25/04/2026
ভোটের কারণে ইমামের চাকরি হারানো—কোথায় যাচ্ছি আমরা?
একজন ইমাম মসজিদের নেতা—তিনি মানুষের ঈমান, আখলাক ও সঠিক পথের দিশা দেন।
কিন্তু যদি শুধু ভিন্নভাবে ভোট দেয়ার কারণে একজন ইমামকে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়—তাহলে এটা শুধু একটি সিদ্ধান্ত না, এটি সমাজের জন্য একটি অশুভ সংকেত।
এতে কী বার্তা যায়?
সত্য বলার সাহস কমে যায়
মানুষ ভয়ে নিজের মত প্রকাশ করতে পারে না
মসজিদও বিভেদের জায়গায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়
মতভিন্নতা থাকবে—কিন্তু অন্যায়ের শিকার হওয়া উচিত না।
জামায়াত নেতা হামিদুর রহমানকে ভোট না দেওয়ায় চাকরি হারালেন চরমোনাই সমর্থক ইমাম
কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলায় ভোটকে কেন্দ্র করে এক মসজিদের ইমামকে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, উপজেলার ১ নং উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বক্সআলী সিকদার পাড়া জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা হামিদুল্লাহ প্রায় এক দশক ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কুতুবদিয়া উপজেলা শাখার প্রচার সম্পাদক এবং জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি ২ নং দক্ষিণ ধূরুং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীও ছিলেন।
অভিযোগ উঠেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা হামিদুর রহমান আজাদ-এর পক্ষে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট না দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী পক্ষ মসজিদ কমিটির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে সেই চাপের মুখে মসজিদ কমিটি মাওলানা হামিদুল্লাহকে ইমাম-খতিব পদ থেকে অব্যাহতি দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বহিষ্কৃত ইমাম মাওলানা হামিদুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মসজিদ কমিটির সভাপতির সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার পর তাকে জানানো হয় যে, জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আজাদ-কে ভোট না দেওয়ায় তাকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামিদুর রহমান আজাদের পরিবারের পক্ষ থেকে জোরালো সুপারিশ ছিল যেন চরমোনাই সমর্থক হওয়ায় তাকে ইমামের পদ থেকে অপসারণ করা হয়।
এদিকে মসজিদ কমিটির সভাপতিও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইমামের অভিযোগ সঠিক এবং তারা জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আজাদ ও তার পরিবার এবং মসজিদের দাতা সদস্য জামায়াত সমর্থক মোঃ রায়হান সিকদারের পক্ষ থেকে আসা সাজানো নাটকের চাপের মুখে পড়েছিলেন। পরিস্থিতির কারণে তারা বাধ্য হয়ে এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কিছু পরিবার এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে জানিয়েছে, তারা ইমামকে অপসারণ মেনে নিতে পারছে না। তাদের দাবি, যদি রাজনৈতিক প্রভাব এভাবে মসজিদে বিস্তার লাভ করে, তবে তারা ভবিষ্যতে মসজিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে না।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।