28/04/2026
কার পরিশ্রম, কার কৃতিত্ব?
হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে নতুন রাডার সিস্টেম চালু হয়েছে। দেশের আকাশসীমা নিরাপদ করতে এটা নিঃসন্দেহে বিরাট পদক্ষেপ। কিন্তু এখন যারা ফিতা কাটছেন, তারাই কি এই স্বপ্নের রূপকার?
চলুন একটু পেছনে তাকাই।
২০১৫ সাল। তখনই শুরু হয়েছিল এই প্রকল্পের পরিকল্পনা। ঠিকাদার বাছাই, দরপত্র আহ্বান, আন্তর্জাতিক চুক্তি সব কিছুতেই ছিল আওয়ামিলীগ সরকারের সিদ্ধান্ত। ২০২১ সালে ফরাসি প্রতিষ্ঠান Thales এর সঙ্গে চুক্তি। তারপর চার বছর ধরে নির্মাণ, টেস্টিং, ইনস্টলেশন। সব কাজ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের প্রথমদিকেই।
এখন প্রশ্ন হলো আওয়ামীলীগ সরকারের হাতে তৈরি প্রকল্প কি শুধু একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অন্যের কৃতিত্ব হয়ে যায়?
এই প্রকল্পে খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে নয়শো কোটি টাকা। সেই টাকা এসেছে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে CAAB এর রাজস্ব থেকে। কোনো ঋণ নয়, কোনো বৈদেশিক সাহায্য নয়।
৬৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত রাডার কভারেজ, সমুদ্রে ৮০০ কিলোমিটার নজরদারি, সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট এসব কি রাতারাতি তৈরি করা সম্ভব? এমন একটা জটিল সিস্টেম ব্যাবহার উপযোগী করতে লাগে বছরের পর বছর।
২০১৫ থেকে ২০২৪ এই দীর্ঘ সময়ে যে নেতৃত্ব দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তা নিয়ে ভেবেছে, পরিকল্পনা করেছে, বাস্তবায়ন করেছে সেই কৃতিত্ব কি মুছে ফেলা যায়?
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে মাত্র কয়েক মাস আগে। আর এই প্রকল্প শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালে। হিসাবটা মিলছে?
যারা সত্যিকারের কাজ করেছেন, যাদের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে এই রাডার সিস্টেম সম্ভব হয়েছে তাদের নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করা মানে ইতিহাসকে বিকৃত করা।
কৃতিত্ব চুরি করা সহজ। কিন্তু সত্য লুকিয়ে রাখা যায় না।
এই রাডার সিস্টেম আওয়ামী লীগ সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনার ফল। এটা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার একটা মাইলফলক। আর সেই কৃতিত্ব ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, ফিতা কাটা ছবি নয়, বরং সেই সিদ্ধান্তের সাহস আর বাস্তবায়নের দক্ষতা দিয়ে।
তাই যখন কেউ বলে "আমরা এটা করেছি," তখন একবার জিজ্ঞেস করুন আপনি প্রকল্প কবে শুরু করেছিলেন? কত টাকা খরচ করেছেন? কোন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছেন? প্রকল্প বাস্তবায়নের রূপরেখা কি ?
উত্তর পাবেন না। কারণ সব উত্তরেই একটাই নাম আসবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনা।