11/06/2025
জনাব তারেক রহমান ও ড. ইউনূসের সম্ভাব্য সংলাপ: জাতীয় স্বার্থে ঐক্যের প্রত্যাশীদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের আহ্বান
বাংলাদেশের সচেতন নাগরিকদের দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশা ছিল—জাতির ভবিষ্যৎ ও রাজনৈতিক উত্তরণের স্বার্থে জনাব তারেক রহমান ও নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে একটি ইতিবাচক ও গঠনমূলক সংলাপ হোক। এই দুই প্রভাবশালী ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ব্যক্তিত্ব যদি একত্রে বসেন, তাহলে তা হবে একটি ঐতিহাসিক বার্তা—যেখানে ব্যক্তি বা দল নয়, বরং দেশের স্বার্থই সর্বোচ্চে স্থান পায়। আমরা আজ হয়তো সেই বহু আকাঙ্ক্ষিত বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি।
বর্তমান সময়ে দেশের রাজনীতিতে যে গোঁড়ামি, প্রতিহিংসা ও দলান্ধতা ছড়িয়ে পড়েছে, তা নতুন প্রজন্মের জন্য চরম উদ্বেগের বিষয়। রাজনৈতিক বিভাজন ও শাসনব্যবস্থার অস্থিতিশীলতার কারণে সাধারণ মানুষ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এবং জাতীয় অগ্রগতিও থমকে আছে। এমন প্রেক্ষাপটে যদি এই দুই অভিজ্ঞ নেতৃত্ব জাতীয় স্বার্থে এক টেবিলে বসেন, তাহলে রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমিত হবে এবং বহুমুখী ষড়যন্ত্র ও প্রভাব মোকাবেলায় একটি শক্তিশালী জাতীয় অবস্থান গড়ে উঠবে।
আমরা চাই, এই সম্ভাব্য সংলাপের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসুক বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা—বিশেষ করে বার্মা অ্যাক্ট, ভারতের “Act East Policy”, এবং আঞ্চলিক আধিপত্যের চ্যালেঞ্জ।
সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত “বার্মা অ্যাক্ট” আসলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক শক্তির প্রতিযোগিতার প্রতিফলন। মিয়ানমারকে ঘিরে চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কৌশলগত আগ্রহ তীব্র হয়ে উঠেছে। আর বাংলাদেশ, তার ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে, এই প্রতিযোগিতার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ভারতের “Act East Policy” একটি নির্ধারক ভূমিকা পালন করছে। ভারত তার পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে মিয়ানমার হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করতে চাচ্ছে, যার একটি বড় অংশে বাংলাদেশের ভূখণ্ড কার্যকর করিডোর হিসেবে বিবেচিত। Kaladan Multi-Modal Transit Project, India-Myanmar-Thailand Trilateral Highway, ও BBIN Initiative এই বৃহৎ কৌশলগত নেটওয়ার্কের অংশ। কিন্তু এইসব উদ্যোগের পেছনে ভারতের নীরব হেজিমনি—অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণমূলক প্রভাব—বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে গভীরভাবে প্রবেশ করছে।
সীমান্তে একতরফা আগ্রাসন, পানি বণ্টনে বৈষম্য, এবং পরোক্ষ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ—এসবের মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন এক জটিল কৌশলগত চাপে রয়েছে। এই চাপ থেকে উত্তরণের জন্য কেবল প্রতিরোধ নয়, বরং চতুর কূটনৈতিক ভারসাম্য ও জাতীয় ঐক্য সময়ের দাবি।
এখানে ড. ইউনূসের মতো একজন আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নাগরিককে পাশে নিয়ে একটি শক্তিশালী জাতীয় অবস্থান তৈরি করা যেতে পারে। জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী সরকার এবং বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানো দরকার ছিল। এমন পরিস্থিতিতে তারেক রহমান ও ড. ইউনূসের মধ্যে একটি সরাসরি ও কার্যকর যোগাযোগ চ্যানেল খোলা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
আমাদের নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বহুমাত্রিক নেতৃত্বের প্রতীক—যিনি জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কখনো আপোস করেননি এবং সবাইকে নিয়ে রাজনীতি করেছেন।সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় একটি শক্তিশালী, গণতন্ত্রমুখী, আধুনিক রাষ্ট্র গড়ার জন্য এখন জাতীয় ঐক্যই একমাত্র উত্তরণের পথ।
আজকের এই অনিশ্চয়তার সময়েও যদি আমরা জনাব তারেক রহমান ও ড. ইউনূসের মধ্যে একটি দায়িত্বশীল, কৌশলগত ও গণমুখী সংলাপের সূচনা দেখতে পাই—তবে সেটি হবে শুধু রাজনৈতিক সমঝোতা নয়, বরং বাংলাদেশের সার্বভৌম কূটনৈতিক সক্ষমতা ও গ্লোবাল অবস্থানের এক যুগান্তকারী উত্থান।
আমরা প্রত্যাশা করি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসূরি জনাব তারেক রহমান বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে তা যথাযথভাবে বিবেচনা করবেন।
Tarique Rahman