Omar Faruq ওমর ফারুক

Omar Faruq ওমর ফারুক Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Omar Faruq ওমর ফারুক, Political Party, Chandanaish, Chittagong.

উদারনৈতিক গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা ও সংস্কারের পক্ষে
প্রেসিডিয়াম সদস্য
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)
নির্বাচন কমিশন নিবন্ধন নং: ০০১, ২০ অক্টোবর ২০০৮
নির্বাচনী প্রতীক: ছাতা

[Collected]
20/08/2026

[Collected]

20/08/2026

'রাজাকার’ শব্দ যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, মনে হয় ইতিহাসের অনেক পরিচিত নাম নিয়েও নতুন করে ভাবতে হবে।

https://www.facebook.com/share/p/1LGHY2hF8d/
20/08/2026

https://www.facebook.com/share/p/1LGHY2hF8d/

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
তারিখ: ২০ আগস্ট ২০২৬

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর সুস্বাস্থ্য ও সাফল্য কামনা করি।

দীর্ঘ রাজনৈতিক সহযাত্রায় আমরা উভয়ে প্রায়সময় একসাথে দায়িত্ব পালন করেছি। সুতরাং গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, নাগরিক অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে আমাদের বিশ্বাস ও অঙ্গীকার অভিন্ন।

বাংলাদেশে ১৯৯১ সালের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন দীর্ঘদিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন থেকেছে। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বিকল্প নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি জাতীয় সংসদ ও জনগণের সামনে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ ছিল না। পয়ত্রিশ বছর পর এবারের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অন্তত সেই সীমাবদ্ধতা থেকে বের হয়েছে। ১১ দলীয় ঐক্য আমাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করে এই গণতান্ত্রিক পরিসর সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, তার জন্য জোটের নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।

এবারের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেবল ক্ষমতাসীন দলের সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনে সীমাবদ্ধ না রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। কারণ এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ফল ও দায় কোনো ব্যক্তি বা দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা দেশ ও জনগণের জীবনে প্রতিফলিত হয়। সময়ের সাথে সাথে ইতিহাসও সংশ্লিষ্ট সকলের ভূমিকা মূল্যায়ন করে।

জাতির এই সন্ধিক্ষণে রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপনার প্রতিটি সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, গণতান্ত্রিক চর্চা ও জনগণের আস্থার ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। ব্যক্তি, দল ও গোষ্ঠীগত বিবেচনার ঊর্ধ্বে থেকে দেশ ও নাগরিকদের বৃহত্তর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবেন- এ প্রত্যাশা করি। বিশেষত গণভোটে জনগণ রাষ্ট্রীয় সংস্কারের পক্ষে যে রায় দিয়েছে তার প্রতি সম্মান, জবাবদিহি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় সংলাপের প্রশ্নে আপনার নিরপেক্ষ ও সক্রিয় অবস্থান দেশবাসী প্রত্যাশা করে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হলেও জনগণের অধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জবাবদিহিতা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার সংগ্রাম শেষ হয় না। রাষ্ট্রীয় পদ বা নির্বাচনী ফলাফলের ঊর্ধ্বে দেশ ও জনগণের প্রতি আমার দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার অবিচল থাকবে।

আপনার দায়িত্ব পালন হোক সততা, নিরপেক্ষতা, ন্যায়বোধ এবং জাতীয় স্বার্থের প্রতি অবিচল অঙ্গীকারে। আপনি সমগ্র জাতির ঐক্য, মর্যাদা ও আস্থার প্রতীক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন_এই প্রত্যাশা রাখি। আপনার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি। মহান আল্লাহ আপনার এ গুরুদায়িত্ব পালনে সহায় হউন।

শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছান্তে,

ডক্টর অলি আহমদ, বীর বিক্রম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট চলছে। পেছনের বোর্ডে নির্দেশনা দেখে ভাবছি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এমন পদ্ধতি...
20/08/2026

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট চলছে।
পেছনের বোর্ডে নির্দেশনা দেখে ভাবছি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এমন পদ্ধতি থাকলে জাল ভোটের আশঙ্কা অনেক কমে যেত!

13/08/2026

অটোপাশ দিয়ে কী কল্যাণ হবে?
৭০ অনুচ্ছেদের সংস্কার চাই

কোনটা গণতন্ত্র বলবেন?জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা তো এক ব্যক্তির ইচ্ছানির্ভর রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলাম। প্রত...
11/08/2026

কোনটা গণতন্ত্র বলবেন?

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা তো এক ব্যক্তির ইচ্ছানির্ভর রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলাম। প্রত্যাশা ছিল—দল ও রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হবে, সিদ্ধান্ত হবে আলোচনা ও ঐকমত্যে, ক্ষমতা থাকবে ভারসাম্য ও জবাবদিহির মধ্যে। জুলাই সনদ ও গণভোটও সেই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন।

আজ রাষ্ট্রপতি প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমরা দুই ধরনের প্রক্রিয়া দেখছি।

একদিকে ভিন্ন মত ও ভিন্ন নেতৃত্বের ১১টি দল আলোচনা করে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমকে সম্মিলিত রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে।

অন্যদিকে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম নিজেরা প্রার্থী চূড়ান্ত না করে সেই সিদ্ধান্ত দলীয় চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের হাতে ছেড়ে দিয়েছে।

২০২৩ সালে আওয়ামী লীগও শেখ হাসিনাকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী চূড়ান্ত করার একক ক্ষমতা দিয়েছিল।

তাহলে জুলাইয়ের এত ত্যাগ, সংস্কার আলোচনা, জুলাই সনদ ও গণভোটের পরও যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংস্কৃতি ব্যক্তিনির্ভরই থাকে—পরিবর্তনটা কোথায়?

যারা সচেতন নাগরিক তারা বুঝবেন -https://www.facebook.com/share/p/1D4bvPDLML/
09/08/2026

যারা সচেতন নাগরিক তারা বুঝবেন -

https://www.facebook.com/share/p/1D4bvPDLML/

সম্মিলিতভাবে ১১দলের পক্ষ থেকে ড. অলি আহমদ বীর বিক্রমের রাষ্ট্রপতি প্রার্থিতা শুধু জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়; এটি বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থার একটি মৌলিক দুর্বলতাকে চ্যালেঞ্জ করা।

জুলাই সনদে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতা বাড়ানো এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছিল। ২০২৬ এর গণভোটের মাধ্যমে জনগণ এর পক্ষে রায় দিয়েছিলো।

বিএনপি এসব সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

কিন্তু এখনো ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল, এবং সংসদে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সরকারপ্রধান ও ক্ষমতাসীন দলের পছন্দই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কার্যত নির্ণায়ক হতে পারে।

ফলে প্রশ্ন থেকেই যায়—রাষ্ট্রপতি যদি দল-মতের ঊর্ধ্বে হন, তবে তাঁর নির্বাচনে কি আরও স্বাধীনতা, ঐকমত্য ও ক্ষমতার ভারসাম্য থাকা উচিত নয়?

১১ দলের পক্ষে ড. অলি আহমদের প্রার্থিতা সেই প্রশ্নটিই জাতির সামনে তুলে ধরেছে।

বিএনপি ১১-দলীয় জোটের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে এলডিপি সভাপতি ড. অলি আহমদ বীর বিক্রমের মনোনয়নকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। দলটির...
09/08/2026

বিএনপি ১১-দলীয় জোটের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে এলডিপি সভাপতি ড. অলি আহমদ বীর বিক্রমের মনোনয়নকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। দলটির নেতারা বলেছেন, একাধিক প্রার্থী থাকা সুস্থ গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ এবং এতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও প্রাণবন্ত হবে। গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, আবদুল আউয়াল মিন্টু ও রুহুল কবির রিজভীসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকা রাজনৈতিক সহাবস্থান ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করবে। (প্রকাশিত খবরের বাংলা সারাংশ অনুবাদ)

Bangladesh Nationalist Party views the nomination of Liberal Democractic Party (LDP) President Colonel (retd) Oli Ahmed as the presidential candidate

ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম-এর জীবন বৃত্তান্তhttps://www.facebook.com/share/p/199JNsz4oS/
09/08/2026

ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম-এর জীবন বৃত্তান্ত

https://www.facebook.com/share/p/199JNsz4oS/

ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বীর বিক্রম
সৈনিক, গবেষক ও রাষ্ট্রনায়ক
বাংলাদেশের সেবায় এক দীর্ঘ জীবন

বাংলাদেশের জীবিত জাতীয় ব্যক্তিত্বদের মধ্যে খুব কম মানুষের জীবনই দেশের এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সঙ্গে এভাবে জড়িয়ে আছে।

১৯৭১-এর সশস্ত্র প্রতিরোধ ও মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীন বাংলাদেশের সেনাবাহিনী গঠন, সংসদীয় রাজনীতি, মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন, জাতীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে উচ্চতর গবেষণা এবং দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা—ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বীর বিক্রমের জনজীবন বাংলাদেশের ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িত।

৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ১১-দলীয় জোট তাঁকে ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাদের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে। এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন, অবদান ও অভিজ্ঞতার দিকে ফিরে তাকানো প্রাসঙ্গিক।

প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা

ড. অলি আহমদ ১৩ মার্চ ১৯৩৯ সালে চট্টগ্রামের চন্দনাইশের কুতুব পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আমানত সাফা এবং মাতা বদরুন্নেসা।

তিনি ১৯৫৭ সালে গাছবাড়িয়া এন.জি. উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৬৪ সালে করাচির ন্যাশনাল কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। আইনশাস্ত্রে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে যোগ দেন এবং ১৯৬৫ সালে সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন।

পরবর্তীতে তিনি ৪র্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে এবং ২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৭০ থেকে চট্টগ্রামে অবস্থানরত ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭১: পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ

২৫ মার্চ ১৯৭১ রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞের খবর চট্টগ্রামে পৌঁছালে ক্যাপ্টেন অলি আহমদ ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে সশস্ত্র প্রতিরোধে সংগঠিত করার কাজে এগিয়ে আসেন।

তাঁর সামরিক মূল্যায়ন, জীবনীমূলক নথি এবং পরবর্তী সাক্ষাৎকারে তাঁকে ২৫-২৬ মার্চের রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহে উদ্যোগী প্রথম বাঙালি সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ দাবির পক্ষে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি যুদ্ধ-পরবর্তী সামরিক নথি। তাঁর Annual Confidential Report-এ উল্লেখ করা হয় যে, ২৫/২৬ মার্চ ১৯৭১-এর সংকটপূর্ণ রাতে চট্টগ্রামে ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বিদ্রোহ সম্ভব করে তুলতে ক্যাপ্টেন অলি আহমদ “প্রধান ভূমিকা” পালন করেছিলেন। পরবর্তীতে তৎকালীন সেনাপ্রধান কে. এম. শফিউল্লাহ ওই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।

২৭ মার্চ তিনি মেজর জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কালুরঘাটের ঐতিহাসিক বেতার সম্প্রচারের সময় উপস্থিত ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হওয়ার পর ক্যাপ্টেন অলি আহমদ চট্টগ্রাম অঞ্চলে সাব-সেক্টর কমান্ডের দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বাধীন জেড ফোর্সের ব্রিগেড মেজর নিযুক্ত হন।

জেড ফোর্স ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রথম নিয়মিত ব্রিগেড ফরমেশনগুলোর অন্যতম এবং এর অন্তর্ভুক্ত ছিল ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট।

যুদ্ধক্ষেত্রে নেতৃত্ব

মুক্তিযুদ্ধের সময় অলি আহমদ শুধু স্টাফ অফিসারের দায়িত্ব পালন করেননি; তিনি সরাসরি সামরিক অভিযান, প্রতিরক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সমন্বয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

তাঁর সংরক্ষিত যুদ্ধকালীন ছবিতে ১৯৭১ সালের মে মাসে ত্রিপুরার শ্রীনগর BOP-এ তাঁকে মেজর জেনারেল জি. এস. অরোরা এবং ব্রিগেডিয়ার সাবেগ সিংকে সামরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্রিফ করতে দেখা যায়।

অন্য ছবিতে তাঁকে সীমান্ত এলাকায় নিজ সেনাদের সঙ্গে এবং প্রশিক্ষণ শিবিরে মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে দেখা যায়।

চাঁদগাজী প্রতিরক্ষা অবস্থানের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু পাকিস্তানি বাহিনীর অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে তাঁর নেতৃত্বে BSF-এর সহায়তায় ধ্বংস করার ঘটনাও তাঁর যুদ্ধকালীন নথিতে সংরক্ষিত রয়েছে।

তিনি কালুরঘাট, মিরসরাই, মাস্তাননগর, করেরহাট, রামগড়, বেলোনিয়াসহ বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করেন।

মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতার জন্য তাঁকে বীর বিক্রম খেতাবে ভূষিত করা হয়—বাংলাদেশের অন্যতম উচ্চ সামরিক বীরত্বসূচক খেতাব।

অলি আহমদের কাছে তাই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব কেবল রাজনৈতিক শব্দ নয়। বাংলাদেশের অস্তিত্ব যখন অনিশ্চিত, তখন তিনি অস্ত্র হাতে এর জন্য যুদ্ধ করেছিলেন।

স্বাধীন বাংলাদেশের সেনাবাহিনীতে

বিজয়ের পর অলি আহমদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

১৯৭২ সালের অক্টোবরে তিনি মেজর পদে উন্নীত হন এবং বিভিন্ন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৫ সালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে উন্নীত হয়ে তিনি সৈয়দপুরে ২৪তম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট গঠন ও কমান্ড করেন। পরবর্তীতে সেনা সদর দপ্তরে GSO-1 (Operations) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন এবং রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দপ্তরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্টাফ দায়িত্বে ছিলেন।

সত্তরের দশকের তাঁর Annual Confidential Report-গুলোতে তাঁকে সাহসী, পরিশ্রমী, নির্ভরযোগ্য ও উচ্চতর দায়িত্ব গ্রহণে সক্ষম একজন কর্মকর্তা হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়।

১৯৮০ সালের জানুয়ারিতে কর্নেল পদে উন্নীত হওয়ার পর তিনি স্বেচ্ছায় সামরিক চাকরি ছেড়ে পূর্ণকালীন জনজীবন ও রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।

বিএনপির গঠনপর্ব ও সংসদীয় রাজনীতি

অলি আহমদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উদ্যোগগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাথমিক সংগঠক হিসেবে ভূমিকা পালন করেন।

১৯৮০ সালের মার্চে একটি উপনির্বাচনের মাধ্যমে তিনি প্রথম জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হন।

পরবর্তী কয়েক দশকে তিনি মোট ছয়বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন — ১৯৮০, ১৯৯১, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬, জুন ১৯৯৬, ২০০১ এবং ২০০৮ সালে।

তাঁর সংসদীয় জীবন বাংলাদেশের সামরিক শাসন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং নব্বই ও দুই হাজারের দশকের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাজনীতির বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করেছে।

১৯৮২ সালে তিনি যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক ক্ষমতা দখলের পর তিনি সেই সরকারের সঙ্গে যোগ না দিয়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন এবং রাজনৈতিক আন্দোলনের কারণে কারাবরণও করেন।

যোগাযোগমন্ত্রী: জাতীয় অবকাঠামো ও সংযোগ

১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর ২০ মার্চ ড. অলি আহমদ যোগাযোগমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৯৯৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এই মন্ত্রণালয়ে ছিলেন।

তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের সড়ক ও মহাসড়ক, সেতু, বাংলাদেশ রেলওয়ে, BRTC ও BRTA-সহ জাতীয় পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো ছিল।

তাঁর মেয়াদ বাংলাদেশের আধুনিক যোগাযোগ অবকাঠামো বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সঙ্গে মিলে যায়। তাঁর সরকারি জীবনীতে বাংলাদেশ রেলওয়ে, BRTC ও BRTA-তে সংস্কার, সেবা সম্প্রসারণ এবং সড়ক ও সেতু উন্নয়নে তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এই সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রকল্প ছিল যমুনা বহুমুখী সেতু।

সেতুটির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন বহু বছর এবং একাধিক সরকারের প্রচেষ্টার ফল। তাই কোনো এক ব্যক্তি বা সরকারকে এর একক কৃতিত্ব দেওয়া সঠিক নয়।

তবে আন্তর্জাতিক প্রকল্প নথি নিশ্চিত করে যে, ড. অলি আহমদ যোগাযোগমন্ত্রী থাকা অবস্থায় প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থায়ন ও বাস্তব নির্মাণপর্বে প্রবেশ করে। মূল নির্মাণকাজ ১৯৯৪ সালের অক্টোবরে শুরু হয়। সেতুটি পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে সম্পন্ন হয়।

তাঁর মন্ত্রিত্বের সময় সড়ক, সেতু, রেল ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলকে জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

একটি সড়ক কৃষককে বাজারের সঙ্গে যুক্ত করে। একটি সেতু বিচ্ছিন্ন দুটি অঞ্চলের অর্থনীতিকে যুক্ত করে। রেলপথ শ্রমিক, শিক্ষার্থী, ব্যবসা ও শিল্পকে সংযুক্ত করে।

এই অর্থে যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন ছিল শুধু নির্মাণকাজ নয়—রাষ্ট্রগঠনেরও একটি অংশ।

১৯৯১-এর ঘূর্ণিঝড়ে দায়িত্ব

যোগাযোগমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর ২৯ এপ্রিল ১৯৯১-এর প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় চট্টগ্রাম ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলকে বিপর্যস্ত করে।

তাঁর সরকারি জীবনী অনুযায়ী, বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে ত্রাণ, পুনর্বাসন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্বও অলি আহমদকে দেওয়া হয়।

যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়া অবস্থায় জরুরি সেবা পুনরায় চালু, ত্রাণ বিতরণ এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের কাজে তিনি সরাসরি যুক্ত ছিলেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম: সংঘাত থেকে সংলাপ

ড. অলি আহমদের মন্ত্রিত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘস্থায়ী সশস্ত্র সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধান খোঁজার প্রচেষ্টা।

বেগম খালেদা জিয়ার সরকার তাঁর নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে নয় সদস্যের একটি সংসদীয় কমিটি গঠন করে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এ তথ্য শুধু তাঁর নিজের জীবনীতে নয়; পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি—PCJSS-এর নিজস্ব ঐতিহাসিক বিবরণেও নিশ্চিত করা হয়েছে।

PCJSS-এর সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় ৫ নভেম্বর ১৯৯২।

PCJSS-এর নথিতে মার্চ ১৯৯৬ পর্যন্ত সংসদীয় কমিটির সঙ্গে ছয় দফা এবং এর উপকমিটির সঙ্গে আরও সাত দফা আলোচনার উল্লেখ রয়েছে।

চূড়ান্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ১৯৯৭ সালে পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্বাক্ষরিত হয় এবং সেই চুক্তি সম্পাদনের ঐতিহাসিক কৃতিত্ব সেই সরকারের।

তবে অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন সংসদীয় প্রক্রিয়া দীর্ঘদিনের সশস্ত্র সংঘাতকে রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রচেষ্টাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

রাষ্ট্রগঠন শুধু নদীর ওপর সেতু নির্মাণ নয়। কখনও কখনও বিরোধপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যেও রাজনৈতিক সেতু তৈরি করতে হয়।

জ্বালানি, সংসদীয় তদারকি ও জাতীয় ক্রীড়া

১৯৯৬ সালে ড. অলি আহমদ স্বল্প সময়ের জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদসংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেন।

পরবর্তী সংসদীয় জীবনে তিনি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।

সুতরাং তাঁর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা শুধু একটি মন্ত্রণালয় বা একটি খাতে সীমাবদ্ধ ছিল না।

যোদ্ধা থেকে পিএইচডি গবেষক

ড. অলি আহমদের জীবনের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী অর্জনগুলোর একটি আসে মুক্তিযুদ্ধের কয়েক দশক পর।

সেনাবাহিনী, সংসদ এবং মন্ত্রিসভায় দীর্ঘ কর্মজীবনের পরও তিনি উচ্চতর একাডেমিক গবেষণায় ফিরে যান।

২২ সেপ্টেম্বর ২০০৩ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের Oxford Brookes University থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

তাঁর ডক্টরাল থিসিসের শিরোনাম ছিল —

“Revolution, Military Personnel and the War of Liberation in Bangladesh”

Oxford Brookes University-এর গবেষণা রিপোজিটরিতে তাঁর নামেই এই ডক্টরাল গবেষণার রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে।

তাঁর জীবনীমূলক আর্কাইভে Oxford Brookes University-এর Emeritus Professor of Politics, Professor Barrie Axford-কে তাঁর যুক্তরাজ্যের সুপারভাইজার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী Professor Emajuddin Ahamed-কে বাংলাদেশি সুপারভাইজার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই অর্জনের বিশেষত্ব সহজেই বোঝা যায়।

১৯৭১ সালে যে তরুণ সেনা কর্মকর্তা নিজে অস্ত্র হাতে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, তিনিই কয়েক দশক পর সেই মুক্তিযুদ্ধ, সামরিক সদস্যদের ভূমিকা এবং বাংলাদেশের বিপ্লবী অভ্যুদয়কে ডক্টরাল গবেষণার বিষয় করেছেন।

এই কারণেই তাঁর ক্ষেত্রে “সৈনিক-গবেষক” পরিচয়টি শুধু অলংকার নয়।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ

তাঁর গবেষণাকর্ম পরবর্তীতে বই হিসেবেও প্রকাশিত হয়।

তিনি “Battles That I Fought and Interviews of Liberation War Heroes” গ্রন্থেরও রচয়িতা।

এই গ্রন্থে জেড ফোর্সের War Diary এবং মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত আটজন জ্যেষ্ঠ বাংলাদেশি সামরিক ব্যক্তিত্বের সাক্ষাৎকার সংরক্ষিত রয়েছে।

তাঁদের মধ্যে রয়েছেন — মেজর জেনারেল কে. এম. শফিউল্লাহ, বীর উত্তম; লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর শওকত আলী, বীর উত্তম; কর্নেল শাফায়াত জামিল, বীর বিক্রম; মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আইনউদ্দিন, বীর প্রতীক; মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আবদুল হালিম; মেজর জেনারেল এজাজ আহমদ চৌধুরী; মেজর জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম, বীর উত্তম; এবং মেজর হাফিজউদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম।

এভাবে তিনি শুধু নিজের যুদ্ধস্মৃতি নয়, মুক্তিযুদ্ধের অন্য সামরিক অংশগ্রহণকারীদের সাক্ষ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধকালীন দলিলও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণের চেষ্টা করেছেন।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি প্রতিষ্ঠা

দীর্ঘদিন বিএনপির নেতৃত্বে থাকার পর শাসনব্যবস্থা, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে মতপার্থক্যের প্রেক্ষাপটে ড. অলি আহমদ দলটি থেকে বেরিয়ে আসেন।

২৬ অক্টোবর ২০০৬ সালে তিনি ও আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি - LDP প্রতিষ্ঠা করেন।

তিনি দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে LDP-এর প্রার্থী হিসেবে তিনি আবার জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হন - এটি ছিল তাঁর ষষ্ঠ সংসদীয় বিজয়।

পরবর্তী সময়ে তিনি বিরোধী রাজনীতিতে সক্রিয় থাকেন এবং নির্বাচনব্যবস্থা, জবাবদিহি ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেন।

শিক্ষা ও সামাজিক অবদান

ড. অলি আহমদের জনজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও যুক্ত।

তাঁর সরকারি জীবনী অনুযায়ী, তাঁর প্রতিষ্ঠা ও পৃষ্ঠপোষকতার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে—
Oli Ahmad Bir Bikram College, Satbaria;
Colonel Oli Ahmad Bir Bikram Degree College, Bazalia;
Amanat Safa-Badrunnessa Girls’ Degree College, Chandanaish;
Oli Ahmad High School, Barkal;
এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকটি স্কুল, কলেজ, কারিগরি শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান।

তিনি University of Science and Technology Chittagong—USTC-এর Founder Member ছিলেন এবং Society for Assistance to Hearing Impaired Children—SAHIC-এর Chairman হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

রাজনৈতিক মেয়াদ শেষ হয়ে যায়; কিন্তু শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানুষের সেবা করতে পারে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর: রাষ্ট্রসংস্কারের প্রশ্ন

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামো নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে আসে।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে আলোচনায় ড. অলি আহমদ ও LDP রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেয়।

২০২৪ সালের আগস্টে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর LDP জানায় যে তারা রাষ্ট্রসংস্কার বিষয়ে ৮৩ দফা প্রস্তাব দিয়েছে।

অলি আহমদ প্রয়োজনীয় সংস্কার, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি এবং জাতীয় রাজনীতিতে বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভরশীলতা পরিহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।

১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে LDP

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনৈতিক জোট কাঠামোতেও পরিবর্তন আসে।

২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ড. অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন LDP জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা দলগুলোর বৃহত্তর নির্বাচনী সমঝোতায় যোগ দেয়। একই সময়ে National Citizen Party—NCP-ও ওই নির্বাচনী সমঝোতায় যুক্ত হয়।

দলগুলোর সংযোজন ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে পরবর্তীতে এই রাজনৈতিক সমঝোতা ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য হিসেবে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।

২০২৬: সংসদীয় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ড. অলি আহমদ ঘোষণা দেন যে তিনি আর সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না।

ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এবং কয়েক দশকের নির্বাচনী রাজনীতির পর এটি ছিল তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

তবে এটি জনজীবন থেকে অবসর ছিল না। তিনি LDP-এর নেতৃত্ব, রাষ্ট্রসংস্কার এবং জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত রাখেন।

২০২৬: রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন

এর কয়েক মাস পর, ৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ১১-দলীয় জোট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বীর বিক্রমকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে তাদের প্রার্থী হিসেবে সর্বসম্মতভাবে মনোনীত করে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ২০ আগস্ট ২০২৬।

এই মনোনয়ন তাঁর অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময়ের জনজীবনের বিভিন্ন পরিচয়কে এক জায়গায় নিয়ে এসেছে—

১৯৭১-এর মুক্তিযোদ্ধা, বীর বিক্রম, পেশাদার সৈনিক, জেড ফোর্সের ব্রিগেড মেজর, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্নেল, ছয়বারের সংসদ সদস্য,
সাবেক মন্ত্রী, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি আলোচনার সংসদীয় নেতৃত্ব, রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতা, লেখক, এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ওপর একজন পিএইচডি গবেষক।

একটি দীর্ঘ জনজীবনের মূল্যায়ন

কোনো রাজনৈতিক জীবনীই এমনভাবে লেখা উচিত নয় যেন কোনো রাজনীতিক সমালোচনা বা রাজনৈতিক মূল্যায়নের ঊর্ধ্বে।

ড. অলি আহমদ দীর্ঘ সময় দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তাঁর সিদ্ধান্ত, জোট, রাজনৈতিক অবস্থান এবং মতাদর্শ অন্য সব জাতীয় নেতার মতোই আলোচনা ও মূল্যায়নের বিষয়।

তবু তাঁর কর্মজীবনের ব্যাপ্তি অস্বীকার করা কঠিন।

তিনি মুক্তিযুদ্ধে অস্ত্র হাতে লড়েছেন এবং বীর বিক্রম খেতাব অর্জন করেছেন।

স্বাধীন বাংলাদেশের সেনাবাহিনী গঠন ও পরিচালনার প্রাথমিক পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ছয়বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

মন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশের জাতীয় যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘ সশস্ত্র সংঘাতকে রাজনৈতিক আলোচনায় নেওয়ার সংসদীয় প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।

সংসদীয় তদারকি, জাতীয় ক্রীড়া, শিক্ষা ও সামাজিক কল্যাণে ভূমিকা রেখেছেন।

যে মুক্তিযুদ্ধে নিজে লড়েছেন, সেই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে Oxford Brookes University থেকে পিএইচডি অর্জন করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধের যুদ্ধকালীন নথি, জেড ফোর্সের War Diary এবং অন্য সামরিক অংশগ্রহণকারীদের সাক্ষ্য সংরক্ষণ করেছেন।

একটি জাতীয় রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

২০২৬ সালে কয়েক দশকের সংসদীয় নির্বাচনী রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েও জাতীয় রাজনীতি ও রাষ্ট্রসংস্কারের প্রশ্নে সক্রিয় থেকেছেন।

এবং স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর এখন তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন।

চন্দনাইশ থেকে ১৯৭১-এর যুদ্ধক্ষেত্র; জেড ফোর্স থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী;
সংসদ থেকে মন্ত্রিসভা; জাতীয় অবকাঠামো উন্নয়ন থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি-আলোচনা; এবং যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা থেকে Oxford Brookes University-এর ডক্টরাল গবেষণা—

ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বীর বিক্রমের জনজীবন বাংলাদেশের ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছে।

ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বীর বিক্রম

মুক্তিযোদ্ধা | ব্রিগেড মেজর, জেড ফোর্স | কর্নেল, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী | ছয়বারের সংসদ সদস্য | সাবেক মন্ত্রী | পিএইচডি, Oxford Brookes University | লেখক ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক | প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, Liberal Democratic Party | রাষ্ট্রপতি প্রার্থী, ২০২৬

সৈনিক। গবেষক। রাষ্ট্রনায়ক। বাংলাদেশের সেবায় এক দীর্ঘ জীবন।

Address

Chandanaish
Chittagong
4380

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Omar Faruq ওমর ফারুক posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share