14/07/2026
রাঙ্গুনিয়ার কৃতি সন্তান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আপেল আহম্মেদ তালুকদার-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি
রাঙ্গুনিয়ার গর্ব, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সেক্টর কমান্ডের অধীনে যুদ্ধ করা সাহসী যোদ্ধা মরহুম আপেল আহম্মেদ তালুকদার ছিলেন দেশপ্রেম, সাহস, ত্যাগ ও জনসেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা উপ-প্রচার সম্পাদক এবং পদুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এছাড়াও তিনি পশ্চিম খুরুশিয়া ৬ নং ওয়ার্ড জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে দুইবার পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (ইউপি সদস্য) নির্বাচিত হয়ে নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে এলাকার মানুষের সেবা করেছেন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন নিরীহ বাঙালিদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালায়, তখন তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ান। মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করা, তাদের সহায়তা করা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে তিনি সাহসিকতার পরিচয় দেন। সে সময় পদুয়া ইউনিয়নে অবস্থানকারী রাজাকারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করতেও তিনি ভূমিকা রাখেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন সদস্যসহ একাধিক মুক্তিযোদ্ধা তাঁর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তিনি এবং পদুয়া ইউনিয়নের অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধারা রাঙ্গুনিয়া এলাকাজুড়ে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন, প্রতিরোধ এবং স্বাধীনতার সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়েও তিনি পদুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। দলকে সুসংগঠিত করা, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং এলাকার উন্নয়নে তাঁর অবদান আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
মরহুম আপেল আহম্মেদ তালুকদারের দেশপ্রেম, নেতৃত্ব, ত্যাগ ও সংগ্রামী জীবন নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তাঁর অবদান পদুয়া ইউনিয়ন, রাঙ্গুনিয়া এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করছি বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আপেল আহম্মেদ তালুকদারকে। তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।