমিন🖤

13/10/2023

৮ বছরের একটা বাচ্চা ছেলে ১ টাকার একটা কয়েন হাতে নিয়ে দোকানে গিয়ে বললো;
-- আপনার দোকানে কি আল্লাহ্‌কে পাওয়া যাবে?
দোকানদার একথা শুনে কয়েনটি ছুড়ে ফেলে দিয়ে তাড়িয়ে দিলো ছেলেটিকে।
ছেলেটি পাশের দোকানে গিয়ে ১ টাকা দিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো!
-- এই ছেলে.. ১ টাকা দিয়ে কি চাও তুমি
-- আমি আল্লাহকে চাই। আপনার দোকানে আছে?
দ্বিতীয় দোকানদার ও তাড়িয়ে দিলো।
কিন্তু; অবুঝ ছেলেটি হাল ছাড়লো না।একটার পর একটা দোকানে ঘুরতে লাগলো। ঘুরতে ঘুরতে চল্লিশটা দোকান ঘোরার পর এক বয়স্ক দোকানদার জিজ্ঞাসা করলো ;
তুমি আল্লাহকে কিনতে চাও কেন?কি করবে আল্লাহকে দিয়ে?
এই প্রথম কোন দোকানদারের মুখে এরকম প্রশ্ন শুনে ছেলেটির চোখেমুখে আশার আলো ফুটে উঠলো। নিশ্চয়ই এি দোকানে আল্লাহকে পাওয়া যাবে।হতচকিত কন্ঠে বললো,
আমার তো বাবা নাই,এই দুনিয়াতে আমার মা ছাড়া আর কেউ নাই।আমার মা সারাদিন কাজ করে আমার জন্য খাবার নিয়ে আসে।আমার মা এখন হাসপাতালে। মা মরে গেলে আমি খাবো কি? ডাক্তার বলেছে, একমাত্র আল্লাহই পারে আমার মাকে বাচাঁতে।আপনার দোকানে কি আল্লাহকে পাওয়া যাবে?
-- হ্যা পাওয়া যাবে…! কত টাকা আছে তোমার কাছে?
-- মাত্র ১ টাকা।
-- সমস্যা নেই। ১ টাকাতেই আল্লাহকে পাওয়া যাবে।
দোকানদার বাচ্চাটির কাছ থেকে ১ টাকা নিয়ে খুঁজে দখলো১ টাকায় ১ গ্লাস পানি ছাড়া বিক্রি করার মতো কিছুই নেই।তাই ছেলেটিকে ফিল্টার থেকে এক গ্লাস পানি ধরিয়ে দিয়ে বললো এই পানিটা খাওয়ালেই তোমার মা সুস্থ হয়ে যাবে।
পরেরদিন একদল মেডিকেল স্পেশালিষ্ট ডুকলো সেই হাসপাতালে।ছেলেটির মায়ের অপারেশন হলো।খুব দ্রুতই তিনি সুস্থ হয়ে উঠলেন।
ডিসচার্জ এর কাগজে হাসপাতালের বিল দেখে মহিলার অজ্ঞান হবার মতো অবস্থা। ডাক্তার উনাকে আশ্বস্ত করে বললো," টেনশনের কিছু নেই।একজন বয়স্ক ভদ্রলোক আপনার সব বিল পরিশোধ করে দিয়েছেন।সাথে একটা চিঠী দিয়েছেন। "
মহিলাটি চিঠী খুলে পড়ে দেখলো তাতে লেখা-
" আমাকে ধন্যবাদ দেওয়ার কোন প্রয়োজন নেয়।আপনাকে তো বাঁচিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ...আমি তো শুধু উসিলা মাত্র।বরং ধন্যবাদ দিলে দিন আপনার অবুঝ বাচ্চাটিকে।যে এক টাকা হাতে নিয়ে অবুঝের মতো আল্লাহকে খুঁজে বেড়িয়েছে। তার বুকভরা বিশ্বাস ছিলো,একমাত্র আল্লাহই পারে আপনাকে বাঁচাতে।এর নামই বিশ্বাস… এর নামই ঈমান।
আল্লাকে খুঁজে পেতে কোটি টাকা দান খয়রাত করতে হয়না, বিশ্বাস নিয়ে মন থেকে খুঁজলে এক টাকাতেও পাওয়া যায়।"
আসুন না, সবাই এই মহামারি থেকে বাঁচতে মন থেকে আল্লাহকে খুঁজি… তাঁর কাছে প্রার্থনা করি…তাঁর কাছে ক্ষমা চায়…!! আমিন।
সমাপ্ত
সংগ্রহীত

02/09/2023

ঘটনাটি পড়ুন, শরীরের লোমগুলো দাঁড়িয়ে যাবে! 📨

একটি যাত্রীভরা বাস চলতেছিল।

হঠাৎ ড্রাইভার বাসটিকে থামালেন ।

গাড়ি থামানোর কারন জানতে চাইল যাত্রীরা ।

সে (ড্রাইবার) উত্তর দিল, "এই যে একজন বৃদ্ধ লোক দেখচ্ছেন ' যিনি বাসে উঠার জন্য হাত নাড়াচ্ছেন, উনার জন্য আমি বাস থামাচ্ছি।"

যাত্রীরা বিষ্মিত হয়ে বলল,
"আমরা তো কাউকে দেখছি না।"


সে বলল, ঐ যে ওখানে উনার দিকে তাকান।

আবারও যাত্রীরা বলল,
"কাউকে দেখা যাচ্ছে না।"

এবার ড্রাইবার বলল,

এখন দেখুন,
লোকটি বাসে উঠছে!!

যাত্রীরা বিষ্ময়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে চিৎকার করে বলছে,
"আল্লাহর কসম! আমরা কাউকে দেখতে পাচ্চি না।

তারপর
এক মুহুর্তের মধ্যেই ড্রাইভার তার আসনেই মারা
গেল।

হতে পারে এই বৃদ্ধ লোকটিই ছিলেন মালাকাল মউত [আযরাঈল (আ)] !

কার মৃত্যু কখন কিভাবে আসবে একমাত্র আল্লাহ ভাল জানেন। আল্লাহ' আমাদের সবাইকে তুমি ঈমানের হালতে মৃত্যু দিও -------- (আমীন)

01/09/2023

ঘন্টার পর ঘন্টা মেসেঞ্জারে কথা বলাকে প্রেম বলে না। যেই মেয়েটা প্রতিদিন নিয়ম করে ৪/৫ ঘন্টা আপনার সাথে কথা বলতে চায়, সে আসলে আপনার সাথে প্রেম করছে না, সে আপনার ক্যারিয়ার নষ্ট করছে!

স্কিনশট দিয়ে রাখেন! দুইদিন পর এই মেয়েটা ই আপনার ক্যারিয়ারের দোহাই দিয়ে বাবার পছন্দ করা ছেলেকে বিয়ে করবে।

রাত দুইটার সময় কল দিয়ে কোনো মেয়ে যদি আইসক্রিম খাওয়ার বায়না করে আর আপনি যদি বোকার মত দৌড়ে গিয়ে আইসক্রিম কিনে দিয়ে আসেন, তাহলে সেই মেয়ে আপনার সাথে প্রেম করছে না, সে আপনার সাথে ঢং করছে। ঢং আর প্রেম এক জিনিস না।

জীবনটা হিন্দি সিনেমা না। আপনিও শাহরুখ খান না। আপনার প্রেমিকাও কাজল না। অনেক মেয়ে জানেই না যে, ঘন্টার পর ঘন্টা কথা না বলেও প্রেম করা যায়। রাতের পর রাত ন্যাকামি না করেও প্রেমিকা হওয়া যায়।

তিতা সত্য হচ্ছে, সব মেয়ে প্রেমিকা হওয়ার যোগ্যতা রাখে না। ঐ মেয়েটাই প্রেমিকা হওয়ার যোগ্যতা রাখে, যেই মেয়েটা আপনার ক্যারিয়ারের কথা ভাবে, যেই মেয়েটা আপনার সুবিধা বুঝে, অসুবিধা বুঝে, যেই মেয়েটা আপনার কষ্টগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে যেই মেয়েটা ভরসার হাত বাড়িয়ে দেয়, সেই মেয়েটাই প্রকৃত প্রেমিকা হওয়ার যোগ্যতা রাখে।

দিনশেষে একটা কথা মাথার ভিতর ঢুকিয়ে রাখেন-

ভালো মেয়েরা চাহিদার সাগরে ডুব দিয়ে থাকে না, ভালো মেয়েরা অন্যকে ভালো রাখার সাগরে ডুব দিয়ে থাকে!

-সংগ্রহীত

23/08/2023

#গল্পঃনিশিরাতের_কল
মেহেদী
পর্ব ২

টেনশন আর ভয়ের মাঝে হঠাৎ ফোনের স্ক্রিনে ভেসে উঠলো আবার সেই (+০৭৫১৮) কলটি। আমার কিছুতেই মাথায় আসছিল না যে মেয়েটা আমার কাছে কী চায়! একটা অশরীরি মৃত মেয়ে আমাকে কল দিয়েছে এটা ভেবেই শরীরটা ভয়ে শিউর উঠলো। যদিও আগেও মেয়েটা আমাকে কল দিয়েছিলো কিন্তু তখন তো বিশ্বাস হয়নি যে মেয়েটা মৃত। তাই ভয়ে কলটা কেটে দিলাম এবং মোবাইলটা বন্ধ করে রাখলাম যাতে মেয়েটা আর যেন কল দিতে না পারে।

হঠাৎ তারপর আবার আমার বন্ধ মোবাইলেই কল বেজে উঠলো ঠিক একই নাম্বার থেকে। এরপর ভয়ে ভয়ে কলটা ধরেই ফেললাম। কলটা ধরেই ভয়ে ভয়ে আমি বললাম:

-আপনি যে সাহায্য চেয়েছিলেন আমি করেছি। তারা আপনার লাশটা পেয়েছে।আবার কেনো কল দিয়েছেন?
-হ্যাঁ। এর জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। কিন্তু আপনার কাজ এখনো শেষ হয়নি। আমার আরেকটা সাহায্য চাই।

-দেখুন প্লিজ আমাকে আর কিছু করতে বলবেন না। আমি নিজেই বুঝতে পারছি না আমার সাথে এসব কী হচ্ছে! আপনি আমাকে পাগল বানিয়ে ফেলেছেন। আপনি আর আমাকে কল দিবেন না।
-আপনি ছাড়া আর কেউ আমাকে সাহায্য করতে পারবে না। প্লিজ না করবেন না।

-আচ্ছা আপনি তো সরাসরি আপনার বাবার কাছ থেকে সাহায্য নিতে পারেন। আর সত্যি আমি আপনাকে চিনি না। আপনি আমাকে কি করে চিনেন! বিশ্বাস করুন এর আগে আপনাকে কখনোই দেখিনি। আপনি কেনো শুধু আমাকেই কল দিচ্ছেন।
-এর উত্তর আপনাকে সময় হলে দিবো।
-সময় হলে মানে কি?
-যেদিন আপনার সাথে আমি দেখা করবো সেদিন আপনাকে সব বলবো।
-দেখা করবেন মানে? আপনিতো মারা গেছেন। তাহলে আর আমার সাথে দেখা করবেন কিভাবে?
-যেভাবে আমি মারা জাওয়ার পরেও আপনার সাথে কথা বলি সেভাবেই দেখা করবো।
-কী বললেন!?! নাহ! আপনার সাথে দেখা করার কোন ইচ্ছাই আমার নেই। আর দেখা করলেতো আমি ভয়ে মরেই যাবো।

- কিন্তু আপনি যদি আমাকে সাহায্য না করেন তাহলে তো আমাকে আপনার সামনে আসতেই হবে।
-আচ্ছা শেষ বারের মতো সাহায্য করছি। বলুন কিভাবে সাহায্য করতে পারি আপনাকে। এর পর আর আমাকে কল দিবেন না।
-শেষ বার না । এর পরেও আপনি আমাকে সাহায্য করবেন। না হলে আমি আপনার সামনে আসতে বাধ্য হবো। এবং আমি যদি আপনার সামনে আসি তাহলে আপনি সহ আপনার পুরো পরিবারকে একরাতেই শেষ করে দিবো।
-দেখুন এইভাবে কথা বলবেন না। আচ্ছা বলুন আমি করতে পারি?

-আপনি এখন সুলতান নগরে আমার বাড়িতে যাবেন। সেখানে আমার বাবা একা রয়েছে। আমার লাশ পাওয়ার পর থেকে বাবা একটানা কান্না করছে যাচ্ছে। আর বাবা অনেক্ষন কান্না করার কারণে তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে গেছে। এখন দ্রুত তাকে হাসপাতালে না নিয়ে গেলে সে মারা যাবে। আপনি দ্রূত সেখানে যান এবং আমার বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর ব্যবস্থা করুন।

-কিন্তু এতো রাত্রে আমি আপনার বাড়িতে যাবো কিভাবে?! প্লিজ এমন কাজ করতে বলবেন না।
-আমার বাবার কিছু হলে আপনার পরিবারকেও আমি শেষ করে দিবো। আপনি যেভাবেই পারেন এখন আমার বাড়িতে যান।

এরপর মেয়েটা কলটা কেটে দেয়। আমি বেশ ভয় পেয়ে যাই আর চিন্তায় পরে যাই। এতো রাত্রে এখন আমি বাড়ি থেকে বের হবো কিভাবে এটা ভেবে!! আর চিন্তা হতে থাকে যদি আমি সুলতান নগরে না যাই তাহলে মেয়েটা নিশ্চই আমার পরিবারের ক্ষতি করবে।

আর কোন উপায় না দেখে আমি বাবা-মাকে মিথ্যা কথা বলেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসলাম। তাদের বলেছিলাম যে আমার এক বন্ধু এক্সিডেন্ট করেছে তাই যেতে হবে।

রাতে বহু কষ্টে গাড়ি পেলাম। তারপর সুলতান নগরের সেই বাড়িটাতে পৌছালাম। পৌছে সত্যিই দেখলাম মেয়েটার বাবা অসুস্হ্য হয়ে মাটিতে পরেছিলো। আমি দ্রুত তার চোখে মুখে পানি দিয়ে জ্ঞান ফিরানোর চেষ্টা করি কিন্তু তার জ্ঞান ফিরে না। আমি ভয় পেয়ে গেলাম। লোকটা কী মারা গেলো নাকি! এরপর পালস চ্যাক করে দেখলাম এখনো বেঁচে আছে। এরপর আমি প্রতিবেশীদের ডাক দেই এবং তারা এসে লোকটাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় আর আমি বাড়িতে ফিরে আসি।

পরের দিন লোকটা সুস্থ আছে কিনা তা দেখতে হাসপাতালে যাই। গিয়ে দেখি লোকটা অনেকটাই সুস্থ রয়েছে। আমাকে দেখে একজন লোক আমাকে নিয়ে ভেতরে ঢুকলেন এবং মেয়েটার বাবাকে বললেন যে
-আমিই প্রতিবেশীদের উনার অসুস্থতার খবর দিয়েছিলাম।

এরপর সেই লোকটা চলে গেলো। মেয়েটার বাবা আমাকে বললো:
-ধন্যবাদ, বাবা। তোমার জন্যই আজ আমি বেঁচে গেলাম। কিন্তু তুমি কোথায় থাকো আর আমি যে অসুস্হ্য হয়ে পরেছিলাম সেটাই বা জানলে কিভাবে?

আমি তাকে কী বলবো বুঝতে পারছিলাম না। এরপর সাহস করে বলেই ফেললাম:
-আপনার মেয়ে আমাকে কল দিয়ে জানিয়েছে যে আপনি অসুস্থ।

লোকটা অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলো:
-আমার মেয়ে মানে? তুমি মজা করছো? সেতো ৩ দিন আগেই মারা গেছে।

এরপর আমি মেয়েটার বাবাকে সব কথা খুলে বললাম। যে আমিই তার মেয়ের লাশের খবর প্রথমে দিয়েছিলাম। এর আগে মেয়েটা মারা জাওয়ার পরেই আমাকে কল দিয়ে সব কথা বলেছিলো। মেয়েটাকে কারা কিভাবে হত্যা করে তা মেয়েটাই আমাকে কল দিয়ে বলেছিলো। এরপর গতরাতে মেয়েটাই কল দিয়ে আমাকে বলেছিলো যে লোকটা অসুস্থ।

এইসব কথা আমি মেয়েটার বাবাকে বললাম। মেয়েটার বাবা আমার কথাগুলোতো বিশ্বাসই করলো না উল্টো রেগে বললো:

-আমার মেয়ে মারা গেছে আর তুমি মজা করছো?
আমার মেয়ে মারা যাওয়ার পরেও তোমার সাথে কথা বলেছে? বেড়িয়ে যাও এখান থেকে। মেয়ে হারানোর কষ্ট তুমি কি বুঝবে!!
মজা নিতে এসেছো আমার সাথে।

আমি জানতাম যে লোকটা আমার কথা বিশ্বাস করবে না। কিন্তু আমারতো আর কিছু করার ছিলো না। যাহ সত্য তাই বলেছি মাত্র

হঠাৎ একটা কথা মাথায় আসলো। আমার মোবাইলে তো অটো কল রেকর্ডার আছে। তার মানে হয়তো মেয়েটার সাথে বলা সব কথা গুলো সেভ করা আছে। এই কথাটা এর আগে আমার মাথায় কেনো আসেনি! মেয়েটার বাবাকে কথাগুলোর রেকর্ড শুনিয়ে দিলেইতো সে বিশ্বাস করবে।

এরপর মোবাইলের সেভ করা কল রেকর্ডিং এ ঢুকে খুঁজতে লাগলাম সেই কল গুলোর রেকর্ড। তবে যাহ দেখলাম আমি পুরাই অবাক হয়ে গেলাম। গত কয়েক দিনের সব কলগুলোর রেকর্ডই রয়েছে শুধু রাতে আসা সেই মেয়েটার নাম্বারের কোন কলের রেকর্ড এখানে নেই।

আমি অবাক হয়ে আমার কল লিস্টে ঢুকি নাম্বারটা চেক করার জন্য। তবে পুরো কল লিস্ট খুজেও "+০৭৫১৮" নাম্বারটা খুজে পাই না। তার মানে মোবাইলের মতে গত কয়েকদিন ধরে রাত ১২ টার পরে আমার কোন নাম্বারের সাথেই কথা হয়নি। কিন্তু মেয়েটাতো রোজ রাতে আমাকে কল দিতো +০৭৫১৮ নাম্বার থেকে।

আমার মাথা পুরো উলটপালট হয়ে গেলো। আমি মেয়েটার বাবাকে আর কিছু না বলেই সেখান থেকে বেড়িয়ে চলে আসি।
এরপর রাস্তায় দাড়িয়ে ভাবতে থাকি মেয়েটা কেনো শুধু রাতেই আমাকে কল দেয় আর
কেন শুধু আমার কাছেই সাহায্য চায়।

মেয়েটা যাহ যাহ বলে তাই হয়। তার মানে মেয়েটার আত্মা নিশ্চই আশেপাশেই রয়েছে। কিন্তু মেয়েটার আত্মা এখনো মুক্তি পায়নি কেনো তার উত্তর আমার কাছে নেই।

দিন শেষে রাতে আমি ঘরে শুয়ে ছিলাম। আজ বাড়িতে আমি একা। বাবা আর মা , মামা বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছে। মোবাইলটা হাতে নিয়ে ভাবছিলাম আজকে রাতেও কী মেয়েটা আমাকে কল দিবে?! কিন্তু আজ কেনো কল দিবে। মেয়েটাকেতো আর কোন সাহায্য করার প্রয়োজন নেই। মেয়েটা আমাকে যা বলেছিলো আমি তাই করেছি।

এরপর হঠাৎ আবার সেই +০৭৫১৮ নাম্বার থেকে কল। আমি কিছুটা ভয় পেয়ে গেলাম। কেনো আবার কল দিলো মেয়েটা। এরপর মেয়েটার কলটা ধরলাম ওপাশ থেকে মেয়েটা কাঁদো কন্ঠে বললো:
-আমার বাবা মারা গেছে। আমি আপনার বাড়ির বাহিরে দাড়িয়ে আছি। আপনি দয়া করে একটু বাহিরে আসবেন।

এই বলেই কলটা কেটে দিলো। আমি ভয়ে আতকে উঠলাম। মেয়েটা আবার আমার সাথে দেখা করতে কেনো আসলো!? আর মেয়েটার বাবা ইবা কিভাবে মারা গেলো।! তাকে তো সকালেও সুস্থ্য দেখেছিলাম। এরপরেই হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠলো। আমি আরো বেশি ভয় পেয়ে যাই। আসলেই কী মেয়েটা বাহিরে আসছে?নাকি।

এরপর আমি ভয়ে ভয়ে দরজার দিকে এগিয়ে যেতে থাকি। এই ভেবেই ভয়ে আমার হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছিলো যে এতো রাত্রে একটা মৃত মেয়ের আত্মা আমার সাথে দেখা করতে এসেছে। তাও আবার আমি এখন বাড়িতে একা। তাই আত্মাটা আমার সাথে যেকোন কিছু করতে পারে।

এরপর কিছুটা ভয় কাটিয়ে দরজাটা খুলেই ফেললাম। দরজাটা খুলে ঘর থেকে বাহিরে এসে চারিদিকে খুজতে লাগলাম কে কলিং বেল বাজালো! অরিনের আত্মা কি এখানে এসেছে!! তবে আশেপাশে আমি কাউকেই দেখতে পেলাম না। কিছুটা অবাক হয়ে আমি বলতে লাগলাম:
-এখানে কী কেউ আছে? কে কলিং বেল বাজালো? অরিন? আপনি কী এখানে আছেন?

এরপর বাতাসে ভাসা ভাসা একটা কন্ঠের উত্তর আসলো:
-হ্যাঁ মনির। আমি এখানেই আছি। তবে আমি মৃত আত্মা। তাই আপনি আমায় দেখতে পারবেন না।
-তাতো বুঝলাম কিন্তু আপনি এতো রাতে আমার বাড়িতে আসলেন কেনো? ফোনেই তো কথা বলতে পারতেন। আর আপনার বাবাইবা মারা গেলো কিভাবে?

-আমার হঠাৎ মৃত্যু বাবা কিছুতেই সহ্য করতে পারেনি। আপনি তাকে হাসপাতালে দেখে আসার পরেই বাবা কিছুটা সুস্থ্যতা বোধ করে এবং বাড়িতে চলে আসে। এর পরে তিনি আবার আমার কথা ভেবে কাঁদতে থাকে এবং এক পর্যায়ে হার্ট এটাক করে মারা যায়।

-কি বলছেন?! এর জন্য আপনি এখানে এসেছেন? আমাকে কী আপনার বাবার দাফনে সাহায্য করতে হবে? মানে প্রতিবেশীদের এই কথাটা জানাতে হবে যে আপনার বাবা মারা গেছেন!!?
-নাহ। আমার আত্মীয় স্বজনেরা এর মধ্যেই চলে এসেছে। আমার অন্য আরেকটা সাহায্য চাই।

-অন্য সাহায্য?! আচ্ছা এর আগে আপনি আমার ঘরে আসুন। এখন তো রাত প্রায় ২টা বাজে। কেউ যদি দেখে এতো রাতে আমি বাহিরে দাড়িয়ে একা একা কথা বলছি তাহলে সবাই আমাকে পাগল ভাববে।

-আপনার ঘরে আমি যেতে পারবো না। আপনার ঘরে পবিত্র কোরআন শরীফ রয়েছে আর আমি এক অভিশপ্ত আত্মা। তাই চাইলেও আমি আপনার ঘরে প্রবেশ করতে পারবো না। আপনাকে আগে সেটা সড়াতে হবে।
-দুঃখিত এটা আমি কিছুতেই সড়াতে পারবো না। চলুন তার চেয়ে ভালো আমরা ছাদে যাই।
-চলুন।

এরপর আমি সিড়ি দিয়ে ছাদে উঠছিলাম আর মনে মনে ভাবছিলাম একটা মৃত মেয়ের আত্মার সাথে আমি এখন ছাদে দাড়িয়ে থাকবো! এর চেয়েতো নিচেই ভালো ছিলো। একটা মৃত মেয়ের আত্মা আমার সাথে এতো রাতে ছাদে যাচ্ছে এটা ভেবেও প্রচন্ড ভয়ে আমার পুরো শরীর শিহরে উঠছিলো।

এরপর আমরা দুজনেই ছাদে উঠলাম। আমি ভয়ে ভয়ে তাকে প্রশ্ন করলাম:
-অরিন? আপনি এসেছেন? কী যেনো সাহায্যের কথা বলেছিলেন?

-হ্যাঁ। একমাত্র আপনিই আমায় সাহায্য করতে পারেন। আমাকে এই সব কিছুর প্রতিশোধ নিতে হবে। আপনি আমায় সাহায্য করবেন?!
-প্রতিশোধ! কিসের প্রতিশোধ?
-যারা আমাকে হত্যা করেছে আমি তাদের খুজে বের করে তাদের রক্তে স্নান করতে চাই।
-মানে কী?! তাদের শাস্ত্রী একদিন ঠিকই
হবে। আপনি মারা গেছেন। এখন আপনার এপার দুনিয়ার মায়া কাটিয়ে ওপার দুনিয়ায় চলে জাওয়া উচিত।

-হ্যাঁ। আমি অবশ্যই যাবো। তবে এর আগে ঐ নরপশুদের হত্যা করে যাবো। আপনিই বলুন আমার কী অপরাধ ছিলো? তারা আমাকে কেনো হত্যা করেছে? শুধু শারীরিক চাহিদা পুরণের জন্য?

আমার জন্মের পরেই আমার মা মারা যায়। তাই সবাই আমাকে অপয়া বলতো। কিন্তু আমার বাবা নিজের থেকেও আমাকে বেশি ভালোবাসতো।
তার স্বপ্ন ছিলো আমাকে ডাক্তার বানাবে। তাই শত অভাবের মাঝেও বাবা আমার লেখাপড়া কখনো বন্ধ হতে দেয়নি। আমি এইবার এইচ.এস.সি পরীক্ষা দিতাম। একটা সরকারী মেডিকেলে ভর্তি হওয়ারো প্রস্ত্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ আমার জীবনটা পুরো বদলে দিলো সেই নরপশুগুলো। কী দোষ ছিলো আমার!? আর কী দোষ ছিলো আমার বাবার!! আমরাতো সুখেই ছিলাম কিন্তু কেনো আমার সাথে তারা এমন করলো। আমাকে তাদের খুন করে প্রতিশোধ তো নিতেই হবে।

-দেখুন আপনি যাহ খুশী তাই করুন। কিন্তু আমাকে এর মধ্যে টানছেন কেনো? আর আপনি আমাকে কী করে চিনেন সেটাতো আগে বলুন।
-সেটা বলার সময় এখনো হয়নি। আপাতত আপনি আমাকে সাহায্য করুন।
-আমি আপনাকে আর কোন সাহায্য করতে পারবো না। আপনি চলে যান।

-আমি যদি এখান থেকে চলে যাই তাহলে বুঝে নিন আপনার পরিবারের সাথে এমন কিছু খারাপ ঘটবে যেটা আপনিকল্পনাও করতে পারবে না।
-আপনি সব কিছুর মাঝে কেনো শুধু আমার পরিবারকে টেনে আনো?
-আপনাকে তো বললাম যে শেষ বারের মতো আর একবার আমাকে সাহায্য করুন। কথা দিচ্ছি এরপরে কখনো আপনাকে আর বিরক্ত করবো না।
মুক্ত করে দিবো আপনাকে।

-আচ্ছা বলুন আপনার কী সাহায্য চাই?
-আমার একটা শরীর চাই। যেই শরীরে আমি আমার আত্মাকে প্রবেশ করাতে পারবো। আমি সেই শরীরকে নিজের আয়ত্তে আনবো। তখন আর আমার অন্য কারোর সাহায্যের প্রয়োজন হবে না। নিজেই নিজের প্রতিশোধ নিতে পারবো । কথা দিচ্ছি সেই শরীরটা পেলেই আমি আপনাকে মুক্ত করে দিবো।
-আপনি কী পাগল হয়ে গেছেন?! আপনাকে আমি শরীর দিবো কোথা থেকে? আপনি কী কোন ভাবে আমার শরীরে আপনার আত্মা প্রবেশ করাতে চাইছেন?!

-সেটা পারলে কী আর এতক্ষন আপনার সাথে দাড়িয়ে কথা বলতাম! কখন আপনার শরীরে ঢুকে যেতাম। আমি কোন জীবিত শরীরে ঢুকতে পারবো না। আমার একটা মৃত লাশ লাগবে।
-কিসের লাশ ? আমি এখন আপনার জন্য লাশ পাবো কোথা থেকে? আর আমি লাশইবা আনবো কিভাবে?

-সেটা আপনি জানেন। কিন্তু কাল আমাবস্যা রাত। কালকের মধ্যেই আমার একটা মেয়ের লাশ চাই। না হলে কিন্তু আমি আপনার বাঁচা মুশকীল করে দিবো।
-বিশ্বাস করুন, আমার পরিচিত কোন হাসপাতাল নেই। যেখান থেকে আমাকে একটা লাশ কেউ জোগাড় করে দিবে। আমি এমন কাজ করতে পারবো না।

আপনি অন্য কোথাও চেষ্টা করেন।
-হাসপাতালের কী দরকার? আপনার বাড়ি থেকে কিছুটা দুরেই তো একটা কবরস্হান রয়েছে। সেখানে শুনেছি রোজ ২-৩ টা লাশ দাফন দেওয়া হয়।
-হ্যাঁ। তো?

- আপনার বাড়িতেতো কোদাল আছে তাই না? কবরস্হানে চলে যান আপনি। সেখান থেকে একটা নতুন কবর খুরে একটা মেয়ের লাশ নিয়ে আসবেন আমার জন্য।
পারবেন না?
-আমি এতো জঘন্য কাজ কিছুতেই করতে পারবো না। আপনি চলে যান এখান থেকে।
-নাহ। আপনাকে এই কাজটা করতেই হবে।
আমার কালকের মধ্যেই একটা মেয়ের তাজা লাশ চাই।

মৃত মেয়েটার আত্মার এইসব কথা শুনে আমার মাথা পুরো গরম হয়ে
গেলো। যেই আমি কবর দেখলে দিনের বেলায়ই সেই রাস্তা দিয়ে হাটতাম না। আর সেই আমাকেই এই মেয়েটার আত্মা রাতের বেলায় কবরস্হানে গিয়ে কবর খুরে লাশ আনতে বলছে!! আমার পক্ষে এটা করা কিছুতেই সম্ভব না। সে চাইলে যেকোন কিছু করুক আমি আর তার কোন কথা শুনতে পারবো না। ভাবতে লাগলাম তাকে কী করে এখন এখান থেকে তাড়িয়ে দিবো।

হঠাৎ মনে পড়লো মেয়েটার আত্মাতো অভিশপ্ত। তাই আমার ঘরে কুরআন শরীফ থাকাতে সে প্রবেশ করতে পারেনি। তারমানে আমি যদি এখন কুরআনের কিছু আয়াত তাকে পড়ে শুনাই তাহলে সে ভয়েই চলে যাবে।

এরপর আমি কুরআনের কিছু আয়াত পড়তে শুরু করি। এরপর যাহ ভেবেছিলাম তাই হলো মেয়েটার আত্মা জোড়ে জোড়ে চিৎকার করতে লাগলো আর বলতে লাগলো:
-নাহ! তুমি এটা করতে পারো নাহ! তুমি এটা ঠিক করলে না! আমাকে এখান থেকে তাড়িয়ে তুমি ঠিক কাজ করলে না। এর ফল তোমাকে ভোগ করতেই হবে। তোমার পরিবারকে ভোগ করতে হবে।

এই বলেই মেয়েটার আত্মা চিৎকার করতে করতে সেখান থেকে চলে গেলো। আমি যেনো হাফ ছেরে বাঁচলাম। এরপর দৌড়ে এসে নিজের ঘরে প্রবেশ করলাম।

অনেক রাত হয়ে গিয়েছিলো। এরপরে আবার পুরো বাড়িতে আমি একা রয়েছি। তাই তারাতারি ঘুমিয়ে পড়লাম। এরপরে হঠাৎ একটা অদ্ভুত ভয়ংকর স্বপ্ন দেখে ঘুমটা ভেঙে গেলো আমার।

স্বপ্নে দেখলাম," আমি একটা কোদাল হাতে নিয়ে বাড়ির পাশের সেই কবরস্হানের দিকে হেটে যাচ্ছিলাম। এরপরে হঠাৎ একটা নতুন কবরের সামনে এসে দাড়ালাম। কবরটা কোদাল দিয়ে খুরতে লাগলাম। কবরটা খুরার পর একটা কাফনে মোরা লাশ দেখতে পেলাম। লাশটার মুখটা থেকে কাফনের কাপড়টা সরালাম লাশটার মুখ দেখার জন্য। ঠিক তখনি দেখলাম একটা অচেনা মেয়ের লাশ এটা। মেয়েটা বড় বড় চোখ করে আমার দিকে তাকিয়ে রয়েছে আর ভয়ংকর ভাবে হেসে চলেছে। আমি অনেক ভয় পেয়ে যাই। হঠাৎ কবরের উপর থেকে কতগুলো টুপি পড়া লোক কবরের ভেতরে আমার উপরে মাটি ফালাচ্ছিলো। এরপরে আমি কবর থেকে উঠে আশার চেষ্টা করি কিন্তু মেয়েটার লাশটা শক্ত করে আমাকে জড়িয়ে ধরে। এরপরে আমি চিৎকার করতে থাকি। কেউ আমাকে বাচাও।
কেউ আছো!??"

এর পরেই আমার ঘুমটা ভেঙে যায়। মাঝরাতে বাড়িতে একা ছিলাম। একে বিদ্যুত ছিলো না তার উপর বাহিরে টানা বৃষ্টি আর বজ্রপাত হচ্ছিলো। তার উপর আমি আবার এতো ভয়ংকর একটা স্বপ্ন দেখলাম। আমার মনে হচ্ছিলো যে আমি এখন ভয়েই মারা যাবো। আমার মনে হচ্ছিলো আমার ঘরে কেউ হাঁটাচলা করছে। কিন্তু এটা তো অসম্ভব কারণ আমার বাবা-মা বাড়িতে নেই আর ঘরে পবিত্র কুরআন শরীফ রয়েছে যাতে করে ঘরে কোনো অভিশপ্ত আত্মা প্রবেশ করতে পারবে না।

এরপরে অনেক কষ্টে কাঁথার ভেতরে মাথা ঢুকিয়ে ভয়ে ভয়ে ঘুমিয়ে পরলাম।

সকাল বেলা মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙলো। বুঝলাম যে মা আর বাবা, মামা বাড়ি থেকে ফিরেছে। যাক কিছুটা সঃস্তী পেলাম।

এরপর ঘুম থেকে উঠে চোখ খুলেই দেখি মা আমার দিকে
রাগান্বীত ভাবে ভয়ংকর দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে।

এরপর মা যাহ বললো:
-তোর এটা করা উচিত হয়নি। মেয়েটা বিপদে পরে তোর কাছে সাহায্য চাইতে এসেছিলো। তোর ওকে সাহায্য করা উচিত ছিলো।

আমি মায়ের কথা শুনে এক লাফে বিছানা থেকে উঠে দাড়িয়ে গেলাম আর ভাবতে লাগলাম আমিতো মা কে কিছু বলিনি মেয়েটা সম্পর্কে তাহলে মা মেয়েটার কথা জানলো কিভাবে!!
?
এরপর দরজার সামনে আমার বাবা আসলো। সেও বললো:
- বাবা! তোর এই মৃত মেয়েটার আত্মাকে সাহায্য করা উচিত ছিলো।

আমি আমার বাবা আর মায়ের কথা শুনে আৎকে উঠলাম। এরা এসব কী বলছে?! এরা মেয়েটা সম্পর্কে কিভাবে জানলো?
.......

আমি আমার বাবা আর মায়ের কথা শুনে আৎকে উঠলাম। এরা এসব কী বলছে?!
আমার বাবা আর মায়ের সাথেও দেখা করেছে নাকি?!

এ ভেবেই আমি আরো বেশি ভয় পেয়ে যাই। এরপর আমি ভয়ে ভয়ে আমার মাকে বলি-
-কী বলছো তোমরা? এসব তোমরা জানলে কিভাবে?
এরপর মা যাহ বললো আমি পুরো ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলাম।
-কী বললাম মানে? তোকে খাবার টেবিলে গিয়ে খাবার খাওয়ার কথা বললাম। আর তুই পাগলের মতো এইভাবে লাফিয়ে উঠলি কেনো? কোন স্বপ্ন দেখছিলি নাকি?
বাবা বললো
-কিরে? এইভাবে চিৎকার করলি কেনো?
আমি কিছূই বুঝলাম না। তারাতো আমার সাথে স্বাভাবিক ভাবেই কথা বলছিলো। তাহলে নিশ্চই আমিই ভুল শুনেছি। ভাবলাম হয়তো সারারাত মেয়েটাকে নিয়ে চিন্তা করার কারণে সকাল বেলা বাবা-মায়ের স্বাভাবিক কথাটাই অস্বাভাবিক লেগেছে।

তারপর আমি বাবা-মাকে বললাম যে আমি তাদের সাথে মজা করছিলাম এবং এরপর পরিবেশটাকে তাড়দের সামনে স্বাভাবিক করে ফেলি।
আমি নিজেও ঘটনাটা স্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছিলাম।
ভাবলাম হয়তো আমার শুনায় ভুল ছিলো।

এরপর নাস্তা করে বাড়ির বাহিরে বের হলাম একটু হাঁটাহাঁটি করার জন্য। পথেই দেখা হয় বাল্য বন্ধু নাঈমের সাথে। নাঈম বললো
-চল দোস্ত। আজ এলাকাটা একটু ঘুরে আসি। অনেকদিন একসাথে ঘুরা হয়না।

এরপর আমরা একসাথে হাঁটতে থাকি। হঠাৎ সেই কবরস্হানের পাশের রাস্তায় এসে দাড়ালাম আমরা। কবর স্হানে বেশ ভীর দেখতে পেলাম আমি। তাই বন্ধু নাঈমের কাছে জানতে চাইলাম
-কিরে নাঈম ? এতো মানুষ কেনো কবরস্হানে? কেউ মারা গেছে নাকি?
-হ্যাঁ। কেন তুই জানিস না?
-নাহ। কে মারা গেছে?
-গতকাল রাতেই একটা মেয়ে আত্মহত্যা করে মারা গিয়েছে। মেয়েটা তাদের সাথে এখানে থাকতো না। ঢাকায় থেকে লেখাপড়া করতো একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে। হঠাৎ পরিবারের লোকদের সাথে তার অনেক ঝগড়া হয়। এরপর সে ঢাকাতেই তার রুমে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে।
আজ সকালে লাশটা এখানে আনা হয়েছে আর এখন দাফন দেওয়া হচ্ছে।
-ওহ । আমি কী মেয়েটাকে চিন্তাম?
-মনে হয় না। কারণ মেয়েটা খুব একটা এখানে থাকতো না। কয়েক মাস পর পর আসতো আর সেই দিনেই চলে যেতো। আচ্ছা দাড়া মেয়েটার ছবি আমার মোবাইলে আছে। তোকে দেখাচ্ছি ।
-থাক! মৃত মানুষের ছবি দেখলে রাতে ঘুম হবে না।
-ভীতুর একটা। আমি কী তোরে লাশের ছবি দেখাবো!!আমার সাথে মেয়েটার ইনস্টাগ্রামে ফলো দেওয়া ছিলো। সেখান থেকে ছবি দেখাচ্ছি।
-আচ্ছা দে।

এরপর নাঈম মোবাইলটা বের করে আমাকে, যে মেয়েটা মারা গেছে তার ছবি দেখালো।
আমি মেয়েটার ছবি দেখে আৎকে উঠলাম।
আরে! এইটাতো সেই মেয়েটা আমি গত রাতে স্বপ্নে দেখেছিলাম কবরে। আমি গতরাত স্বপ্নে, নতুন কবর খুঁড়ে কাফনের কাপড় সড়িয়ে যে অচেনা একটা মেয়ের চেহারা দেখেছিলাম সেই মেয়েটা আর এই মেয়েটার ছবি একই।
তার মানে এই মেয়েটার লাশই গতরাতে স্বপ্নে আমি দেখছিলাম তারপর সে !!
ভালো লাগলে পেজ টাকে ফলো করুন
লাইক কমেন্ট শেয়ার করুন

বাকি পাট গুলো এই পেইজ এ পাবেন ( Mr.TF )

22/08/2023

রাত প্রায় ১ টা আমি ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। হঠাৎ একটা অদ্ভুত রকমের নাম্বার থেকে কল আসলো। নাম্বারটা ছিলো +০৭৫১৮। ভাবলাম হয়তো সিম কোম্পানী থেকে কলটা এসেছে। ফ্রিতে কোন গান শোনায় কিনা। কলটা ধরতেই বেশ অবাক হয়ে যাই। ঐ পাশ থেকে একটা মেয়ের কাঁদো কাঁদো কন্ঠ। মেয়েটা আমাকে বললো:

-হ্যালো! আপনি কী সাকিল হাসান ?
-হ্যাঁ বলুন। আপনি কে?
-আপনি আমায় চিনবেন না। আমার একটা সাহায্য চাই আপনার কাছ থেকে।
-এতো রাতে!! কি সাহায্য?
-সাহায্যটা কাল সকালে করলেও চলবে।
-আচ্ছা আগেতো বলুন কি সাহায্য।
-বলছি। হয়তো আপনি আমার কথা বিশ্বাস করবেন না বা ভাববেন মজা করছি।
আমার নাম জান্নাতুন অরিন । আমি সুলতান নগরে থাকি। রোজ সকালে পাশের এলাকায় একটা টিউশনি পড়াতে যাই। রোজকার মতো আজকে সকালেও টিউশনি শেষ করে বাড়িতে ফিরছিলাম। রাস্তাটা বেশ ফাকা ছিলো। হঠাৎ কিছু অপরিচিত ছেলেদের দেখলাম রাস্তায় মাতলামো করছিলো। আমি তাদের দেখে ভয় পেয়ে যাই । আমি ভয়ে ভয়ে রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ তাদের মধ্য থেকে একটা ছেলে আমার সামনে এসে দাড়ায়। আমি কিছু বলার আগেই ছেলেটা আমার মুখ চেপে ধরে। বাকি ছেলেগুলো আমাকে জোর করে ধরে একটা গাড়িতে তোলে। তারা আমার মুখ আমার ওরনা দিয়ে বেঁধে
দেয়। আমি চাইলেও চিৎকার করতে পারছিলাম না। আমি নিজেও জানতাম না তারা আমাকে কোথায় আর কেনো নিয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষন পর তারা আমাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে জোর করে একটা পুরাতন জমিদার বাড়িতে নিয়ে যায়। জমিদার বাড়িটা আমি আগে থেকেই চিন্তাম তবে এর আগে কখনো এখানে আসা হয়নি। ওরা ৫ জন ছিলো।

এতক্ষনে আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে তারা আমাকে কেনো ধরে এনেছে। তারা আমাকে একটা ঘরের ভেতর নিয়ে যায় এবং নরপশুর মতো আমার উপর ঝাপিয়ে পরে এবং জোর করে একের পর এক আমাকে রেপ করতে থাকে। এক পর্যায়ে আমি যখন একজনকে ধাক্কা দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি তখন তাদের মধ্যে একজন একটা ছুরি এনে আমার গলায় চালিয়ে দেয়। আমি সাথে সাথে মাটিতে লুটিয়ে পরে যাই এবং কিছুক্ষন পরে মারা যাই। এরপর তারা আমার লাশটাকে জমিদার বাড়ির পাশেই একটা ঝোপে ফেলে চলে যায়।
-কী বললেন? আপনি মারা গেছেন!! আর আপনার লাশ ঝোপে ফেলে গেছে তারা? এতো রাতে আপনি কল দিয়ে আমার সাথে মজা করছেন? আপনি যদি মারা গিয়ে থাকেন তাহলে আমার সাথে কথা বলছেন কিভাবে!!?

-সেটা আমি আপনাকে পরে বলবো। প্লিজ আপনি আমাকে সাহায্য করুন। আমার লাশটা ঝোপে পরে রয়েছে। আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে। আমার বাবা আমাকে অনেক খুচ্ছে। সে থানায়ো জিডি করেছে। তারা পুরো এলাকা আমায় খুজে পাগল হয়ে যাচ্ছে। আপনি প্লিজ একবার আমার বাবার কাছে গিয়ে বলুন যে আমার লাশটা জমিদার বাড়ির ঝোপে পরে রয়েছে। তারা যাতে দ্রুত আমার লাশটাকে সেখান থেকে নিয়ে যায়। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে।
-আপনি আসলেই একজন সাইকো। এতোরাত্রে আমার সাথে মজা নিচ্ছেন? ফোন রাখুন!

এই বলেই রেগে কলটা কেটে দিলাম। ভাবলাম এতোরাতে এই ধরনের মজার কোন মানেই হয় না?! মেয়েটা কী উল্টাপাল্টা কথা বলছিলো। মেয়েটা মারা গেলে আবার আমার সাথে কথা বলছে কিভাবে!

কিন্তু মেয়েটা কে ছিলো!? আর আমার নামই বা জানলো কিভাবে?!! তা আমি কিছুতেই বুঝতে পারছিলাম না। কিন্তু এতো সিরিয়াস একটা বিষয় নিয়ে কোন মেয়ে কেনো আমার সাথে মজা করবে এটাও বুঝলাম না। এরপর ভেবেই নিলাম হয়তো পরিচিত কোন বন্ধু মজা করেছে। তাই এটা নিয়ে আর কিছু না ভেবে ঘুমিয়ে পড়লাম।

পরের দিনটা পুরোটাই স্বাভাবিক ভাবে কাটিয়ে দিলাম। দিনে একবারো কলটার কথা মনেও পড়েনি। আবার রাতে ঘুমাতে ঘুমাতে প্রায় ১ টা বেজে গেলো। হঠাৎ আবার সেই +০৭৫১৮ নাম্বার থেকে কল আসলো। প্রথম বারে ধরলাম না। পরে আবার আরেকটা কল আসলো একই নাম্বার থেকে। এইবার অনেকটা রেগেই কলটা ধরলাম। আর বললাম:
-কী সমস্যা আপনার? আজকে আবার কল দিয়েছেন কেনো?!

-আপনাকে না বললাম আমাকে একটু সাহায্য করতে। আপনি আজকে দিনে আমার বাবার কাছে কেনো জাননি?? আর আমার কথা কেনো বলেননি? জানেন আজ আমি মারা গেছি দুইদিন হয়ে গেলো। দুই দিন ঝোপটাতে কতো কষ্টে পরে রয়েছি। আমার বাবাও আমায় খুজতে খুজতে অনেক অসুস্হ্য হয়ে পড়েছেন। প্লিজ একবার অন্তত আমার বাবার কাছে গিয়ে সব কথা তাকে খুলে বলুন।
-আপনি এতো মানুষ থাকতে আমার সাথে কেনো মজা নিচ্ছেন? প্লিজ এসব বন্ধ করুন।
-দেখুন আমি মজা করছি না। আপনি অন্তত একবার আমার বাড়িতেতো গিয়ে দেখুন। সব বুঝতে পারবেন। আমার বাড়ি আপনার বাড়ি থেকে খুব একটা দুরে না। সুলতান নগর বাজারের নিকটে ১০৭ নাম্বার বাড়িটাই আমার প্লিজ একটু সাহায্য করুন।

এরপর আমি কলটা কেটে দিলাম। মেয়েটার কথাগুলো বিশ্বাস করার মতো না। কিন্তু মেয়েটা এমনভাবে আমার সাথে কথাগুলো বলেছিলো যে আমার মনে হলো মেয়েটা মিথ্যা কথা বলছে না। আর মেয়েটা আমার নামও জানে। অর্থাৎ আমাকে চিনে।

আমি বুঝতে পারছিলাম না যে আমার কী করা উচিত। মেয়েটা এমন সব কথা বলেছিলো যে এটা কারো সাথে শেয়ার করলে, সেও আমায় পাগল ভাববে।

তবে আমি এতোটা বুঝতে পারছিলাম যে একটা মেয়ে এইসব ব্যাপার নিয়ে অন্তত আমার সাথে মজা করবে না।

সবার প্রথমে তাহলে কাল আমাকে সুলতান নগরের ১০৭ নাম্বার বাড়িটাতে যেতে হবে। তারপরেই সব কিছু বুঝতে পারবো। আর যদি কেউ মজা করে থাকে তাহলেও হয়তো তার বাড়ি ঐখানেই রয়েছে।

সুলতান নগর আমাদের এলাকা থেকে খুব একটা দুরে না। তাই পরের দিন সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠেই সুলতান নগরের উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পড়লাম। সুলতান নগরে পৌছানোর পর সেখানকার মানুষদের কাছে ঠিকানা জেনে ঠিক ১০৭ নাম্বার বাড়িটার সামনে গেলাম।

বাড়িতে পৌছে দেখলাম বাড়িটাতে বেশ ভীর। এরপর একজন লোকের কাছে ভীরের কারন জানতে চাইলাম। লোকটা আমাকে যাহ বললো আমি পুরো অবাক হয়ে গেলাম। লোকটা বললো:
-গত দুই দিন ধরে এই বাড়ির মেয়েটাকে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। মেয়েটা দুইদিন আগে পাশের এলাকায় টিউশনি করাতে গিয়েছিলো এরপর থেকে আর বাড়ি ফিরেনি। পুলিশ সহ এলাকাবাসী ২দিন ধরে পুরো কয়েকটা এলাকা খুজেও মেয়েটাকে পায়নি। সেই টেনশনে মেয়েটার বাবা অনেক অসুস্হ্য হয়ে পড়েছে ।

মেয়েটা আমাকে ফোনে যা যা বলেছিলো তা যে এইভাবে সত্যি হবে ভাবতে পারিনি।

এরপর আমি লোকটার কাছে মেয়েটার নাম জানতে চাই। লোকটা বললো:
-জান্নাতুন অরিন।

এরপর আর আমার কিছুই বলার ছিলো না। আমি অবাক হয়ে বাড়িটার সামনে দাড়িয়ে ছিলাম। তার মানে মেয়েটা কল করে যাহ বলেছিলো সব সত্যি। কিন্তু একজন মেয়ে মারা জাওয়ার পর কিভাবে ফোনে কথা বলতে পারে তা আমার মাথায় আসছিলো না।

মেয়েটার বাকি কথাগুলোও যদি সত্যি হয় তাহলে মেয়েটার লাশ এখন জমিদার বাড়ির ঝোপে পরে রয়েছে। আর এই কথাটা শুধু আমি জানি। আমি ভাবছিলাম মেয়েটার বাবাকে বা পুলিশকে কিভাবে বলবো যে মেয়েটার লাশ জমিদার বাড়ির ঝোপে পরে রয়েছে।

কারন তাদের যদি বলি যে মেয়েটার লাশ ঐ ঝোপে পরে রয়েছে তাহলে তারা আমার কাছ থেকে জানতে চাইবেন যে এটা আমি কী করে জানলাম। আর আমি যদি বলি যে মেয়েটা মারা জাওয়ার পর আমাকে কল দিয়ে এইকথা গুলো বলেছে তাহলে তারা আমার কথা বিশ্বাসতো করবেই না উল্টা আমাকে আরো সন্দেহ করবে। তাই ভাবলাম তাদের কিছু বলার আগে প্রথমে সেই জমিদার বাড়ির ঝোপে গিয়ে দেখি কোন লাশ পাই কিনা।
তবে আমার কেনো জানি মনে হচ্ছিল যে আমি ঝোপে লাশটা পাবো না।

এরপর আমি একজন লোকের কাছ থেকে জমিদার বাড়িটার ঠিকানা জেনে জমিদার বাড়ির উদ্দ্যেশ্যে রওনা দিলাম। বেশ কিছুক্ষণ পর সেই পুরোনো জমিদার বাড়িতে পৌছালাম। দেখলাম আসলেই বাড়িটা বেশ নির্জন একটা জায়গায়। এখানে মানুষ খুব একটা আসা-জাওয়া করে না। মেয়েটার কথা মতো আমি বাড়িটার আশেপাশে ঝোপ খুজে বেড়াচ্ছিলাম। প্রথমে কোন ঝোপ না দেখলেও কিছুক্ষণ পর বেশ কিছুটা দুরে একটা ঝোপ দেখতে পেলাম। ঝোপটা দেখেই ভয়ে ভয়ে ধীরে ধীরে ঝোপটার দিকে এগোতে লাগলাম। এরপর ঝোপটাতে তাকিয়ে যাহ দেখলাম আমি পুরো ভয়ে চিৎকার দিয়ে উঠলাম। মেয়েটা যাহ বলেছিলো তাই ঠিক হলো। ঝোপে একটা মেয়ের অর্ধনগ্ন অবস্থায় লাশ পরেছিলো। লাশটা থেকে বেশ দূরগন্ধও বের হচ্ছিলো।

আমি অনেক ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। তাই ভয়ে চিৎকার করতে করতে দৌড়ে জমিদার বাড়ি থেকে বেড়িয়ে আসলাম। এরপর আশেপাশের লোকদের চিৎকার করে ডাকলাম। তারা আসলে তাদেরকে বলি যে ঐ বাড়ির ঝোপটায় একটা মেয়ের লাশ পরে রয়েছে। তারাও অবাক হয়ে দৌড়ে যায় ঝোপটার কাছে এবং লাশটা দেখে বেশ ভয় পেয়ে যায়।

আমি বুঝতে পারছিলাম না আমার সাথে কি হচ্ছে। মেয়েটা যাহ বলেছিলো ঠিক তাই হলো। তার মানে মেয়েটা মিথ্যা বলেনি। সে আসলেই মারা জাওয়ার পর আমাকে কল দিয়েছিলো। আমি ভয়ে চুপচাপ মাটিতে বসে পড়লাম। একটু পর এলাকার লোকেরা পুলিশকে কল করলো এবং পুলিশ আসলো।

পুলিশ এসেই লাশটাকে দেখে চিনতে পারলো যে এই মেয়েটাই ২ দিন আগে সুলতান নগর থেকে নিখোজ হয়েছিলো। এরপর তারা মেয়েটার বাবাকে কল করে এখানে আসতে বলে। পুলিশ সবার কাছ থেকে জানতে পারে যে সবার আগে লাশটা আমিই দেখেছিলাম। তাই তারা আমাকে প্রশ্ন করে যে আমি কিভাবে এখানে আসলাম আর লাশটাকে দেখলাম! আমি আসল কারণটা তাদের বলতে পারছিলাম না। কারন তারা আমার কথা বিশ্বাস করবে না। তাই তাদের বললাম যে আমি এখানে এমনি হাটাহাটি করতে করতে চলে এসেছিলাম আর লাশটাকে দেখতে পাই। তারা আমার কথা বিশ্বাসো করে নেয়। এরপর একজন মহিলা কন্সটেবল এসে পুলিশ অফিসারকে বলে:

-স্যার লাশটাকে দেখে মনে হচ্ছে গনধর্ষণ করা হয়েছিলো এবং পরে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। আনুমানিক মেয়েটা দুই দিন আগে মারা গেছে।

এরমানে এখন আমি নিশ্চিত যে মোবাইলে কল করে কেউ আমার সাথে মজা করেনি। মেয়েটা যা যা বলেছিলো তার পুরোটাই সত্যি।

এরপর আমি পুলিশ অফিসারের কাছে অনুমতি নিয়ে বাড়িতে চলে আসি। বাড়িতে ফিরতে ফিরতে প্রায় অনেক রাত হয়ে যায়।

আমি নিজের ঘরেই চুপচাপ বসে ভাবছিলাম যে একটা মৃত মেয়ে কিভাবে কল দিয়ে তার মৃত্যুর কথা বলতে পারে। আর পৃথিবীতে এতো মানুষ থাকতে মেয়েটা আমাকেই বা কেনো কল দিলো। মেয়েটাতো তার বাবাকেও সরাসরি কল দিয়ে সব বলতে পারতো।

এগুলো ভাবতে ভাবতে আবার মোবাইলের স্ক্রীনে সেই অদ্ভুদ নাম্বারটা ভেসে উঠলো, "+০৭৫১৮"। ভয়ে পেয়ে গেলাম মেয়েটা আজ আবার আমাকে কেনো কল দিয়েছে।

চলবে........ বাকি পর্ব গুলো এখানে Mr.TF

#গল্পঃনিশিরাতের_কল
মেহেদী
পর্ব ০১

Address

Cumilla

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Mr.TF posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category